14/03/2026
• ফেসবুক আসলে প্রশ্নোত্তরের জায়গা না। কিন্তু উপায়ান্তর না পেয়ে এখানেই বলতে হচ্ছে।
প্রথমেই কারণ উদঘাটনের কিছু বিষয় অবতারণা করি---
অভিযোগকারীকে আপনারা কয়েকটি প্রশ্ন করতে পারেন,
(১) যোগদানপত্র গ্রহণ না হওয়া সত্ত্বেও ইদানিং তিনি চেক স্বাক্ষর করে কেন ৭০ হাজার টাকা তুললেন? কার নামে ও কি জন্য তুলেছেন ?
(২) তার নামে কি কি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান ছিল ?
(৩) মানবিক সহায়তার নামে ইউনিয়ন পরিষদ তহবিল থেকে তিনি তার কর্মকালে যতগুলো টাকা প্রদান করেছে সেই চেকগুলো কি ক্রস চেক ছিল? এক্ষেত্রে ক্রস ছাড়া কি তিনি খেয়াল খুশিমত চেক দিতে পারেন? ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনের সময় ইউএনওকে কি মানবিক সহায়তার আবেদন দেখাতে পেরেছিল কি না? তার দায়িত্বপালনকালে মোট কত টাকা তিনি এভাবে নামে বেনামে দিয়েছেন ?
(৪) কর আদায় কমিশনের নামে একইভাবে তিনি কত টাকা উত্তোলন করেছেন? কোন প্রকার ডকুমেন্ট আছে কি না?
(৫) পুরুষ মেম্বারদেরকে না জানিয়েই তিনি এসব অর্থ উত্তোলনের কাজগুলো করেছেন কি না?
(৬) এই সকল ক্ষেত্রে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি জানে কি না এবং অনুমোদন আছে কি না?
(৭) হাট বাজারের ৫% টাকা নিয়ে তিনি কি করেছেন ?
(৮) এ সকল বিষয়ে আপনারা জানতে পারলেই বুঝতে পারবেন কেন, শালবাহান হাট উন্নয়নের ১৫% টাকা ইউনিয়ন পরিষদকে আমার পূর্বের ইউএনও দেননি এবং আমিও দেইনি।
(৯) শালবাহান ইউনিয়নের সকল মেম্বারের বক্তব্য আপনাদের শোনার প্রয়োজন আছে। কারণ কাজটা তারা করেন। তাদের অভিযোগও শোনা দরকার।
• এবার আসি ভিডিও সম্পর্কিত বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য ................
গত ০৪/০৯/২৫ তারিখে ৪নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের ০৭ জন ইউপি সদস্য কর্তৃক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ০৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা থেকেই ঘটনার শুরু।
গত ১৫/০৯/২০২৫ তারিখে ২য় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় । তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা প্রদান করেন ১৮/০৯/২০২৫ তারিখে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ করার জন্য বর্তমানে যে কাজ করেছেন একই কাজ করার হুমকি প্রদান করেন।
যে ছেলেটিকে ২১/০৮/২০২৫ তারিখে টাকা দেয়ার ভিডিও তিনি প্রকাশ করেছেন সে যে চেয়ারম্যানের বাসায় গেছে এবং চেয়ারম্যান তাকে টাকা দিয়েছে এই বিষয়টি আমি জানতে পারি ১৬/০৯/২০২৫ তারিখে বিএনপি’র খন্দকার ইমরান ভাইয়ের কাছ থেকে। উল্লেখ্য যে, ২১/০৮/২০২৫ তারিখে সারাদেশে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক উপজেলা পরিষদের মধ্যে চেয়ারম্যানকে আটকের প্রস্তুতি ছিল বিধায় তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্যই কোন না কোনভাবে তার সাথে যোগাযোগ হয়েছে, এবং প্রতিবারই ওসি তদন্তের সাথে কথা বলা হয়েছে, recorded। ঐ দিন ঐ সময়ে ভজনপুরের গণাগছে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলমান ছিল।
গত ১৫/০৯/২০২৫ তারিখে তদন্ত কমিটি গঠনের পর ১৬/০৯/২০২৫ তারিখে তিনি মেসেজ দেয়া শুরু করেন। তিনি রাত ১২.৪৭ মিনিট হতে মোট ১১২টি মেসেজ দেন। তিনি প্রথম দিকে এই সকল অবাঞ্চিত ভিডিও দিয়ে ব্লাক মেইল করার চেষ্টা করেন যেন তদন্ত কার্যক্রম থেমে যায়। পরবর্তীতে তিনি যখন বুঝতে পারেন আমি এর সঙ্গে জড়িত না, এবং "আমি ফজলে রাব্বি না" বলাতে বুঝতে পারেন আমি নমনীয় না। তখন তিনি “মানবিক কাজ করবো, মেম্বাররা ভালো না, চেয়ারম্যান আপনার সন্তানতুল্য, স্যার আপনি মানবিক, তিনি টাকা খান না, হৃদয়ে জায়গা দেন, ক্ষমা করবেন, কান্না পায়, আপনার কোন ক্ষতি, এতিম, কোন অভিভাবক নেই” এসব লিখে ১ মিনিট ২ মিনিট পর পর একটানা রাত ২.৩২ মিনিট পর্যন্ত মেসেজ দিতে থাকেন। তাকে বলা হয় “নিয়ম নীতি না মেনে পরিষদের টাকা উত্তোলন করেছেন, আপনি সুতায় গিট দিয়ে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়ানোর চেষ্টা করেছেন, থ্রেট দেয়ার চেষ্টা করেছেন, আপনাকে ৫% এর টাকা দিচ্ছিনা কারণ আপনি টাকা দিলে দিনের দিন তুলে নিবেন, ভালোভাবে কাজ করেন”। পরবর্তীতে তিনি একাধারে মেসেজ দেয়া শুরু করে রাত ৩.১৫ মিনিট পর্যন্ত মেসেজ দিতে থাকেন। এসবের মাঝে তিনি পিআইও অফিসের ছেলেটিকে কল দিয়ে ঘুম থেকে তুলেন এবং স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন। ছেলেটিকে তার মেয়েদের কসম দিয়ে কথা বলতে বললেও ইউএনও এ বিষয়ে কিছুই জানেননা মর্মে ছেলেটি জানান। এই রকম কল রেকর্ড তাকে পাঠানোর পরে সে কিছুটা ভুল বুঝতে পেরে পুনরায় মেসেজ দেন। যার মধ্যে প্রায় ৫৫টি মেসেজ সেন্ড করে পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছেন। তিনি কিভাবে ক্ষমা চেয়েছেন মেসেজগুলো দেখলে বুঝা যেত। এ সকল বিষয়ের প্রেক্ষিতে রাত ৩.৫৪ মিনিটে আমি তাকে বলি “ঠিক আছে ঘুমান, সমস্যা হবেনা আমিও ঘুমাই”। বিভিন্নভাবে তদন্ত কার্যক্রম এভাবে বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করেন।
গত ১৮/০৯/২০২৫ তারিখে ০৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি আমার বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত কমিটি শালবাহান ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদের ৬ মাসে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা আত্মসাত, ক্ষতিসাধন ও ক্ষমতা অপপ্রয়োগের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং তাকে চেয়ারম্যান পদ হতে অপসারনের সুপারিশ করেন।
ফেসবুক আইডিতে তিনি আরেকটি ভিডিও আপলোড করেন যেখানে ১০% টাকা বিষয়ে কথপোকথন হচ্ছে। কার সাথে কথা হচ্ছিলো এই রেকর্ড বা ছবি প্রদর্শনের জন্য আশরাফুল ইসলামকে বলা যেতে পারে। কারণ অপর প্রান্তের ব্যক্তিটি আমি ছিলাম না।
ছেলেটি ইউএনও অফিসের স্টাফ না। আমার স্টাফ না। বর্তমান ঢাকাতে সংযুক্ত। এই ভিডিও নিয়ে এরআগেও নিউজ হয়েছে, ঢাকা থেকে তদন্ত করে গেছে পি আই ও অফিসে। এই উপজেলার সাংবাদিকরাই নিউজ করেছিলেন। আর এত আগের ভিডিও এখন কেনো। সচেতন হলে সেসময়ে ভাইরাল করা দরকার ছিলো। স্বার্থে আঘাত লেগেছে মনে হয়।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে তিনি ২নং তিরনইহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলছেন। একটু মনযোগ সহকারে বক্তব্য শুনলে শুরুতে আলমগীর চেয়ারম্যানকে বলতে শুনবেন “স্যার হাইকোর্ট দেখিয়ে দিয়েছে” “পিআইও কে চিঠি দিয়েছে” আরো শুনতে পারবেন “স্যার কাজ দেখে টাকা দিবে”। আপনাদের বিবেচনার জন্য ......... যদি কাজ দেখেই বিল দেই, তাহলে টাকা নেয়ার প্রশ্ন কিভাবে আসে? এই ভিডিওতে আরো দেখবেন। অভিযোগকারী শুধু নিজেই ঘুষ দেয়ার কথা বলে আলমগীর চেয়ারম্যানকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু, আলমগীর চেয়ারম্যান “জমি মাপছি” বলে কোন কথার উত্তর না দিয়ে কলটি কেটে দেন।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী ফৌজদারী মামলায় আটক হলে সাময়িক বরখাস্ত হবেন মর্মে উল্লেখ আছে। এ কারণে তার যোগদানপত্র জেলা প্রশাসন গ্রহণ করেননি বা আমাদের চিঠি দেয়নি। এ জন্যই তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন হতে বিরত থাকতে বলা হয়। তিনি আইনের তোয়াক্কা না করেই জোরপূর্বক নিজের নামে বিভিন্ন মাইকিং বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান।
সকলেই অধীর অপেক্ষায় ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বক্তব্য জানার জন্য। যেহেতু, অভিযোগটি ফেসবুকেই হয়েছে এবং আপনারা ফেসবুকেই জানতে চাচ্ছিলেন এজন্য এভাবে আপনাদেরকে জানানো। তিনি যেসকল অভিযোগ করেছেন এই অভিযোগগুলো আসলেই ভিত্তিহীন। আপনারা ভালোভাবে লক্ষ্য করলে অনেক ভিডিওই এডিট (Edit) করা। ভবিষ্যতে তিনি এমন চেষ্টা আরো করতে পারেন। কারণ এরআগে তিনি আমাকে একটি ভিডিও পাঠিয়েছিলেন সাউন্ড ছাড়া, এখন দেখছি সাউন্ড আছে। আরো কি কি edit যে করে আল্লাহ জানে। ইতোপূর্বে তেঁতুলিয়া উপজেলায় কর্মরত অন্যান্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের নামেও ফেসবুকে এসে তিনি এমনটি করেছেন। পরবর্তীতে অন্য কোন প্রশ্ন উপস্থাপিত হলে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো।
সকল প্রকার প্রমাণপত্র সংরক্ষিত আছে। তদন্ত হলে উপস্থাপন করা হবে। লক্ষ্য করা গেছে অতি উৎসাহী কিছু ব্যক্তি “ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া খাওয়ার চিন্তায় ব্যস্ত”। বিরোধিতা করতেই হবে এমন মানসিকতা পরিহার করার জন্য অনুরোধ করছি।
আমি আপনাদের ইউএনও ছিলাম, আপনাদের ইউএনও আছি।