20/01/2026
আজ আমি এক মহা ঔষধের সন্ধান দিচ্ছি প্রতিটি সন্তানহীনা দম্পতির জন্য
আল্লাহ তাআলার সহানুভূতি ও দয়ার দিকে তাকাও এবং এই কাহিনী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শোনো, আল্লাহ তোমাদের হেফাজত করুন।
একদিন আমি আমার এক সহকর্মীর সাথে ছিলাম। আমি তার মুখে দুঃখের ছাপ দেখতে পেলাম। আমি ভাবতে লাগলাম, কিভাবে তাকে বলাতে পারি কী সমস্যা হয়েছে তার। প্রথমেই আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম যেন আল্লাহ আমার জন্য বিষয়টিকে সহজ করে দেন এবং আমি তার কষ্ট লাঘব করতে পারি। এরপর ধীরে ধীরে তাকে খোলামেলা প্রশ্ন করতে শুরু করলাম। অবশেষে সে বললঃ
“হে আবু মুআয, আমি সোজাসুজি তোমাকে বলছি। আমি বহুদিন হলো বিবাহিত, কিন্তু আল্লাহ এখনো আমাকে সন্তান দেননি। বহু ডাক্তার দেখিয়েছি কিন্তু কোনো চিকিৎসা কাজে লাগেনি। এখন বলো, হে আবু মুআয, এর সমাধান কী?”
আমি তাকে বললামঃ “প্রিয় ভাই, আমি তোমাকে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা বলব, যা আমি একজন বিশ্বাসযোগ্য মানুষের কাছ থেকে শুনেছি।”
ঘটনাটি এরকম যে—এক ব্যক্তি একদিন নামাজের বাইরে সময়ে মসজিদে প্রবেশ করল। সেখানে এক বয়স্ক মানুষ তাকে দেখে বললেনঃ
“এসো বৎস! আমি তোমাকে নামাজের সময় ছাড়া এখানে কেন দেখি, আর তোমার মুখে দুঃখের ছাপ কেন?”
তখন লোকটি বললঃ
“হে আব্বাজান, আমি বহুদিন হলো বিবাহ করেছি, কিন্তু আল্লাহ আমাকে কোনো সন্তান দেননি যে আমার সাথে খেলবে, আমিও তার সাথে খেলব। আমি দুনিয়ার কোনো ডাক্তার বাদ রাখিনি, কিন্তু কারো কাছেই সমাধান পাইনি।”
তখন বৃদ্ধ লোকটি তাকে বসতে বললেন। সে বসল। বৃদ্ধ বললেনঃ
“আমি তোমাকে একটি ওষুধ দেব। এই ওষুধ কঠিন বটে, কিন্তু আল্লাহর কসম! এর ভেতরেই আরোগ্য আছে।”
লোকটি জিজ্ঞেস করলঃ “তা কী ওষুধ?”
বৃদ্ধ বললেনঃ
“তুমি ও তোমার স্ত্রী, ফজরের নামাজের এক ঘণ্টা আগে উঠবে। এই এক ঘণ্টাকে দুই ভাগ করবে—প্রথম আধা ঘণ্টা কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ নামাজ) এবং দ্বিতীয় আধা ঘণ্টা ইস্তেগফার। কেননা আল্লাহ বলেছেনঃ
(فقلت استغفروا ربكم إنه كان غفارا يرسل السماء عليكم مدرارا* ويمددكم بأموال وبنين ويجعل لكم جنات ويجعل لكم أنهارا)* (সূরা নূহ)।”
এরপর লোকটি বাড়ি গেল এবং স্ত্রীকে বললঃ
“প্রিয়তমা স্ত্রী! আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ! আমি ওষুধ পেয়ে গেছি, তবে এটি খুব কঠিন।”
স্ত্রী বললঃ “হে আমার স্বামী, কী সেটা?”
স্বামী বললঃ
“আমরা ফজরের এক ঘণ্টা আগে উঠব। আধা ঘণ্টা নামাজ পড়ব, আর বাকি আধা ঘণ্টা ইস্তেগফার করব। তুমি কি প্রস্তুত?”
স্ত্রী বললঃ
“অবশ্যই, আমি প্রস্তুত। কারণ এটি আল্লাহর কালাম।”
স্বামী জিজ্ঞেস করলঃ “কবে থেকে শুরু করব?”
স্ত্রী উত্তর দিলঃ “আজ থেকেই, ইনশাআল্লাহ।”
তারা দুজন শুরু করল। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই স্ত্রীর গর্ভধারণের লক্ষণ দেখা দিল। ডাক্তার দেখানোর পর ডাক্তার বললেনঃ “অভিনন্দন, আপনার স্ত্রী গর্ভবতী।”
এবার আমি আমার সহকর্মীর দিকে ফিরে এলাম। সে এই গল্প শোনার পর চলে গেল। আমি তাকে এক মাস পর দেখলাম—সুবহানাল্লাহ! তার মুখ থেকে ঈমানের নূর ঝলমল করছিল, আর সে খুশিতে ভরপুর। আমি বললামঃ
“মাশাআল্লাহ! তোমার মুখ থেকে নূর বের হচ্ছে।”
সে বললঃ
“আলহামদুলিল্লাহ, ওই দিন থেকে আমি এই আমল শুরু করেছি। আর খুশির সংবাদ দিচ্ছি—আমার স্ত্রী গর্ভবতী!”
আমি বললামঃ “আলহামদুলিল্লাহ।”
আরেক যুবকও ছিল, যার তিন বছরেরও বেশি হয়ে গেছে বিবাহ হয়েছে কিন্তু সন্তান হয়নি। আমি তাকেও এই গল্প বললাম। সে প্রথমে বিশ্বাস করতে চায়নি। তবে সে তার স্ত্রীকে গিয়ে গল্পটি বলল। তার স্ত্রী একাই প্রতিদিন ফজরের আগে উঠে নামাজ ও ইস্তেগফার শুরু করল। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেও গর্ভবতী হলো।
অতঃপর সেই যুবক আমার কাছে এসে বললঃ
“আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমার স্ত্রী এখন গর্ভবতী। যদিও আমি নিজে আমল করিনি, কিন্তু আমার স্ত্রী প্রতিদিন এক ঘণ্টা আগে উঠে নামাজ পড়েছে ও ইস্তেগফার করেছে। এখন সে গর্ভবতী এবং খুব খুশি। আর সে সবসময় তোমার জন্য দোয়া করে।”
- সংগৃহীত