24/08/2026
#সুমাইয়া_তালুকদার
#বিষাদের_বসন্ত
#পার্ট০২
___" তুই কি ভয় পাচ্ছিস আমায়?" অরণ্য চমকে উঠলো।
___" না....না...মামা!" আফ্রিদি ঠান্ডা গলায় শুধালো,
___" তাহলে ওমন করেছিস কেনো? আর এভাবে কি দেখছিস? আমার বাড়িতে তো এর আগেও অনেক বার এসেছিস।"
অরণ্য কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
____" না আসলে, মামা, আপনি এতো বড়ো বাড়িতে কিভাবে একা থাকেন?"
আফ্রিদির দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হলো,
___" তাহলে কি করতে হবে? কে থাকবে আমার সাথে?"
অরণ্য কিছু একটা বলতে চাইলো, কিন্তু বলল না। ঠিক সেই মুহূর্তে আফ্রিদির ফোনে কল এলো, কে কল করেছে? দেখার জন্য সে পকেট থেকে ফোন টা বের করে স্ক্রিনের দিকে তাকালো। রিসিভ করে কথা বলতে বলতে সে সিঁড়ি বেয়ে উপরের রুমে চলে যেতে লাগলো।
ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসা কন্ঠস্বর সাধারণত একটা মেয়ের ছিলো, আর আফ্রিদির চলে যাওয়ার ধরন দেখে তার সেটাই মনে হলো; আফ্রিদির গার্লফ্রেন্ড আছে, আর থাকাটাই তো স্বাভাবিক, বাহিরের রাষ্ট্র থেকে পড়াশোনা করে আসা আর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। তার যোগ্যতা আর সৌন্দর্য দেখে কতো মেয়েই মুগ্ধ হবে, এটাই বাস্তব!
খানিক্ষণ পর কথা শেষ করে আফ্রিদি নিচে আসতেই গম্ভীর গলায় বলল,
___" কিরে, তখন থেকে এভাবে মূর্তির মত এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছিস কেন? যা ফ্রেশ হয়ে নে।"
অরণ্য সোজা হেটে বাথরুমে চলে গেল। অরন্যর মুখে দেখা সন্দেহের ছাপটা আফ্রিদি ধরে ফেলল ঠিকই কিন্তু কোন কথা বাড়ালো না। অরণ্য যখন ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িং রুমে এসে এক পাশে থাকা ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল, আফ্রিদি তখন টেবিলে খাবার রেডি করতে করতে বলল,
___"চেয়ারে বোস।"
কথাটা বলেই আফ্রিদি চেয়ার টেনে বসলো, কিন্তু অরণ্য তখনো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আফ্রিদি বিরক্ত কন্ঠে বলল,
___"কিরে? ওভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? বোস!"
অরণ্য ভাঙ্গা গলায় বলে উঠলো,
___"আপনি আমাকে টেবিলে বসতে বলছেন?"
___" আরে ধুর! কেনো টেবিলে বসে কোনদিন খাস নি নাকি?"
অরণ্যর চোখ ভিজে এলো,
___" কিন্তু, আমাকে তো আজ পর্যন্ত কেউ টেবিলে খেতে দেয়নি।"
কথাটা শুনে আফ্রিদি ভেতরে ভেতরে স্তম্ভিত হয়ে গেলেও বাহির থেকে কোন প্রতিক্রিয়া দেখালো না। সে চড়া গলায় শুধালো,
___"তোর সাথে কে কি করেছে সে গল্প বাদ দিয়ে টেবিলে চুপচাপ বোস।"
অরণ্য আফ্রিদির কঠোর রূপ দেখে এক সেকেন্ডও দেরি করল না, বাধ্য মেয়ের মতো চেয়ারে বসে খেতে শুরু করলো। অরণ্য স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত খাচ্ছিল। আর অন্যদিকে আফ্রীদি ধীরে ধীরে খেতে খেতে তার দিকে গভীর দৃষ্টি ফেলে তাকিয়ে রইল।
এক সময় এভাবে খেতে খেতে অরণ্য প্রচন্ড এক বিষম খেলো, কাশির বেগ সামলাতে না পেরে পানির জগতে হাত বাড়াতেই আফ্রিদি এক গ্লাস পানি দিলে অরণ্যর ঠোঁটের কাছে ধরল। পানি সামনে পেয়েই গ্লাসটা হাতে নিয়ে এসে ঢকঢক করে এক নিঃশ্বাসে গ্লাসটা ফাঁকা করে দিয়ে টেবিলের ওপর সজরে রেখে দিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো। আফ্রিদি শান্ত দৃষ্টিহেনে খেতে খেতে বলল,
____"ওরকম রাক্ষসের মত খাচ্ছিলি কেন? সারাদিন না খেয়ে আছিস নাকি?"
অরণ্য সামান্য মাথা নেড়ে বলল,
____"আমি দুপুরে কিছু খাইনি।"
___"না খেয়ে আছিস? তাহলে একটু আগে পাত্রপক্ষের সাথে উঁচু গলায় কথা বললি কিভাবে?"
অরণ্য হালকা গলায় বলল,
___"রাগ উঠলে মেজাজ বিগড়ে যায়।"
আফ্রিদি হাত ধুয়ে রুমাল দিয়ে হাত মুছতে মুছতে বলল,
___"ঠিকই করেছিস তুই, এত ছোট বয়সে বিয়ে করা ঠিকও নয়। আবার ওই ছেলেও তোর যোগ্য ছিল না।"
অরণ্য জিজ্ঞেস করতে চাইলে 'কেন যোগ্য নয়?' কিন্তু করেনা, অরণ্য প্রশ্ন করে না।
_________
খাওয়া শেষ করে অরণ্য সিঁড়ি বেয়ে দোতালায় আফ্রিদির রুমের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।
____" ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না, ভেতরে আয়।"
অরণ্য পা টিপে টিপে ভেতরে ঢুকলো।
___" মামা...আমি একটা প্রশ্ন করবো?"
___" বল,কি বলবি?"
অরণ্য এক পলক আফ্রিদির দিকে তাকালো, তারপর দীর্ঘ একটা নিশ্বাস নিয়ে সাহস সঞ্চার করে আঙ্গুল খুটতে খুটতে বলল,
___" আচ্ছা একটু আগে যে কল করেছিল, সে কি আপনার গার্লফ্রেন্ড? "
কথাটা শুনেই আফ্রিদির দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়ে উঠলো, সে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে অরন্যর দিকে এগিয়ে গেল। খুব কাছাকাছি যেতেই, অরণ্য এবার ভয়ে পিছাতে লাগলো,
এই লোকটা এমন করছে কেনো? আমি কি ভুল কিছু বলে ফেললাম?
পিছাতে পিছাতে অরণ্যের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেল। আফ্রিদি খুব কাছাকাছি এসে হঠাৎ দেয়ালে দুই হাত রেখে মাঝখানে অরণ্যকে আটকে ফেলল, তার তপ্ত নিঃশ্বাস অরণ্যের মুখে আছড়ে পড়তে লাগলো। প্রচন্ড আতঙ্কিত হয়ে সে বলে উঠলো,
____" মা-মামা, কি করছেন, সরুন। আমার ভুল হয়ে গেছে, আর হবে না। আমি আর প্রশ্ন করবো না। ক্ষয়া করে দিন।"
আফ্রিদি জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে বলল,
____" ক্ষমা? হ্যাঁ?,,, ক্ষমা? তুই আমার ভাগ্নি হয়ে আমার ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন করিস?"
____" সরে যান, আর হবে না।"
অরণ্য প্রচন্ড আতঙ্কে অসার হয়ে আফ্রিদির প্রশস্ত পেশিবহুল বুকে ও কাঁধে নিজের ছোট ছোট হাত দুটো দিয়ে সকল শক্তি একসঙ্গে করে ধাক্কা দিতে লাগলো। কিন্তু আফ্রিদির দানবীয় পুরুষালী শক্তির কাছে অরণ্যের সমস্ত শক্তি ছিল সামান্য খরকুটোর মতো।
ঠিক সেই মুহূর্তে আফ্রিদি প্রচন্ড এক থাপ্পর বসিয়ে দিলো অরণ্যের গালে, থাপ্পড়ের বেগ সামলাতে না পেরে সে মেঝেতে আছড়ে পড়লো। দুহাতে মুখ ঢেকে সে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
___" আমাকে মারবেন না, প্লিজ। আমাকে এখানে মারার জন্য নিয়ে এসেছেন? আপনি তো একটু আগে বললেন, বাসায় থাকলে ওরা আমাকে মারবে, কিন্তু আপনি তো এখানে নিয়ে এসে সেই একই কাজ করলেন।"
আফ্রিদি প্রচন্ড রাগের চোটে অরণ্যর দিকে তেরে গিয়ে বলল,
___" তুই কি অন্যদের সাথে আমাকে কমপেয়ার করছিস?"
কথা টা বলেই আরেকটা থাপ্পড় ' ঠাস!' বসিয়ে দিলো আফ্রিদি। থাপ্পড়ের তীব্রতায় অরণ্যর ঠোঁটের কোণ বেয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এলো। সে জানে আর কথা বাড়ালে এই লোকটা তাকে আরো বেশি ক্ষত বিক্ষত করবে। সে চুপচাপ মেঝেতে বসে হাঁটুতে মুখ গুজে নিঃশব্দে কাঁদতে লাগলো। আফ্রিদি রাগের চোটে রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বিকট শব্দে কাঠের দরজাটা বন্ধ করে গেলো।
অরণ্য মেঝেতে বসে শুধু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদছিলো আর বির বির করে বলছিলো,
____" বাবা, মা তোমরা কোথায়? আমার যে আর ভালো লাগে না। সবাই আমাকে কষ্ট দেয়, তোমরা যেহেতু ওপারে চলে গেছো, আমাকেও কেনো নিয়ে গেলে না? আমার সৎ মা,বাবা আমাকে একদম দেখতে পারে না, বোঝা মনে করে। কিন্তু তোমরা থাকলে কি আমাকে বোঝা মনে করতে? বলো? সব ছেলে মেয়র বাবা মা ওদের কতো আদর করে, কিন্তু আমি কেনো তোমাদের ভালোবাসা পেলাম না? আমার কি দোষ ছিলো?"
____________
সারা রাত, হ্যাঁ,সারা রাত! এভাবে ঠান্ডা মেঝেতে বসে অরণ্য অশ্রু বিসর্জন দিয়ে গেলো। রাতে আফ্রিদি ড্রইং রুমের সোফাতেই ঘুমিয়ে পড়েছিল।
সকালে যখন তার ঘুম ভাঙলো ,তীব্র অপরাধ বোধে তার বুকের ভিতর টা মোচর দিয়ে উঠলো। কাল রাতে অরণ্যর কথার জন্য নয়, অন্য এক কারনে আফ্রিদির মেজাজ বিগরে ছিলো আর সেই রাগ সে উগরে দিয়েছে নিষ্পাপ অরণ্যের উপর। বুকের ভেতরে তীব্র অপরাধ বোধ নিয়ে সে ছুটে গেলো উপরের রুমে।
রুমের কাঠের দরজা তখনো খোলা। আফ্রিদি শান্ত ভাবে চাপানো দরজা খুলে পর্দা সরিয়ে রুমে প্রবেশ করলো, তবে রুমের এক কোনের ঠান্ডা মেঝের দৃশ্য দেখে তার হৃদয়ে যেনো এক সাথে এ সহস্র তীর এসে বিধলো।
অরণ্য ঠান্ডা মেঝেতে এক কোণে ঠান্ডায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে, আফ্রিদি আরো কাছে এগিয়ে গিয়ে হাটু গেরে বসে লক্ষ্য করলো, অরণ্যের ঠোঁট দুটো থরথর করে কাঁপছে, ঠান্ডা আর ব্যাথার চোটে। চোখের পাতা জোড়া বন্ধ, তবুও কোণ দিয়ে অশ্রু গাল এবং কান বেয়ে মেঝেতে এসে পড়ছে, কাল রাতের দুটো তীব্র থাপ্পড়ের দাগ এখনো তার ফর্সা গালে স্পষ্ট। ঠোঁটের কোণে রক্ত শুকিয়ে গাঢ় খয়েরী বর্ন ধারন করেছে।
আফ্রিদি আর এক সেকেন্ডো দেরি না করে দ্রুত তাকে কোলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো। কিন্তু হালকা নরচরা পেতেই অরণ্যের কাঁচা ঘুম এক ঝটকায় ভেঙ্গে গেলো। সে চোখ ডলতে ডলতে আস্তে আস্তে উঠে বসলো। আফ্রিদি দ্রুত এসে তার পাশে বসে ঠোঁটে হাত বুলাতে বুলাতে অস্থির হয়ে বলল,
____" তোর ব্যাথা হচ্ছে, তাই না? দেখ আমার দিকে, দেখ।"
অরণ্য তাকানো তো দূরের কথা, উল্টো আফ্রিদির হাত দুটো সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে লাগলো। আফ্রিদি আবার ব্যাকুল হয়ে বলে উঠলো,
____" তুই আমার উপর রাগ করেছিস তাই না? তোকে আমি আর মারবো না, একদম বকবো না।"
কিন্তু অরণ্য কোনো জবাব দিলো না।
____" কথা বল অরণ্য, আমি কাল তোকে ইচ্ছে করে মারিনি। তুই তো জানিস না, কাল আমি অন্য একটা কারনে রেগে ছিলাম, বিশ্বাস কর আমি তোর কথায় রেগে যাই নি।"
অরণ্য কোনো জবাব না দিয়ে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে দরজার দিকে পা বাড়ালো। আফ্রিদি উন্মাদের মতো তার হত ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে করতে গালে মৃদু থাপ্পড় দিতে দিতে বলল,
____" কথা বল , রাগ করিস না। আমার ভুল হয়ে গেছে, আর হবে না সত্যি বলছি।"
অরণ্য আলতো করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।
_________________
সেই দিন অরণ্য না খেয়েই আফ্রিদির বাড়ি থেকে চলে এসেছিল। ঘটনার পর ৪ দিন কেটে গেছে, কিন্তু অরণ্য আর অভিমান ভেঙে আফ্রিদির সামনে গিয়ে দাড়ায় না।
একটু আগে বিকেলে আফ্রিদি এসেছিল। এসে সালমা কে বলেছিল,
____" আপা, অরণ্য কোথায়? "
সালমা ইশারায় বলেছিল, উপরের ঘরে। আফ্রিদি কয়েকবার ডাকলো, কিন্তু অরণ্য আসেনি, একবার জবাবও দেয় নি। অস্থির হয়ে আফ্রিদি সিঁড়ি বেয়ে উপরে গিয়ে,কোনো কথা না বলেই সরাসরি অরণ্যের রুমে ঢুকে পড়েছিল। অরণ্য তখন জানলার পাশে টেবিলে বসে পড়াশোনা করতে মগ্ন। আফ্রিদি এগিয়ে গিয়ে দেখলো সে অঙ্কের গভীর হিসাব মিলাচ্ছে, আর আফ্রিদির উপস্থিত টের পেয়েও তাকে অবজ্ঞা করছে। হঠাৎ আফ্রিদি হাত থেকে কলম টা কেড়ে নিয়ে বলল,
____" তোকে নিচ থেকে অত বার ডাকলাম জবাব দিলি না কেনো? এখনো রাগ করে আছিস?"
অরণ্য টেবিল থেকে মুখ না তুলেই বললো,
____" পড়ার সময় ডিস্টার্ব করবেন অন্তত, চলে যান এখান থেকে।"
আফ্রিদি অরণ্যর কাঁধে হাত রেখে বলল,
___" এখন তো বিকাল, এখন খেলার সময়, আর তুই এখন পড়ছিস?"
অরণ্য কোনো কথা না বলে সামনের কলম দানি থেকে আরেকটা কলম নিয়ে অঙ্কে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু আফ্রিদি এতো সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিল না। সে হুট করে আবার কলম টা কেড়ে নিলো। অরণ্য এবার স্থির হয়ে টেবিলের দিকেই তাকিয়ে যেভাবে ছিলো ঠিক সেভাবেই রইলো। আফ্রিদির কাঁধের উপর রাখা হাতটা আস্তে আস্তে নিচের দিকে নেমে অরণ্যের কোমল পিঠ আর বাহু ছুঁয়ে গেলো। প্রচন্ড আতঙ্কিত হয়ে অরণ্য সাথে সাথে ছিটকে সরে গিয়ে গায়ে ও মাথায় আরো ভালো ভাবে ওড়না টেনে নিলো। আফ্রিদি শান্ত গলায় বলল,
___" সরে যাচ্ছিস কেনো?"
অরণ্য পিছিয়ে যেতে যেতে বলল,
___" আ-আপনি কোন উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন? চলে.....চলে যান।"
আফ্রিদি ক্ষীণ হেসে বলল,
____" সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে, আঙুল একটু বেকাতে হয়, কথা টা শুনিস নি? আমি আসলে সেই উদ্দেশ্যেই ঢুকেছি।"
একদিকে আফ্রিদির প্রতি তীব্র অভিমান আর আরেকদিকে আফ্রিদির এই বিপরীত আচরণ,সব মিলিয়ে অরণ্য আতঙ্কিত হয়ে হু হু করে কেঁদে উঠলো,
___" প্লিজ চলে যান, কেনো আমার জীবন টাকে নরক বানাতে চান? আমাকে আবার কোনো অযুহাতে মারতে এসেছেন তাই না? আমি আর এতো মানসিক যন্ত্রণা আর চাপ নিতে পারছি না, প্লিজ চলে যান।"
আফ্রিদি বুঝতে পেরেছিল, মেয়েটা আসলে সেদিনের ঘটনায় কতটা কষ্ট পয়েছে আর হৃদয়ে তার প্রতি এক অবিশ্বাস পুষে রেখেছে।
____" আমার নিজের বাবা মা নেই বলে আপনারা সবাই এর সুযোগ নিচ্ছেন তাই না? আমি তো অনাথ, আমার তো কেউ নেই, আমি প্রতিবাদ করতে পারবো না,আর আমার হয়ে কথা বলার জন্য কেউ নেই বলে আপনি সেদিন আপনার রাগের শিকার বানিয়েছেন তাই না?"
আফ্রিদি অনেক বোঝাতে চেষ্টা করেছে কিন্তু অরণ্য বোঝে নি , সে বারবার বলে গেছে,
____" নিজের মামা নন বলে আজ এমন করে কষ্ট দিচ্ছেন তাই না? নিজের মামা হলে এমন করতে পারতেন?"
আফ্রিদির তখন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়েছিল, তোর নিজের মাম না বলেই তো তোকে এতো ভালোবাসি, নিজের মামা হলে কি তোকে এভাবে ভালবাসতে পারতাম? নিজের মামা হলে কি আর তোকে নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ সাজানোর স্বপ্ন দেখতাম?
কিন্তু আফ্রিদির হাত পা বাঁধা, সে এটা বলতে পারবে না। এখন বলার মক্ষম সুযোগ না। হৃদয় ভরা কষ্ট আর শূন্যতা ও হাহাকার নিয়ে আফ্রিদি ফিরে গেছে। নিজের ভেতরের আত্ম চিৎকার সে কাউকে শোনাতে বা বোঝাতে পারে নি। একবারের জন্য তার মনে হয়েছিল, অরণ্য সম্ভব হলে তোকে আমি নিজের বুক চিরে দেখাতাম, তোকে আমি কতটা ভালোবাসি, সম্ভব হলে তোকে আমি নিজের ভেতরের আত্ম চিৎকার গুলো শুনাতাম, তাহলে তুই আমার ভালোবাসার গভীরতা বুঝতে পারতি।
#চলবে ..................?
#উপন্যাস