19/11/2025
নফস (Nafs) হলো মানুষের অন্তরের সেই প্রবৃত্তি বা প্রবণতা যা তাকে ভালোর দিকে বা মন্দের দিকে টানতে পারে। ইসলামী পরিভাষায় নফস বলতে মূলত মানুষের অভ্যন্তরীণ ইচ্ছা, কামনা-বাসনা, আবেগ ও প্রবৃত্তিকে বোঝায়।
সহজ ভাষায়:
নফস = মানুষের ভেতরের সেই শক্তি, যা কখনো ভালো কাজে উৎসাহ দেয়, আবার কখনো খারাপ দিকে টেনে নিতে চায়।
ইসলামে নফসের তিন প্রকার
১) নফসে আম্মারা
এটা হলো নফসের নিকৃষ্ট রূপ, যা মানুষকে গুনাহ, খারাপ কাজ, কামনা-বাসনার দিকে ঠেলে দেয়।
➡️ চরিত্র নষ্ট করা, পাপের প্রতি ঝোঁক — এসব এখান থেকে আসে।
২) নফসে লাওয়ামা
এটা হলো আত্ম-ভর্ত্সনাকারী নফস, যেখানে মানুষ ভুল করলে অনুতপ্ত হয় এবং নিজেকে সংশোধন করতে চায়।
➡️ ভুল করলে অন্তর থেকে দোষারোপ আসে।
৩) নফসে মুতমাইন্নাহ
এটা হলো শান্ত ও পরিশুদ্ধ নফস, যা আল্লাহর আনুগত্যে সন্তুষ্ট থাকে।
➡️ যারা ইবাদত, ধৈর্য, তাকওয়ায় দৃঢ়—তারা এ স্তরে পৌঁছায়।
সংক্ষেপে:
#নফস হলো মানুষের ভেতরের “আমি”—যে কখনো ভালো, কখনো খারাপ পথ দেখায়।
এই নফসকে নিয়ন্ত্রণ করাই একজন মুমিনের বড় জিহাদ।
নফসকে কন্ট্রোল করার ১৫ টি উপায়:-
১. ফজরের নামাজের পর না ঘুমানো।
২. মেহমান দিনে ৩ বার খাওয়ার অভ্যাস।
৩. প্রতিদিন যতটুকু মনে হবে তার চেয়ে কম খেতে হবে।
৪. অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা জিকির করা।
৬. ঘুমের পরিমাণ কমাতে হবে।
৭. ইসলামের সালাত আদায় করা।
৮. নিয়মিত কোরআন পড়ার চেষ্টা করতে হবে।
৯. ফজরের পর পর বেয়ামলের অভ্যাস করা।
১০. দৃষ্টি সংহত করার চেষ্টা করতে হবে।
১১. সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কমানো।
১২. রাতে ভরপেট খাওয়া পরিহার করা।
১৩. রাতে ঘুমের আগে ২ রাকাত নফল নামাজ পড়া।
১৪. নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করা।
১৫. রবের প্রতি তাওয়াক্কুল করা।