06/11/2025
আঠারবাড়ী জমিদার বাড়ি।
রবীন্দ্রনাথ এখানে বেড়াতে এসেছিলেন।
লোকেশন- আঠারবাড়ী,ঈশ্বরগঞ্জ,ময়মনসিংহ।
জমিদার বাড়িটি দুটি অংশে বিভক্ত যার একটি অংশ আঠারবাড়ী ডিগ্রি কলেজ ব্যবহার করে।আড়াইশো বছরের পুরাতন এই জমিদার বাড়ি। এই জমিদার বাড়িতে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই বাড়ির জমিদার প্রমোদ রায় চৌধুরী ছিলেন শান্তি নিকেতনের ছাত্র। সেই সূত্রে ছাত্রের আমন্ত্রণে এই বাড়িতে পদার্পন করেছিলেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ময়মনসিংহ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত এই গ্রাম। সে প্রায় শত বৎসর পূর্বে।
উৎসব মুখর হয়ে উঠেছিল সমগ্র এলাকা কবির আগমনে। হাতির পিঠে চড়িয়ে জয়ধবনি সহকারে ঢাক ঢোল বাজিয়ে কবিকে নিয়ে আসা হয় রেলষ্টেশনে থেকে। ফটকে পৌঁছলে জমিদার কবিকে উপহার দেন সোনার চাবি। সেই চাবি দিয়ে কবি উন্মোচন করেন নুতন কাচারি ঘরের দ্বার। কবির সম্মানে আয়োজন হয় মধ্যাহ্নভোজ, বসানো হয় বাউল , জারি-সারি গানের আসর।
এর পর থেকে গৌরীপুরের জমিদার কন্যা হেমন্তবালা দেবীর সঙ্গে পত্র যোগাযোগ স্থাপিত হয় কবির সাথে।
১৯৫১ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে প্রমোদ রায় চৌধুরী স্থায়ী ভাবে পাড়ি জমান ভারতে। মোট একশ একর জায়গার বিশাল এলাকা নিয়ে স্থাপিত এই জমিদারবাড়ি। বেহাত হতে থাকে জায়গা জমি। যাক, ১৯৬৮ সালে এই বাড়ির প্রাঙ্গণে স্থাপিত হয় আঠারবাড়ী ডিগ্রি কলেজ।
কলেগজের ফটক ও অভ্যন্তরে বিস্তৃত মাঠ
জমিদার বাড়ির ছড়ানো ছিটানো প্রায় সব স্থাপনা ধ্বংসপ্রাপ্ত, যৎসামান্য আছে ধ্বংসোন্মুখ। এই অবস্থাতে নির্ণয় করা দুষ্কর কোনটা সেই কাচারি ঘর আর কোনটা অন্দর্মহল। বিশাল পুকুর, পরিখা, পুকুরে নামার সুড়ঙ্গপথ, বাড়ির দক্ষিণে পুকুরে রাজহাঁসের সাঁতার কাটার দৃশ্য অবলোকনের স্থান, চিড়িয়াখানার চিহ্ন – প্রায় সব ই অন্তর্হিত কালের গহ্বরে। নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত ছবি ‘চন্দ্রকথা’র (২০০৩ সালে মুক্তি প্রাপ্ত) উল্লেখযোগ্য অংশ চিত্রায়িত হয় এই বাড়িতে। নীচের ছবির সিংহদরজা বার বার ই দেখা যায় ছবিতে। পনেরো বৎসরে প্রাচীন নির্মান গার্ত্রের অশ্বত্থের শেকড় এবং ডালপালা হয়েছে প্রসারিত। তবে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসোন্মুখ সিংহদরজা, নাটমন্দির ও কয়েকটি ঘর। অশ্বত্থ ও বট গাছের শেকড়ে আষ্টেপৃষ্ঠে আবৃত এ সমস্ত স্থাপনা।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায় খাজে আরাতুন’ নামে এক আর্মেনীয় নিলামে ক্রয় করেন মহারাজ রামকৃষ্ণের জমিদারির এই পরগনা।
আঠার বাড়ী জমিদারদের পূর্ব পুরুষ দিপ রায় চৌধুরী ছিলেন যশোর জেলার পরগনায় জমিদার। যশোর থেকে এসে পুত্র শম্ভুরায চৌধরীর নামে ১৮৫৩ সালে ক্রয় করেন আর্মেনীয়র উত্তরাধিকারী বিবি এজিনার ৪ আনা অংশ। এর থেকেই শুরু আঠার বাড়ী জমিদারীর। তখন নাম ছিল শিবগঞ্জ বা গোবিন্দ বাজার। পরিবারের কাজকর্ম দেখাশুনার জন্য তিনি যশোর থেকে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন আঠারটি হিন্দু পরিবার। তাই কালক্রমে এই জায়গা পরিচিতি পায় ‘আঠারবাড়ী’ নামে।
জমিদার বংশের উপাধি ‘রায়’ থেকে পরবর্তীতে উপজেলার অন্যতম প্রধান ব্যবসাকেন্দ্রের নামকরণ করা হয় রায় বাজার।
ঋণের দায়ে নিলামে উঠা মুক্তাগাছার জমিদার রামকিশোর চৌধুরীর জমিদারি পরে কিনে নেন শম্ভু রায় আঠারবাড়ী জমিদার বাড়ি আঠারবাড়ী জমিদার বাড়ি
চিৎকার করে বলে, ‘সাহেব চাবুক মারাবন্ধ কর’। এই দুঃসাহস দেখে ক্ষুব্ধ সাহেব তাঁকেও মারতে থাকে চাবুক। ঈশ্বরপাটনীর হাতে ছিল শাল কাঠের বৈঠা। ধৈর্য্যচ্যুত ঈশ্বরপাটনী ইংরেজ সাহেবের মাথায় সরা সরি আঘাত করে হাতের বৈঠা দিয়ে। মারা যায় নীলকুঠির সাহেব। ভেঙে যায় সন্ত্রস্ত পিতলগঞ্জের হাট। এই ঘটনার প্রভাব পড়ে সারা বাংলায়। প্রাণ হারায় ঈশ্বরপাটনীও।
পরবর্তীতে গৌরীপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর চৌধুরী দত্তপাড়া চরনিখলা মৌজায় বাজার স্থাপন করার জন্যে জমি দান করেন। তিনিই ঈশ্বরপাটনীর নামের ঈশ্বরের সঙ্গে গঞ্জ যোগ করে বাজারের নাম দেন ঈশ্বরগঞ্জ। এই হলো ঈশ্বরগঞ্জ জনপদের নামকরণের গৌরবময় ইতিহাস। কিন্তু ক্রমে কালের গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে একদাসমৃদ্ধ এই জনপদের গৌরব গাঁথার ঐতিহাসিক সব নিদর্শন।
এখানের ভবনগুলোর যে পরিস্থিতি যে কোন সময় তা ধ্বংসস্তুপে পরিনত হতে পারে।দখলদারদের কবলে পরে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।
কপি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
#তথ্য :- Bohemian Faisal