*খেলাফত মজলিসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস*
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
আশির দশকে বাংলাদেশে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন পতনের মুখে, ঠিক এমনি মুহূর্তে ১৯৮৯ ঈসায়ী সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার ইঞ্জিণিয়র্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক ঐতিহাসিক জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে তৎকালীন শায়খুল হাদিস মাওলানা আজীজুল হক (রহ:) এর নেতৃত্ত্বাধীন খেল
াফত আন্দোলন ও অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্ত্বাধীন যুব শিবির একীভূত হয়ে হাক্কানী ওলাময়ে কেরাম ও দ্বীনদার বুদ্ধীজীবীদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আত্মপ্রকাশ করে।
"খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণ-আন্দোলন গড়ে তুলুন" -এ শ্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই খেলাফত মজলিস দেশ, জনগণ ও ইসলামের স্বার্থে আন্দোলন, সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। ৯০’র স্বৈরাচার পতন আন্দোলন, ভারতের ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদ ও বাবরী মসজিদ পুনঃ নির্মাণের দাবীতে ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ লং মার্চ, ৯৪ সালের নাস্তিক-মুরতাদ তাসলিমা নাসরিন বিরোধী আন্দোলন, ২০০০-২০০১ সালে তৎকালীন গণ-বিরোধী ও ইসলাম বিদ্বেষী সরকারের বিরুদ্ধে ৪ দলীয় জোটের আন্দোলন, ১/১১ পরবরতী সেনাবাহিনী ব্যাকড তত্ত্বাধায়ক সরকার বিরোধী আন্দোলন, বর্তমান সরকারের একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা এবং ইসলাম তথা কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামার নেতৃত্বাধীন চলমান আন্দোলনসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল ইসুতে সংগ্রাম ও আন্দোলনে খেলাফত মজলিস গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছে এবং এখনও তা অব্যাহত আছে।
খেলাফত মজলিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এ সংগঠনের আমীরে মজলিস ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও মুফাসসিরে কুরআন হযরত মাওলানা আব্দুল গাফফার (রাহঃ), মহাসচিব ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান, যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন শায়খুল হাদিস আল্লামা আজীজুল হক (রহ:)। পরবর্তীকালে হযরত মাওলানা আব্দুল গাফফার (রাহঃ) ইনন্তেকালের পর আমীরে মজলিস ছিলেন শায়খুল হাদিস আল্লামা আজীজুল হক (রহ:)। মহাসচিব ছিলেন যথাক্রমে জনাব এ আর এম আব্দুল মতিন ও মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী। ২০০৫ সালের ২২ মে রাজধানীর পল্টন মোড়স্থ হোটেল রূপসী বাংলায় সংগঠনের তৎকালীন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের উপস্থিততে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তৎকালীন নায়েব আমীর প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক আমীরে মজলিস ও তৎকালীন নায়েবে আমীর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের মহাসচিব নির্বাচিত হন। বর্তমানেও ২০২১-২০২২ সেশনের জন্য অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক আমীরে মজলিস এবং প্রফেসর ড. আহমদ আবদুল কাদের মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন এবং খেলাফত মজলিসের নেতৃত্ব ও দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৯ম জাতীয় সংসদ নি্রবাচনের পূর্বে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করলে ২০০৮ সালে এ সংগঠন খেলাফত মজলিস নামে নিবন্ধন লাভ করে। খেলাফত মজলিসের নিবন্ধন নং- ৩৮, দলীয় নির্বাচনী প্রতীক দেয়াল ঘড়ি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ সংগঠনের যে সব মহান ব্যাক্তিত্ত্ব ও আলেমে দ্বীন দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিয়ে কবরবাসী হয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা আজীজুল হক, প্রতিষ্ঠাকালীন আমীরে মজলিস হযরত মাওলানা আব্দুল গাফফার, প্রতিষ্ঠাকালীন নায়েবে আমীর খ্যাতিমান সাহিত্যিক- সাংবাদিক অধ্যাপক মাওলানা আখতার ফারূক, নায়েবে আমীর শায়খুল হাদীস মাওলানা শওকত আলী, নায়েবে আমীর প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমান, নায়েবে আমীর হযরত মাওলানা ওবায়দুল হক (সাবেক এম.পি), নায়েবে আমীর ও খ্যাতিমান মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা এমদদদুল হক আড়াইহাজারী, নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান পেশওয়ারী, সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল গাফফার শায়খে মামরখানী, কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক হাজী রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় শিল্প ও বানিজ্য সম্পাদক হাফেজ মোজাম্মেল হক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সভাপতি শেখ গোলাম আসগর, ঢাকা মহানগরীর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ, অধ্যাপক মুহিব্বুল্লাহ, সিলেট জেলা সহসভাপতি হযরত মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও সিলেট জেলার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ সৈয়দ আতাউর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য বাগেরহাটের অধ্যাপক শামসুল আরেফীন, সিলেট মহানগর শাখার সিনিয়র সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল হক, ফেনীর মাওলানা মোফাজ্জল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা ময়মনসিংহের মাওলানা মনসুরুল হক খান (রাহিমাহুমুল্লাহ) প্রমুখ। এসব মরহুম উলামায়ে কেরাম ও মুরব্বীদের অবদান, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সারা দেশের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর অপরিসীম ত্যাগ- কুরবানীর ফসল আজকের খেলাফত মজলিস।
খেলাফত মজলিস বাংলাদেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশে ইসলামী আদর্শের আলোকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক জনকল্যাণ মূলক, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে খেলাফত মজলিস কাজ করে যাচ্ছে। খেলাফত মজলিস হক্কানী ওলামায়ে কেরাম ও দ্বীনদ্বার বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে শুরা তথা পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি ধারবাহিক আন্দোলন। বর্তমানে দেশের রাজধানী থেকে নিয়ে সকল জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন তথা তৃনমূল পর্যন্ত সুবিস্তৃত একটি জনপ্রিয় সংগঠন খেলাফত মজলিস।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই খেলাফত মজলিস সিলেট শহর শাখা নামে এবং পরবর্তীতে সিলেট মেট্রোপলিটন সিটি ঘোষিত হলে সিলেট মহানগর শাখা হিসেবে নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক রাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে এবং অব্যাহত আছে।