22/07/2020
দাদা সাঁইবাড়ি নিয়ে কোন লেখা আছে? একজন খুব আমাদের আক্রমন করছে, কাউন্টার করা দরকার।
দাদা মরিচঝাঁপি নিয়ে কোন লেখা আছে?
আমাদের পাল্টা কিছু বলা দরকার, একটা গ্রুপে কিছু ‘তিনু চাড্ডি’রা খুব বাওয়াল করছে।
দাদা বিজন সেতু নিয়ে কোন লেখা আছে? একটু তাড়াতাড়ি পাঠাও দাদা, খুব দরকার।
সাঁইবাড়ি, মরিচঝাঁপি, বিজন সেতু, ২১শে জুলাই ইত্যাদি ইত্যাদি শুনলেই আমার আপনার প্রথম মনে হয় ডিফেন্স ইজ দ্য বেস্ট অফেন্স।
আপনি ব্যাট ধরে শুরু করলেন ডিফেন্স করা। লেখা খুঁজতে লাগলেন। হোয়াটসঅ্যাপে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়লো। আপনি খানিক হাসলেন মনে মনে, যাক কাউন্টার করা গেল!
গত ৯বছর ধরে আপনি শুধু সামনে ব্যাট পেতে ডিফেন্স করে গেলেন। ক্রমাগত। ধারাবাহিক ভাবে।
এবার ব্যাট সাোজা করে ধরুন, মরিচঝাঁপি, সাঁইবাড়ি, বিজন সেতুর বল আসলেই চালিয়ে দিন।
গ্যালারির ওপর দিয়ে সোজা ছক্কা।
বলুন ওদের।
আমরা কেন তোমাদের জবাব দেব ? তোমরা ৯ বছর ধরে সরকারে এসে শুধু ঘাস ছিঁড়লে? না একের পর এক কমিশন বানিয়ে সেখান থেকেও কাটমানি খেলে?
বলবে তো তোমরা।
এত অবধি শুনেই ওরা এবার হকচকিয়ে যাবে। আপনি শক্ত হাতে ব্যাট ধরে থাকুন, আর ডিফেন্স করবেন না ঝুঁকে পড়ে।
স্টেপ আউট করেন ক্রিজ থেকে দু পা বেড়িয়ে।
বলো ভাই তোমরাই বলো, তোমাদের সাথে গলা মিলিয়ে স্বাধীন লিবেরাল এরাও বলুক। ৯ বছরে তোমরা ১৩টা তদন্ত কমিশন করেছিলে, খরচ হয়েছে ৩২. ৫ কোটি টাকা। বলো কটা কমিশন রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ হয়েছে? বলো?
সাঁইবাড়ি? চল এটাই আগে বলো। ১৯৭০ সালে সাঁইবাড়ির ঘটনা, ১৯৭৭ অবধি তোমরা সরকারে ছিলে। জমিদার জোতদার কংগ্রেসের পেট থেকে বেরোন সব থেকে লুম্পেন সব থেকে প্রতিক্রিয়াশীল তোমরা, তৃণমূল।
১৯৭০ থেকে ১৯৭৭, এই সাত বছরে সাঁইবাড়ি নিয়ে তোমরা কি করেছিলে ? ঘুমিয়েছিলে?
ছেড়ে দাও পারবে না। তোমরা কংগ্রেস থেকে তৃণমূল হলে, সরকারে এলে তাও ৯ বছর হল। কি ঘাস ছিঁড়লে সাঁইবাড়ি নিয়ে?
২০১২ সালে তৃণমূল সাঁইবাড়ি নিয়ে কমিশন করেছিল ২০১২ সালে। অরুনাভ বসু কমিশন। সাঁইবাড়ি নিয়ে অরুনাভ বসু কমিশন খরচা করে ফেলেছে চার কোটি টাকার বেশি!
সাঁইবাড়ি নিয়ে কমিশন করে তৃণমূল চার কোটি টাকা খরচ করে ফেললো, রিপোর্ট কই রে? বিধানসভায় রিপোর্ট জমা দিলে না কেন?
ওদের বল ওদের মাথা লিবেরাল স্বাধীনদের মাথা পেরিয়ে সোজা বাউন্ডারিতে।
এবার বিজন সেতু। অমিতাভ লালা কমিশন হয়েছিল ২০১৩ সালে, ৩কোটি ২০ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে সেই কমিশনের। রিপোর্ট কোথায় ভায়া?
কাশিপুর বরানগর গনহত্যা নিয়েও কমিশন করেছিল তৃণমূল। স্বাধীন লিবেরালদের জোরে জোরে বলুন। তখন কিছু লোকে লাল ঝান্ডা নিয়ে ঠেকিয়েছিল ঘাসঘুলের ঝান্ডার সাথে। তাই মমতার বড় দায় ছিল!
হল তাই কাশিপুর বরানগর গনহত্যা নিয়ে ডিপি সেনগুপ্ত কমিশন। ২০১৭ সালে সেই কমিশনের রিপোর্ট জমা পড়েছে। বিধানসভায় এলো না কেন হে?
১৯৯৯ সালে ট্রাক চাপা পড়ে ২৩ জন আদিবাসীর মৃত্যু নিয়ে কমিশন করেছিল তৃণমূল। এন এন ভট্টাচার্য কমিশন, ২০১৮ সালে সেই কমিশন রিপোর্ট জমা দেয়। বিধানসভায় এলো না কেন?
এবার ২১শে জুলাই। সুশান্ত চ্যাটার্জি কমিশন ‘জালিওয়ানাবাগের থেকেও নৃশংস হত্যাকান্ড’ নিয়ে বিস্তর তদন্ত শেষে ৭০০ পাতার রিপোর্টে জানিয়েছে বামফ্রন্টের কোন নেতা মন্ত্রী জড়িত নয়। কে যে গুলি চালিয়েছে কে যে অর্ডার দিল কিছু কাগজ হারিয়ে গেছে, আরেকটা কমিশন হোক বরং!
তৃণমূল কি কমিশন থেকেও কাটমানি নেয়?
না হলে ৯ বছরে ৩২কোটি টাকা ১৩টা তদন্ত কমিশনে খরচ করার পরে বিধানসভায় রিপোর্ট আসে না কেন?
যারা আপনাদের সাইঁবাড়ি বিজন সেতু নিয়ে আক্রমন করে তাদের বলুন যে ১৯৫২ সালের ‘কমিশন অফ ইনকোয়ারি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কমিশন রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর সরকারের ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ সহ ৬ মাসের মধ্যে সেই রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করতে হয়।
তৃণমূল ৯ বছরে ৩২কোটি টাকার বেশি খরচ করে ১৩টি কমিশনের মধ্যে মাত্র তিনটি কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করেছে।
প্রথমটি ২০০৮ সালের এক বিডিও’র আত্মহত্যা। দ্বিতীয়টি ২০১১ সালে আত্মঘাতী তৎকালিন সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফা বিন কাশেমের মৃত্যুর ঘটনা। তৃতীয়টি হল মমতার জমানায় আমরি হাসপাতালে আগুন লেগে ৯২জন মানুষের পুড়ে মৃত্যুর ঘটনা। আর এই তিনটি কমিশনের রিপোর্টই পুলিশের তদন্তের রিপোর্ট থেকে আলাদা নয়।
২১শে জুলাই, সাঁইবাড়ি, বিজ সেতু এই সব নিয়ে তৃণমূল চুপ। কোন রিপোর্ট বিধানসভায় আসেনি।
সাঁইবাড়ি, বিজন সেতু এসব নিয়ে জবাব দেওয়ার দায় আমাদের নেই।
যারা ৯ বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে কমিশন করেও একজন সিপিআই(এম)কেও দোষী সাব্যস্ত করতে পারেনি দায় তাদের এবং তাদের। আমার আপনার নয়।
আমরা বরং মমতার কাছে কি জবাব চাইবো?
নাহ! তাও আর চেয়ে লাভ নেই।
মমতা সব জবাব দিয়ে দিয়েছে। চোর জোচ্চর খুনি ঘেয়ো দাগিদের দলের কাছে আর জবাব চেয়ে লাভ নেই কৃষকরা বাংলায় আত্মহত্যা করে কেন? জবাব চেয়ে লাভ নেই শিল্প নেই কেন? জবাব চেয়ে লাভ নেই কর্মসংস্থানের কি হল? জবাব চেয়ে লাভ নেই করোনা নিয়ে একের পর এক তথ্য গোপন মিথ্যা কথা কেন? জবাব চেয়ে লাভ নেই চাল চুরি ত্রিপল চুরি নিয়ে।
পাল্টা জবাব ফিরিয়ে দেওয়ার পালা।
যেমন পাল্টা জবাব ফিরিয়ে দিচ্ছে জলঙ্গি।
যেমন পাল্টা জবাব ফিরিয়ে দিচ্ছে আমতা।
যেমন পাল্টা জবাব ফিরিয়ে দিচ্ছে অবরুদ্ধ একের ব্লক অফিস, পঞ্চায়েতে কান ধরে ওঠবোস করানো।
প্রতি পাড়ায় প্রতি মহল্লায় প্রতি বুথে সিনা টানটান করে পাল্টা জবাব আমরা ফিরিয়ে দেব।
এটাই কার্যকরি প্রতি আক্রমন। কাউন্টার অ্যাটাক।