Bangladesh Islami Chhatrashibir Manirampur Thana

Bangladesh Islami Chhatrashibir Manirampur Thana This is the official shibir page of Monirampur Thana. http://www.shibir.org.bd

09/07/2021
20/04/2017

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আজ ভারত তথা হিন্দুস্তানের আগ্রাসী
তৎপরতা দেখে প্রিয় নবীজি সাঃ এর ভবিষ্যত
বাণী- কয়েকখানা হাদীস চোখে বুকে জ্বল
জ্বল করে উঠছে যা আমাদের করণীয় নির্ধারণ
করে দেয়।
# রাসূল সাঃ একদিন পূর্বদিকে চেয়ে বড় বড়
করে নিঃশ্বাস নিচ্ছিলেন। তা দেখে একজন
সাহাবী রাঃ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া
রাসূলাল্লাহ! আপনি এমন করছেন কেন? নবীজি
সাঃ বললেনঃ আমি পূর্বদিক থেকে বিজয়ের
গন্ধ পাচ্ছি। পূর্বদিকে মুসলিম ও (মুর্তিপুজক)
মুশরিকদের মধ্যে একটি যুদ্ধ হবে। অসম এই
যুদ্ধে মুসলমান সেনাবাহিনী সংখ্যায় খুব কম
থাকবে এবং মুশরিকরা থাকবে সংখ্যায়
অধিক। মুসলমানরা এতে এতো পরিমাণ মারা
যাবে যে, রক্তে মুসলমানদের পায়ের টাখনু
পর্যন্ত ডু্বে যাবে। এই সময় মুসলমানরা
তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। একভাগ এত বড়
মুশরিক সেনাবাহিনী দেখে ভয়ে পালিয়ে
যাবে, তারাই হলো জাহান্নামী। আরেকভাগ
সবাই শহীদ হবে, তাদের ওপর জাহান্নামের
আগুন হারাম। শেষভাগে যারা থাকবে, তারা
আল্লাহর ওপর ভরসা করে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে
এবং শেষ পর্যন্ত বিজয় লাভ করবে, তারাও
সফলকাম। এই যুদ্ধ হবে (মর্যাদার দিক দিয়ে)
বদরের যুদ্ধের সমতুল্য। মুসলিমরা যে যেখানেই
থাকুক না কেন তারা সবাই যেন এই যুদ্ধে
অংশগ্রহণ করে"।।
নবীজি সাঃ আরো বলেনঃ " আমার উম্মাতের
দু'টি দলকে আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের
আগুন থেকে মুক্ত ও স্বাধীন করে দেবেন। এর
একদল হলো- যারা হিন্দুস্তানের ( তথা
ভারতের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। আরেকদল হলো-
শেষ জমানায় যারা মরিয়ম পুত্র ঈসা আঃ এর
সঙ্গী হবে"।।
- নাসাঈ, অধ্যায় জিহাদ- ১/ ১৫২। মুসনাদে
আহমাদ ২২২৯৫। বায়হাকী ৯/ ১৭৬।
# আবু হুরায়রা রাঃ বলেনঃ " রাসূল সাঃ
আমাদের নিকট থেকে হিন্দুস্তানের বিরুদ্ধে
যুদ্ধ পরিচালনার ওয়াদা নিয়েছিলেন। আমি
যদি ঐ সময় জীবিত থাকি, তাহলে আমি যেন
আমার জান - মাল এতে ব্যয় করি। আমি যদি এই
যুদ্ধে নিহত হই তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদ রুপে
পরিগনিত হবো। আর যদি জীবিত ফিরে আসি
তাহলে আমি জাহান্নাম থেকে মুক্ত আবু
হুরায়রা হয়ে যাবো"।।
মুসনাদে আহমাদ- ৭১২৮, ৮৮০৮।
সুনানে কুবরা- ইমাম নাসাঈ - ৪৩৮৩।
সুবহানাল্লাহ!
# # ভারত যতই আগ্রাসী করুক, আমাদের হাতে
পতন তাদের নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ। আর
আমাদের কোন ভয় নেই। কেননা, তাদের
বিরুদ্ধে লড়ে আমরা মরলেও চির সফলকাম আর
জীবিত থাকলেও চির সফলকাম।
(সংগৃহীত )

24/09/2016

“মৃত্যুকে খুঁজো (অর্থাৎ, সাহসী হও) তাহলে
তোমাদেরকে জীবন দান করা হবে।”

— আবু বকর (রা:)

রক্তাক্ত কাশ্মির : সমাধান কোন পথে?- মুহাম্মদ খায়রুল বাশারভূস্বর্গ কাশ্মিরের রাজপথ প্রতিনিয়ত স্বাধীনতাকামী কাশ্মিরি মুসলি...
26/08/2016

রক্তাক্ত কাশ্মির : সমাধান কোন পথে?
- মুহাম্মদ খায়রুল বাশার
ভূস্বর্গ কাশ্মিরের রাজপথ প্রতিনিয়ত স্বাধীনতাকামী কাশ্মিরি মুসলিম জনতা তথা সেখানকার মজলুম তরুণ-বৃদ্ধ নারী-পুরুষের তাজা রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে। গত ৮ জুলাই কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী তরুণ নেতা বুরহান ওয়ানিকে ভারতের নিরাপত্তাবাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে। তরুণ কাশ্মিরি নেতার হত্যাকে কেন্দ্র করে কাশ্মির উপত্যকা যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। এ সময় ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী প্রতিবাদী জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও ব্যাপক দমনাভিযান চালানোর কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি লোক আহত হয়েছে।
বিবিসি বাংলার বরাতে বলা হয়েছে, কাশ্মিরে সাম্প্রতিক অস্থিরতা থামাতে ভারতের আধা সামরিক বাহিনী এক মাসে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ ছররা গুলি ব্যবহার করেছে। বিক্ষোভ সামাল দিতে একই সময়ে সাড়ে আট হাজার কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এক মাস ধরে তথাকথিত বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটিতে নিরাপত্তাবাহিনীর যে ব্যাপক দমনাভিযান চলছে- তার যৎসামান্যই মিডিয়ায় আসছে। নিরস্ত্র মানুষের ওপর সেনাবাহিনী দিয়ে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা, জনবিক্ষোভ ঠেকাতে জনসমাবেশ বা মিছিলের ওপর বিপজ্জনক পেলেট ছোড়া হচ্ছে। সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়ে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে কারফিউ বলবৎ করে জনগণকে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রয়াস চালানো হলেও জনগণ কারফিউ ভেঙে বেরিয়ে আসছে। যেখানে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দিয়ে জনগণকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার ব্যর্থ প্রয়াস চালানো হচ্ছে।
কাশ্মিরে চলমান সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি মুন। কাশ্মির পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়ের দিকে যাওয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের লেখা একটি চিঠির জবাবে সম্প্রতি এই আহ্বান জানান বান কি মুন। ওই চিঠিতে মুন লেখেন, আমি দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার প্রশ্নে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। এ দিকে কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ৫৭ জাতি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিব আইয়াদ আমিন মাদানি। কয়েক দিন আগে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সারতাজ আজিজের সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মাদানি বলেন, কাশ্মির পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তিনি কাশ্মিরের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদনতুন হল নির্মাণ ও পরিত্যাক্ত ঢাক...
22/08/2016

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

নতুন হল নির্মাণ ও পরিত্যাক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গা স্থায়ী ভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে লিজ দেয়ার দাবীতে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, নতুন হল নির্মাণ ও পরিত্যাক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গা স্থায়ী ভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে লিজ দেয়ার দাবীতে প্রধানমন্ত্রীর বাস ভবনের দিকে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় ন্যাক্কার জনক হামলা চালিয়েছে পুলিশ। এ হামলায় একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। ছাত্রদের আবাসন সমস্যার সমাধান না করে শিক্ষার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা কোন ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়। এতে করে সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রই পুণরায় ফুটে উঠেছে। আমরা মনে করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট আছে। তাই আবাসন সমস্যা সমাধানের দাবী ন্যায্য এবং যৌক্তিক।

নেতৃবৃন্দ বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সমস্যা বহু দিনের। এ সমস্যা সরকারের নিজ উদ্দ্যোগে সমাধান করা উচিৎ ছিল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গুলো হল প্রভাবশালী মহল দীর্ঘ দিন জবর দখল করে রেখেছে। এখন পর্যন্ত সেই হল গুলো ছাত্রদের জন্য উন্মোক্ত করা হয়নি। ছাত্রদের যৌক্তিক সমস্যার সমাধান না করে উল্টো তাদের উপর হামলা করা কোন সভ্য সমাজের বৈশিষ্ট হতে পারে না। আমরা অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। একই সাথে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিচার ও ভবিষ্যতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা যেন জাতিকে দেখতে না হয় তার কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রণ করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

গুম রিপাবলিক- ডক্টর তুহিন মালিক'গুমপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার'- এটাই বোধহয় আমাদের সরকারের এখন প্রধান পরিচয় হতে চলেছে। দ...
11/08/2016

গুম রিপাবলিক
- ডক্টর তুহিন মালিক

'গুমপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার'- এটাই বোধহয় আমাদের সরকারের এখন প্রধান পরিচয় হতে চলেছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের সুরক্ষা প্রদানের সাংবিধানিক দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু সেই অধিকারের হরণকর্তাও রাষ্ট্র আজ স্বয়ং! দেশের নাগরিকের যদি স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা না থাকে তাহলে তার দায় অবশ্যই সরকারের ওপরই বর্তাবে। রাষ্ট্র তার এই সাংবিধানিক দায় কোনো অজুহাতেই এড়াতে পারে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কেউই আইন বা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। সে যে পর্যায়েরই হোক। এটাই গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূলমন্ত্র।

মানুষ এক সময় নিজের জীবন বাঁচানোর তাগিদে গুহায় বাস করত। নিরাপত্তার প্রয়োজনেই মানুষ গুহা থেকে বের হয়ে রাষ্ট্র বানিয়েছে। কিন্তু যখন এই রাষ্ট্রই মানুষকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় তখন মানুষ নিজেকে বাঁচাতে অন্য কোনো বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হয়। শঙ্কিত মানুষ প্রতিকার পাচ্ছে না নিত্যদিনের প্রতিযোগিতাময় গুপ্তহত্যায়। গুপ্তঘাতক যেন ছায়ার মতো ঘুরছে আমাদের চতুর পাশে। সর্বস্তরের মানুষ আজ আতঙ্কিত। দিন যতই যাচ্ছে পরিস্থিতির ততই অবনতি হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। অথচ দেখা যাচ্ছে তাদের হাতেই গুম-খুন হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

মৃত ব্যক্তির লাশ পাওয়ার অধিকারটা পর্যন্ত মানুষ এখন হারাতে চলেছে। এক সময় মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চেয়েছে। আর এখন লাশ ফেরতের গ্যারান্টি চাচ্ছে। বছরের পর বছর প্রিয়জন বেঁচে আছে কি না সেই উৎকণ্ঠায় দুর্বিষহ দিন কাটছে পরিবারের। অপেক্ষার পালা যেন আর ফুরাচ্ছে না কোনোভাবেই। আপনজনের লাশটা সৎকার করার অধিকারটা পর্যন্ত আজ এদেশের মানুষের নেই।

আইন লঙ্ঘনের পরও সরকার নিরাপত্তা বাহিনীকে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি না করে রক্ষা করে চলেছে। গুম ও হত্যার তদন্ত করতেও সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধী দলের কর্মীদের গুম-হত্যা যেন রুটিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুশীল সমাজ এবং মানবাধিকার কর্মীদের ওপর চাপ ও হয়রানি বৃদ্ধির কারণে মানুষ আজ মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছে। দেশে এখন আইনের শাসন বলবৎ রয়েছে- এ কথা আজ মহাহাস্যরসে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তির শাসন কখনো আইনের শাসনের পরিপূরক হতে পারে না। যে দেশে তুচ্ছ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রয়োজন হয়, সেখানে গণহারে গুম-হত্যার নির্দেশ কে দিচ্ছে তা খতিয়ে বের করা জরুরি। কে বা কারা রাষ্ট্রকে এভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসেছে সেটাও খুঁজে দেখতে হবে।

সোনার বাংলায় বিমানবন্দরগুলো আজ সোনা দিয়ে আর নদী-নালা-খাল-বিলগুলো লাশ দিয়ে ভরে গেছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের লাশ আর ঢাকার উত্তরা থেকে প্রকাশ্যে অপহৃত যুবদল নেতার লাশ লক্ষ্মীপুরে ভেসে ওঠার ঘটনাসহ সব ঘটনাতেই পরিবারের অভিযোগ কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকেই গেছে। যত্রতত্র প্রকাশ্যেই সাদা পোশাকের লোকজন এভাবে গণহারে নির্বিচারে যাকে খুশি তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির সময়ও পুলিশ ও সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সাদা পোশাকের লোকজনকে প্রকাশ্যে গুলি ছুড়তে আমরা দেখেছি। রাষ্ট্রই যেন তাদের এই ইনডেমনিটি দিয়ে রেখেছে। অথচ আজ তারাই এই ইনডেমনিটির কারণে আরাধ্য হয়ে পড়েছে। সে কারণে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মুখেও শুনতে হয় 'সরকারের পেছনের সরকারকে আজ থামাতে হবে।'

সাদা পোশাকের অভিযান শুধু বন্ধ করলেই হবে না, সরকারের কালো কাজগুলোকেও বন্ধ করতে হবে। গাড়িতে স্বচ্ছ কাচ ব্যবহারের নির্দেশ দিলেই চলবে না, সরকারের মধ্যেও স্বচ্ছতা আনতে হবে। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম গত ১৩ মাসে শুধু রাজধানীতেই ৫৩০টি পরিচয়হীন লাশ দাফন করেছে। আইন সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে গত বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ হওয়া মানুষের সংখ্যা ৬৮। অথচ এ বছর ৪ মাসেই এই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যেতে চলেছে। পুরো দেশ আজ যেন এক মৃত্যু উপত্যকা। গত এক বছরে শুধু নারায়ণগঞ্জেই ৪৩টি লাশ পড়েছে। রিজওয়ানার স্বামী সিদ্দিকীর ঘটনা থেকে শুরু করে সেভেন মার্ডার কেনোটারই কোনো রকম সূত্র যখন মানুষ খুঁজে পায় না তখন মানুষের সন্দেহ প্রবল এক বিশ্বাসে পরিণত হয়।

ঝালকাঠির যুবদল নেতা মিজানুর রহমান জমাদ্দার এবং তার দুই সহযোগী মুরাদ ও ফোরকান, মোহাম্মদপুরের যুবদল নেতা মনজুর মোর্শেদ শিপু, মিরপুর এলাকার ব্যবসায়ী মাসুম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল সম্পাদক শামীম হাসান ওরফে সোহেল, ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের ইসমাইল হোসেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আল মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ, সিলেট জেলা ছাত্রদলের দিনার ও জুনায়েদ, চট্টগ্রাম বিএনপির প্রচার সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, রাজশাহী ভাটাপা জামে মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম, মিরপুর থেকে অপহৃত ছাত্রদল নেতা মফিজুল ইসলাম রাশেদ, রাজশাহী মহানগর শিবিরের দফতর সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম মাসুম, জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম- এদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে অপহরণ করা হয়। আজ অবধি নিখোঁজ রয়েছেন এরা। শ্রমিক নেতা আমিনুল বা বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার বা প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এদের খবরের পেছনে চাপা পড়ে থাকে আরও অসংখ্য ইলিয়াস আলীর ড্রাইভার আর নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীরের পরিবারের কান্না।

রাষ্ট্র তখনই ব্যর্থ হয় যখন খুন হয়ে যাওয়া সন্তানের মা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে টেলিফোনে বলেন- 'বাবা, পারলেন না, আমার ছেলেকে বাঁচাতে!' এই আর্তনাদ যেন গোটা দেশের। এই আর্তনাদ আজ স্বয়ং বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের। অসহায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে তাই তো এতটা অসহায় লাগে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এত অসহায় প্রতিমন্ত্রী কেন নিয়োগ দিতে হয় আমাদের? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণর্ এই মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে থাকলেও তার দায়ভার প্রধানমন্ত্রীকে কেন নিতে হয় না? তাহলে এই দায় কার?

দেশে যে একটা মানবাধিকার কমিশন আছে সেটাও আজকে গুম হতে চলেছে। মানুষ যাবেটা কোথায়? গুম হওয়ার আশঙ্কায় কেউ কোনো কথা বলতে নারাজ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গণমানুষের পক্ষে কথা বলার মানুষগুলো আজ কোথায়? গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি অক্ষুণ্ন রাখতে হলে অবশ্যই সব ধরনের বিচারবহিভর্ূত হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, গুম, খুনকে বন্ধ করতে হবে।

সরকারকে আইনের শাসনের রক্ষাকল্পে আইনকে নিজ হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা থেকেও দূরে থাকতে হবে। গুম খুন থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব খোদ সরকারের ওপরই ন্যস্ত। আর এক্ষেত্রে অভিযোগ যদি খোদ সরকারের বিরুদ্ধেই ওঠে তবে তো আমাদের রাষ্ট্র কাঠামো আজ এক ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মুখে নিপতিত!

গুপ্তহত্যা নামক এই ভয়ঙ্কর খেলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আইনের শাসন, সংবিধান ও মানুষের সব অধিকারটুকু হয়তো এভাবেই একদিন গুম হয়ে যাবে। আমরা চাই না আমাদের সরকার 'গণপ্রজাতন্ত্রী'র বদলে 'গুমপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার' নামে পরিচিতি লাভ করুক।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ
e-mail: [email protected]

ঢাকা থেকে আটক ঝিনাইদহের আটক ৪ শিবির নেতার সন্ধান, গুপ্তহত্যার সাথে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে পরিকল্পিত মিথ্যাচার বন্ধ এবং গণগ্র...
20/06/2016

ঢাকা থেকে আটক ঝিনাইদহের আটক ৪ শিবির নেতার সন্ধান, গুপ্তহত্যার সাথে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে পরিকল্পিত মিথ্যাচার বন্ধ এবং গণগ্রেপ্তারে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে আগামী ২১ জুন মঙ্গলবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

20/06/2016

Address

Monirampur
MONIRAMPUR

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangladesh Islami Chhatrashibir Manirampur Thana posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share