10/09/2026
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কর্তৃক ঘোষিত ‘১৮০ দিন’ কর্মপরিকল্পনার আওতাভুক্ত ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ (One Child One Tree) প্রকল্পটি দেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং নতুন প্রজন্মের মানসিক ও পরিবেশগত বিকাশে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তীব্র দাবদাহ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের বৈশ্বিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কেবল সাময়িক সরকারি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই এবং জনসম্পৃক্ত সামাজিক আন্দোলন। ঠিক এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ প্রকল্পটির অবতারণা করা হয়েছে, যেখানে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে অন্তত একটি করে ফলদ, বনজ বা ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া এবং তা নিজ দায়িত্বে বড় করার অনুপ্রেরণা জোগানো হয়।
এই অভিনব সামাজিক উদ্যোগটির মূল নেপথ্য কারিগর ও প্রবক্তা হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিগত দুই দশকে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রথাগত ক্ষমতার লড়াইয়ের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন ও প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক সমাজ গঠনের বিষয়টি জোরদার করেছেন। তারেক রহমানের রাজনীতি ও উন্নয়ন দর্শনে পরিবেশ রক্ষা কোনো আলাদা বা গৌণ বিষয় নয়, বরং তা জাতীয় নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সত্তরের দশকের শেষের দিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে খাল খনন ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী একটি স্বনির্ভর ও সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন, তারেক রহমান সেই ধারাবাহিকতাকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটে নতুন রূপ দিয়েছেন। তারেক রহমানের এই সবুজ ভাবনারই চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ প্রজেক্টে, যা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিশু ও কিশোরদের সরাসরি যুক্ত করার মাধ্যমে একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে রূপান্তরের প্রয়াস চালাচ্ছে।
প্রকল্পটির গভীরতা ও মনস্তাত্ত্বিক দিকটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি স্রেফ চারা বিতরণের একটি গতানুগতিক সরকারি বা সামাজিক কর্মসূচি নয়। এখানে একজন শিক্ষার্থীর মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের সঙ্গে একটি গাছের বেড়ে ওঠাকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। শিশু যখন নিজ হাতে একটি চারাগাছ মাটিতে রোপণ করে এবং প্রতিদিন তাতে জল দিয়ে, যত্ন করে সেটিকে বড় করে তোলে, তখন তার মধ্যে স্বভাবতই প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার জন্ম নেয়। এই প্রক্রিয়াটি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শৈশব থেকেই দায়িত্ববোধ, সহানুভূতি এবং টেকসই জীবনযাত্রার শিক্ষা দেয়। যে শিশুটি নিজের রোপণ করা গাছটিকে বড় হতে দেখবে, সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে কখনই নির্বিচারে গাছ কাটার মতো পরিবেশবিরোধী কাজে লিপ্ত হবে না। তারেক রহমান এই গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবটিকে উপলব্ধি করেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল ভিত্তি হিসেবে বেছে নিয়েছেন, যাতে শ্রেণিকক্ষের বইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ রক্ষার পাঠ নিতে পারে।
বিএনপির ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে নগর এলাকার সর্বস্তরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই চারা বিতরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ এবং পরিবেশগত প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে চারাগাছ নির্বাচনের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার সেখান থেকে ফল ও ঔষধি সুবিধা পেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পুষ্টি চাহিদা পূরণে ফলদ গাছ, পরিবেশের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ও কাঠ তৈরিতে বনজ গাছ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ভেষজ গাছের গুরুত্ব তুলে ধরে চারা বাছাই করা হচ্ছে। এভাবে এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, যা একই সাথে দেশের বনায়ন বাড়াবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় গঠিত দলীয় রূপরেখায় এই প্রকল্পকে নিছক প্রচারণামূলক কাজ থেকে মুক্ত রেখে এর দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠন এবং অভিভাবক পরিষদকে সমন্বিত করে তদারকি কমিটি গঠনের রূপরেখা রয়েছে, যারা রোপণ করা গাছের চারাগুলোর পরবর্তী তদারকি নিশ্চিত করবে। তারেক রহমান বিশ্বাস করেন যে, কেবল চারা রোপণ করে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না; রোপিত চারার টিকে থাকার হার বৃদ্ধি করাই যেকোনো সবুজ কর্মসূচির আসল সাফল্য। এই দূরদর্শী ভাবনার কারণেই ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিতে চারা রোপণের পর তার সুরক্ষার ওপর সমান গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতা দখলের মাধ্যম না বানিয়ে কীভাবে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় কাজে লাগানো যায়, তারেক রহমান এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই বার্তা স্পষ্ট করেছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঠেকানো এবং বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের মাত্রা সঠিক রাখতে দেশের মোট ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক, যা বর্তমানে তুলনামূলকভাবে বেশ কম। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর হাত ধরে যদি এই ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে কোটি কোটি নতুন গাছ যুক্ত হবে, যা দেশের কার্বন নিঃসরণ কমাতে ও বনাঞ্চল বৃদ্ধিতে ঐতিহাসিক অবদান রাখবে।
পরিশেষে বলা যায়, ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কোনো সাময়িক বা বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নয়; এটি তারেক রহমানের পরিবেশবান্ধব সবুজ বাংলাদেশের এক দীর্ঘমেয়াদী দূরদর্শী ভিশন। তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে বসিয়ে তিনি সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশকে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগসহনশীল ও সবুজ রাষ্ট্রে রূপান্তরের পথ নির্দেশ করেছেন। জাতীয় পর্যায়ে এর সফল বাস্তবায়ন ঘটাতে পারলে তা শুধু আমাদের বর্তমান পরিবেশগত সংকট কাটায় সাহায্য করবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বসবাসযোগ্য, নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ উপহার দিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল - Bangladesh Jatiyotabadi Chatrodol