24/12/2025
বর্তমানে আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত রোগীদের একটা বড় অংশ খোসপাঁচড়া বা স্ক্যাবিস রোগ নিয়ে আসছেন। এ রোগ খুবই ছোঁয়াচে প্রকৃতির। তাই এ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি সচেতনতা বেশি জরুরি।
খোসপাঁচড়া কি?
খোসপাঁচড়া বা স্ক্যাবিস একটি ছোঁয়াচে রোগ। সারকোপটিস স্ক্যাবিয় নামের এক ধরনের পরজীবীর আক্রমণে এ রোগ দেখা দেয়। সঠিক চিকিৎসা না করালে কিডনি ও হার্টের জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের কিডনী এবং হার্টের জটিলতা বেশি হয়।
খোস-পাঁচড়া যেভাবে ছড়ায়....
স্পর্শের মাধ্যমে সাধারণত এ রোগ ছড়ায়। তা ছাড়া রোগীর ব্যবহৃত জামা-কাপড়, গামছা, বিছানার চাদর, বালিশ, চেয়ার ও টেবিল ব্যবহার করলে এ রোগ হতে পারে। এ ছাড়া অল্প জায়গায় একসঙ্গে অনেক লোক গাদাগাদি করে বসবাস করলেও হয়ে থাকে, বিশেষ করে বস্তি বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। হোস্টেলের ছাত্রছাত্রীরা এতে আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমালে তার বালিশ, বিছানার চাদর থেকে এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এমনকি ঘড়ি, চুড়ি ও আংটির নিচে জীবাণু লুকিয়ে থাকতে পারে।
উপসর্গ....
-ছোট ছোট ফুসকুড়ি ওঠে; যা খুব চুলকায় ও তা থেকে পানির মতো তরল বের হতে পারে।
- সারা শরীর চুলকাতে থাকে। তবে আঙুলের ফাঁকে, নিতম্বে, যৌনাঙ্গে, হাতের তালুতে, কব্জিতে, বগল, নাভি ও কনুইয়ে চুলকানি বেশি হয়। রাতে বেশি অনুভূত হয়।
-চুলকানির ফলে ক্ষত হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে অন্য সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়।
-শিশুদের ক্ষেত্রে হাত–পায়ের তালু, মাথাসহ শরীরের যেকোনো জায়গায় খোসপাঁচড়া হতে পারে।
চিকিৎসা....
-সাবান দিয়ে ভালভাবে গোসল করার পর শরীর ভালো করে তোয়ালে দিয়ে মুছে শুকাতে হবে। এরপর ৫ শতাংশ পারমিথ্রিন ক্রিম গলা থেকে পা পর্যন্ত শরীরের সব জায়গায় লাগাতে হবে। ১২ ঘণ্টা পর আবার সাবান এবং কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। এ সময় কোন কারণে হাত-পা ধোয়া পড়লে আবার ভিজা স্থান শুকিয়ে ক্রিম লাগাতে হবে। এক সপ্তাহ পর আবার একই নিয়মে পারমিথ্রিন ক্রিম লাগাতে হবে।
-বিকল্প ওষুধ হিসাবে ২৫% বেনজাইল বেনজয়েট লোশন, টেট্রাসল লোশন ব্যবহার করা যায়।
- চুলকানির জন্য চুলকানির ওষুধ (এন্টিহিস্টামিন) খেতে হবে।
- যাদের খোসপাঁচড়াতে ইনফেকশন হয়ে গেছে তাদের এন্টিবায়োটিক খাওয়া লাগতে পারে।
- এছাড়াও চিকিৎসক রোগের অবস্থা অনুযায়ী অন্যান্য ওষুধ দিতে পারেন।
- চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর ব্যবহৃত জামা-কাপড়, বিছানার চাদর, গামছসহ সবকিছু গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে। এরপর ইস্ত্রী করে ফেলা উত্তম। যেসব ধোয়া সম্ভব নয় সেগুলা প্রখর রোদে শুকাতে হবে বা কমপক্ষে ৩ দিন আলাদা করে রাখতে হবে।
প্রতিরোধ....
- অতি ছোঁয়াছে খোসপাঁচড়া থেকে বাঁচার জন্য পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। নিয়মিত সাবান দিয়ে গোসল করতে হবে।
- আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির পোশাক, বিছানা ও সাবান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- পরিবারের একজনের হলে অন্যদের হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রোগীর ব্যবহৃত কাপড় চোপড়, গামছা, বিছানার চাদর ও বালিশ ব্যবহার করলে রোগটি হতে পারে। তাই রোগীর যেকোনো ধরনের চুলকানি হলে তাঁর বিছানাসহ কাপড়চোপড় আলাদা করতে হবে।
- পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে সবাইকে একসাথে চিকিৎসা নেয়া উচিত।
চুলকানি মানেই খোসপাঁচড়া নয়, চিকিৎসকের পরামর্শে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেয়া উচিত।
লেখক......
ডাঃ কামাল হোসেন
আরএমও এবং মেডিকেল অফিসার(রোগ নিয়ন্ত্রণ)
সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নোয়াখালী।