13/08/2014
উপ-
মহাদেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
সরাইল উপজেলার বিরল প্রজাতির
গ্রে-হাউন্ড কুকুরের। আচরণগত দিক
থেকে এই গ্রে-হাউন্ড কুকুর
স্বাভাবিক হলেও শিকারে বেশ
পারদর্শী। সম্প্রতি র্যাপিড
এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ডগ
স্কোয়ার্ডে যুক্ত
হয়ে আবারো আলোচনায়
এসেছে সরাইলের গ্রে-হাউন্ড
কুকুর। তবে প্রয়োজনীয়
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গ্রে-
হাইন্ড কুকুর এখন অনেকটাই বিলুপ্তির
পথে।
সরাইল উপজেলা প্রাণী সম্পদ
কর্মকর্তা ডা. মজিবুর রহমান মানিক
নিউজনাউকে টোয়েন্টি ফোর
কমকে বলেন, কিভাবে সরাইলের
গ্রে-হাউন্ড কুকুরের
উৎপত্তি হয়েছে তার সঠিক কোন
ইতিহাস কারো জানা নেই।
তবে প্রচলিত জনশ্রতি হলো, সরাইল
পরগনার জমিদার দেওয়ান
একটি মাদি কুকুর পালন করতেন।
তিনি একদিন জঙ্গলে শিকার
করতে গেলে ওই
কুকুরটি হারিয়ে যায়। এর কয়েক মাস
পর কুকুরটি গর্ভাবস্থায় ফিরে আসে।
পরে কুকুরটি যখন বাচ্চা প্রসব করে,
বাচ্চাগুলোর আকার-
আকৃতি সাধারণ কুকুরের চেয়ে সম্পূর্ণ
ভিন্ন দেখা যায়। গত ২০১০
সালে র্যাবের ডগ
স্কোয়ার্ডে সরাইলের গ্রে-
হাউন্ড কুকুর র্যাবের ডগ
স্কোয়ার্ডে যুক্ত হয় বলে জানান
প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা।
সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত
পল্লী নোয়াগাঁও গ্রামের তপন
বিশ্বাসের পরিবারই এখন শুধু এই
বিরল প্রজাতির কুকুর লালন-পালন
করছেন। কিন্তু দারিদ্র্যতার চরম
কসাঘাত থাকা পরিবারটির কুকুর
প্রতিপালন করতে গিয়ে যেন
দৈনতার শেষ নেই।
কুকুর পালনকারী তপন বিশ্বাস
নিউজনাউ টোয়েন্টি ফোর
কমকে বলেন, কুকুরগুলোকে ভাল দাম
পেতে মাংস সহ উন্নতমানের
খাবার দিতে হয়। তবে প্রয়োজনীয়
জিনিসপত্রের দাম
বেড়ে যাওয়ায় কুকুরগুলোকে ঠিক
মতো খাবার দেয়া কষ্টকর
হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন,
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে উপ-
মহাদেশখ্যাত সারইলের এই বিরল
প্রজাতির কুকুরের অস্তিত্ব
টিকিয়ে রাখা সম্ভব। ৩ থেকে ৫
মাসের একটি বাচ্চা কুকুর ২০/২৫
হাজার টাকা আর বড় কুকুরের দাম
৬০/৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়
বলে জানান তপন বিশ্বাস।
সরাইলের ইতিহাস ঐতিহ্যের
সাথে জড়িয়ে থাকা বিরল
প্রজাতির গ্রে-হাউন্ড কুকুর
প্রতিপালনের সাথে জড়িত
পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর
জন্যে সরকারের
কাছে দাবি জানিয়েছে সরাইলের
মানুষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-২ (সরাইল-
আশগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য
অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক
মৃধা নিউজনাউ টোয়েন্টি ফোর
কমকে বলেন, গ্রে-হাউন্ড
কুকুরকে রক্ষায় বিগত এরশাদ
সরকারের সময় উদ্যোগ
নেয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের
সময়েও নানা উদ্যোগ
নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন,
সুযোগ পেলে সরাইলের
ঐতিহ্যবাহী এই কুকুর রক্ষার
বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদের
শেষ অধিবেশনে তুলে ধরবেন।
এ অবস্থায় বিরল প্রজাতির এই
প্রাণীটির অস্তিত্ব
টিকিয়ে রাখতে সরকারি-
বেসকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয়
উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, এমনটাই
আশা করছেন সরাইলের সাধারণ
মানুষ।