08/08/2025
গাজীপুরের ঘটনা ও মিডিয়া ট্রায়াল এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা
গাজীপুরের মোটামুটি আজ দুটো ঘটনা ঘটেছে। এর একটি হলো - চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে স্থানীয় সাংবাদিককে মারধর। আর দ্বিতীয়টি হলো গাজীপুরের স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক তুহিন হত্যাকান্ড।
ফ্যাক্ট-১: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম ছড়িয়েছে - চাঁদাবাজির সংবাদ করায় পাথরে মেরে হত্যা করা হয়েছে আনোয়ার হোসেন সৌরভ নামের এক সাংবাদিককে। অথচ বাস্তবে আনোয়ার হোসেন মারা যান নি, বেঁচে আছেন মারা যান নি। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ফ্যাক্ট-২: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ায় যে, আনোয়ার হোসেনকে চাঁদাবাজির নিউজ করার অভিযোগে পাথর মেরে হত্যা করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। অথচ গণমাধ্যমের কোথাও স্থানীয় চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয় আসে নি। বলাও হয় নি। সুতরাং, প্রমাণের আগেই, তদন্তের আগেই একটা ঘটনায় বিএনপির ট্যাগ দেয়াটা রুটি রুজি হয়ে গেছে।
ফ্যাক্ট-৩: গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তায় রাতে তুহিন নামে আরেক সাংবাদিক নিহত হয়েছে। প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালো যে চাঁদাবাজির ভিডিও করায় রাতে মেরে ফেলা হয়েছে তাকে। অথচ পরে প্রমাণিত হলো যে মসজিদ মার্কেটের সামনে ছিনতাইয়ের ঘটনার ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে তুহিনের মৃত্যু হয়েছে।
ফ্যাক্ট-৪: প্রাথমিকভাবে এটা প্রতীয়মান যে তুহিনকে ছুরিকাঘাত করে মেরে ফেলার ঘটনায় স্থানীয় ছিনতাইকারী ও দূর্বৃত্তরা জড়িত। অথচ ফেসবুকে ছড়ানো হলো যে তুহিনকে হত্যা হয়েছে পাথর মেরে আর এর সাথে জড়িত বিএনপি।
ফ্যাক্ট-৫: সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকে জামায়াত-শিবির ও এনসিপির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তুহিন। বলা যায়, প্রতি মুহুর্তের জন্য একটিভ ছিলেন। তার এই অরাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে জামায়াত-শিবির এবং এনসিপি যে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে - এটা থেকে প্রতীয়মান যে তারা তাদের অপকর্ম ঢাকতে এটিকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।
এখন গাজীপুরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কথা বলি।
আমরা সবাই গোপালগঞ্জকে আওয়ামী লীগের আতুরঘর বলি। তবে বাস্তবতা হলো গোপালগঞ্জের বাহিরে সবচেয়ে বড় আতুরঘর এখন পর্যন্ত গাজীপুর। এর প্রধান কারণ গাজীপুরে এখনও আওয়ামীলীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের আধিপত্য অনেক বেশি। পাশাপাশি এই আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বর্তমানে অধিকাংশই চলছে এনসিপির ছত্রছায়ায় যারা মূলত সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের অনুসারী ও তার কথামত চলে। গাজীপুরের শ্রীপুর, মাওনা, টঙ্গী, জয়দেবপুরে আওয়ামীলীগের আধিপত্য এখনও প্রকাশ্য। এছাডাও বর্তমানে সেখানে জামায়াতের আধিপত্যও বাড়ছে। সব মিলিয়ে গাজীপুরের বর্তমান অবস্থা যথেষ্ট অস্থিতিশীল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও যথেষ্ট নাজুক। এক্ষেত্রে এই নাজুক পরিস্থিতির জন্য সিংহভাগ দায়ী স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।