05/06/2026
একদিন হযরত তৈয়ব শাহ হুজুর কেবলা বলুয়াদিঘির পাড়ে অবস্থান করছিলেন। তখনকার সময় আলমগীর কানকাহ শরিফ জামেয়াতে ছিলোনা, তখন খানকাহ শরিফ ছিলো বলোয়াদিঘিতে।
মাজিরগাটের একজন বড় সাওদাগার হুজুর কেবলা তৈয়ব শাহা রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। তখন হুজুর কেবলা বললেন, হ্যা ঠিক আছে আমি দাওয়াতে যাবো তবে এশারের নামাজের পর দাওয়াতের উদ্দেশ্য রাওনা হবো। তখন হুজুর কেবলা বলুয়াদিঘির খানকাহ থেকে এশারের নামাজ পড়ে, তাজবীহ তাহলিম পাঠ করে রাওনা দেওয়ার উদ্দেশ্য গাড়ি নিয়ে নিজের সংগি সহ বের হলেন। যখন তিনি বলোয়াদিঘির খানকাহ শরিফ থেকে লাল দিঘির মাঠের কোনায় আসলেন, তখন দেখতে পেলেন একজন পাগল, তার হাত মোবারক দিয়ে গাড়ির সামনে তাবা দিলেন। তখন হুজুরকেবলা ড্রাইভারকে বললেন তামো, এই ব্যাক্তিকে গাড়িতে তুলো, আসলে পাগলের বেশে সেই ব্যাক্তি ছিলেন শাহ আমানত হুজুর কেবলা। সেটা কিন্তু আল্লাহর জিন্দা অলি হযরত তৈয়ব শাহ হুজুর কেবলা চিনতে পেরেছিলো। তখন তিনি ড্রাইবারকে নির্দেশ দিলেন, পিছনের দরজা খুলে দাও এবং গাড়ির পিছন থেকে হুজুরের সাথে সফরকারি দুইজন ব্যাক্তিকে বললেন, তোমরা গাড়ি থেকে নেমে অইখানে অপেক্ষা করো। তখন অই দুইজন ব্যাক্তি বললেন, আরে হুজুর এই ব্যাক্তি ত পাগল, আর শরির অপরিস্কার। তখন হুজুর কেবলা বললেন, চুপ থাকো। তখন সেই পাগল কে গাড়িতে বসানো মাত্রই তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। এবং হুজুর কেবলা ড্রাইবার কে নির্দেশ দিলেন, দাওয়াতে আরো দুই ঘন্টা পরে গেলেও চলবে, তুমি এই জায়গা থেকে সম্পূর্ন ২ ঘন্টা ধরে গাড়িটি চট্টগ্রাম শহরের ঘুরাতে ঘুরাতে ঠিক ২ ঘন্টা পর এই জায়গায় আবার আসবা। তখন ড্রাইবার নির্দেশমত, গাড়িটি শহরের আনাছে কানাছে ঘুরাতে ঘুরাতে ঠিক দুই ঘন্টা পর আবার আগের জায়গায় নিয়ে আসলেন। তখন ড্রাইবারকে বললেন দরজা খুলে দেন। তখন সেই পাগলবেশি ব্যাক্তিটি গাড়িতে থেকে নেমে হযরত তৈয়ব শাহ হুজুর কেবলা সালাম দিয়ে পিছনের দিকে চলে গেলেন। তখন হুজুরের সেই দুইজন সংগিকে হুজুর কেবলা গাড়িতে উঠতে বলেন, এবং৷ তাদের বলেন, তোমরা কি এই ব্যাক্তিকে কেউ চিনেছো? তখন তারা বললো, হুজুর আমরা কিভাবে চিনবো। তখন হুজুর বললেন, তাহলে শুনো, ইনিই হচ্ছেন চট্টগ্রাম শহরের কুতুব হযরত শাহ আমানত রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি সম্পূর্ন একটা বছর না ঘুমিয়ে ছিলেন। এবং তিনি এমন একজন কে খুজছিলেন, যাতে তিনি এক বছরের ঘুম সেই দুই গন্ডার মধ্যে পূরন করতে পারেন। আর সেই ব্যাক্তিটি হচ্ছে আমি।