24/04/2026
"গাজীপুরে বিনা’র আধুনিক ইরাডিয়েশন সেন্টার: খাদ্য সংরক্ষণ, গবেষণা ও রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা"
দেশের খাদ্য সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও কৃষি গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি আধুনিক ইরাডিয়েশন সেন্টার স্থাপন করছে। পার্টনার প্রকল্পের অর্থায়নে বিনা’র তত্ত্বাবধানে চীনের একটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানির মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০২৬ সালের জুন মাসে এটি চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রতিবছর উৎপাদিত ফল, সবজি ও মসলার একটি বড় অংশ সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী দেশে ফল ও সবজির প্রায় ২৫–৪০ শতাংশ এবং কৃষিপণ্যের ২০–৩০ শতাংশ পর্যন্ত সংগ্রহোত্তর ক্ষতি ঘটে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ কোটি টাকা। একইভাবে, Food and Agriculture Organization (FAO)-এর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় ১.৩ বিলিয়ন টন খাদ্য প্রতি বছর অপচয় হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ইরাডিয়েশন প্রযুক্তি খাদ্য সংরক্ষণে একটি কার্যকর, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্যের পুষ্টিমান অক্ষুণ্ণ রেখে shelf life ২ থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব হয় এবং প্রায় ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করা যায়। বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
উক্ত ইরাডিয়েশন সেন্টার চালু হলে বিনা খাদ্য সংরক্ষণ, পুষ্টিমান বজায় রেখে shelf life বৃদ্ধি এবং জীবাণুমুক্তকরণ বিষয়ে গবেষণা আরও জোরদার করতে পারবে। পাশাপাশি মিউটেশন ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনে এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া, এই সেন্টারের মাধ্যমে দেশের কৃষিপণ্য, মসলা, ফলমূল ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী জীবাণুমুক্ত করে সংরক্ষণ ও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। ফলে গবেষণা কার্যক্রমের পাশাপাশি কৃষিপণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বিনা’র মহাপরিচালক ড. শরিফুল হক ভূঁইয়া এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার প্রধান ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান সম্প্রতি ইরাডিয়েশন সেন্টারের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় আঞ্চলিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্নের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বিনা’র এই উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, খাদ্য অপচয় হ্রাস, কৃষি গবেষণার উন্নয়ন এবং রপ্তানি বৃদ্ধিতে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, প্রধান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা, বিনা।