13/06/2024
জীবন থেকে ফুরিয়ে যাওয়ার চারটি অধ্যায়ঃ
পয়ষট্টি বছর বয়স হয়ে গেলেই , কর্মক্ষেত্র আপনাকে গুডবাই জানিয়ে দেয়। ক্যারিয়ারে আপনি যতই সফল হোন না কেন। যে অফিসের চেয়ার আপনার ক্ষমতার সিম্বল ছিলো। হয়তোবা সে অফিসে ঢুকতেই আপনাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে। সৎ থাকলে শ্রদ্ধা পাবেন। আর অসততার ফাঁদে পড়ে গেলে পালিয়ে বেড়াবেন।
বয়স ৭০ থেকে ৭৫ হয়ে গেলে সমাজ আপনাকে ধীরে ধীরে ভুলতে শুরু করে। যে সকল বন্ধু এবং সহকর্মীদের সাথে দেখা করতেন এবং মেলামেশা করতেন তারাই হারিয়ে যাবে। দীর্ঘদিনের কর্মক্ষেত্রে ফেলে আসা মানুষদের খুব কমই আপনাকে চিনতে পারবে। আর নতুন প্রজন্মতো আপনি কে ছিলেন, কত ক্ষমতার আধার ছিলেন- সেটাও কস্মিনকালে মনে রাখবেনা।
বড়জোর ৮০ থেকে ৮৫ বছর বয়স হয়ে গেলেই- পরিবারে আপনার প্রয়োজন ফুরাতে শুরু করে। আপনার সম্পদের ভাগ বাটোয়ারার উইল নিয়ে আলাপ হতে থাকবে। জীবনের তাগিদেই সন্তানেরা দূরে সরে যাবে। মনে মনে চাইবেন কেউ পাশে এসে বসুক। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সে আসা অপূর্ণই রয়ে যাবে। আপনার রাজত্ব এতো ছোট হয়ে আসবে- শরীর যদিও ভালো থাকে তবে ঠিকানা হবে গৃহের একটা কোন। আর বেশি অসুস্হ হয়ে গেলে হাসপাতালেও রাখতে চায়না। তখন অনেকের শেষ ঠিকানা হয়ে যায় হসপিস সেন্টার।
৯০ থেকে একশ বছর। যে মাটিতে শিশু হয়ে আপনি এইতো সেদিন পা রেখেছিলেন। চোখের পলকেই এই পৃথিবীর কাছেই আপনি এখন জরাজীর্ণ । আপনার সমস্ত প্রয়োজন ফুরিয়ে আসে। শেষ প্রদীপ নিভে যাওয়ার ক্ষণ বুকের ভিতর দপদপ করে। যে কোনো সময় এটা বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়। আপনার পরিচিত অনেকের জীবন বাতি নিভে গিয়ে এই সফর শেষ করে আপন গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন।
অতি সংক্ষিপ্ত এই মায়ার ভ্রমন কেউ শেষ করতে চায়না। কিন্তু শেষ হয়।
কি অদ্ভূত! এই মানব জীবন।
ধুলো থেকে আগমন আবার ধুলোয় প্রত্যাবর্তন।
(Collected)