04/04/2017
আমি এমন অনেক দম্পতী দেখেছি যে
লোকটার স্ত্রী কোনদিন সন্তান ধারণ করতে
পারবে না বা যে স্বামী কোনদিন তার স্ত্রী
কে সন্তান উপহার দিতে পারবে না।
আমি এমন অনেক দম্পতি দেখেছি যেখানে
কোটিপতি ছেলেটার শ্বশুড় দিনমজুর বা
কোটিপতি বাবার এক মাত্র মেয়ে তার
স্বামী নিতান্তই দরিদ্র।
এমন অনেক দম্পতি দেখেছি
যেখানে আগুন ঝড়া সুন্দরী মেয়েটার স্বামী
কয়লার মতো কালো।
আমি এমন অনেক দম্পতি দেখেছি যেখানে
সবচেয়ে স্মার্ট প্রতিষ্ঠিত ছেলেটার বউয়ের
মুখ এসিডে ঝলসানো,
বা দেখতে কুচকুচে কালো।
BA, MA, পাশ করা ইডোকেটেড ছেলেটার
স্ত্রী স্কুলের গন্ডি ও পেরোও নি বা
মাস্টার্স কমপ্লিট করা মেয়েটার স্বামী যে
কোন দিন স্কুলেও যায়নি।
কলেজের সবচেয়ে চঞ্চল উচ্ছল ঘুরতে পছন্দ
করতে মেয়েটার স্বামী বিয়ের পর পরই
প্যারালাইজড হয়ে সারা জীবনের মত
বিছানায়।
এমন দম্পতী ও দেখেছি যেখানে বিয়ের
মাত্র ছয় মাস পরেই মেয়েটা কোমায় চলে
যায়, শুধু নি:শ্বাস ছাড়া তার কিছুই নেই।
কিন্তু তাদের মধ্যে আমি ভালবাসার অভাব
দেখিনি,
বিশ্বাসের অভাব দেখিনি, সম্মানের অভাব
দেখি, তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে একে অপরকে
ছেড়ে যেতে দেখিনি।
বরং দেখেছি একে অন্যের পাশে দাড়াতে,
ভরস দিতে, প্রতিকুল শক্তির সাথে লড়াই
করার জন্য শক্তি জোগাতে একে অপরকে
ভালবেসে সারাজীবন পাশে থাকার
অঙ্গিকার বদ্ধ হতে দেখেছি।
নিজের জীবন সঙ্গীকে ভালবাসতে শিখুন।
যে ঘরে স্বামী স্ত্রী একে অপরেরদিকে
ভালবাসার দৃষ্টিতে তাকায় তাদের দিকে
স্বয়ং আল্লাহ তখন রহমতের দৃষ্টিতে তাকায়।
জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনির প্রতি ভালবাসা
থাকলে সংসার টাই এক টুকরো
জান্নাতের বাগানে পরিণত হয়।
এই পৃথিবী টা অনন্ত কালের জন্য নয়।এখানে
কেউ ই অনন্ত কালের জন্য থাকবে না।
এভাবে সময় চলে যায়।
নিজে কি করছেন সেটা নিয়ে ভাবুন।
আল্লাহ নারীকে পুরুষের মাথার অংশ থেকে
সৃষ্টি করেন নি যাতে নারী পুরুষের মাথায়
চড়তে না পারে।
তিনি নারীকে পুরুষের পায়ের অংশ থেকেও
সৃষ্টি করেন নি যাতে পুরুষ নারীকে অবহেলা,
অসম্মান না করতে পারে।
তিনি নারীকে পুরুষের বুকের পাজর থেকে
সৃষ্টি করেছেন যাতে সে পুরুষের বুকে থাকে,
যাতে সে ভালবাসা পায়, সম্মান পায়।
সেই আপনার স্ত্রী হয়েছে যাকে আল্লাহ
আপনার বুকের পাজরের অংশ থেকে সৃষ্টি
করেছে। সূতরাং সে আপনারই অংশ।
তার সাথে এমন আচরণ করুন যেমন আচরণ
আপনি নিজের সাথে করেন।
তাকে ভালবাসতে শিখুন, সম্মান করতে শিখুন।
কারণ সে আপনারই অংশ।
সৃষ্টিকর্তা সেভাবেই তাকে সৃষ্টি করেছেন।