09/01/2026
বাংলাদেশ গেজেট পরিচিতি ও গুরুত্ব
===========================
তথ্য অধিকার (তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা) প্রবিধানমালা, ২০১০ এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৬(১) অনুসারে সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তার তথ্যসমূহ সংরক্ষণ করার জন্য তথ্যগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করে। যথা:
ক শ্রেণির তথ্য: ক শ্রেণির তথ্যগুলো স্থায়ী রেকর্ড। এগুলো আজীবনের জন্য সংরক্ষণ করতে হয়। স্থায়ী প্রকৃতির মূল্যবান অত্যাবশ্যকীয় নথিগুলি এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
খ শ্রেণির তথ্য: খ শ্রেণির তথ্যগুলো অর্ধস্থায়ী রেকর্ড। কারণ এগুলো দশ বছর বা তদূর্ধ্ব সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। ক শ্রেণির তথ্যের চেয়ে কম মূল্যবান তথ্যগুলো এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
গ শ্রেণির তথ্য: গ শ্রেণির তথ্যগুলো সাধারণ রেকর্ড। কারণ এগুলো তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। গ শ্রেণির তথ্যগুলোর উপযোগিতা কম এবং তিন থেকে পাঁচ বছর পর আর দরকার নাই বললেই চলে।
ঘ শ্রেণির তথ্য: ঘ শ্রেণির তথ্যগুলো এক বছরের জন্য সংরক্ষণ করা হয় বলে এগুলো সাধারণ রেকর্ড। মামুলি বা স্বল্পকালীন প্রকৃতির তথ্যগুলো এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
সরকারের এই চার শ্রেণির রেকর্ডের মধ্যে ক শ্রেণির অন্যতম রেকর্ড হলো গেজেট। বুঝতেই পারছেন, গেজেট হল সবচেয়ে মূল্যবান সরকারি দলিল। সাধারণভাবে বলতে গেলে গেজেট হল সরকারি ঘোষণাদি সম্বলিত এক ধরণের সংবাদপত্র। রাষ্ট্রপতি যখন কোনো অফিসিয়াল ডকুমেন্ট স্বাক্ষর করেন তখন সেই ডকুমেন্টটিকে বলা হয় প্রজ্ঞাপন (Notification)। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ইহাদের প্রজ্ঞাপন, আইন, বিধি, প্রবিধান ইত্যাদি গেজেটে অন্তুর্ভুক্তির জন্য ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ফরম ও প্রকাশনা অফিসে পাঠায়। অফিসটি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাঠানো প্রজ্ঞাপন, আইন, বিধি, প্রবিধান ইত্যাদি বিজি প্রেস নামে পরিচিত বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় থেকে গেজেট আকারে ছাপানোর ব্যবস্থা করে। ছাপানো গেজেটে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কোনো স্বাক্ষর থাকে না। শুধু শেষে লেখা থাকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে। কিন্তু মূল নথিতে সবার স্বাক্ষরই থাকে।
গেজেট দুই ধরণের হয়ে থাকে। যথা:
ক) সাপ্তাহিক গেজেট ও
খ) অতিরিক্ত গেজেট।
সাপ্তাহিক গেজেট:
সাপ্তাহিক গেজেট প্রতি বৃহস্পতিবার “বাংলাদেশ গেজেট” শিরোনামে প্রকাশ করা হয়। সাপ্তাহিক গেজেট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সেকশন অফিসার অথবা অধিদপ্তরে সমমর্যাদার অফিসার রাষ্ট্রপতির সরাসরি অথবা নির্বাহী আদেশক্রমে বাংলাদেশ গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য কোনো বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর বা তা ইস্যু করতে পারেন। মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সেকশন অফিসার অথবা অধিদপ্তরে সমমর্যাদার অফিসারের নিম্ন পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা বাংলাদেশ গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর বা তা ইস্যু করতে পারেন না।
অতিরিক্ত গেজেট:
জরুরী প্রয়োজনে সপ্তাহের যেকোনো দিন যেকোনো সময় অতিরিক্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। অতিরিক্ত গেজেট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নূন্যতম উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতির সরাসরি অথবা নির্বাহী আদেশক্রমে অতিরিক্ত গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর ও তা ইস্যু করতে পারেন। উপসচিব পদমর্যাদার নিম্ন কোনো কর্মকর্তা অতিরিক্ত গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর ও তা ইস্যু করতে পারেন না।
কোনো কিছু গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়া মানেই তা চূড়ান্তভাবে সরকারি ঘোষণা হিসেবে গণ্য হবে। তাই বাংলাদেশ গেজেট ও অতিরিক্ত গেজেটের সংখ্যাগুলি সবচেয়ে মূল্যবান সরকারি দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
#সামাজিকওঅর্থনৈতিকউন্নয়ন #টেকসইউন্নয়ন