19/08/2026
ইলমের মসনদ থেকে সংগ্রামের ময়দান - আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন এক আপোষহীন রাহবার
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।” - সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২৭
আরেক হাদিসে এসেছে,
“সর্বোত্তম জিহাদ হলো জালিম শাসকের সামনে ন্যায়ের কথা বলা।”
- সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৩৪৪
ইলমের চর্চা এবং জুলুমের সামনে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর জীবন ছিল এই দুইয়ের এক অনন্য সম্মিলন।
তিনি ছিলেন শাইখুল হাদিস, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও হাজারো আলেমের উস্তাদ। বাবুনগর থেকে হাটহাজারী, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে হাজারো শিক্ষার্থী তাঁর কাছ থেকে হাদিসের দারস নিয়েছেন। কিন্তু তাঁর জীবন শুধু হাদিসের মসনদে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইসলাম ও মুসলমানদের অধিকারের প্রশ্নে তাঁকে বারবার দেখা গেছে রাজপথে,ইলমের ময়দানে শাইখুল হাদিস, আর দ্বীনের হেফাজতের সংগ্রামে আপোষহীন সিপাহসালার।
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, শিক্ষানীতি ও থেমিসের ভাস্কর্য অপসারণসহ বিভিন্ন ইসলামি ইস্যুর আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২০ সালে সংগঠনটির আমীর নির্বাচিত হন।
২০১৩ সালের শাপলা চত্বর তাঁর জীবনে নিয়ে আসে কঠিন এক অধ্যায়। আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা বাবুনগরীকে পরদিন গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা, রিমান্ড, কারাবাস ও অসুস্থতা তাঁর শরীরকে দুর্বল করেছিল, কিন্তু তাঁর কণ্ঠকে নয়। মুক্ত হয়ে আবার ফিরেছেন হাদিসের মসনদে, আবার দাঁড়িয়েছেন আন্দোলনের ময়দানে।
২০২১ সালে হেফাজতের বহু আলেম ও নেতার গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ শরীর নিয়েও তাঁদের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার ছিলেন তিনি। নিজের অসুস্থতার চেয়েও যেন সহযোদ্ধাদের মুক্তির চিন্তা তাঁর কাছে বড় হয়ে উঠেছিল।
তিনি চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন হাজারো ছাত্র-শাগরেদ, ইলমের বিশাল উত্তরাধিকার এবং দ্বীনের প্রশ্নে আপসহীন থাকার এক স্মরণীয় দৃষ্টান্ত।হাদিসের মসনদ থেকে রাজপথ, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.) ছিলেন ইলম ও সংগ্রামের এক আপসহীন রাহবার। এমন একজন রাহবারের আজ বড়ই প্রয়োজন।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইলমি ও দ্বীনি খেদমত কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন।