Pirojpur - পিরোজপুর

Pirojpur - পিরোজপুর পিরোজপুর জনপদের নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য

**********জেলা পরিচিতি***********
৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷ নামকরণ ও প্রতিষ্ঠাকাল ৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷

১. নামকরণ ও প্রতিষ্ঠাকাল

পিরোজপুর জেলার উত্তরে বরিশাল ও গোপালগঞ্জ, দক্ষিণে বরগুণা জেলা। পূর্বে ঝালকাঠি ও বরগুণা জেলা এবং পশ্চিমে বাগেরহাট জেলা ও সুন্দরবন। আয়তন ১,৩০৭.৬১ বর্গকিলোমিটার বা ৫০৪.৮৭ বর্গমাইল। মোট জনসংখ্যা ১১,১৩,২৫৭ জন। পুরুষ ৫,৪৮,২২৮ জন, মহিলা ৫,৬৫,০২৯ জন। (২০১১ খ্রিষ্টাব্দের আদমশুমারি অনুযায়ী) পি

রোজপুর জেলা ৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর, নেছারাবাদ, কাউখালি, ভাণ্ডারিয়া, জিয়ানগর ও মঠবাড়িয়া।

পিরোজপুর জেলার নামকরণ সম্বন্ধে সঠিক কোনো তথ্য জানা যায় না। নাজিরপুর উপজেলার হেলাল উদ্দিন মোঘল দাবি করেন যে, সুবেদার সুজার বংশধর ফিরোজ শাহের নাম অনুসারে স্থানটির নাম হয় প্রথমে ফিরোজপুর এবং পরবর্তীতে উচ্চারণ বিভ্রাটে পরিবর্তিত হয়ে পিরোজপুর হয়। কলকাতার বরিশাল সেবা সমিতির পক্ষ থেকে প্রকাশিত বাকেরগঞ্জের ভূগোল পুস্তকেও এ মতকেই গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যমতে দামোদরের পাড়ে ফিরোজ নামে কোনো এক মোঘল কর্মচারী বাস করতেন। তার নাম অনুসারে এই স্থানটির নাম হয় পিরোজপুর । পিরোজপুর নামের প্রেক্ষাপটে বিশ্বাসযোগ্য কোনো জনশ্রুতি বা কিংবদন্তিও নেই । নাজিরপুর উপজেলার শাখারিকাঠি গ্রামের হেলাল উদ্দিনের বিবরণীকে কিংবদন্তির মতো ধরে নিলে নামকরণের একটা সূত্রের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। হেলাল উদ্দিন নিজের নামের সাথে মোঘল শব্দ সংযুক্ত করে নিজেকে মোঘল বংশের প্রতিভূ বা শেষ বংশধর হিসেবে দাবি করেছেন । হেলাল উদ্দিন মোঘল যে সূত্রটি স্থাপন করেছেন তা বাংলার সুবেদার শাহ্ সুজার সঙ্গে সম্পৃক্ত। শাহ্ সুজা আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীরজুমলার হাতে পরাজিত হয়ে সপরিবারে বাংলার দক্ষিণাঞ্চলে পালিয়ে এসেছিলেন। আত্মগোপনের এক পর্যায়ে তিনি নলছিটির সুগন্ধা নদীর তীরে একটি কেল্লা নির্মাণ করে কিছুকাল বসবাস করেন । মীরজুমলার সৈন্যবাহিনী হানা দিলে তিনি তার দু'কন্যাসহ আরাকানে পালিয়ে যান। সেখানে আরাকান রাজার চক্রান্তে নিহত হন। পালিয়ে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী এক পুত্রসহ সেখানে থেকে যান । পরবর্তীতে তারা পশ্চিম দিকে এসে বর্তমান পিরোজপুর পার্শ্ববর্তী দামোদর নদের মুখে আস্তানা তৈরি করেন । এ শিশুপুত্রের নাম ছিল ফিরোজ। শাহ সুজার পুত্র ফিরোজ শাহ্ মৃত্যুবরণ করলে তাঁর মরদেহ পিরোজপুরের পুরান মসজিদ (কেয়ামুদ্দিন) উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন কবর দেওয়া হয়। তাঁর নামানুসারে পিরোজপুর শহরের মূল ভূখণ্ডের নামকরণ করা হয় ফিরোজপুর।

অন্যদিকে ইতিহাসে আর এক ফিরোজের সন্ধান মেলে। তিনি সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র ফিরোজ মন্দ । সম্রাট শাহজাহানের মৃত্যুর পর সিংহাসনের উত্তরাধিকার যুদ্ধে নিহত হলে

আওরঙ্গজেব তার এক বিধবা বাইজি পত্নীকে বিয়ে করেন। তার গর্ভে আওরঙ্গজেবের ঔরসে ফিরোজ মন্দ জন্মগ্রহণ করেন। আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর সিংহাসন নিয়ে তার পুত্রদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে ফিরোজ মন্দ প্রাণভয়ে দিল্লি ত্যাগ করে আত্মগোপন করেন এবং তিনি প্রপিতাসহ সম্রাট জাহাঙ্গীর বা সেলিমের নামে আখ্যায়িত সেলিমাবাদ পরগনায় এসে পরগনার মধ্যবর্তী অবস্থান বলেশ্বর এবং দামোদর নদীর সংযোগস্থল পিরোজপুর ভূখণ্ডে অবস্থান করেন। তার নামেই যে পিরোজপুর হয়েছে সে তথ্যের কোন প্রামাণ্য দলিল পাওয়া যায়নি ।

পিরোজপুর জেলা একসময় ছিল টেগরা বা তুগরা থানার অন্তর্গত ছোট্ট একটি গ্রাম । ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে পাড়েরহাটের টগরা গ্রামে বাকেরগঞ্জ জেলার অধীনে টগরা থানা স্থাপিত হয় । কচা নদী বা কচার্দন এবং টেগরা থানার দক্ষিণাঞ্চলে ডাকাতি বন্ধ করা এবং প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ অক্টোবর পিরোজপুরকে একটি মহকুমা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং টেগরা থানা পিরোজপুরে স্থানান্তরিত হয়। পিরোজপুর ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ পর্যন্ত বরিশালের একটি মহকুমা ছিল । ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১ মার্চ পিরোজপুর মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয় ।

১৮১২ খ্রিষ্টাব্দে কোটালিপাড়া ও মির্জাগঞ্জ থানা সৃষ্টি হয়। জেলার দক্ষিণ অঞ্চলে সুন্দরবন কেটে বসত বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান বেতাগি ও পটুয়াখালি নিয়ে মির্জাগঞ্জ থানা গঠন করা হয়। কোটালিপাড়া ও মির্জাগঞ্জ বাকেরগঞ্জের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৮২২ খ্রিষ্টাব্দে নলচিড়া থানা মেহেন্দিগঞ্জে স্থানান্তরিত হয়। ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দে বারৈকরণ থানা ভাগ করে নলছিটি ও ঝালকাঠি থানা গঠন করা হয়। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে বাকেরগঞ্জে মোট থানা ছিল ১০টি :
১. বারৈকরণ (বর্তমান ঝালকাঠি ও নলছিটি)
২. আঙ্গারিয়া (বাকেরগঞ্জ)
৩. বাউফল
৪. খলীগাখালি (গলাচিপা)
৫. চান্দিয়া বা সন্দ্বীপ (ভোলা)
৬. বুখাইনগর (বরিশাল কোতোয়ালী)
৭. নলচিড়া মুলাদি ও মেহেন্দিগঞ্জ)
৮. কেওয়ারি (স্বরূপকাঠি ও বানারিপাড়া)
৯. কাউখালি
১০. টেগরা বা তুগরা (বর্তমান পিরোজপুর) ।

১৮১২ খ্রিষ্টাব্দে বাকেরগঞ্জ জেলায় থানা ছিল মোট ১৪টি : বরিশাল, কোতোয়ালী, মির্জাপুর, মেহেন্দিপুর, খলীগাখালি, বাউফল, আঙ্গারিয়া, নলছিটি, কচুয়া (বর্তমানে বাগেরহাট জেলায়), কেওয়ারি, টেগরা, বুড়িরহাট, গৌরনদী ও কোটালিপাড়া । পুলিশ ফাঁড়ি ছিল ৯টি— গঙ্গাপুর, বুখাইনগর, শ্রীরামপুর, রাজাপুর, ঝালকাঠি, রাজৈর, আগরপুর, কাউখালি ও ভগীরথপুর। ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ মার্চ পটুয়াখালি মহকুমা গঠন করে বরিশালের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জেলা গঠনের প্রথম দিকে বরিশাল জেলায় মোট পাঁচটি মহকুমা ছিল, বরিশাল সদর, দক্ষিণ সাহাবাজপুর, মাদারিপুর, পিরোজপুর ও পটুয়াখালি । ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে পিরোজপুর মহকুমায় ৩টি থানা ছিল। পিরোজপুর, স্বরূপকাঠি ও মঠবাড়িয়া । মোট জনসংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪২৬ জন। পিরোজপুরের অধীনস্থ ২টি পুলিশ ফাঁড়ি ছিল একটি নাজিরপুর, অপরটি ভাণ্ডারিয়া। পুরাতন থানা কেওয়ারির কিছু অংশ নিয়ে ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে স্বরূপকাঠি থানা গঠিত হয় ।

১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে মাদীরপুর মহকুমাসহ পালং ও কোটালিপাড়া বরিশাল থেকে বিচ্ছিন্ন করে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ফরিদপুর জেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয় । একসময় বাগেরহাটের কচুয়া থানা (বলেশ্বরের পশ্চিম পাড়), মাদারিপুরের বুড়িরহাট এবং

গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া বাকেরগঞ্জ জেলাধীন ছিল। ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে পিরোজপুর মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি পটুয়াখালিকে আলাদা জেলার মর্যাদা দেয়া হয় এবং পিরোজপুর মহকুমা থেকে বামনা ও পাথরঘাটা থানা দুটিকে পটুয়াখালির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম দিকে বরিশাল জেলাকে ভেঙে আরও তিনটি জেলা গঠন করা হয়। এগুলো হলো- ভোলা ও ঝালকাঠি (১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪) এবং পিরোজপুর (১ মার্চ ১৯৮৪)। ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ফেব্রুয়ারি ইন্দুরকানি থানাকে পিরোজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ২১ এপ্রিল প্রশাসনিক থানা ইন্দুরকানিকে জিয়ানগর থানা নামকরণ করে উপজেলায় উন্নীত করা হয় ।


তথ্যসূত্রঃ-
১.বরিশালের ইতিহাস, ১ম খণ্ড, সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, বরিশাল ১৯৮২।
২. পিরোজপুর: গ্রাম থেকে জেলা, শ্রী নিত্যরঞ্জন মণ্ডল, পিরোজপুর মিলনোৎসব, স্টুডেন্টস হল, কলেজ স্কোয়ার, কলকাতা-৭০০০০৭৩।
৩. পিরোজপুর জেলার অতীত কথা, গোলাম মোস্তফা, জেলা পরিক্রমা, প্রকাশ : জেলা তথ্য অফিস, পিরোজপুর।

গ্রাম বাংলা মানি হলো এক  রূপ কথার রাজ্য,যেখানে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে
23/07/2025

গ্রাম বাংলা মানি হলো এক রূপ কথার রাজ্য,
যেখানে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে

গৃহস্থের রূপব বৈচিত্র
11/11/2024

গৃহস্থের রূপব বৈচিত্র

******* #জেলা_পরিচিতি******** ংক্ষিপ্ত_ইতিহাস_০২পর্ব(চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য)চতুর্দশ শতকে দনুজমর্দন দেব চন্দ্রদ্বীপে এক স্বাধী...
10/10/2024

******* #জেলা_পরিচিতি********
ংক্ষিপ্ত_ইতিহাস_০২পর্ব(চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য)

চতুর্দশ শতকে দনুজমর্দন দেব চন্দ্রদ্বীপে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বঙ্গোপসাগরের উপকূলে সুগন্ধা নদী ও সুন্দরবনবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। দনুজমর্দন দেব ও তার বংশধরগণ প্রায় দুইশত বৎসর স্বাধীনভাবে ও দুইশত বছর সামন্তরাজা হিসেবে চন্দ্রদ্বীপ শাসন করেন। এ সময় চন্দ্রদ্বীপে এক উন্নত সভ্যতা গড়ে ওঠে।

বাংলার ইতিহাসে দনুজমর্দন দেব একটি অমীমাংসিত চরিত্র। অনেক ইতিহাসবিদ দনুজমর্দন দেব ও রাজা গণেশ একই ব্যক্তি বলে উল্লেখ করেছেন। ইতিহাসবিদ এইচ. বেভারিজ, রুহিনীকুমার সেন, খোসালচন্দ্র রায়, জেমস ওয়াইজ ও সিরাজউদ্দিন আহমেদ এরা দনুজমর্দন দেবের অধস্তন বংশধরদের তালিকা দিয়েছেন। এসব তালিকার মধ্যে কিছুটা অমিল পরিলক্ষিত হলেও চন্দ্রদ্বীপ বা বাকলা তথা বর্তমান পিরোজপুর দনুজমর্দন শাসন করতেন এ বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ নেই। অধিকাংশ ইতিহাসবিদ মনে করেন, দনুজমর্দন দেব লক্ষ্মণ সেনের পৌত্র। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির নিকট পরাজিত হয়ে লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে পালিয়ে আসেন। তিনি ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তার মৃত্যুর পর পুত্র কেশব সেন ও বিশ্বরূপ সেন ১২২৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। বিশ্বরূপ সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র দনুজমর্দন সিংহাসনে আরোহণ করেন।"

বৃহত্তর বরিশাল চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যভুক্ত ছিল। চন্দ্রদ্বীপ রাজবংশ চতুর্দশ দশক থেকে এ অঞ্চলে রাজত্ব করে। মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে চন্দ্রদ্বীপের রাজা রামচন্দ্র বসুকে পরাজিত করে বাকলা চন্দ্রদ্বীপ দখল করে। চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য কতগুলো পরগনায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। সম্রাট জাহাঙ্গীর চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম নিয়ে নিজ নামে সেলিমাবাদ পরগনা গঠন করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আর এক নাম সেলিম। পিরোজপুর জেলার অধিকাংশ ভূমি সেলিমাবাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। মোঘল আমলে সেলিমাবাদ লবণ ও কাঠ উৎপাদনের জন্য খ্যাত ছিল। নিমক মহল থেকে কর আদায় করা হতো। জনগণের প্রধান পেশা ছিল সুন্দরী কাঠ আহরণ ও লবণ উৎপাদন।

পরগনা সেলিমাবাদ মোঘল আমলে সরকার খলিফাতাবাদ এবং নবাবি আমলে সরকার ফতেহাবাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বরিশালের উত্তর, ফরিদপুর ও অন্যান্য অঞ্চল হতে বঙ্গ জাতির বংশধরগণ রায়েরকাঠির রাজাদের উদ্যোগে আবাদ শুরু করে। এ সময় কয়েকজন সুফী সাধক ও একদল মুসলমান মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেছারাবাদ, ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর ও কাউখালি আগমন করেন।

মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সেনাধ্যক্ষ মদনমোহন রায় রাজা প্রতাপাদিত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বীরত্বের পরিচয় দেয়। সম্রাট সন্তুষ্ট হয়ে মদন মোহনকে সেলিমাবাদ পরগনা প্রদান করে। মদনমোহন পশ্চিম বাংলার দিগংগার কিংকর ভূঁইয়ার পুত্র। মদন মোহনের পুত্র শ্রীনাথ এবং তৎপুত্র শ্রীরাম। তার পুত্র রুদ্রনারায়ণ রায় পিরোজপুর থানার রায়েরকাঠিতে সিদ্ধেশ্বরীর মূর্তি প্রাপ্ত হয়ে ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং সপরিবারে বসতি স্থাপন করেন। রায় পরিবার বন কেটে আবাদ করেছে। তাই নামকরণ হয়েছে রায়েরকাঠি। রায়েরকাঠির রাজাদের প্রচেষ্টায় সেলিমাবাদ পরগনা আবাদ হয়। রুদ্রনারায়ণের পর তার বংশধর নরোত্তম, শত্রুজিত, জয় নারায়ণ, শিব নারায়ণ, প্রাণ নারায়ণ, মহেন্দ্র নারায়ণ, মাধব ও নর নারায়ণ রায় রাজ্য পরিচালনা করেন। রাজা জয় নারায়ণের সাথে জমিদারি নিয়ে আগাবাকের খানের সাথে সংঘর্ষ হয় (১৭৪০-১৭৫৩ খ্রি.)।

জলাবাড়ির বিশ্বাস পরিবার ১৯ শতকে বরিশালের মধ্যে একটি সম্পদশালী ও শিক্ষিত পরিবার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। এ পরিবারের মাধব নারায়ণ আমরাজুড়ি দত্ত পরিবারে বিয়ে করেন। মাধব নারায়ণের পুত্র প্রাণনাথ ও প্রতাপ নারায়ণ ছাগলের ব্যবসা করত। কথিত আছে ভ্রাতাদ্বয় ঝালকাঠির সুতালরী বন্দরের নদী ভাঙ্গনের সময় স্বর্ণমুদ্রা লাভ করেন। তারা এ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে তালুক ক্রয় করেন। তারা পিরোজপুরের রায়েরকাঠির জমিদারদের কর্মচারী ছিলেন। রায়েরকাঠির জমিদার শিব নারায়ণ রায় ১৮ শতকের শেষ ভাগে প্রাণনাথ ও প্রতাপ নারায়ণকে তালুক প্রদান করেন।

নেছারাবাদ অঞ্চলে সম্রাট জাহাঙ্গীর ও সম্রাট শাহজাহানের আমলে (১৬১১-১৬৫৪) জনবসতি শুরু হলেও মগ ও পর্তুগিজদের আক্রমণে সদ্য গড়ে ওঠা লোকালয়গুলো ধ্বংস হয়ে যায়। মগ, পর্তুগিজগণ বাকলা-চন্দ্রদ্বীপের হাজার হাজার নরনারী হত্যা করে এবং যুবক যুবতীদের ধরে নিয়ে দাস হিসেবে বিভিন্ন দেশে বিক্রি করে। ফলে অনেক লোকালয় আবার সুন্দরবনে পরিণত হয়।

মগ, পর্তুগিজ, বাঘ, কুমির ও ঘূর্ণিঝড়ের সাথে সংগ্রাম করে পূর্ব পুরুষেরা পিরোজপুর ও অন্যান্য থানাগুলো আবাদ করেছে। এরকম একজন আবাদকারী ছিলেন স্বরূপ দত্ত। তিনি জঙ্গল পরিষ্কার করে আবাদ ও গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন। তার নামানুসারে স্বরূপকাঠির নাম হয়েছে। স্বরূপকাঠির দত্ত পরিবার তার বংশধর। ১৭ ও ১৮ শতক ধরে সুন্দরবন কেটে নেছারাবাদ আবাদ চলতে থাকে। উনিশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত বন কেটে বসতি সৃষ্টি হতে থাকে। এ থানা যে সুন্দরবনে আবৃত ছিল তার প্রমাণ অধিকাংশ গ্রামের নামের সাথে কাঠি যুক্ত আছে। স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলায় কাঠিযুক্ত ৩২টি গ্রাম আছে।

তথ্যসূত্রঃ-
১.বরিশালের ইতিহাস, ১ম খণ্ড, সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, বরিশাল ১৯৮২।
২. পিরোজপুর: গ্রাম থেকে জেলা, শ্রী নিত্যরঞ্জন মণ্ডল, পিরোজপুর মিলনোৎসব, স্টুডেন্টস হল, কলেজ স্কোয়ার, কলকাতা-৭০০০০৭৩।
৩. পিরোজপুর জেলার অতীত কথা, গোলাম মোস্তফা, জেলা পরিক্রমা, প্রকাশ : জেলা তথ্য অফিস, পিরোজপুর।

ছবিতে টাচ করুন🫵আর চলে আসুন স্বরুপকাঠীর বিলে🌿
26/09/2024

ছবিতে টাচ করুন🫵
আর চলে আসুন স্বরুপকাঠীর বিলে🌿

******* #জেলা_পরিচিতি******** ংক্ষিপ্ত_ইতিহাস_০১প্রাচীনকালে পিরোজপুর কয়টি শাসনামলের অন্তর্ভুক্ত ছিল তার সঠিক ইতিহাস বর্...
18/09/2023

******* #জেলা_পরিচিতি********
ংক্ষিপ্ত_ইতিহাস_০১

প্রাচীনকালে পিরোজপুর কয়টি শাসনামলের অন্তর্ভুক্ত ছিল তার সঠিক ইতিহাস বর্ণনা করা না গেলেও এ অঞ্চলে একসময় বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ-খলিফাতাবাদ, সেলিমাবাদ, বাকেরগঞ্জ, বরিশালকেন্দ্রিক শাসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বাকলা চন্দ্রদ্বীপে অস্ট্রিক ও মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বসতি ছিল। এ দুজাতির মিশ্রণে "বান্ত' জাতির উৎপত্তি। 'বাঙ' জাতি থেকে 'চণ্ডাল' জাতি আর 'চণ্ডাল' জাতিই বাকলা চন্দ্রদ্বীপের আদি জনগোষ্ঠী। বৃহত্তর বরিশাল জেলার জনগোষ্ঠির বেশিরভাগই এদের বংশধর।

বাকলা চন্দ্রদ্বীপ কখন, কিভাবে এবং কারা প্রথম বসতি স্থাপন করে, আর এ অঞ্চলের বয়স কত, তার সঠিক ইতিহাস উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। তবে এসব অঞ্চল কয়েকবার সাগরে তলিয়ে গেছে আবার ভেসে উঠেছে। এ উত্থান-পতনের কত নম্বর স্তরে আমরা বসবাস করছি তা উদ্ধার করা যায় নি। পৌরাণিক কাহিনি ও ভূতত্ত্ব বিশ্লেষণে এখানে ইতঃপূর্বে বসতি ছিল বলে ঐতিহাসিক সত্যতা রয়েছে।

বাল্মীকির রামায়ণে গঙ্গাদেবী ও সতী সীতার পাতাল প্রবেশ প্রসঙ্গে সাগরদ্বীপের কথা উল্লেখ আছে। গঙ্গা নদীর মোহনা বাকলা চন্দ্রদ্বীপ, সাগরদ্বীপ। বাকলা চন্দ্রদ্বীপের কাছাকাছি ছিল, আর তা হিন্দুদের তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত ছিল।
ইতিহাসবিদ মেঘাস্থিনিস ৩০২ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে ভারতবর্ষে এসেছিলেন। তার বিবরণে সাগরদ্বীপের উল্লেখ রয়েছে। এই সাগরদ্বীপই প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ। বরিশাল শহরের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এলাকার সাগরদীই সাগরদ্বীপ ছিল বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন। এ অঞ্চলের মাটির গভীরে প্রাচীনকালে নৌকার ধ্বংসাবশেষ, জাহাজ ও বিভিন্ন সমরাস্ত্র পাওয়া যায়। গঙ্গার মোহনার পরিবর্তনের সাথে সাথে সাগরদ্বীপের পরিবর্তন হয়েছে কয়েকবার।

আজও ভোলা পটুয়াখালি ও বরিশালের দক্ষিণাঞ্চল থেকে চট্টগ্রামের টেকনাফ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের দিকে ১৫০-২০০ কিলোমিটারের মধ্যে সমুদ্রের গভীরতা ২০ ফুট। তাছাড়া বঙ্গোপসাগরে যে তেলের খনির সন্ধান পাওয়া গেছে তাতে বোঝা যায়। সাগরদ্বীপ ও বাকলা চন্দ্রদ্বীপ বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত ছিল। বাকলা চন্দ্রদ্বীপের ইতিহাসের সাথে পিরোজপুর জেলার ইতিহাস সম্পৃক্ত বিষায় প্রাচীন যুগে অর্থাৎ মৌর্য বংশের আগের অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য উদ্ধার করতে না পারায় মৌর্য বংশ থেকে পরবর্তী বংশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৪ অব্দে এই বংশের প্রতিষ্ঠা করেন । খ্রিষ্টপূর্ব ১৮৭ পর্যন্ত মৌর্যবংশ বঙ্গদেশে রাজত্ব করেন। চন্দ্রগুপ্তের মৃত্যুর পর পুত্র বিন্দুসার ও তার মৃত্যুর পর পুত্র অশোক রাজত্ব করেন। অশোকের সময় বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটে। খ্রিষ্টীয় প্রথম ও দ্বিতীয় শতকে কৃষাণ বংশ বঙ্গদেশে রাজত্ব করে। তৃতীয় শতক পর্যন্ত বাকলা চন্দ্রদ্বীপের ইতিহাস অনেকটা কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল। চতুর্থ শতকে বাকলা চন্দ্রবর্মার রাজধানী ছিল। চন্দ্রবর্মা ৩১৫ অব্দে এই অঞ্চল দখল করে এবং তার নামানুসারে এর নাম হয় চন্দ্রদ্বীপ। গুপ্তবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা সমুদ্রগুপ্ত, চন্দ্রগুপ্ত বর্মাকে বিতাড়িত করে এ অঞ্চল গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং ৫২৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। গুপ্তবংশের রাজত্বকালের শেষ দিকে শশাংকের পতন ঘটিয়ে হর্ষবর্ধন ৬১৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬৬৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাকলা চন্দ্রদ্বীপ শাসন করেন। হর্ষবর্ধনের পরে ভদ্র ও দেববংশের ব্রাহ্মণ রাজা খড়েগাদ্যাম, জাত খড়গা ও দেব খগড়া নামে তিন রাজা ৬৬৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চল শাসন করেন। পাল বংশের নারায়ণ পাল (৮৬৬-৯২০ খ্রিষ্টাব্দ) বাকলা দখল করেন। একাদশ শতকের শেষভাগে পাল বংশের শেষ রাজা রামপালের সময় জাত বর্মা পূর্ববঙ্গ দখল করেন। এ সময় তারা চন্দ্রদ্বীপে আশ্রয় নেয়।

সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বীর সেন । বীর সেন যখন বাকলা দখল করেন তখন সেন। বংশেরই বিজয় সেনের পুত্র বল্লাল সেন ১১৭৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তার মৃত্যুর পর পুত্র লক্ষ্মণ সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার আমলে ১২০৩ খ্রিষ্টাব্দ দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মোঃ বখতিয়ার খিলজি রাজধানী নদীয়া আক্রমণ করেন। লক্ষ্মণ সেন প্রতিরোধের বিরাট আয়োজন করেও শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ না করে পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যান। তিনি ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্বরূপ সেন ও কেশব সেন ১২২৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। সেন পরিবারের রাজকুমারদের মধ্যে তরুণ সেন, অরুণ সেন, হরি সেন, বিজয় সেন, ইন্দ্র সেন, জবা সেন প্রমুখ গৈলা ফুলশ্রীতে বসবাস করতেন । বাকলা চন্দ্রদ্বীপ ছিল সেন রাজাদের নিরাপদ জায়গা। কারণ, মুসলমান সৈন্যগণ তখনও নদনদী পেরিয়ে এ অঞ্চলে আসতে এবং বসবাস করতে অভ্যস্ত ছিল না ।
©

তুমি সত্যিই খুবই সুন্দরী
26/07/2023

তুমি সত্যিই খুবই সুন্দরী

তিন জবা সুন্দরী এক সাথে 🌷🌸
22/07/2023

তিন জবা সুন্দরী এক সাথে 🌷🌸

প্রকৃতির সৌন্দর্যতা ফুলকে ঘিরেই 🤍
21/07/2023

প্রকৃতির সৌন্দর্যতা ফুলকে ঘিরেই 🤍

16/07/2023
গ্রামের সৌন্দর্য
01/05/2023

গ্রামের সৌন্দর্য

গ্রামের সৌন্দর্য যাকে মুগ্ধ করতে পারেনি অন্য কিছুই তাকে মুগ্ধ করতে পারবেনা।
09/04/2023

গ্রামের সৌন্দর্য যাকে মুগ্ধ করতে পারেনি অন্য কিছুই তাকে মুগ্ধ করতে পারবেনা।

Address

Pirojpur

Telephone

+8804477970470

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Pirojpur - পিরোজপুর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Pirojpur - পিরোজপুর:

Share