18/10/2024
প্রিয় বন্ধু/ছাত্র জনতা,
ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা চাওয়ার অপরাধে প্রাথমিক ভাবে আমাদের ১০ জন সহকর্মীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এবং ২৪ জনের চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করেছে। আমি যে কোন সময়ে গুম-খুন বা জেল-জুলুম, অত্যাচার- নির্যাতনের শিকার হতে পারি। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। তবে বিষয়টি আপনাদের কাছে পরিষ্কার করা নৈতিক দায়িত্ব মনে করি। আপনারা দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় যদি নিজেদের কলমে বিষয়টি তুলে ধরেন, হয়তো এ নির্যাতন শোষণ বা হত্যার নীলনকশা থেকে বেঁচেও যেতে পারি।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় সারাদেশে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দেশের প্রায় ৯০ ভাগ এলাকায় ১৪ কোটি মানুষকে বিদ্যুৎ বিতরণ করে আসছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড একটি সরকারী স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। এই সংস্থা তার আওতাধীন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে বে-আইনীভাবে পৃথক সংস্থা করে রেখে তাদেরকে শোষণ- নির্যাতন- নিপিড়ন-দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে। একদিকে নির্যাতক ও দূর্নীতিবাজ আরইবি এবং তার মাত্র ১৬৮৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী। অপরদিকে নির্যাতিত -নিপীড়িত, ভাগ্য বিড়ম্বিত ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও তার ৪৫০০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী।
আরইবি, ২০১৩ সনের ৫৭নং আইনের বিভিন্ন ধারা(যেমন-২৫,২৬,২৮,২৯,৩০,৩১ও অন্যান্য ধারা) লংঘন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গুলোকে পৃথক সংস্থায় পরিণত করে বৈষম্য,শোষণ, নীপিড়ন চালিয়ে আসছে। দূর্নীতির মহোৎসব তৈরী করেছে। পবিসের আন্দোলনের ফলে বেআইনিভাবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) নামে পৃথক সংস্থা তৈরি করে নির্যাতনের বৈধতা দিতে জুন'২৪ মাসে আর ই বি'র চেয়ারম্যান অত্যন্ত গোপনে উক্ত আইন সংশোধনের চেষ্টা করে। সংশোধনী প্রস্তাবে "পল্লী বিদ্যুুতায়ন বোর্ড অধ্যাদেশ ১৯৭৭ ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন ২০১৩ প্রবর্তনের তারিখ হইতে কার্যকর ও অঙ্গীভূত হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে"-মর্মে উল্লেখ করা হয়,যা তাদের দীর্ঘদিনের অপকর্মের প্রমাণ বহন করে।
এই আইনের ৫(২) ধারা মতে যেখানে বোর্ডের সদস্য (সমিতি ব্যাবস্থাপনা) যেখানে সমিতি তথা মাঠপর্যায়ের কাজে সরাসরি নিয়োজিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে হওয়ার কথা, সেখানে সমিতিতে বা ফিল্ডে কাজ না করেই আরইবির লোকজন এ পদটি দখল করে আসছে। শুধু তাই নয় ফিল্ডে কাজ করা পবিসের(পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি) সর্বোচ্চ পদ জিএম বা সিনিয়র জিএমকেও আরইবি এর কর্মকর্তাদের শুরুর পদ সহকারী পরিচালক বা সহকারী প্রকৌশলীর চেয়েও নিচের বলে বিবেচনা করা হয়।
মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত কাজের চাপে প্রতিবছর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শতাধিক কর্মচারী বা লাইন ক্রু মারা যায়।অথচ ফিল্ডে না এসে শুধু হুকুম করা আরইবি এর একজনেরও আহত বা নিহত হওয়ার কোন নজির নেই বা সুযোগও নেই। এভাবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ পর্যন্ত কয়েক হাজার লোক মারা গেলেও তার জন্য আরইবি দুঃখ প্রকাশটুকুও করে নি। বরং এর প্রকৃত কারণ অতিরিক্ত কাজের চাপকে ( এখানে একজনকে প্রায় ১০ জনের কাজ করতে হয়) বিবেচনায় না নিয়ে এর দায় অন্যদের উপর কঠোর নির্যাতনের মাধ্যমে চাপিয়ে দেয়া হয়। পবিসে ১জন জিএমকে অন্য যে কোন বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থায় ৮-১০জন প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করতে হয়। অনুরূপ অবস্থা পবিসের যে কোন পদবীর কর্মকর্তা কর্মচারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।অতিরিক্ত কাজকে পবিসের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ নিজ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে সেবা দিয়ে গেলেও উন্নত সেবা তাতে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিটি পবিস থেকে প্রয়োজনীয় আরও অফিস করার বারবার প্রস্তাব দিলেও তা নাকচ করা হয়।অনুরূপভাবে জনবল ও যানবাহনের ক্ষেত্রেও আর্থিক সাশ্রয়ের কথা বলে অনুমোদন দেওয়া হয় না।ফলে ব্যাহত হয় গ্রাহক সেবা।
প্রতিদিন প্রতিমাসে প্রতিবছর পবিসের অসংখ্য কর্মকর্তা -কর্মচারী মাঠে কাজ করতে গিয়ে লোডশেডিং, বকেয়া আদায় বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বা অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যাবহার রোধ করতে গিয়ে বা অন্যবিধ যেকোন কারণে লাঞ্ছিত হয়। বিপরীতে আরইবি এর একজনও এ ধরনের লাঞ্চনার শিকার হওয়ার সুযোগ নেই।
আরইবির একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পদোন্নতি পেয়ে পবিসের প্রথম শ্রেনীর কর্মচারীদেরও সিনিয়র হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই পবিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে আরইবির কর্মকর্তা- কর্মচারীদের ব্যাবহার হয় জঘন্য রকমের।
অডিটের নামে হয়রানী ঘুষ গ্রহণ থেকে শুরু করে বহু ধরনের নির্যাতন তো রয়েছেই। দূর্নীতির মাধ্যমে নিম্নমানের মালামাল ক্রয়, সিস্টেমকে উন্নত না করে পবিসের লোকজনকে সার্বক্ষণিক চাপের মধ্যে রাখা আরইবির পুরানো কৌশল।
আরইবির দূর্নীতির অসংখ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিবেদন খেয়াল করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।পবিস সমূহের বিগত এক বছরের আন্দোলনের পরেও কেন তাদের টনক নড়ছে না, তাদেন শেকড় কোথায়, বিষয়টি উপলব্ধি করে আপনাদের এ বিষয়ে কন্ঠ বাড়ানোর উদাত্ত আহ্বান৷ জানাচ্ছি।
আশা করছি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদন, ইলেকট্রনিক ও সোশাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিও ফুটেজের অসংখ্য তথ্য দেখে এই দূর্নীতিবাজ ও নির্যাতক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জনমত তৈরী, বিচার বি়ভাগীয় তদন্ত অথবা তৃতীয় ও নিরপেক্ষ কোন ব্যক্তি বা সংস্থা দ্বারা তদন্ত করা, সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা, উভয় সংস্থাকে একীভূত করা বা সংস্কারের ব্যাবস্থা নেয়া, পবিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ও তাদের পরিবারের পাশে থাকা, তাদেরকে সকল প্রকার অত্যাচার নীপিড়ন থকে মুক্তির জন্য আপনার / আপনাদের মানবিক সাড়া বিশেষভাবে কামনা করছি।
কার্টেসি: মোঃ জাকির হোসেন
সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার