01/06/2026
বহু বছর আগে বিটিভিতে চিত্রপরিচালক
আমজাদ হোসেন, এক সাক্ষাৎকারে
বলেছিলেনঃ
:
"গোলাপী এখন ট্রেনে" বাম্পার হিটের পর
পর "সুন্দরী" ছবির প্রস্তূতি।
১৯৭৯, ২৬ রমজান, সকালে এফডিসিতে
"সুন্দরী" ছবির স্যুটিং নিয়ে ভিষন ব্যস্ত।
FDCএর এমডি সাহেবের পিয়োন এসে
বললোঃ স্যার, এমডি স্যার আপনাকে ছালাম
জানিয়েছেন।
দৌড়িয়ে এমডি সাহেবের রুমে ঢুকতেই।
এম ডি সাহেব বললেনঃ বঙ্গভবন হতে ফোন এসেছিলো,
প্রেসিডেন্ট সাহেব আপনার সাক্ষাৎ করতে চান।
সহকারীকে বললাম স্যুটিং চালিয়ে যাও আমি আসছি।
একটু একটু ভয় পাচ্ছিলাম রাষ্ট্রপতি ভবন হতে তলব।
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির এক সেনা অফিসার নিয়ে গেলেন
রাষ্ট্রপতির কক্ষের পাশে ওয়েটিং রুমে বসে আল্লা আল্লা
করছি। কিছুক্ষন পর দেখি বিটিভির নির্বাহী পরিচালক
বারী সাহেবও হাজির।
বারী সাহেবকে দেখে বুকে একটু সাহস পেলাম।
রাষ্ট্রপতি তলব পাঠালেন কক্ষে প্রবেশ করতেই রাষ্ট্রপ্রতি
জিয়া উর রহমান চেয়ার হতে দাঁড়িয়ে আমাদের দুজনের
সাথে হাত মিলিয়ে বললেনঃ বসুন। কেমন আছেন?
ব্যাশ নার্ভাস আমিঃ ভালো আছি, স্যার।
রাষ্ট্রপতি আমার দিকে তাঁকিয়ে বললেনঃ বারী সাহেব
বললেন আপনি নাকি এই রোজার ঈদে নাটক দিচ্ছেন না।
বুকে সাহস নিয়ে বললামঃ স্যার, সুন্দরী ছবির স্যুটিং নিয়ে
খুব ব্যস্ত।
মৃদু হেঁসে রাষ্ট্রপতি বললেনঃ আপনার সুন্দরী পালিয়ে যাবে না,
কিন্তু ঈদ এক বছরের জন্য পালিয়ে যাবে। ঈদের আনন্দে
জবা-কুসুম রোকন দোলনের মা, জব্বার সাহেবের সাথে ঈদের
আনন্দ করবো না। তা কি করে হয়ে। আমার অনুরোধটা রাখুন।
খুব কষ্টে দু চোঁখের জল আঁটকিয়ে রেখে বললামঃ আচ্ছা স্যার।
রাষ্ট্রপতি আমার সাথে হাত মিলিয়ে বললেনঃ আপনাকে
অনেক ধন্যবাদ। বঙ্গভবনে বসেই গল্পটা লিখুন। ঈদ আর মাত্র
তিন দিন বাকী।
বারী সাহেবের দিকে তাঁকিয়ে বললেনঃ বারী সাহেব,
কলাকুশলী ব্যবস্থা করে আজ রাতেই রেকর্ড করুন প্লিজ।
:
বঙ্গভবনের অতিথী কামড়ায় বসে বসে
"এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া"
গল্পটা লিখছিলাম আর আনন্দে আত্মহারা হয়ে ঝড় ঝড় করে
কাঁদছিলাম। তখন থেকে শহীদ জিয়ার প্রেমে পড়ে যাই।
(চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেনের স্মৃতিচারণ)