02/05/2022
আমি কর্মকর্তা নই, আমি কর্মচারীও নই; আমি শিক্ষক।বেসরকারি শিক্ষক। আমার বেতন নেই, আমার মজুরিও নেই। তাই আমার বোনাসও নেই। আমিতো অনুদানে চলি। তাও আবার কর্তাব্যক্তিদের ইচ্ছায়। সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই, নির্দিষ্ট কোন সময় নেই।
আমি দেশেই বাস করি, কিন্তু বুঝি নাগরিক নই। আমি যে শিক্ষক। বেসরকারি শিক্ষক। আমার সম্মানের কিয়ৎ ছিটেফোঁটা থাকলেও কোন সম্মানী নেই। আমারতো ক্ষুদা-তৃষ্ণা নেই। এসব শিক্ষকের থাকতে নেই। শিক্ষকতো স্কুলে থাকবে কাজেই বাড়ির প্রয়োজন নেই; বাড়ি ভাড়ারও প্রয়োজন নেই। আমার রোগ নেই শোক নেই। কেন থাকবে? আমি যে শিক্ষক। বেসরকারি শিক্ষক।
শিক্ষকের সংসার থাকতে নেই। স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, থাকবে কেন? আমি শিক্ষক মানুষের সন্তানকে মানুষ করার কাজে নিয়োজিত। সংসারে মন দিলে কি চলে? শিক্ষক বুঝি আসমান থেকে সরাসরি নেমে এসেছে তাই এদের পিতা মাতাও বুঝি নাই। কাজেই বেতন দিয়ে এরা কী করবে? বোনাস দিয়ে কাজ কী তাদের? যে টুকু অনুদান দেওয়া হয় তাতেই ঢের চলে যাবে।
আমিতো কর্মকর্তা নই। আমি সরকারের কর্মচারীও নই। কাজেই আমার যা পাই তা নিয়ে চুপ থাকাই উচিৎ। কেন এত হৈ-হুল্লোড় চেঁচামেচি! কে শুনে আমার কথা! আমি সারাদিন চেঁচালোও আমার কথা কেন্দ্রে পৌঁছাবেনা। শিক্ষক না হয়ে যদি ঐ অকালপক্ব স্মার্ট বালক হতাম যার কথা বিদ্যুৎ গতিতে উপর মহলের মন গলিয়ে কব্জাকৃত খেলার মাঠ পূর্বাবস্থায় ফিরে গেলো ; কিংবা আমি যদি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হয়ে বাবার মিষ্টির দোকানে অস্থায়ী দোকানী হতাম তবে কথা হতো। আমাকে নিয়ে সংবাদ হতো। উপহার উপঢৌকনে ভরে যেত আমার ঘর। কিন্তু আমি যে শিক্ষক। আমারতো ঘরই নেই। থাকারতো কথা নেই।
আমি শিক্ষক। বেসরকারি শিক্ষক। আমার বেতনের প্রয়োজন নেই। আমার ঈদ নেই, তাই বোনাসেরও প্রয়োজন নেই। অনুদান যেটা পাই যখন খুশি তখন দিন কোন আপত্তি নাই।