14/03/2023
কলমে:-
মহি মজুমদার. উত্তর জস্নাবাদ লালা।
উত্তর দেশের বর্তমান কঠিন. সঙ্কটজনক. সাম্প্রদায়িক হিংসা ও নির্যাতনের সময় ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের অভাবে ভুগছেন মুসলমান সমাজ। বিভাজিত ও অনৈক্যের ফলে আজ আমরা শত বছর পিছিয়ে. আমরা আমাদের দেশের গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা করতে ব্যার্থ। বর্তমান সময়ের দাবি আমরা সবাই এক মঞ্চে এসে এক ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালি নেতৃত্ব ঘঠন করা। এখন আমাদের একটি মুহূর্ত সময় ও মহা মূল্যবান. আর দেরি করা চলবে না. আগামী দিনের জন্য কুন কাজ বাকি রাখার সময় নয়। আমরা মুসলিম সমাজের ব্যর্থতার সব থেকে বড় কারণ আমরা সময় উপযোগী সিদ্বান্ত গ্রহণ করতে অনেক পিছিয়ে. এটা আমাদের দুর্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ। আসুন জমিয়ত উলামা হিন্দ. নদওয়া তুত তামীর. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত. জামাতে ইসলামী হিন্দ. নিজামুল মুসলিমিন. আহলে হাদীস. দেওবন্দী. বেরেলী নির্বিশেষে সবাই মিলে এক ঐক্যবদ্ধ ও শক্তি শালি অরাজনৈতিক নেতৃত্ব ঘঠন করি।
দেশের ইতিহাসে মুসলিমদের কিচ্ছু গৌরব উজ্জ্বল অংশ নিম্নরুপ - ( 1) দেশের তিন মুসলিম রাষ্ট্রপতি (ক) জাকির হোসেন (খ) ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ (গ) মিসাইল ম্যান ডা এপিজে আবুল কালাম। দেশের তিন মুসলিম উপ-রাষ্ট্রপতি (ক)জাকির হোসেন (খ)জাস্টিস হেদায়েতুল্লাহ (গ)হামিদ আনছারী (দশ বছর)। 1991 সালে দেশের প্রথম মুসলিম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ,, দেশের প্রথম শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, 1972 সালে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন আব্দুর রহমান অন্তুলে, দেশের আইন মন্ত্রী ছিলেন সালমান খুরশিদ, আসাম, মনিপুর, বিহার সহ দেশের বেশ কয়েক টি রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী. রাজ্যপাল সহ কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক গুরু্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী ছিলেন মুসলমান। আসামে স্যার আকবর হাই ডরি সহ তিন জন মুসলমান রাজ্যপাল ছিলেন. আনোয়ারা তৈমুর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন. শেত চাঁদ মুহাম্মদ ও আমিনুল হক আসাম বিধান সভার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ ছিলেন।আব্দুল মতলিব মজুমদার, ফখর উদ্দিন আলী সাহেব, মুহিব মজুমদার, আলতাফ হোসেন মজুমদার, লুৎফুর রহমান মজুমদার, মইনুল হক চৌধরী, গুলাম উসমানী, রাশিদা হক চৌধরী, ফখরুল ইসলাম, শহিদুল আলম চৌধূরী, আব্দুল মুক্তাদির চৌধরী, আবু সালেহ নজমুদ্দীন, ড নজরুল ইসলাম, শুক্কুর আলী, রকিবুল হুসাইন, মিসবাহুল ইসলাম, ইদ্রিস সাহেব, জহিরুল ইসলাম সহ আর অনেকে আসাম সরকারের আইন,শিক্ষা, পূর্থ, সীমান্ত এলাকা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, সমবায় মন্ত্রনালয়ের মত গুরু্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী ছিলেন, আর আজ আমাদের প্রাপ্য অধিকার সংখ্যালঘু শাখার মন্ত্রীত্ব পর্যন্ত আমাদের হাতে নেই।1972 সালে শিলচরের সংসদ ছিলেন সিপিএম নেতা নুরুল হুদা. 1978 সালে শিলচরের সংসদ হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন মইনুল হক চৌধরীর স্ত্রী রাশিদা হক চৌধরী. 1978 বিধানসভা নির্বাচনে লক্ষীপুরের বিধায়ক হাজী কুতুব উদ্দিন আহমেদ. শিলচরের বিধায়ক নুরুল হুদা. পাথারকান্দির বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে আসাম সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী হয়েছিলেন প্রয়াত ফখরুল ইসলাম। 1957 সালে উধারবন্দের বিধায়ক হাজী তজমূল আলী বড়লস্কর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রতিবাদী নেতা ছিলেন, 1983 সালে পাথারকান্দির বিধায়ক ছিলেন মইন উদ্দিন, উত্তর করিমগঞ্জ এ 1972 সালে আব্দুল মুক্তাদির চৌধরী ও 1985 সালে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বিধায়ক ছিলেন। হাইলাকান্দি জেলার প্রথম জেলা শাসক মরহুম আব্দুল মালিক. আসাম সরকারের নির্বাচন কমিশনার ড আনোয়ার উদ্দিন চৌধুরী সহ আর অনেকে আসাম প্রশাসনের অতি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এই সব ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সবাই কে এক মঞ্চে এসে এক ঐক্যবদ্ধ ও শক্তি শালি নেতৃত্ব ঘঠন করা আমাদের বর্তমান সময়ের সময় উপযোগী সিদ্বান্ত।