14/12/2015
একজন সুসন্তান যেমন বাবা-মায়ের জন্য
সম্পদ, তেমনি ভাল মা বাবাও সন্তানের
জন্য শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। সন্তানের জীবন গড়ার
প্রথম কারিগরই হল মা এবং বাবা। একটু
গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, আজকাল
সমাজে অধিকাংশ মা বাবাই সন্তানকে
সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারছেন না। আসলে
বাবা মা'ই হয়ত বুঝছেন না, কোনটি সঠিক
আর কোনটি বেঠিক। মায়েরা সন্তানকে
কার্টুন দেখিয়ে ভাত খাওয়াচ্ছেন, আর এতে
সন্তান হয়ে যাচ্ছে কার্টুনে আসক্ত! যেই
কার্টুন সে দেখছে তা অনেক ক্ষেত্রেই তার
জন্য কোন সুফল বয়ে আনবে না, একটু গভীর
পর্যবেক্ষনের দাবী রইল। আমার এক
আত্মীয়ার চার বছরের মেয়ে স্টার প্লাস
ছাড়া ভাত খায় না, বড়দের সিরিয়াল দেখে,
হিন্দীতে কথা বলে। এই মেয়ে এভাবে বড় হলে
তার থেকে ভাল কি আশা করা যেতে পারে?
অবশ্যই জীবনের কোন পর্যায়ে যদি সে
সঠিক বুঝ পায়, তবে ইনশাল্লাহ তার সুপথে
ফেরার সম্ভাবনা থেকেই যায়। বাচ্চাদের এখন
আমরা ওয়েস্টার্ণ/বলিউডি পোষাক পড়াই,
অথচ বুঝছি না যে এর একটা মনস্তাত্ত্বিক
প্রভাব তার মধ্যে পড়ছে, যেটা তাকে
ভবিষ্যতে উগ্র পোষাক পড়ার দিকে আগ্রহী
করে তুলবে।
তাই সন্তানদেরকে ছোট বেলা থেকেই দীন
(ইসলামী জীবন বিধান) শিক্ষা দিতে হবে,
যাতে তারা সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে। বাবা-
মাকেও দীনের পথে চলতে হবে যাতে তাদের
দেখে ছেলে মেয়েরা সঠিক শিক্ষা পায়। এটা
একটা সমন্বিত ব্যবস্থা। যে যার মত চললে
হবে না। দীনদার সন্তানই বাবা মায়ের জন্য
সম্পদ। তেমনি দীনদার বাবা মাও সন্তানদের
জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার।
আমরা যদি আমাদের সন্তানদের দীন শিক্ষা
না দেই এবং তারা যদি বাবা মায়ের কাছ থেকে
শিক্ষার অভাবে গোনাহে লিপ্ত হয়, তবে
সমপরিমাণ গোনাহ বাবা মায়ের
আমলনামায়ও জমা হবে এবং বিচারের দিবসে
বাবা মা'কে এজন্য আল্লাহর কাছে জবাব
দিতে হবে।
আর সন্তানের উপর বাবা মায়ের হক্বতো
অপরিসীম! একজন সুসন্তানই পারবে বাবা
মায়ের হক্ব পরিপূর্ণভাবে আদায় করতে। যে
সন্তান আল্লাহকে ভালবাসে, সে অবশ্যই
তারা বাবা-মায়ের হক্ব আদায় করবে। দেখুন,
কোরানে আল্লাহ পাক বাবা মায়ের হক্ব
সম্পর্কে কি বলেছেনঃ
আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না
তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে
সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়,
এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির
এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই
আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজ
নকে।
সূরা নিসা, আয়াত ৩৬
আপনি বলুনঃ এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব
বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের
প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম
করেছেন। তা এই যে, আল্লাহর সাথে কোন
কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা-মাতার
সাথে সদয় ব্যবহার করো, স্বীয়
সন্তানদেরকে দারিদ্রের কারণে হত্যা করো
না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার
দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না,
প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে
হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে
হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে।
তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন
তোমরা বুঝ।
সূরা আন-আম, আয়াত ১৫১
তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে,
তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং
পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের
মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার
জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে
তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং
তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে
শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা। তাদের সামনে
ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে
দাও এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের
প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে
শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।
সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ২৩, ২৪
আমি মানুষকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার
করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা
তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক করার
জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে
তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তাদের
আনুগত্য করো না। আমারই দিকে তোমাদের
প্রত্যাবর্তন। অতঃপর আমি তোমাদেরকে
বলে দেব যা কিছু তোমরা করতে।
সূরা আনকাবুত, আয়াত ৮
আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে
সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার
মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ
করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয়।
নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার
পিতা-মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে
আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।
সূরা আনকাবুত, আয়াত ১৪
আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে
সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী
তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং
কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ
করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ
মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থের
বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখন বলতে
লাগল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ
ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার
নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ
আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে
আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি।
আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর,
আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং
আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম।
সূরা আল আহক্বাফ, আয়াত ১৫
আসুন আমরা সবাই মা, বাবা এবং সন্তানের
হক্ব সঠিকভাবে আদায় করি। মা-বাবা
সন্তানের জন্য এবং সন্তান মা-বাবা'র জন্য
বেশী বেশী দোয়া করবে, কারণ আল্লাহর
কাছে এই দোয়ার গুরুত্ব অনেক বেশী।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে দীন
মানা এবং অন্যকে মেনে চলতে সহযোগিতা
করার তৌফিক দান করুন, আমিন।