02/06/2024
ঘটনা - ১ :
আজকে সকালে ভার্সিটি যাওয়ার উদ্দেশ্যে নীলক্ষেত থেকে মৌমিতা বাসে উঠলাম। পুরো occupied বাসের দ্বিতীয় সারিতে একটা সিট খালি, পাশের সিটে একজন ভদ্রমহিলা।
আমার হাতে মোবাইল ফোন।
১ মিনিট যেতে না যেতেই তিনি জিজ্ঞেস করছেন, "কোথায় যাবেন? দেখেন তো একটু কয়টা বাজে
আচ্ছা চাংখারপুল যেতে কতক্ষন লাগবে" ইত্যাদি।
উল্লেখ্য : সিটে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও তিনি একদম আমার গা ঘেঁষে বসেছিলেন এবং প্রতিটা প্রশ্ন করার সময় কোনো কারণ ছাড়া স্পর্শ করছিলেন।
সেই সাথে কয়টা বাজে জানতে চাচ্ছিলেন বার বার।
২০ মিনিটের মধ্যে তিনি অন্তত ৮/৯ বার এই প্রশ্ন করেছেন।
এই পুরোটা সময় জুড়ে আমি খুব মিষ্টি একটা বেলি ফুলের ঘ্রাণ পাই বাসের মধ্যে। এমন অদ্ভুত মিষ্টি ঘ্রাণ আমি এর আগে কখনো পাই নি। বাসের মধ্যে খুব কাছে কেউ না থাকলে ঘ্রাণ পাওয়ার কথা না।
যেহেতু আমি সামনের দিকে বসা। আমার সামনে যে কয়জন মানুষ ছিলেন সবাই আমার আগে নেমেছেন, শুধু নামেন নি সেই ভদ্রমহিলা। তারপর বাস ঢাকা মেডিকেল আসতেই ভদ্রমহিলা তড়িঘড়ি করে নেমে যান।
ঘটনা - ২ :
চানখাঁর পুল মোড়ে বাস থেকে নামতেই হঠাৎ করে আমার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো, দুই সেকেন্ডের জন্য দুচোখে অন্ধকার দেখলাম। সারা শরীর ঝিমঝিম করে উঠলো। আমি তখন একদম মাঝ রাস্তায়, রোড ক্রস না করলে নির্ঘাত একটা ভয়ংকর এক্সিডেন্ট করবো। নিজেকে কোনমতে সামলে কিভাবে যেন টলতে টলতে রাস্তা পার হলাম।
মোড় থেকে বোরহানউদ্দিন কলেজ দুই মিনিটের হাঁটা পথ। অথচ এইটুকু রাস্তা আমি পার করতে পারছিলাম না। আবার দুচোখ অন্ধকার, রাস্তার পাশে বসে অনবরত নিজের সেন্স ঠিক রাখার চেষ্টা করছিলাম। আশে পাশে মানুষ জমে গেছে আমার অবস্থা দেখে, কেউ পানি খেতে বলছে কেউ মেডিকেল এ চলে যেতে বলছে।
সব শুনেও কোনো রেসপন্স করার মত অবস্থায় ছিলাম না। কারণ, আমার vision completely blank, আমি কিচ্ছু দেখছিলাম না চোখে। সারা শরীর ঝিমঝিম করছে, শরীরের কোনো ব্যালেন্স নাই আর এদিকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে গেলেই দুলুনি।
সামান্য একটু দৃষ্টি ফিরে পেতেই আমি প্রায় দৌড়ে ক্যাম্পাস আসলাম। আপুদের জানানোর পর তারা চোখে, মুখে, মাথায় পানি দিয়ে দেন।
পানি দেয়ার ২ মিনিট পরই আমার vision একদম ঠিক হয়ে যায়। ৫ মিনিটের মাথায় মাথা ঘুরানোও বন্ধ।
আমি সঠিক জানি না কি হয়েছিল আসলে। তবে আমার ধারণা সেই বেলি ফুলের ঘ্রাণ ওয়ালা বস্তুটা কোনো ধরনের ড্রাগ ছিলো যেটা মাথা ঘুরানোর/ চোখে অন্ধকার দেখার মত উপসর্গ তৈরি করে। ঘ্রাণটা এতো addictive যে প্রথমবার নেয়ার পর বুকভরে আরেকবার সেই ঘ্রাণে শ্বাস নিতে ইচ্ছা হয়। ২০ মিনিট ধরে এই ঘ্রাণ নিলে হয়তো এটার প্রভাব শুরু হয়।
ক্রিস্টাল মেথ, ডেভিলস ব্রেথ আরো নাম না জানা কতো কি যে আছে সেটা তো আর আমরা জানি না। কিন্তু আমাদের বোধয় রাস্তা ঘাটে আরো সাবধানে চলাচল করা উচিত। বিশেষ করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারের সময় আপনার আসে পাশের মানুষের সন্দেহজনক আচরণ দেখলে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।
আজকে আমার অনেক বড় কোনো বিপদ হতে পারতো। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ্ আমি সম্পূর্ণ ঠিক আছি।
আপনারা যাতে এই ধরনের পরিস্থিতিতে না পড়েন এই কামনা করি। তারপরও এমন ঘটনার ব্যাপারে সবার জানা উচিত।
Collected post.