16/10/2020
করোনাকাল...২৫
লেবু ফুলের গন্ধ
ফেরদৌস খান
[এটি কেবল করোনা নিয়ে লেখা নয়, যেহেতু এখন করোনার কারণে ঘরবন্দি আছি তাই এ সময়ের বিভিন্ন টুকরো অনুভুতি/লেখাকে করোনাকাল শিরোনামে শেয়ার করছি। সময়ও সু্যোগমতো লেখাগুলোকে পরিবর্ধন, পরিমার্জন করে পুস্তক আকারে প্রকাশের আশা রাখি]
শিরোনামটা আমার দেয়া না, আমি এটি নিয়েছি ইমদাদুল হক মিলনের লেখা থেকে। তবে মিলনভাই তার লেখায় যে লেবু গাছের কথা বলেছিলেন সেই গাছটি ছিলো আমাদের। এক সন্ধ্যায় আমি আর মিলনভাই অনেকটা সময় বসেছিলাম সেই লেবু গাছতলায়। সঙ্গে আরো ছিলো আমাদের বাড়ির সবাই। আমাদায় আমাদের বাড়ির কলপাড়ে লেবুগাছটা আর একটা পেয়ারা গাছ তখন জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়েছিল। পেয়ারাগাছটা এখন নেই, তবে লেবুগাছটা আছে এখনো। লেবু বলতে জাম্বুরা লেবু-দারুণ গ্রাণ তার ফুলের।
মিলনভাই যখন আমাদা পৌঁছালেন তখন দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল। আমি আমার স্কুলে (এবিএনকে আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়) নিয়ে গেলাম তাঁকে। আমাদের বাড়ি ঢুকে সন্ধ্যার মুখে মুখে দুপুরের খাবার খেলেন। তারপর উঠোনে লেবুতলায় বসে অনেক কথা। আমার সঙ্গে পাঁচছয়দিন নড়াইল ঘুরে যখন ঢাকায় ফিরলেন তখন ভালোলাগার প্রথম তালিকায় থাকা লেবু ফুলের গন্ধের কথা বললেন। আমাদা নিয়ে আমার কথা নিয়ে দুইখানা বই লিখলেন মিলনভাই- ১. খুঁজে বেড়াই তারে ২. সুতোয় বাঁধা প্রজাপতি।
খুঁজে বেড়াই তারে বইয়ে আমদের গ্রাম আমাদা নিয়ে লিখলেন, এক যে আছে আমাদা। লেখাটার শুরু ছিল এরকম- ‘আমাদা ফেরদৌসদের বাড়ি, ফেরদৌসের নামের বানান ছিল ফেরদাউস খান আজ থেকে ওর নাম আমি ফেরদৌস খান করে দিলাম’।
সেই থেকে ফেরদৌস খান লিখি। মিলনভাই তাঁর যুবরাজ নাটকের গল্পে আমাদার কথা জুড়ে দিয়েছিলেন। নিরুদ্দেশ যুবরাজের খোঁজ মিলেছিলো আমাদায়।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার এক মায়াবী গ্রামের নাম আমাদা। অনেক বঞ্চনা আর হেলা অবহেলার নামও আমাদা। উপজেলা শহর থেকে অনেকটা দুরের হয়েও প্রপার লক্ষিপাশা শাসিত জনপদ, তাই কহে ৫নং লক্ষীপাশা- আমাদা নামে অরুচি মহুরীদের।
এখানে মাঠ তারপরে আবার মাঠ, সবুজ গ্রাম, লেবু ফুলের গন্ধ, প্রজাপতি, মেঘ, দিগন্ত আর আছে সুন্দর স্বপ্ন সাহস।
ম্যালাদিন যাইনা আমার আমাদায়। প্যানডেমিক দুপুরে কেমন আছে আমাদা? কোলাহল পথে যাওয়া আসা ব্যস্ততা নাকি নীরব লকডাউন খরতা। ভালো থেকো আমাদা।
[চলবে]