22/06/2026
যখন কোনো খাতে বরাদ্দ "বাড়ল" বলা হয়, সেটা টাকার অঙ্কে। কিন্তু টাকার দাম তো প্রতি বছর কমছে; সেটার নাম মূল্যস্ফীতি। সরকারের নিজের হিসাবেই মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের আশেপাশে। মানে গত বছর যে কাজ ১০০ টাকায় হতো, এ বছর সেটা করতে লাগে সাড়ে ১০৭ টাকা।
তাই কোনো খাতের বরাদ্দ যদি সাড়ে ৭ শতাংশের কম বাড়ে, তাহলে টাকার অঙ্কে বাড়লেও আসলে সেই খাত আগের চেয়ে কম পেল। মূল্যস্ফীতি পুরোটা খেয়ে ফেলল।
এই চশমা দিয়ে এবার কয়েকটা মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ দেখি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়: সংশোধিত ৪০,৬৬২ থেকে ৪২,৪৯৭ কোটি। টাকার অঙ্কে বাড়ল সাড়ে ৪ শতাংশ। কিন্তু মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭। বিয়োগ করেন, প্রকৃত অর্থে প্রতিরক্ষা বাজেট আসলে প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। বাড়েনি, কমেছে।
এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; পুলিশ, RAB, বিজিবি, আনসার: ২৭,০০১ থেকে ৩১,০৯৯ কোটি। টাকার অঙ্কে বাড়ল ১৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি বাদ দিলেও প্রকৃত বৃদ্ধি প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ।
এখন দুইটা পাশাপাশি রাখেন। মূল্যস্ফীতির পর প্রতিরক্ষা কমল ৩ শতাংশ, স্বরাষ্ট্র বাড়ল সাড়ে ৭ শতাংশ। সব খাতের বরাদ্দ যখন মূল্যস্ফীতিতে ক্ষয় হচ্ছে, তখন রাষ্ট্রের নিপীড়নের যন্ত্র যা হাসিনার নির্দেশ অক্ষরে পক্ষরে পালন করে গেছে। শেষ পর্যন্ত আপা পালানোর পরেও যাত্রাবাড়ীতে পালানোর সময়ে গুলি করে গনহ / ত্যা করেছে। কার্যত এরাই একমাত্র খাত যা সত্যিকারের অর্থে সামরিক খাতের চেয়ে বেশী বরাদ্দ পেলো। যে অভ্যুত্থান বিপ্লব অভ্যুত্থান যাই বলেন না কেন তাকে দমন-পীড়নের সবচেয়ে কার্যকর নিপীড়নের যন্ত্র ছিলো পুলিশ, যে সরকার "পরিবর্তন"-এর বয়ান নিয়ে এল, তার প্রথম বাজেটে প্রতিরক্ষা যখন প্রকৃত অর্থে কমছে, বহু খাত যখন মূল্যস্ফীতিতে ক্ষয় হচ্ছে, তখন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা যন্ত্রই সবচেয়ে জোরালোভাবে বাড়ছে। যেই সামরিক বাহিনী জনতার বিরুদ্ধে গুলি না ছুড়ে বিপ্লবের পক্ষে দাড়ালো, যারা বিপ্লবী জনতার সাথে রাজপথে একাত্ম হলো তার বরাদ্দ কমলো। আজিব বাত।