28/02/2026
বিএনপি সরকারকে চতুর্মুখী আক্রমণ : গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ?
১০ দিন এখনও পুরোপুরি হয়নি সরকারের। অথচ ১ম দিন থেকেই শুরু হয়েছে বিএনপির বিরুদ্ধে চারপাশে থেকে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডার ভয়াবহ আক্রমণ।
এই আক্রমণে নির্বাচনে পরাজিত শক্তির সাথে নানা সুবিধাভোগী গোষ্ঠী যুক্তি হয়েছে। ইউনূস সরকারের সুবিধাভোগী নানা গোষ্ঠী বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধের অপপ্রচারের পুরোপুরি নেমে পড়েছে।
অথচ সরকারের মেয়াদ আরও ৫ বছর। সাধারণত বিরোধী দল সরকারের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবী তুলে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে।
অথচ এবার সরকারের শপথ গ্রহণের ১ম দিন থেকে শুরু হয়েছে – ভয়াবহ অপপ্রচার।
এই অপপ্রচার মোটের উদ্দেশ্যহীন নয়। গভীর ষড়যন্ত্র নিয়েই এরা মাঠে নেমে পড়েছে -
১) গত ১৮ মাস ইউনূস সরকারের নামে আসলে ক্ষমতায় চালিয়েছে জাশি। ধর্ম ব্যবসায়ী এই দলটি লাখ লাখ বটবাহিনী মাঠে নামিয়েছে, আর অন্যদিকে সরকারের সব ক্ষমতা দখল করে ১৮ মাস তারা সরকার চালিয়েছে।
২) বিএনপি আসলে ইউনূস সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা নেয় নাই। বলা যায় জাশির কাছ থেকেই নিয়েছে। কারণ নামে বেনামে পুরো দেশ দখল করে শাসন চালিয়েছে জাশি। বলা যায় গত ১৮ মাস ক্ষমতায় ছিলো জাশি।
৩) নির্বাচন বানচালের জন্য এমন কোন ষড়যন্ত্র নাই যে তারা করে নি। জনাব তারেক রহমানের দেশে আসার পদে পদে বাধা তৈরি করেছিলো। এই ফাঁকে ব্যবসা বাণিজ্য, সরকারি লাইসেন্স, গুরুত্বপূর্ণ সব পদে নিজেদের লোক এমনভাবে বসিয়েছিলো যেন নির্বাচন যদি ঠেকাতে না পারে, তারা যেন জিততে না পারে।
৪) বিএনপির বিরুদ্ধে গত ১৮ মাস যে পরিমাণ মিথ্যাচার, কুৎসা, গীবত, অপপ্রচার চালিয়েছে ধর্ম ব্যবসায়ী দলটি এবং ইউনূস সরকারের সুবিধাবাদীরা, দুনিয়ার ইতিহাসে এত ভয়াবহ অপ্প্রচার আর কোন দেশে হয়েছে কিনা কেউ বলতে পারবে না।
৫) নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরেও তারা এক মুহূর্ত বিরতী নিচ্ছে না। নতুন নতুন ষড়যন্ত্র নিয়ে নেমে পড়েছে।
মূল কারণ:
বিএনপি জাতীয় সরকারে জাশিকে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে অত্যন্ত দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছে। যে দলটি বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার সব প্রচেষ্টা করেছে গত ১৮ মাস, সেই দলকে জাতীয় সরকারে রাখার কোন সুযোগ নেই।
জাশি এবং ইউনূস সরকারের সুবিধাভোগীরা এখন ক্ষমতার মধু হারিয়ে অনেকটা উন্মাদের মতো আচরণ করছে। যে কোন উপায়ে বিএনপির সরকারের প্রতিটা পদক্ষেপে বাধা দিয়ে সরকারের সাফল্যকে বাধাগ্রস্ত করার মহা পরিকল্পনা নিয়ে এরা এদের কাজ শুরু করে দিয়েছে। বিএনপি যেন ব্যর্থ হয় – সেই চেষ্টা তারা ১ম দিন থেকেই শুরু করেছে।
বিএনপি কী করতে পারে?
১) বিএনপি ১৮ মাস চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে শেষ পর্যন্ত সুফল পেয়েছে। নানা অপশক্তি নির্বাচন অনিশ্চিত করার ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও নির্বাচন আদায় করেছে বিএনপি। সেই বিএনপিকে সরকার গঠনের পরে এই অপশক্তিকে মোকাবেলা করতে হলে – ধৈর্য আর নিখুঁত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে।
২) বিএনপির সাইবার টিমকে শক্তিশালী করতে হবে। ফ্রান্স আর আমেরিকার দুই ‘রিফিউজি’ প্রবাসী যারা বাংলাদেশে আর কখনো আসতে পারবে না – সেই দুইজন গত ১৮ মাস মব সন্ত্রাসের নেতৃত্ব দিয়েছে – তাদের সৌশ্যাল মিডিয়া সরকার চাইলে বাংলাদেশ থেকে বন্ধ করে দিতে পারে। তা না করলেও বট আইডি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।
৩) সরকারের সাফল্যকে তুলে ধরার জন্য মিডিয়া সেলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
৪) গত ১৮ মাসে জাশি আর ইউনূস সরকারের সুবিধাভোগীদের সব পদায়ন বাতিল করে তাদের ওএসডি করতে হবে, যারা বাড়াবাড়ি করেছে এবং এখনও নানা ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত তাদের প্রয়োজনে চাকরিচ্যূত করতে হবে।
৫) সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিয়ে তাদেরকে সরকারের পক্ষে রাখতে হবে। দ্রব্যমূল্যের দাম কমিয়ে, বিনিয়োগ বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে।
৬) বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের সব কাজ শুরু করে দিতে হবে। মানুষকে সব সীমাবদ্ধতা জানাতে হবে। যেমন দেশের ঘাড়ে ২৪ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা, বিনিয়োগের ভয়াবহ খারাপ অবস্থা – শুরু থেকেই জনগণকে জানিয়ে রাখতে হবে।
৭) যেখানে হার্ড লাইনে যাওয়া দরকার, সেখানে হার্ড লাইনে যেতে হবে।
৮) জনাব তারেক রহমান বলেছেন – দুর্নীতি চললে বাংলাদেশ বাঁচবে না। ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, মবসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন দেখাতে হবে।
৯) মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
১০) লীগ সরকারের ১৫ বছর আর গত ১৮ মাসের সব দুর্নীতি, লুটপাট, কোটার দাপট – চেতনা ব্যবসায়ী, ধর্ম ব্যবসায়ী আর জুলাই ব্যবসায়ীদের সব অপকর্ম আর সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে তুলে আনতে হবে।
নানা অপশক্তি সংঘবদ্ধভাবে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েছে। এরা আরেকটি অভ্যূত্থানের চেষ্টা করবে, এরা এদের অপকর্ম নিয়ে তদন্তের সময় দিতে চাইবে না, এরা ক্ষমতার ভাগ চাইবে, এরা উচ্চ কক্ষের ১০০ এমপি পদের ভাগ বাটোয়ারার জন্য চাপ দেয়ার চেষ্টা করবে, এরা এদের গত ১৮ মাসের নানা অপকর্ম যাতে কোনমতেই সামনে না আসে,
তার আপ্রাণ চেষ্টা করবে।
সরকারকে ৩১ দফা নিয়ে কাজ করে যেতে হবে এবং গত ১৮ মাসের অপকর্মের বিচার করাই হবে এদের সব ষড়যন্ত্র থামিয়ে দেয়ার অন্যতম শক্তিশালী কৌশল।