02/11/2025
খালেদা জিয়া বলেছিলেন পদ্মা সেতুর স্ক্রু খুলে যেতে পারে। তার উদ্বিগ্নতার জায়গা ছিল পদ্মা সেতু নিয়ে যে দূর্নীতি হচ্ছে তাতে পদ্মা সেতুর নির্মাণে গুণগত মান বজায় থাকবে কিনা? খালেদা জিয়া পদ্মা সেতু চান নাই এমনটি না। তিনি ক্ষমতায় থাকতেই পদ্মা সেতুর প্রকল্প সমীক্ষা করেছিলেন। তিনি জাপানি সহায়তায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। কারণ বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি আর্থিক সহায়তা এসেছে জাপান থেকে এবং ক্ষেত্র বিশেষে জাপান অনেক ঋণ বাংলাদেশকে মওকুফ করে দিয়েছে। এর মূলে রয়েছে বাঙালি বিচারকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টোকিও ট্রাইব্যুনালে জাপানের বিরুদ্ধে একতরফা রায়ের বিরোধিতা করা। পদ্মাসেতুর প্রকল্প ১০,০০০ হাজার কোটি টাকা থেকে ৪০,০০০ হাজার কোটি টাকায় করা হয়। শেখ হাসিনার সময় পদ্মা সেতু এবং মেট্রোরেল হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার এই দুইটি প্রজেক্ট করতে ১৬ বছর সময় পেয়েছেন। এই দুই প্রজেক্ট দেখিয়ে গণতন্ত্র এবং জবাবদিহিতা কেড়ে নেয়া হয়েছিল। শেয়ার বাজার থেকে ১ লক্ষ কোটি টাকা পাচার সহ বাংলাদেশের ব্যাংক খাত একটি গোষ্ঠীর অধীনে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের অর্থনীতি থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন। এবং দেশকে গুম,খুন, ধর্ষণ, ঋণের নামে আওয়ামী লীগ নেতার ব্যাংক লুট, দখল বাণিজ্যের অভয়ারণ্য করেছেন এবং শিক্ষা ব্যাবস্থা এবং আর্থিক খাত ধ্বংস করে গেছেন। এই রকম একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং ধ্বংস শিক্ষা ব্যাবস্থা এবং আওয়ামী প্রশাসন রেখে গেছেন যার থেকে এই দেশকে টেনে তুলে ধরা যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য চ্যালেঞ্জ। পদ্মাসেতুর নাটক বল্টু বিয়ারিং খুলে পরে নাই, তবে মেট্রোরেলের বিয়ারিং ঠিক খুলে পরেছে।
দেশের উন্নয়নের দরকার আছে। দূর্নীতির জন্য কোন উন্নয়ন নয়, বরং দেশের মানুষের সেবা বৃদ্ধির জন্য উন্নয়ন। যোগাযোগ ব্যাবস্থাপনার উন্নয়ন সহ রাস্তাঘাট পুল সেতু এগুলোর ব্যাবস্থাপনা মেরামত এবং নির্মাণ দরকার। পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা এবং খাদ্য শিল্প ব্যবস্থাপনা,উন্নয়ন এবং দূর্নীতি মুক্ত পলিসি বেজড ব্যবস্থাপনা দরকার। শেখ হাসিনার সময় বড় ব, প্রজেক্ট হলেও মফস্বলের রাস্তা ঘাট মেরামত হয়নাই। বর্তমান সরকারের সময় শহরের রাস্তাঘাট মেরামত নেই, আর গ্রাম মফস্বলের কথা বাদ দিলাম। শেখ হাসিনার ফেলে যাওয়া দেশের যেই রকম ব্যাবস্থাপনা দরকার ছিল, সেটা ইউসুফ সরকার ব্যাবস্থাপনা করতে চরম ব্যার্থ। বরং ইচ্ছাকৃত ভাবে চরম অব্যাস্হাপনার দিকে ঝুকছে বর্তমান সরকার। দেশের যানবাহন ব্যাবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যার প্রমাণ। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে দুইটি শক্তি বিদ্যমান ছিল। একটি আওয়ামী লীগ এবং অপরটি বিএনপি। আওয়ামী লীগের পতনের পর সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছে বিএনপির দিকে। কিন্তু সরকার পতনের পর বিএনপির পাতি নেতাদের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ অভিযোগ আসছে বিএনপি অনেক কর্মীদের বহিস্কার করলেও এটা বিএনপির মফস্বল এবং কেন্দ্রের হাইকমান্ডের মধ্যে যে একটি দূরত্ব বা হাইকমান্ডের আদেশ অমান্য করে স্হানীয় নেতারা দখল বাণিজ্যে ঝুঁকছে সেটা ক্ষেত্র বিশেষে অতিরঞ্জিত হলেও বাস্তবিক অর্থে মফস্বলের মানুষ তাদের নেতা মানতে নারাজ এবং বিএনপির কেন্দ্রের উপর নাখোশ এই বিষয়টিতে। শেখ হাসিনার পতনের পর জামাতের একটি রাজনৈতিক সুযোগ থাকলেও এই দলের বর্তমান নেতৃত্ব বেশির ভাগ পূর্বে অন্য দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল এবং তাদের অতীতের নেতাদের আদর্শ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত। এছাড়াও তাদের পাকিস্তানের উগ্র রাজনৈতিক সমর্থন জামাতের রাজনীতির ১২ টা বাজিয়েছে। একদল অন্ধ সমর্থক থাকলেও সাধারণ ভোটারদের কাছে জামাত এখন আতঙ্কের নাম। তারা দেশের ক্ষমতায় গেলে দেশে এমন উগ্রতার দিকে নিয়ে না যায় যাতে ভারতের বাংলাদেশ নিয়ে পুরাতন অভিসন্ধি যেটা হাসিনার আমলে সম্ভব হয় নাই, জামাত না সেই খালটি তাদের উগ্র পলিসির মাধ্যমে করে দেয়। কারণ জামাতের বর্তমান নেতৃত্বের আদর্শ এবং যারা আওয়ামী লীগের সময় ফাঁসি হয়েছেন তাদের আদর্শের মধ্যে বিস্তর ফারাক বিভিন্ন টকশোর আলোচনায় এসেছে এবং রাস্তাঘাটে পানের দোকানে সেই আলাপ আছে। জামাতের যেমন ভোট ব্যাংক বেড়েছে দাবী করে অপরদিকে জামাত নিয়ে দেশের মানুষের আশংকা সংশয় আছে। নতুন দল এনসিপির মাহুদ কে সেই নিয়ে আছে প্রশ্ন। এনসিপি কি ডঃ ইউনুসের দল, নাকি জামাতের দল, নাকি নাগরিক ঐক্য কমিটির দল নাকি ছাত্র লীগের সী টিম এই নিয়ে আছে প্রশ্ন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের একাংশের দল এনসিপি যেটা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জড়িতরা মনে করে এটা তাদের সাথে বেঈমানি এবং না ইনসাফি। আমজনতার তারেক সে কথা বললেও দল তার ছোট। বাংলাদেশের তাই শেষ ভরসা আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়া। তার নেতৃত্ব দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে দেশের মানুষ সেই আশায় আছে। তবে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশের মানুষের দোয়া তিনি সুস্থ থাকেন। দেশের গার্ডিয়ান থাকেন। বিএনপি সহ সব দলের অভিভাবক তিনি। তিনি দেশের সকল মানুষের অভিভাবক হয়ে আগামীর রাষ্ট্রপতি থাকবেন। পদ্মাসেতুর উপর দিয়েই তার গাড়ি বহর যাবে দক্ষিণ বঙ্গে। এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। তবে বাংলাদেশের আগামীর সরকার যেই আসুক তাকে হতে হবে চাঁদাবাজি, দূর্নীতি, দলীয়করণ এবং অব্যবস্থাপনার সাথে আপোষহীন।