22/02/2026
মিথ্যার ঝড়ের মুখে চরমোনাই: অপপ্রচার নাকি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র?
লেখক: গবেষক বুশরা
কলাম |
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপপ্রচার নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন অপপ্রচারের লক্ষ্য হন একজন আলেম, একজন আধ্যাত্মিক নেতা, একজন দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কর্ণধার—তখন বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক থাকে না; তা নৈতিকতার প্রশ্নে গিয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম—যিনি দেশব্যাপী “চরমোনাই পীর সাহেব” নামে পরিচিত—তাঁকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে—তিনি নাকি জামায়াতের কাছে প্রধানমন্ত্রীর পদ চেয়েছেন, ১৫০ আসন দাবি করেছেন, বিএনপির সঙ্গে গোপন চুক্তি করেছেন, তাঁর বাসায় ৪০০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে, ৩০ আসন প্রত্যাখ্যান করে মন্ত্রীত্ব চেয়েছেন—ইত্যাদি।
প্রশ্ন হলো—এই অভিযোগগুলোর প্রমাণ কোথায়? কোনো নথি? কোনো স্বীকৃত তদন্ত? কোনো বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট? নাকি শুধু সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পোস্ট আর রাজনৈতিক বিদ্বেষ?
মিথ্যার কৌশল: বারবার বলো, সত্য মনে হবে
রাজনীতির একটি পুরনো কৌশল হলো—একটি মিথ্যাকে বারবার বলা। বারবার প্রচার করা। মানুষের আবেগে আঘাত করা। বিশেষ করে যখন কোনো দল আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন থাকে, তখন তাকে ভাঙতে না পারলে বদনাম দিয়ে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে—তাদের রাজনীতি ক্ষমতাকেন্দ্রিক নয়, আদর্শকেন্দ্রিক। এই অবস্থান অনেকের কাছে অস্বস্তিকর হতে পারে। কারণ আদর্শের রাজনীতি মানেই সুবিধাবাদী সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া।
“জোট থেকে বের হয়েছে আসনের লোভে”—নাকি নীতির প্রশ্নে?
যারা বলছেন—আসনের লোভে জোট ত্যাগ করা হয়েছে, তারা কি বলতে পারবেন—কোন আসন, কোন লিখিত প্রস্তাব, কোন বৈঠকের কার্যবিবরণী আছে?
রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু মতপার্থক্যকে “লোভ” আখ্যা দেওয়া মানে প্রতিপক্ষকে চরিত্রহননের মাধ্যমে আক্রমণ করা।
৪০০ কোটি টাকার গল্প: প্রমাণহীন অভিযোগ
সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিযোগ—“চরমোনাই পীর সাহেবের বাসায় ৪০০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে।”
এত বড় একটি দাবি—কিন্তু কোথায় মামলা? কোথায় জব্দ তালিকা? কোথায় রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থার বিবৃতি?
শুধু সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট দিয়ে কি একজন আলেমের সম্মান নষ্ট করে দেওয়া যায়?
আলেমদের বিরুদ্ধে বেয়াদবি: মতভেদ বনাম অবমাননা
রাজনৈতিক সমালোচনা হতেই পারে। কিন্তু যখন ভাষা হয়ে যায় অবমাননাকর, যখন উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় চরিত্রহনন—তখন তা মতভেদের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
একজন আলেম ভুল করতে পারেন—তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু প্রমাণহীন অপবাদ দিয়ে তাঁকে হেয় করা—এটা কেবল রাজনৈতিক অসততা নয়, নৈতিক অবক্ষয়।
ভাইরাল মিথ্যা বনাম নীরব সত্য
আজ মিথ্যা খুব দ্রুত ছড়ায়। একটি পোস্ট, একটি এডিটেড ভিডিও, একটি গুজব—মুহূর্তেই হাজারো শেয়ার।
অন্যদিকে জবাব? তা হয়তো পৌঁছায় সীমিত মানুষের কাছে।
তাই প্রশ্ন আসে—“কয়টার জবাব দেবো?”
সব মিথ্যার জবাব শব্দ দিয়ে দেওয়া যায় না। কখনও কখনও নীরবতাই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদ।
শেষ কথা
আমরা রাজনীতিকে ইবাদতের অংশ মনে করি। ক্ষমতা নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের লক্ষ্য—এটাই যদি দাবি হয়, তবে সময়ই প্রমাণ দেবে কে হকের উপর আর কে মিথ্যার উপর।
হে আল্লাহ,
যদি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বাতিলের পথে থাকেন—তাকে আপনি সংশোধন বা প্রতিস্থাপন করুন।
আর যদি তিনি হকের উপর থাকেন—তবে মিথ্যুকদের হেদায়েত দিন; না হলে তাদের অপপ্রচারকে ব্যর্থ করে দিন।
মিথ্যার ঝড় চিরস্থায়ী নয়।
সত্য দেরিতে আসলেও—সে স্থায়ী।
#নোয়াখালী_প্রতিদিন