30/03/2025
■■ ঈদের নামায বিষয়ক প্রশ্ন উত্তর ■■
প্রশ্ন:
আমাদের মসজিদে উভয় ঈদের নামাযের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয় এবং ঠিক সময়েই নামায শুরু করা হয়। যার কারণে অনেক মুসল্লি মাসবুক হয়। তাই আমি ঈদের নামাযের মাসবুক সম্পর্কে কিছু মাসআলা জানতে চাই।
ক) ইমাম সাহেবকে প্রথম রাকাতে কিরাত অবস্থায় পাওয়া গেলে তখন কী করবে?
খ) আর এক রাকাত ছুটে গেলে তা পরবর্তীতে কোন নিয়মে আদায় করবে?
গ) ইমাম সাহেবকে তাশাহহুদে পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে ঈদের নামায পেয়েছে বলে ধর্তব্য হবে কি? হলে এক্ষেত্রে সালামের পর দু রাকাত কীভাবে আদায় করবে?
উত্তর:
ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতের কিরাত অবস্থায় শরিক হলে তাকবীরে তাহরীমার পর নিজে নিজে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। অতপর বাকি নামায যথানিয়মে ইমামের সাথে আদায় করবে।
আর ঈদের নামাযের এক রাকাত ছুটে গেলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে আগে সূরা-কিরাত পড়বে এরপর রুকুর আগে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে।
আর কোনো ব্যক্তি ইমামের তাশাহহুদ অবস্থায় জামাতে শরিক হলে তার নামাযও সহীহ হবে। এক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের সালামের পর দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই দুই রাকাত নামায পড়বে। অর্থাৎ প্রথম রাকাতের শুরুতেই অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নিবে। অতপর সূরা-কিরাত পড়বে। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলবে।
-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৯২; কিতাবুল আছল ১/৩২২; ফাতহুল কাদীর ২/৪৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, আছর : ৫৮৬৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৫
*****
৫৯৯৮. প্রশ্ন
গত ঈদের দিন ঈদের নামাযের উদ্দেশ্যে ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলাম। গিয়ে দেখি নামায প্রায় শেষের দিকে। হঠাৎ আমার ওযুরও প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তখন আমার খুব বেশি আশংকা হয় যে, ওযু করতে গেলে জামাত ছুটে যাবে। তাই তাড়াতাড়ি তায়াম্মুম করে জামাতে শরীক হই। প্রশ্ন হল, এমতাবস্থায় তায়াম্মুম করে নামায পড়াটা সহীহ হয়েছে কি?
উত্তর
হাঁ, ওযু করতে গেলে ঈদের নামায ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হলে তায়াম্মুম করে ঈদের নামায আদায় করা সহীহ। সুতরাং আপনার উক্ত ঈদের নামায সহীহ হয়েছে।
-মুখতাসারু ইখতিলাফিল উলামা ১/১৪৮; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১১৮; আলমুহীতুল বুরহানী ১/৩১৭; আলইখতিয়ার ১/৮৬; আলবাহরুর রায়েক ১/১৫৮; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/১২৯
******
৪৩৬২. প্রশ্ন
বর্তমানে আমাদের দেশের কোথাও কোথাও দেখা যায়, মসজিদে ঈদের নামায পড়া হয়। অথচ ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি যে, ঈদের নামায ঈদগাহেই পড়া হয়। তাই প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে মসজিদে ঈদের নামায পড়ার বিধান কী?
উত্তর
ঈদের নামায ঈদগাহে ও খোলা মাঠে পড়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খোলাফায়ে রাশেদীন সকলেই ঈদের নামায ঈদগাহে পড়তেন। হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন-
كَانَ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِ وَالأَضْحَى إِلَى المُصَلّى.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন (ঈদের নামাযের জন্য) ঈদগাহে যেতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৫৬)
হযরত আলী রা. বলেন-
الْخُرُوجُ إِلَى الْجَبّانِ فِي الْعِيدَيْنِ مِنَ السّنّةِ.
দুই ঈদে (ঈদের নামাযের জন্য) খোলা মাঠে যাওয়া সুন্নত। (আলমুজামুল আওসাত, তাবারানী, হাদীস ৪০৪০)
তাই মাঠে পড়ার ব্যবস্থা থাকলে বিনা ওজরে মসজিদে ঈদের জামাত করা সুন্নতের খেলাফ হবে। তবে বিনা ওযরে মসজিদে ঈদের নামায আদায় করলেও তা আদায় হয়ে যাবে।
প্রকাশ থাকে যে, বর্তমানে শহরে ঈদগাহ কম বিধায় অধিকাংশ মসজিদে ঈদের জামাত হয়। জায়গা সংকুলান না হওয়া বা বৃষ্টি ইত্যাদির কারণে মসজিদে ঈদের নামায পড়লে সুন্নতের খেলাফ হবে না। ওযরের সময় মসজিদে পড়া হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন, আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
أَصَابَهُمْ مَطَرٌ فِي يَوْمِ عِيدٍ، فَصَلّى بِهِمُ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ صَلَاةَ الْعِيدِ فِي الْمَسْجِدِ.
কোনো এক ঈদের দিন তাঁরা বৃষ্টিতে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে ঈদের জামাত আদায় করেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১১৫৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৩১৩)
-শরহুল মুনয়া পৃ. ৫৭১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৬৯
******
৩০১৬. প্রশ্ন
ঈদের নামায ঈদগাহে পড়ার সুব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মসজিদে পড়াটা কেমন? এ ব্যাপারে শরীয়তের দিকনির্দেশনা কী? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
ঈদের নামায ঈদগাহে পড়া সুন্নত। ঈদগাহে পড়ার সুব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিনা ওজরে মসজিদে পড়া মাকরূহ। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামায ঈদগাহেই পড়তেন। আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামায পড়ার জন্য ঈদগাহে গমন করতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৯৫৬)
অবশ্য বৃষ্টির কারণে বা অন্য কোনো ওযরে যেমন জায়গা সংকুলান না হওয়া বা ঈদগাহ না থাকার কারণে মসজিদে ঈদের জামাত করা মাকরূহ নয়। হাদীস শরীফে এসেছে, আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার ঈদের দিন বৃষ্টি শুরু হল, তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিয়ে মসজিদে ঈদের নামায পড়েছেন।
-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১১৬০; ফাতহুল বারী ২/৫২২; রদ্দুল মুহতার ২/১৬৯; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭৭; উমদাতুল কারী ৬/২৮২; আলমাদখাল, ইবনুল হাজ্ব ২/২৮৯
*****
৪৯৯৭. প্রশ্ন
গত কুরবানী ঈদে এক মসজিদে ঈদের নামায পড়তে যাই। নামাযের আগে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীর আদায়ের তরীকা বলেন, প্রথম দুই তাকবীরের পর হাত উঠিয়ে বেঁধে নিবে, তৃতীয় তাকবীরের পর হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিবে এবং চতুর্থ তাকবীর বলতে বলতে রুকুতে যাবে। অথচ আমাদের মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেব প্রথম দুই তাকবীরেও হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে বলেন। এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কোন্টি জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
আপনার মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেবের বর্ণিত পদ্ধতিটিই সঠিক। ঈদের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীর আদায়ের সময় প্রত্যেকবার তাকবীর বলে হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিবে। চতুর্থবার তাকবীর বলতে বলতে রুকুতে যাবে। অবশ্য আপনার গত ঈদের নামায আদায় হয়ে গেছে। যদিও অতিরিক্ত তাকবীরগুলোতে হাত উঠানোর পর ছেড়ে না দেওয়া অনুত্তম হয়েছে।
-হালবাতুল মুজাল্লী ২/১০৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৪; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫৬৭
******
৩৮৫১ . প্রশ্ন
গতবার ঈদের নামাযে আমাদের ইমাম ছাহেব অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় হাত উঠাননি। নামায শেষে অনেক মুসল্লি বলেন, ঈদের তাকবীরে হাত না উঠালে নামায শুদ্ধ হয় না। আবার অনেকে বলেন, সাহু সিজদা করলে নামায শুদ্ধ হয়ে যেত।
জানতে চাই, ঈদের তাকবীরে হাত উঠানোর বিধান কী? না উঠালে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে? সিজদা না করার কারণে কি আমাদের নামায ভুল হয়েছে?
উত্তর
ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় হাত উঠানো সুন্নত। ওয়াজিব নয়। তাই কেউ হাত না উঠালেও তার নামায হয়ে যাবে। এ কারণে সাহু সিজদা করতে হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত এমনটি করা ঠিক নয়।
-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৮৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকি, ১৩৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৭৪
*****
৯২১. প্রশ্ন
গত ঈদুল-আযহার নামাযের পূর্ব মুহূর্তে আমাদের ইমাম নামাযের নিয়তসহ নিয়ম কানুন বলে দেন। তিনি বলেন, প্রথম তিনবার আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিয়ে হাত ছেড়ে চতুর্থ বারে হাত বাঁধতে হবে। আমি তাতে দ্বিমত পোষন করি এবং বলি যে, প্রথম তাকবীরের সাথে সাথেই হাত বাঁধতে হবে এবং সানা পড়ার পর তিন বার হাত ছেড়ে ছেড়ে তাকবীর দিতে হবে এবং পরবতীর্তে হাত বেঁধে ইমাম সূরা ফাতিহা এবং অন্য সূরা পড়বেন। ইমাম সাহেব আমার প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে তার প্রস্তাবিত উপায়ে নামায আদায় করেন। আমাদের নামায হয়েছে কি না তা জানার জন্য বিভিন্ন আলেমের নিকট জিজ্ঞাসা করি। তাদের কেউ বলেছেন, নামায হয়েছে; কেউ বলেছেন, নামায হয়নি। এমতাবস্থায় আমাদের নামায হয়েছে, কি না? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
ঈদের নামাযে প্রথম তাকবীর হল তাকবীরে তাহরীমা। এই তাকবীরের পর সানা পড়তে হয়। তাই প্রথম তাকবীরের পর হাত বাঁধা সুন্নত। এর পরবর্তী দুই তাকবীর বলে হাত ছেড়ে দিবে তৃতীয় তাকবীরের পর, যা তাকবীরে তাহরীমার তাকবীরসহ হিসাব করলে চতুর্থ তাকবীর হয়, আবার হাত বাঁধবে। এসকল তাকবীরের মধ্যে উক্ত নিয়মে হাত বাঁধা ও হাত ছাড়া সুন্নত। প্রথম তাকবীর তথা তাকবীরে তাহরীমার পর হাত না বাঁধা ভুল। তদ্রূপ তাকবীরে তাহরীমার পর তৃতীয় তাকবীর বলে হাত বাঁধা নিয়ম। এখানে হাত না বেঁধে ছেড়ে দেওয়া ভুল। অনেকে তাকবীরের পর হাত ছেড়ে দিয়ে পরে বাঁধে-এটা ঠিক নয়। সুতরাং প্রথম তাকবীরের পর হাত না বেঁধে যদি ছেড়ে দেয় তাহলে নামায আদায় হয়ে যাবে, তবে সুন্নত ছেড়ে দেওয়ার কারণে অনুত্তম হবে।
উল্লেখ্য, কোনো বিষয়ে না জেনে কথা বলা দোষনীয়। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
******
প্রশ্ন : আমাদের কিছু ভাই বলে থাকেন যে, আমরা যে পদ্ধতিতে ঈদের নামায পড়ে থাকি তা সুন্নাহসম্মত নয়। সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি হল বারো তাকবীরের সঙ্গে নামায আদায় করা। তাদের কথা কতটুকু ঠিক? আর আমরা যে পদ্ধতিতে নামায আদায় করি তার দলীল কী?
উত্তর : ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে ওহীর উপর নির্ভরশীল। তাই এ ধরনের বিষয়ে বুনিয়াদ হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে ঈদের নামাযের নিয়ম-পদ্ধতি শিখিয়েছেন এবং তাঁরা পরবর্তী লোকদেরকে সেই নিয়মই শিখিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব ক্ষেত্রে একাধিক পদ্ধতি শিখিয়েছেন তার সবগুলোই সঠিক ও জায়েয। ঈদের তাকবীর বলার ক্ষেত্রেও একাধিক নিয়ম পাওয়া যায়, যার সবগুলোই সঠিক। এক্ষেত্রে বারো তাকবীরের নিয়ম যেমন হাদীসে পাওয়া যায় তেমনি চার তাকবীরের নিয়মও হাদীস শরীফে রয়েছে। তাই বারো তাকবীরের পন্থাও জায়েয পন্থা। কোনো দেশে বা কোনো ঈদগাহে যদি এই পদ্ধতিতে নামায হয় তাহলে আপত্তি করার কিছু নেই। ঝগড়া-বিবাদের তো প্রশ্নই ওঠে না। তদ্রূপ যে পদ্ধতি অনুযায়ী আমরা নামায পড়ে থাকি সেই পদ্ধতিও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং একাধিক জলীলুল কদর সাহাবী এই পদ্ধতির উপর আমল করেছেন। অতএব এ বিষয়ে কোনো বিভ্রানি- ছড়ানো সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচায়ক। নিম্নে এ পদ্ধতির দু’টি দলীল উল্লেখ করা হল।
১. প্রসিদ্ধ তাবেয়ী আবু আবদুর রহমান কাসিম বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, ‘‘নবীজী ঈদের দিন আমাদের নামায পড়ালেন এবং চারটি করে তাকবীর দিলেন। নামায শেষে আমাদের দিকে তাকিয়ে ইরশাদ করলেন, ‘ভুলো না যেন, তারপর হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বন্ধ করে বাকি চার আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত করে বললেন, জানাযার তাকবীরের মতো (ঈদের নামাযেও চারটি করে তাকবীর হয়ে থাকে)’।’’-তহাবী ২/৩৭১ (কিতাবুু যিয়াদাত ১ম বাব)
এই হাদীসটি সহীহ এবং এর সকল রাবী ‘ছিকাহ’ নির্ভরযোগ্য। ইমাম তহাবী রাহ.-এর ভাষ্য অনুযায়ী এদের বর্ণনাসমূহ সহীহ হওয়া বিশেষজ্ঞদের নিকট সর্বজনবিদিত। ইমাম তহাবী রাহ. একথাও বলেছেন যে, এই হাদীসের সনদ ওই সব হাদীসের সনদ থেকে অধিক সহীহ যেখানে বারো তাকবীরের কথা বলা হয়েছে।
২. (প্রসিদ্ধ তাবেয়ী ইমাম) মাকহুল বলেছেন, আমাকে আবু হুরায়রা রা.-এর সহচর আবু আয়েশা জানিয়েছেন যে, (কূফার আমীর) সাঈদ ইবনুল আছ হযরত আবু মুসা আশআরী রা. ও হযরত হুযায়ফা রা.কে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরে কয় তাকবীর দিতেন? আবু মুসা আশআরী রা. উত্তরে বললেন, জানাযার তাকবীরের সমসংখ্যক (চার) তাকবীর দিতেন। হুযায়ফা রা. (আবু মুসা রা.-এর সমর্থনে) বললেন, তিনি ঠিক বলেছেন। আবু মুসা রা. আরো বললেন, আমি যখন বসরার আমীর হিসাবে সেখানে ছিলাম তখন চার তাকবীর দিয়েছি। আবু আয়েশা বলেন, সাঈদ ইবনুল আছ-এর এই প্রশ্নের সময় আমি সেখানে উপসি'ত ছিলাম। তিনি আরো বলেন, আবু মুসা রা-এর বাক্য ‘জানাযার মতো চার তাকবীর’ এখনো আমার স্পষ্ট মনে আছে।-সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ১১৫০; মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ২/৭৮, কিতাবু সালাতিল ঈদাইন, বাব নং ১২; মুসনাদে আহমদ ৪/৪১৬
সনদের বিবেচনায় এই হাদীসটি হাসান এবং হাসান হাদীস গ্রহণযোগ্য হাদীসেরই একটি প্রকার। বিস্তারিত আলোচনার জন্য আলকাউসার অক্টোবর ও নভেম্বর ২০০৫ সংখ্যা অথবা মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে প্রকাশিত পুস্তিকা ‘সহীহ হাদীসের আলোকে তারাবীর রাকাআত সংখ্যা ও সহীহ হাদীসের আলোকে ঈদের নামায’ অধ্যয়ন করা যেতে পারে।
*****
প্রশ্ন:
ঈদের খুতবায় অনেককে প্রথম খুতবার শুরুতে ৯ বার, দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে ৭বার এবং খুতবা শেষে ১৪ বার তাকবীর বলতে লক্ষ্য করা যায়। জানার বিষয় হল, এভাবে তাকবীর বলার হুকুম কী? এটি কি হাদীস বা আছার দ্বারা প্রমাণিত? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
উত্তর:
ঈদের নামাযের প্রথম খুতবার শুরুতে নয়বার ও দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে সাতবার ধারাবাহিকভাবে‘আল্লাহু আকবার’বলামুস্তাহাব। এটি বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ রাহ. থেকে বর্ণিত আছে। আর খুতবাহ শেষে ১৪ বার তাকবীর বলার কথা হাদীস বা আছারে পাওয়া যায়নি। ফিকহের কোনো কোনো কিতাবে এভাবে ১৪বার তাকবীর বলার কথা উল্লেখ আছে। তবে উভয় ঈদের খুতবায়ই ব্যাপকভাবে বেশি বেশি তাকবীর বলা সাহাবী ও তাবেয়ীদের আছার দ্বারা প্রমাণিত।
মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/২৯০; সুনানে বাইহাকী ৩/২৯৯; মাআরিফাতুস সুনান ওয়াল আছার ৩/৪৯; আলআওসাত ৪/৩২৮; কিতাবুল উ্মম,শাফেয়ী ১/২৭৩; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৩/২৭৭; আলবয়ান ওয়াততাহসীল ১/৩০০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬২; ইলাউস সুনান ৮/১৬১-১৬২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৫
******
১৮৭৩, ১৮৭৪, ১৮৭৫ . মুহাম্মাদ আবদুর রহমান . নরসিংদী
প্রশ্ন:১৮৭৩. প্রশ্ন : ক) যদি কোনো ব্যক্তি ঈদের নামায নিজে আদায় করার পর ঈদের নামাযের দ্বিতীয় জামাতের ইমামতি করেন তাহলে তার উক্ত ইমামতি বৈধ হবে কি না? ১৮৭৪. প্রশ্ন : খ) যারা তার পিছনে ইক্তেদা করে ঈদের নামায আদায় করবেন তাদের নামায সহীহ হবে কি না? ১৮৭৫. প্রশ্ন : গ) ঈদের নামাযের প্রথম জামাতের মুক্তাদি দ্বিতীয় জামাতের ইমামতি করতে পারবে কি না-প্রশ্ন করা হলে এক আলেম সাহেব বৈধ বলে ফতোয়া প্রদান করেন। এ ফতোয়া সঠিক কি না? শরীয়তের দৃষ্টিতে ফতোয়ার নির্ভরযোগ্য কিতাবাদির উদ্ধৃতি সহকারে উত্তর দিলে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর:উত্তর : ক ও খ) যে ব্যক্তি একবার নামায আদায় করেছে তার জন্য দ্বিতীয় জামাতের ইমাম হওয়ার সুযোগ নেই। শরীয়তে ঈদের নামায একবার, দুইবার নয়। যে ব্যক্তি একবার নামায পড়েছে তার জন্য দ্বিতীয় নামায ঈদের নামায নয়; বরং তা নফল নামায হবে। আর নফল আদায়কারী ইমামের পিছনে, ঈদের নামায আদায়কারী মুসল্লির ইক্তেদা করা বৈধ নয়। উক্ত মাসআলায় যদিও বিভিন্ন ফিকহী মাযহাবে মতভেদ রয়েছে, কিন্তু দলীলের বিচারে উল্লেখিত সিদ্ধান্তই অগ্রগণ্য এবং অধিকাংশ ফকীহ এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সহীহ বুখারীর এক হাদীসে আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ইমাম বানানো হয় তাঁর অনুসরণের জন্য অতএব তোমরা ভিন্নতা অবলম্বন করবে না।’-সহীহ বুখারী ১/১০
জানা কথা, ঈদের নামাযের মুক্তাদীগণ নফল আদায়কারী ইমামের ইক্তেদা করলে ইমামের অনুসরণ হয় না; বরং ইমাম মুক্তাদীর নামায ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। অন্য বর্ণনায় আছে, হযরত কাতাদাহ রাহ. থেকে বর্ণিত, হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব ও হাসান বসরী রাহ. বলেন, যে ব্যক্তি যোহরের জামাত মনে করে আসরের নামায আদায়রত জামাতে শরীক হল এবং নামাযের পর সে জানতে পারল, তারা আসর আদায় করেছে, উক্ত ব্যক্তি আসর ও যোহর উভয় নামায পুনরায় পড়বে।’-মুসন্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৩/৫২৪
আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় এই যে, ইমাম যখন ঈদের নামায পড়বেন, তিনি অতিরিক্ত তাকবীরের সাথে পড়াবেন। অথচ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কোনো নফল নামাযে ঈদের নামাযের মতো অতিরিক্ত তাকবীর নেই। বিশেষ করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ জীবনে কখনো আদায়কৃত ঈদের নামায পুনরায় পড়াননি। কোনো সাহাবীকে এমন করতে আদেশও করেননি বা কোনো সাহাবী এমন করেছেন তার প্রমাণ নেই; বরং হাদীস শরীফে এক নামায একাধিকবার পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কোনো নামায একদিনে একাধিকবার পড়ো না।-আবু দাউদ ১/৮৫ উত্তর : গ)
সম্ভবত তিনি অন্য কোনো মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন। এটা ঠিক হয়নি। এর প্রথম কারণ হল, যে মত অনুযায়ী তিনি ফতোয়া দিয়েছেন তা দলীলের বিচারে দুর্বল। দ্বিতীয় কারণ হল এতদাঞ্চলে ফিকহে হানাফী অনুযায়ী কুরআন ও হাদীসের উপর আমল করা হয়। তাই শরীয়তসম্মত প্রয়োজন ছাড়া বিপরীত ফতোয়া দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলা দ্বীনী মাসলাহাতের পরিপন্থী।-আততামহীদ ২৪/৩৬৭; আলমাজমূ’ ৪/১৬৯; ফাতহুল বারী ২/২২৬; কিতাবুল উম্ম ১/২০০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৯৬; যাখীরা ২/২৪২; আলমুনতাকা, ইবনে তায়মিয়া ১/৬৩২; তাসহীলুল মাসালিক ২/৪৯৬; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৩/৫২৪
আততামহীদ ২৪/৩৬৭; আলমাজমূ’ ৪/১৬৯; ফাতহুল বারী ২/২২৬; কিতাবুল উম্ম ১/২০০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৯৬; যাখীরা ২/২৪২; আলমুনতাকা, ইবনে তায়মিয়া ১/৬৩২; তাসহীলুল মাসালিক ২/৪৯৬; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৩/৫২৪
*****
৪১০০. প্রশ্ন
আমি প্রায় দিনই ফজর নামায পড়ে জায়নামাযে বসে যিকির আযকার করতে থাকি। এরপর এশরাকের সময় হলে দু’চার রাকাত এশরাকের নামায পড়ে ঘরের কাজ শুরু করি। গত ঈদের দিনও ফজর নামায পড়ে এশরাকের অপেক্ষায় বসেছিলাম। আমার স্বামী দেখে বললেন, ঈদের দিন ঈদের নামাযের আগে মহিলাদের কোনো নফল নামায নেই। জানতে চাই, আমার স্বামীর উক্ত কথা কি ঠিক?
উত্তর
আপনার স্বামী ঠিকই বলেছেন। ঈদের দিন ঈদের নামাযের আগে নারী-পুরুষ সকলের জন্যই নফল নামায নেই। হাদীস শরীফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্র্ণিত আছে-
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يَومَ أَضْحَى، أَوْ فِطْرٍ، فَصَلَى رَكْعَتَيْنِ، لَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلَا بَعْدَهَا.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতরের দিন বের হয়ে ঈদের দু’রাকাত নামায পড়েছেন। আগে পরে কোনো নামায পড়েননি। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৮৪)
উক্ত হাদীসের আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, ঈদের দিন নারী-পুরুষ কেউই ঈদের নামাযের আগে নফল পড়বে না। এবং ঈদগাহে ঈদের নামাযের পরেও পড়বে না।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৫৮৯৫; কিতাবুল আছল ১/৩২২; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৪০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৯৯; রদ্দুল মুহতার ২/১৬৯
*****
২৮২৩. প্রশ্ন
গত ঈদুল ফিতরের দিন এক ব্যক্তিকে মসজিদে নফল নামায পড়তে দেখলাম। নামায শেষে তাকে বললাম, ঈদের দিন ঈদের নামাযের আগে কোনো নফল নামায পড়া যায় না। তখন সে বলল, ঈদের দিনে ঈদগাহে নফল নামায পড়া নিষেধ। কিন্তু অন্য জায়গায় নফল নামায পড়া যায়। প্রশ্ন হল ঐ ব্যক্তির বক্তব্য কি সঠিক?
উত্তর
ঐ ব্যক্তির কথাটি ঠিক নয়। ঈদের নামাযের আগে ঈদগাহে এবং অন্যত্রও নফল নামায পড়া মাকরূহ। তবে ঈদের নামাযের পর ঈদগাহের বাইরে নফল নামায পড়া যাবে।
আবু সাইদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাযের আগে কোনো নফল নামায পড়তেন না। ঈদের পর বাড়িতে ফিরে এসে দুই রাকাত নামায পড়তেন।
-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১২৯৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬০; রদ্দুল মুহতার ২/১৬৯; শরহুল মুনইয়াহ ২৪৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩
******
১৫২৩.. প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি সৌদি আরব থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ করে এসে বাংলাদেশে দেখে একদিন পর ঈদ হবে। এখন তার জন্য পুনরায় ঈদের নামায পড়ার হুকুম কী? সে কি ঈদের নামাযের ইমামতি করতে পারবে? অন্যদের মতো সেও কি ঈদের নামায পড়বে?
উত্তর
ঐ ব্যক্তি বাংলাদেশের লোকদের সাথে পুনরায় ঈদের নামায আদায় করবে। তবে ঈদের নামাযের ইমামতি করবে না।
-সুনানো তিরমিযী ১/১৫০; বাযলুল মাজহুদ ১১/১১৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৬২; রদ্দুল মুহতার ২/৩৮৪
*****
৩৮৫৭. প্রশ্ন
গত বছর রযমানের ঈদের নামাযের শেষ খুতবার আগেই জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে ইমাম সাহেব খুতবা পাঠ করেন। জানার বিষয় হল, খুতবার আগে জানাযা আদায় করা কি ঠিক হয়েছে? নাকি খুতবার পরে জানাযা আদায় করা উচিত?
উত্তর
খুতবা ঈদের নামাযেরই অংশবিশেষ। তাই খুতবার পরেই জানাযার নামায আদায় করা উচিত। হাকীমুল উম্মত থানভী রাহ., যফর আহমাদ উসমানী রাহ. বলেন, বিশৃঙ্খলা ও ছত্রভঙ্গের কারণে যেমনিভাবে আগে ঈদ ও জুমআ পড়ে জানাযা পড়ার কথা ফকীহগণ বলেন। একই কারণে ঈদের খুতবার পরেই জানাযা পড়া উচিত। অন্যথায় অনেকেই খুতবা না শুনেই চলে যাবে। এছাড়া খুতবা তো ঈদের সাথেই সংশ্লিষ্ট। তবে খুতবার পূর্বে জানাযার নামায পড়া হলেও তা আদায় হয়ে যাবে।
-ইমদাদুল আহকাম ১/৮৩৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৫০৫
*****
৫১৯৩. প্রশ্ন
গত ঈদের নামায পড়তে ঈদগাহে গিয়েছিলাম। অনেক মানুষ হয়েছিল। ইমাম সাহেবের বয়ানের পর নামায শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে আমার ওযু ভেঙে যায়। আমি ঈদগাহে মাঠের মধ্যখানে ছিলাম। তো মনে হল যে, এখন যদি ওযু করতে যাই তাহলে নামায হয়তো আর পাব না। কী করব তা ভেবে পাচ্ছিলাম না। তাই আমি নামাযের নিয়ত ছাড়া সবার সাথে এমনি রুকু সিজদা করি। প্রশ্ন হল, আমার এ কাজটি কি ঠিক হয়েছে? এমন অবস্থায় আমার করণীয় কী?
উত্তর
ঈদের জামাত শুরু হওয়ার পর অথবা জামাতের আগ মুহূর্তে যদি কেউ এমন অবস্থায় পড়ে যে, এখন ওযু করতে গেলে পুরো নামায ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকে এবং পরে অন্য কোনো ঈদের জামাতে শরীক হওয়াও সম্ভব না হয়। তাহলে ঐ ব্যক্তি তায়াম্মুম করে নামায পড়ে নেবে। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার জন্য এমনটি না করে নিয়ত ছাড়া এমনি রুকু সিজদা করা ভুল হয়েছে। এবং ঈদের নামায না পড়ার গোনাহ হয়েছে। এজন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তেগফার করবেন।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫৯১৯; কিতাবুল আছল ১/৯৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৭৮; আলবাহরুর রায়েক ১/১৫৮; হালবাতুল মুজাল্লী ১/২৫৩; আলইখতিয়ার ১/৮৬; মাজমাউল আনহুর ১/৬৩১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩১
******
২০৬৯ . প্রশ্ন
এই কুরবানীর ঈদের নামাযে ইমাম সাহেব রুকুর আগে দাড়িয়ে তিনটি তাকবীর দেন এরপর ভুলে রুকুর তাকবীর না বলে রুকুতে চলে যান। ইমামের মতো মুক্তাদিগণও তিন তাকবীর দাড়িয়ে বলেন। এরপর রুকুতে চলে যান। নামাযের পর মুসল্লীদের মধ্যে হট্টগোল লেগে যায়। এরপর ইমাম সাহেব পুনরায় নামায আদায়ের এলান করেন। মুসল্লীদের একজন দ্বিতীয় জামাতের ইমামতী করেন। আমাদের নামায কি হয়েছে? দ্বিতীয় জামাত করা কি ঠিক হয়েছে?
উত্তর
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী ইমাম সাহেব যেহেতু রুকুতে যাওয়ার আগেই দাড়িয়ে তিন তাকবীর সমাপ্ত করেছেন তাই ঈদের নামযের অতিরিক্ত ওয়াজিব তাকবীরগুলো আদায় হয়ে গেছে। শুধু রুকুর তাকবীর ছুটেছে। রুকুর তাকবীর বলা সুন্নত। এটা ছুটে গেলে সাহু সিজদাও আসে না, নামাযও নষ্ট হয় না। তাই প্রথম জামাতের নামাযই শুদ্ধ হয়েছে। দ্বিতীয় জামাত করা ঠিক হয়নি। এরকম পরিসি'তিতে কোনো বিজ্ঞ আলেম/মুফতী থেকে মাসআলা জেনে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭২; শরহুল মুনইয়াহ ১৩, ৩৮২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৮৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৮৩; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৭৬, ৪৭৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫১
*****
৩৬২৯. প্রশ্ন
ঈদের নামাযে ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীর বলার আগে কিরাত পড়ে ফেললে বা রুকুও করে ফেললে এক্ষেত্রে করণীয় কী? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা মিলানোর আগে স্মরণ হলে সাথে সাথে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নিবে এবং পুনরায় সূরা ফাতিহা পড়বে।
আর যদি অন্য সূরা মিলানোর পর স্মরণ হয় তাহলে কিরাত শেষ করে রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলবে। এরপর রুকু করবে এবং উভয় অবস্থায়ই নির্ধারিত সময় তাকবীর আদায় না করার কারণে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করবে।
আর যদি রুকুতে চলে যাওয়ার পর তাকবীরের কথা স্মরণ হয় তাহলে তখন আর তাকবীর বলবে না; বরং নামায শেষে সাহু সিজদা করবে।
-হালবাতুল মুজাল্লী শরহু মুনইয়াতুল মুসল্লী ২/৫৫০; শরহুল মুনইয়াহ ৫৭২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯৯
******
৪০৩৭. প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় মসজিদে ঈদের জামাত হয়। গত ঈদে নামাযের আগে প্রচণ্ড বৃষ্টি আরম্ভ হয়। তখন আমরা সবাই মসজিদে অবস্থান নেই। এছাড়া অবস্থানের অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। এদিকে ঈদের নামাযের সময় ঘনিয়ে এলে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে কাতার করি। কিন্তু ভিড়ের কারণে পেছনের কাতারের কয়েকজন মুসল্লী অন্যের পিঠের উপর সিজদা করে নামায আদায় করে।
জানতে চাচ্ছি, আমাদের এভাবে নামায আদায় করা কি সহীহ হয়েছে? নাকি পুনরায় আদায় করতে হবে।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের নামায সহীহ হয়েছে। ভীড়ের কারণে সিজদার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে পিঠের উপরও সিজদা করে নামায আদায় করা জায়েয আছে। এটি সাহাবা-তাবেয়ীনের আমল দ্বারাও প্রমাণিত।
হযরত উমর রা. বলেন,
مَنْ زَحَمَهُ النَّاسُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ حَتَّى لَا يَسْتَطِيعَ أَنْ يَسْجُدَ عَلَى الْأَرْضِ فَلْيَسْجُدْ عَلَى ظَهْرِ رَجُلٍ .
জুমার দিনে ভীড়ের কারণে যে ব্যক্তি জমিনের উপর সিজদা করতে সক্ষম নয়, সে যেন অপর ব্যক্তির পিঠের উপর সিজদা করে। (আলমুহাল্লা ৩/২৯৮)
হাসান বসরী রাহ. বলেন,
إذَا اشْتَدَّ الزِّحَامُ فَإِنْ شِئْت فَاسْجُدْ عَلَى ظَهْرِ أَخِيك.
যখন ভীড় অধিক হয় তখন তুমি চাইলে তোমার ভাইয়ের পিঠের উপর সিজদা করতে পার। (আলমুহাল্লা ২/২৯৮)
-কিতাবুল আছল ১/১৭৯; আলমাবসূত, সারাখসী ১/২০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১২১; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭০
*****
৫৭৭০. প্রশ্ন
এবার ঈদের নামায পড়ানোর সময় সাউন্ডসিস্টেমে ত্রুটি হওয়ায় মুকাব্বির ঠিক করে দেই। জামাত যেহেতু বেশ বড় ছিল, সেজন্য অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় দুই তাকবীরের মাঝে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলাম। যাতে সকলেই তাকবীর বলে শেষ করতে পারে।
মুহতারামের নিকট জানতে চাই, দুই তাকবীরের মাঝে কিছু সময় চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ঐ নামাযের কি কোনো সমস্যা হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
আপনার জন্য দুটি তাকবীরের মাঝে কিছুটা বিলম্ব করা ভুল কিছু হয়নি; বরং পরিস্থিতির বিবেচনায় তা যথাযথ হয়েছে। তাছাড়া দুই তাকবীরের মাঝে তিন তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব করারও সুযোগ আছে।
-আলমাবসূত, সারাখসী ২/৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৮২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬২১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৪২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৪৮; মাজমাউল আনহুর ১/২৫৭
*****
৪৩৩৬. প্রশ্ন
আমরা দেখি যে, বিশিষ্টজনদের জানাযার নামায কিংবা ঐতিহাসিক কোনো ঈদগাহে ঈদের নামাযের দৃশ্য কাভারেজ করতে ফটোসাংবাদিকদের ফটোসেশনের হিড়িক পড়ে। এতে অজ্ঞতাবশত কিংবা অবচেতনে কোনো কোনো মুসল্লি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এখন প্রশ্ন হল তাদের নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি না?
উত্তর
নামাযরত অবস্থায় এভাবে কোনো জিনিসের দিকে তাকিয়ে থাকা মাকরূহ। এটি নামাযের খুশু-খুযু পরিপন্থী। আর ঘাড় বাঁকিয়ে এদিক ওদিক তাকালে তো নামায মাকরূহে তাহরীমী হবে।
উল্লেখ্য, ছবি উঠানো ও ভিডিও করার প্রচলিত এ রেওয়াজ অত্যন্ত গর্হিত ও বর্জনীয়। এতে অন্যান্য ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের ইবাদতে বিঘœ ঘটে থাকে।
-সহীহ বুখারী, হাদীস ৭৫১; জামে তিরমিযী, হাদীস ৫৮৭; উমদাতুল কারী ৫/৩১০; আলবাহরুর রায়েক ২/২১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১৬৩; মাআরিফুস সুনান ৫/১১৭
[ মাসিক আলকাউসার ]
াসিক_আলকাউসার