19/02/2026
বিবেচনা কইরেন-
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে অনুকুল পরিবেশে আমরা ইসলাম ও শরীয়াহকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করতে চেয়েছি। সেই চাওয়া থেকেই বৃহত্তর শরীয়াহ প্রশ্নকে ভিত্তি করে “ইউদিন ইসলাম” সকল মতবিরোধকে পাশে রেখে ঐক্য গড়ে তুলেছিলাম।
পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলাম প্রকাশ্য এবং দৃশ্যত ইসলাম ও শরীয়াহ প্রশ্নকে আড়াল করেছে। জামায়াতের দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও বুদ্ধিবৃত্তিক বোঝাপড়ার কারণে আমি বলবো না যে, জামায়াতে ইসলামী শরীয়াহ ও ইসলাম প্রশ্নকে বাদ দিয়েছে। বরং তারা প্রাগমেটিজম বা কৌশল বা পশ্চিমের মনোভাব সম্পর্কে আন্ডারস্টান্ডিং এর কারণে শরীয়াহ ও ইসলাম প্রশ্নকে উহ্য রেখেছে।
আমরাও জামায়াতের এই অবস্থানের সাথে একমত হতে পারতাম। কিন্তু তাতে দীর্ঘমেয়াদে দাড়াতো যে, ৯০% মুসলমানের দেশে প্রকাশ্য ঘোষণায় শরীয়াহ ও ইসলামকে সামনে নিয়ে রাজনীতি করার মতো কোন দল নাই।
এটা “বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ইসলাম ও শরীয়াহ নিয়ে রাজনীতি করা যায় না” তত্ত্বের পক্ষে বিশাল দলীল হয়ে দাড়াতো। আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসলাম ও শরীয়াহ অচল বলে সাব্যস্ত হয়ে পড়তো।
আমরা সেটা হতে দিতে পারি না। তাই যে ঐক্যের পাটাতন আমরা সোয়া একবছর ধরে নির্মাণ করেছি সেখান থেকে আমাদের সরে আসতে হলো;নির্বাচনের মাত্র ২৫ দিন আগে।
আমাদেরকে পশ্চিমা শক্তিগুলোর কাছে উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের বন্ধু-বান্ধবরাও তাতে সায় দিয়েছে। এর সাথে পর্দার প্রতি আমাদের দৃঢ়তা পশ্চিমের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়েছে।
ফলে বহুশক্তি সম্মিলিতভাবে ইসলামী আন্দোলনের ভোট কম দেখানোর যৌথ চেষ্টা করেছে। পশ্চিমের কাছে অস্বস্তির কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে কম শক্তিশালী দেখানোর তাকিদ ছিলো।
শরীয়াহ নিয়ে পশ্চিমের অহেতুক ভয় আছে। আমরা যখন শরীয়াহকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলাম তখন এই দলের ভোট বেশি দেখা যাক তা অনেকেই চায় নাই। ফলে বহুমাত্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিকার ইসলামী আন্দোলন হয়েছে।
✍️শেখ ফজলুল করীম মারুফ