12/03/2024
***Citizenship Amendment Rules (CAA) 2024 পুরো ভাঁওতা***
***CAA এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাবার কোনো গ্যারান্টি নেই***
১। Citizenship Amendment Rules (CAA) 2024 এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া দূরের কথা, কোন হিন্দু বাঙালি নাগরিকত্বের জন্য আবেদনও করতে পারবে না। কারণ যে কাগজগুলো বাংলাদেশের নাগরিক হবার প্রমাণ হিসেবে চাওয়া হয়েছে, সেই কাগজগুলো প্রায় কোন হিন্দু বাঙালির কাছেই নেই।
ক। বাংলাদেশ সরকারের ইস্যু করা পাসপোর্ট।
খ। বিদেশী নিবন্ধন অফিসারের ইস্যু করা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট অথবা বসবাসের অনুমতি পত্র।
গ। বাংলাদেশ সরকারের ইস্যু করা জন্ম সার্টিফিকেট।
ঘ। বাংলাদেশের স্কুল বা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্যু করা স্কুল সার্টিফিকেট বা শিক্ষাগত শংসাপত্র।
ঙ। বাংলাদেশ সরকারের ইস্যু করা যে কোনো ধরনের পরিচয় পত্র।
চ। বাংলাদেশ সরকারের ইস্যু করা যে কোনো ধরনের লাইসেন্স বা শংসাপত্র।
ছ। বাংলাদেশের জমির দলিল বা ভাড়াটিয়া কাগজ।
জ। বাবা-মা বা দাদু-ঠাকুমা বা দাদু-ঠাকুমার মা-বাবা যে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন তার প্রমাণপত্র।
ঝ। বাংলাদেশ সরকারের ইস্যু করা যেকোনো প্রমাণপত্র যা দেখলে বোঝা যায় আবেদনকারী বাংলাদেশের নাগরিক।
২। Citizenship Amendment Rules (CAA) 2024 এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার আগে আপনাকে কোর্ট থেকে হলফনামা দিয়ে নিজেকে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকা অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করতে হবে।
নিজেকে একবার অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করলে কেন্দ্রীয় সরকার যে কোন সময় আপনার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড বাতিল করে দিতে পারে। আধার বাতিল হলে তার সাথে লিঙ্ক করা সব কিছু যেমন ব্যাঙ্ক একাউন্ট, গ্যাস, রেশন, কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভান্ডার, বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা সহ সব ধরনের সরকারি সাহায্য ও অনুদান বন্ধ করে দিতে পারে। আপনার নামে ট্রেড লাইসেন্স থাকলে তা বাতিল করে দিতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে আপনার জমি বাড়ি দোকান ইত্যাদি বাজেয়াপ্ত করতে পারে। আপনি D-Voter হয়ে যাবেন, তারপরে NRC করে আপনাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে ভরে দিতে পারে।
৩। Citizenship Amendment Rules (CAA) 2024 এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করার জন্য আপনাকে স্থানীয়ভাবে খ্যাত প্রতিষ্ঠান (reputed community institution) থেকে যোগ্যতার শংসাপত্র নিয়ে জমা করতে হবে।
একবার ভাবুন, কোন প্রতিষ্ঠান আপনাকে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ করার সার্টিফিকেট দেবে? কেন দেবে? সে কেন আপনার দায়িত্ব নিতে যাবে? তাছাড়া স্থানীয়ভাবে খ্যাত প্রতিষ্ঠান বলতে কি বোঝানো হয়েছে এটাও পরিষ্কার নয়।
৪। CAA লাগু হয়েছে বলে ভুল প্রচার করা হচ্ছে। আজ, এই মুহূর্তে কোন হিন্দু বাঙালি চাইলেও নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে না। কারণ আবেদন জমা করতে হবে জেলা স্তরের কমিটির কাছে, এবং তারা সেই আবেদন কেন্দ্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির কাছে পাঠাবে। জেলা স্তরের কমিটি এবং কেন্দ্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি গঠন করাই হয়নি এবং কিভাবে তা গঠন করা হবে সেটাও ঘোষণা করা হয়নি।
৫। উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালি হলেই নাগরিকত্ব পাবে না। বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে আসার কাগজ প্রমাণ হিসাবে জমা করতে হবে। সেই কাগজ ভেরিফিকেশন করা হবে। জেলা স্তরের কমিটি গঠন হলে তারা প্রত্যেকটি আবেদন এবং ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন করবে।
এবার ভাবুন, যদি আপনি ওপরে লেখা কাগজগুলো জোগাড় করে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন, তারপর সেগুলো ভেরিফিকেশন কিভাবে হবে? বাংলাদেশ সরকারের ইস্যু করা উপরিউক্ত যে কোনো কাগজ কে ভেরিফাই করবে? বাংলাদেশ সরকার কোনভাবেই ভেরিফাই করবে না। ততক্ষণে আপনি নিজেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করে দিয়েছেন। এবার যদি আপনার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন খারিজ করে আপনাকে বিদেশি ঘোষণা করে দেওয়া হয়? তখন কোথায় যাবেন?
৬। আপনার যদি ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড থাকে, তাহলেই আপনি ভারতীয় নাগরিক। এই পরিচয়পত্রগুলো থাকার পরেও আপনি যদি নিজেকে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করেন, তারমানে আপনি এই পরিচয়পত্রগুলো করার সময় নিজেকে ভারতীয় বলে ঘোষণা করেছিলেন, সেটা সর্বৈব মিথ্যা ছিল। শুধুমাত্র এই যুক্তি দিয়েই আপনার নাগরিকত্বের আবেদন খারিজ করে দিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।
সুতরাং ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড থাকলেই আপনি ভারতীয় নাগরিক। CAA আইনের মাধ্যমে আপনি আলাদা কিছুই পাবেন না। উল্টে এসব করতে গিয়ে হয়রানি, টাকা পয়সার খরচ, মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। অতএব নিজেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করে নিজেকে আর নিজের পরিবারকে বিপদের মুখে ফেলবেন না।