It's Riyad Mongla

It's Riyad Mongla সময়ের সত্য খবর সবার আগে আপনার নিউজফিড?

খেলা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা নিয়ে অনেকেই গোস্যা করে পোস্ট দিয়েছেন।  তাদের কথা হলো যারা বিশ্বকাপে খেলে তাদের দেশ...
19/12/2022

খেলা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা নিয়ে অনেকেই গোস্যা করে পোস্ট দিয়েছেন।

তাদের কথা হলো যারা বিশ্বকাপে খেলে তাদের দেশে এতো উন্মাদনা নাই , কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটি দেশে এতো উৎসাহ , পাগলামি এবং ট্রল কেন !

এর মূল কারণ জানতে হলে আপনাকে বুঝতে হবে বাংলাদেশে পারিবারিকভাবে বা স্রেফ বন্ধু মহলেও আনন্দ করার কি কোন ব্যবস্থা আছে ?!

কারো ইচ্ছে হলেই কি স্ত্রী বা ছেলেমেয়েকে নিয়ে বিকেল বেলায় বাড়ির পাশে পার্কে বেড়াতে যেতে পারে?
অথবা নদীর ধারে বসে একটু সময় কাটানো ?!

বাঙালি কি পারে ইচ্ছে করলেই পাহাড়ে হাইকিং করতে যেতে , অথবা সমুদ্রের ধারে অলস বিকেল কাটিয়ে আসতে !
না, পারে না।

এগুলো বাংলাদেশের শহুরে জীবনে উচ্চ বিত্তশালীদের ( তারা লং ড্রাইভে ৩০০ ফিটে যেতে পারে ) পক্ষে কিছুটা সম্ভব হলেও ৯০% সাধারণ মানুষের পক্ষে এগুলো অসম্ভব ব্যাপার।

সেটা মূলত অর্থনৈতিক কারণে হলেও আমাদের সামাজিক পারিপার্শ্বিক অবস্থা খুব খারাপ , আপনি আপনার টিন-এজ মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় নির্বিঘ্নে হাটতে পারবেন না।

স্কুল কলেজের মেয়েরা তো একা স্কুল কলেজেই যেতে পারে না , সেখানে পার্কে যাওয়া বা নদীর ধারে হাটা অসম্ভব।

বাঙালির মধ্যবিত্তের আনন্দ করার একমাত্র উপায় হলো রেস্টুরেন্টে খাওয়া।

কিন্তু সেটাও একটি নির্দিষ্ট সামর্থের বাইরে বেশির ভাগ পরিবারের পক্ষে প্রতিমাসে সম্ভব নয়।

কিন্তু মানুষ ক্ষনিকের জন্য হলেও জীবন যুদ্ধ থেকে মুক্তি চায়।
আর এজন্যই মানুষ একটি উসিলা খুঁজে কিভাবে পরিবারের সবার সাথে , অথবা বন্ধুবান্ধব মিলে নির্মল আনন্দ করা যায়।

বিশ্ব কাপ ফুটবল বাঙালির জীবনে এই সুযোগটা তৈরী করে দেয়।

স্বামী স্ত্রী , বাবা মা , ছেলে মেয়ে সবাই ভিন্ন ভিন্ন দল সাপোর্ট করে একে ওপরের সাথে মনস্তাত্বিক প্রতিযোগিতা করে যে নির্মল আনন্দ পায় সেটা আপনি তিন বেলা চিকেন ফ্রাই খেয়েও পাবেন না।

আবার খেয়াল করে দেখবেন , মায়ের পছন্দের দল জিতেছে বলে সে খুশি। কিন্তু তার ছেলে বা মেয়ের দল হেরেছে বলে তার ছেলেমেয়ের সাথে তারও মন খারাপ।

ছোট বোনের দল জিতেছে সে খুশি কিন্তু ভাইয়ের দল হেরেছে দেখে প্রথমে ভাইয়াকে কিছুক্ষন খোঁচাখুচি করার পর যখন দেখে ভাইয়ের মন খারাপ তখন বোনই শান্তনা দেয় ভাইকে।
ভাইয়ের জন্য তারও মন খারাপ হয়।

স্ত্রীর দল হেরেছে মন খারাপ , কিন্তু স্বামীর দল জিতেছে তাই সে মন খারাপ নিয়েও বাসায় সবার জন্য ভালো কিছু বানিয়ে সবাইকে আনন্দ দিচ্ছে।

এই রকম পারিবারিক নির্মল আনন্দ আপনি বাঙালি জীবনে কিভাবে দিবেন , যখন তাদেরকে প্রতিদিন নানা টেনশন অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে কাটাতে হয় !

প্রতিটি দিন তাদের জন্য যুদ্ধ।
আর নিজ দলের হার জিতের মধ্যে আবেগ জড়িত থাকে ।
ফলে মানুষ খেলায় জিতে যেমন আনন্দের ফুয়ারা চালু করে দেয় তেমনি হারলে হৃদয়ে প্রেম ভালোবাসার জন্য যেমন রক্ত ক্ষরণ হয়, তেমন ক্ষরণ হয়।

আর কিছু না হোক , এই একটি মাস বাঙালির সাধারণ জীবনে একটু হলেও রং-এর ছোঁয়া ছিল , স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অন্য ধরণের খুনসুটি চলেছে একে অপরকে পচানোর মধ্যে দিয়ে।

এজন্যই খেলা মানুষ এতো উৎকণ্ঠা , উৎসাহ নিয়ে দেখে।

শেষ যেটা বলতে হয় সেটা হল, বিশ্বকাপ তার প্রাপ্যজনের হাতে উঠেছে!

04/10/2022

▒▒▒ ব্রেকিং/Breaking ▒▒▒█
** জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়, বিদ্যুৎ নেই দেশের অধিকাংশ জায়গায়
**বিবিয়ানা ৪০০কেভি লাইন ট্রিপ করায় সম্পূর্ণ সিলেট সহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং অন্যান্য পিজিসিবির ট্রান্সমিশন-১ লাইন ব্ল্যাক আউট হয়ে যায়।
এতে করে দেশের প্রায় সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে।
ব্ল্যাক আউটের কারণে প্রায় সব জেনারেশন বন্ধ হয়ে গেছে।
যেটা চালু করা সময় সাপেক্ষ।

তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ আসতে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।
সকলকে বিভ্রান্ত না হয়ে ধৈর্য্য রাখার অনুরোধ করছি।

বৃষ্টি সবার জন্য আনন্দ বা বিলাসিতার না।
19/09/2022

বৃষ্টি সবার জন্য আনন্দ বা বিলাসিতার না।

শরীয়তের বিপরীত সব কিছুই বর্তমানে ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে।অথচ,পুরুষের টাখনুর নিচে কাপড় পড়া হারাম।(বুখারী--৫৭৮৭)  মহিলাদের টাখ...
16/09/2022

শরীয়তের বিপরীত সব কিছুই বর্তমানে ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে।
অথচ,

পুরুষের টাখনুর নিচে কাপড় পড়া হারাম।
(বুখারী--৫৭৮৭)

মহিলাদের টাখনুর উপর কাপড় পড়া হারাম। (তিরমিযী--১৭৩১)

12/09/2022

সুখগুলো-Püblîç 🌐
রাগগুলো-Frìéñds 👬
অভিমানগুলো-Spēçīál someone 😍

দুঃখগুলো- Øñly Mê 🔒

08/08/2022

লাইভে পণ্য বিক্রির সুবিধা আগামী অক্টোবর থেকে বন্ধ করে দিচ্ছে ফেসবুক।
ক্রিম আপারা মন খারাপ করবেন না। সাধারণ লাইভ চলবে।

জাপানের পুরুষেরা এখন জৈবিক চাহিদা মেটানোর জন্য সেক্স ডলের শরণাপন্ন হচ্ছে। প্রতি বছর দেশটিতে প্রায় দুই হাজারের মতো ‘সেক্...
01/08/2022

জাপানের পুরুষেরা এখন জৈবিক চাহিদা মেটানোর জন্য সেক্স ডলের শরণাপন্ন হচ্ছে। প্রতি বছর দেশটিতে প্রায় দুই হাজারের মতো ‘সেক্স ডল’ বিক্রি হয়, দাম অন্তত ছয় হাজার ডলার।

৪৫ বছর বয়সী মাসায়ুকি ওজাকি তার সেক্স ডল সম্পর্কে বলেন, “সে সবসময় জেগে আছে, আমার জন্য অপেক্ষায় আছে এটা মনে করে আমি নিরাপদ বোধ করি...।”

পাগলের প্রলাপ মনে হচ্ছে? বিয়ে না করে সেক্স ডলের ভালোবাসায় মজে যাওয়ার কারণ কি? তাহলে কি জাপানের পুরুষরা Mass Schizophrenia বা Mass Paraphilia তে আক্রান্ত হচ্ছে?

চলুন মাসায়ুকি ওজাকির মুখ থেকেই শুনি,

"জাপানি মেয়েরা নির্মম হৃদয়ের, স্বার্থপর। পুরুষেরা চায় এমন কেউ তার পাশে থাকুক যে তার পাশে থাকুক, কাজ থেকে আসার পর যার সাথে সুন্দর সময় কাটানো যায় এমন কেউ। সেক্স ডলের সাথে আমি তেমনটা করতে পারি"। [1]

ঠিক ধরেছেন। দেশটিতে নারীবাদের কালো থাবা পড়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড দেশটির কর্পোরেট নারীরা আর বিয়ে করতে আগ্রহী নয়। বিয়ে করলে বাচ্চা হবে, কাজের ক্ষতি হবে। আর বৈবাহিক জীবনে সময় দিতে গিয়ে ক্যারিয়ারও ঠিকমতন হবে না। আর ওদিকে পুরুষ তো এগিয়ে যাচ্ছে, কাজেই তাকেও ধরতে হবে। সুতরাং , জাপানী নারীদের সহজ সমাধান হল: নো বিয়ে, নো বাচ্চা, অনলি ক্যারিয়ার। ক্যারিয়ার গড়তে গড়তে ৩৫ বছর, কাজেই পরে আর বিয়ের বয়সও নেই। কাজেই কোন বিয়ে না করেই জীবন পার করে দিচ্ছেন জাপানী নারীরা। জনসংখ্যার বিশাল অংশ।

এর ফল জাপানকে বেশ ভালোভাবেই ভোগ করতে হচ্ছে।

নারীরা বাচ্চা নিতে অনাগ্রহী হওয়ায় জাপান এখন জনসংখ্যার সমস্যায় ভুগছে। জাপানে এখন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৩৩%। বুড়োদের দিয়ে ভরে গেছে দেশটা। সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখন শুন্যের নিচে নেমে গেছে, -০.২%! [2] এভাবে চলতে থাকলে একসময় জাপানি জাতিটাই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

তার উপর বিয়ে না করায় জাপানে পরিবার গঠন হচ্ছে না। ফ্যামিলি লাইফ না থাকায় হতাশায় ভুগছে সেখানকার মানুষ। ফলে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি পেয়ে মহামারী আকার ধারণ করেছে। [3]

জাপানের চোখ ধাঁধানো ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি দেখে তাদেরকে সুখী ভাবার কোনো কারণ নেই। কারণ নারীবাদের বিষ তাদের দেশটিকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

That's why, feminism is toxic!

References :
[1] https://www.bbc.com/bengali/news-40473138
[2] https://www.statista.com/statistics/270074/population-growth-in-japan/
[3] https://en.m.wikipedia.org/wiki/Suicide_in_Japan

কিভাবে 'সেক্স ডল' এর মাধ্যমে সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পাচ্ছেন জাপানি পুরুষেরা

বাইসাইকেল ধীরে ধীরে মেরে ফেলছে পৃথিবীকে 🤮🤮কথাটি একজন ব্যাংকারের। তিনি যখন বিষয়টি ডিটেইলসে বলেন, বড় বড় অর্থনীতিবিদরাও ...
31/07/2022

বাইসাইকেল ধীরে ধীরে মেরে ফেলছে পৃথিবীকে 🤮🤮

কথাটি একজন ব্যাংকারের। তিনি যখন বিষয়টি ডিটেইলসে বলেন, বড় বড় অর্থনীতিবিদরাও তাতে চিন্তার খোরাক পেয়েছে আরবান সাইক্লিং ইনস্টিটিউট,ব্যাংকার বলেন, একজন সাইক্লিস্ট দেশের অর্থনীতির জন্যে দুর্যোগ স্বরূপ। তিনি গাড়ি কিনেন না। ফলে গাড়ি কেনার জন্য ধারও করতে হয় না তাকে। একজন সাইকেল ব্যবহারকারী ইন্সুরেন্স করেন না। জ্বালানী কিনেন না, তাকে এমনকি গাড়ি মেরামত বাবদও কোনো খরচ করতে হয় না।

ব্যাংকার আরো বলেছেন, যিনি সাইকেল চালিয়ে অভ্যস্ত, তাকে পার্কিং করার জন্যে কোনো পয়সা দিতে হয় না। সাইকেলের কারণে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার ঘটে না, ফলে হাসপাতালও রোগী পায় না।সাইকেল চালানো মানুষ বহুলেইনের রাস্তাও ব্যবহার করে না। এমনকি লোকটি মোটাও হয় না সাইকেল চালানোর কারণে।
ব্যাংকার বলছেন, অর্থনীতির জন্যে স্বাস্থ্যবান মানুষ মোটেও উপকারী বা প্রয়োজনীয় নয়। তাদের ডাক্তার দেখাতে হয় না। হাসপাতালে যেতে হয় না। ওষুধই কিনতে হয় না। তারা দেশের জিডিপিতে কোনো অবদান রাখে না।

অন্যদিকে, ম্যাকডোনাল্ডসের একটা নতুন শপ হওয়া মানে কিছু লোকের চাকরি হওয়া। পাশাপাশি কমপক্ষে ৩০ জনের আয়ের সুযোগ করে দেয় নতুন দোকানটি। তারা হলেন ১০ জন হার্টের ডাক্তার, ১০ জন ডেন্টিস্ট এবং ১০ জন ডায়েটিশিয়ান ও পুষ্টিবিদ।

সুতরাং ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন, সাইকেল কিনবেন নাকি ম্যাকডোনাল্ডসের দোকান? আর যারা পায়ে হাঁটে, তারা সবচেয়ে খারাপ। কারণ তারা একটি সাইকেলও কেনে না..

তথ্যসূত্র: লিংকড ইন-এ পোস্ট করেছেন, জেসিকা মারিয়া ডায়ার।

এক.‘Desensitization of Evil’ নামে একটা টার্ম আছে। এর মানে হলো খারাপ বা পাপের ব্যাপারে সংবেদনশীলতা কমে যাওয়া। যে সিরিয়াল ...
31/07/2022

এক.
‘Desensitization of Evil’ নামে একটা টার্ম আছে। এর মানে হলো খারাপ বা পাপের ব্যাপারে সংবেদনশীলতা কমে যাওয়া। যে সিরিয়াল কিলার, সে প্রথম যেদিন খুন করে, তার মধ্যে কিছুটা হলেও পাপবোধ থাকে। কিন্তু, ২-৪টি খুন করার পর তার মধ্যে তখন আর পাপবোধ থাকে না।

অনেকেই জীবনে কোনো নাটক-সিনেমা, ভিডিও গান, কিংবা খারাপ কিছু দেখেনি। সে হঠাৎ কোনোদিন একটি সামাজিক নাটক দেখলো। তখন তার মধ্যে বেশ পাপবোধ জন্ম নিবে। কিন্তু আস্তে আস্তে একটা-দুইটা নাটক, এরপর বাংলা সিনেমা, হিন্দি সিনেমা, ইংলিশ সিনেমা দেখতে থাকবে। এটা হলো ‘Chain Reaction’। একবার শুরু হলে চলতেই থাকবে। একসময় সে এসবে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

একজন সিরিয়াল কিলারকে ‘খুন করা পাপ’ বলে আসলে তেমন একটা লাভ নেই। কারণ, পাপের প্রতি তার সংবেদনশীলতাই নেই। অথচ আপনি ছোট্ট একটা বাচ্চাকে বলে দেখুন- ‘পিঁপড়াগুলোকে এভাবে আগুনে পুড়িও না, আল্লাহ গুনাহ দিবেন’, এতেই দেখবেন কাজ হয়ে গেছে। সে পিঁপড়ার ঢিবিতে আগুন দিবে না।

দুই.
২০২০ সালে HSC পরীক্ষায় ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৭০৬,৮৮৫ জন ছাত্র এবং ৬৬০,৪৯২ জন ছাত্রী নিবন্ধন করেছিল। পাশের হার যেহেতু শতভাগ, তারমানে ৭ লক্ষ+ ছাত্র এবং ৬ লক্ষ+ ছাত্রী পাশ করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৪৬,১৫০ জন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ ডিপার্টমেন্টে ছাত্র-ছাত্রীর অনুপাত প্রায় সমান। তারপরও ধরে নিলাম ছাত্র-ছাত্রীর অনুপাত ৬০:৪০। তাহলে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১৮,৫০০ জন (একজেক্ট ফিগার ১৮,৪৬০ জন)।

তিন.
ইসলাম মেয়েদের/নারীদেরকে যেমন দায়িত্ব দিয়েছে, তেমনি দিয়েছে অধিকার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই অধিকারগুলো বুঝিয়ে দেবার দায়িত্ব দিয়েছে পুরুষদের উপর। যেমন ধরুন, একজন মেয়ের জীবনের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ঘটনা হলো বিয়ে। বিয়ের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের দায়িত্ব থাকে পুরুষের কাঁধে। কিন্তু বিয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Consent বা মত। একজন মেয়ের যদি বিয়েতে অমত থাকে, তাহলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই বিয়েকে ‘বাতিল’ বলেছেন। একজন মেয়েকে জোরজবরদস্তি করে বিয়ে দিতে পারবেন না; আপনি মেয়ের বাবা হোন বা ভাই হোন।

ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছে। নারী জ্ঞানার্জন করবে, এটা তার অধিকার। কিন্তু নারীকে কিভাবে সুষ্ঠুভাবে জ্ঞানার্জন করানো যায়, সেই ব্যবস্থা করার দায়িত্ব ইসলাম পুরুষকে দিয়েছে। বাবা, ভাই বা স্বামী নারীর জন্য সুষ্ঠু শিক্ষার্জনের ব্যবস্থা করবে।

নারীর অর্থনৈতিক অধিকারের দিকটা দেখুন। একজন মেয়ের বিয়ের আগ পর্যন্ত ভরণপোষণের দায়িত্ব ইসলাম পুরুষের কাঁধে দিয়েছে। বিয়ের আগ পর্যন্ত একজন মেয়ে তার বাবা বা ভাইয়ের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য পাওয়াটা তার অধিকার, অন্যদিকে সেটা তার বাবা-ভাইয়ের পূরণ করা তাদের দায়িত্ব।

বিয়ের সময় দেনমোহর পাওয়া একজন মেয়ের অধিকার। সেটা তার স্বামী থাকে প্রদান করবে, স্বামীর সেটা দায়িত্ব। বিয়ের পর পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর কাঁধে। স্বামী পরিবারের জন্য খাবার কিনবে, পোশাক কিনবে, যাবতীয় ব্যয় বহন করবে। হাদীসে এটাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, এটাকে ‘সাদকাহ’র সমান সওয়াব বলা হয়েছে। স্বামী স্ত্রীকে হাত-খরচের টাকা দিবে। এটাও তার দায়িত্ব, স্ত্রীর ক্ষেত্রে সেটা পাওয়া তার অধিকার।

ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় মেয়ে/নারীর ব্যয় করার ক্ষেত্র একেবারে সীমিত। তাদের ব্যয় করার ক্ষেত্রগুলোর চেয়ে সঞ্চয় করার ক্ষেত্র বেশি। তবুও ইসলাম তাদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। পিতার সম্পত্তি থেকে তারা ভাগ পায়, স্বামীর সম্পত্তি থেকেও তারা ভাগ পায়।

একপক্ষের কাছে যা ‘অধিকার’, আরেক পক্ষের কাছে সেটা বুঝিয়ে দেওয়া হলো ‘দায়িত্ব’। অধিকার এবং দায়িত্ব, এই দুটোকে একটা থেকে আরেকটা আলাদা করার সুযোগ নেই। যখন দুই পক্ষ দুই পক্ষের দায়িত্ব পালন করবে, তখন এমনিতেই দুই পক্ষ দুই পক্ষের অধিকার পেয়ে যাবে। কিন্তু, যখন এক পক্ষ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করবে, তখন আরেক পক্ষ অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

যেমন: আমি একটি দোকান থেকে ১০ টাকার পণ্য বাকিতে কিনলাম। আমার দায়িত্ব হলো সময়মতো সেটা পরিশোধ করা। দোকানদারের অধিকার হলো ধারের টাকা ফেরত পাওয়া। আমি যখন দোকানদারকে ১০ টাকা না দিয়ে, ৫ টাকা পরিশোধ করবো, দোকানদার তখন ৫ টাকার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। আমি আরেকদিন ১ কেজি আলু টাকা দিয়ে কিনতে গেলে আমার অধিকার থাকবে ওজন ঠিকমতো পাওয়া, দোকানদারের দায়িত্ব থাকবে ঠিকমতো মেপে দেওয়া। কিন্তু, আমি আমার আগের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না করায় দোকানদার আমাকে ১ কেজির জায়গায় ৯০০ গ্রাম আলু দিয়ে তার না-পাওয়া অধিকার শোধ করেছে।

তখন যদি কেউ দোকানদারকে বলে, “আপনি মাপে কম দিলেন কেনো?” সে তখন বলবে, “লোকটি যখন আমার পাওনা পরিশোধ করলো না, আপনি তখন কোথায় ছিলেন? আপনাকে তো পাওনাদারের ধার পরিশোধের ওয়াজ করতে কখনো দেখলাম না!”

আমাদের দেশের নারী-পুরুষের অধিকার-দায়িত্বের আলোচনাগুলো ঠিক এই উদাহরণের মতো। আমার আশেপাশের মা-চাচী-খালাদের উদাহরণই দিই। ইসলাম তাদেরকে সবচেয়ে বড়ো যে দুটো আর্থিক অধিকার দিয়েছে (দেনমোহর, সম্পত্তির উত্তরাধিকার), সেগুলো থেকে তারা বঞ্চিত। বাংলাদেশের মেয়েরা একইসাথে এই দুটোর অধিকার বুঝে পেয়েছে, এমন সংখ্যা ১% হবে কিনা আমি নিশ্চিত নই। বিশেষ করে সম্পত্তিতে নারীর অংশ বুঝিয়ে দেয়ার তো প্রশ্নই আসে না! এই বাস্তবতাটি আমাদের সমাজের সাধারণ মানুষ থেকে আলেম পরিবারে পর্যন্ত বিদ্যমান। যে ১% পরিবার নারীর অধিকারের ব্যাপারে সচেতন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ হলো সমাজের মধ্যে গুটি কয়েক আলেম পরিবার অথবা দ্বীন সচেতন পরিবার।

তারউপর মানুষের ইসলামের প্রতি আবেগ থাকলেও, জানাশোনা এবং মানার অনেক ঘাটতি আছে। ফলে পরিবারের মেয়ে, স্ত্রী, বোন যারা ঘরে থাকে, ঘরের কর্মক্ষম পুরুষ তাদেরকে খোঁটা দেয় না, এরকম পরিবার কয়টা আছে? ‘সারাদিন ঘরে কী করো? গল্প করছো আর খাচ্ছো, ঘুমাচ্ছো’ এসব কথা হরহামেশাই ঘরের কর্তা বলে থাকেন। ছোট্ট মেয়ে, যখন তার বাবাকে বলতে শুনেছে (তার মাকে বলছে), ‘সারাদিন তো ঘরে বসে আছো, আমিই রুজি করে খাওয়াচ্ছি, তুমি এতো কথা বলো কেনো? যাও আমি দেবো না, পারলে রুজি করে নিয়ে আসো’, সেই মেয়েটি চাইবে না যে, বড়ো হয়ে সে আর ঘরে থাকতে। কারণ, সে বুঝেছে, ঘরে থাকলে তাকে খোঁটা শুনতে হবে তার মায়ের মতো।

দেশের ৯৯% মেয়েরা/নারীরা তাদের আর্থিক অধিকার থেকে পারিবারিকভাবে বঞ্চিত। ‘নারীর অধিকার’ সংক্রান্ত বাজারে যেসব বই আছে, ইউটিউবে যতো ওয়াজ আছে, সেগুলোকে দেখানো হয় অন্যান্য সভ্যতা থেকে ইসলাম কতোটা সভ্য সেই বিষয়টি। কিন্তু, ইসলাম নারীকে যে অধিকার দিয়েছে, মুসলিম সমাজ সেটার কতোটা প্রয়োগ করেছে, কিভাবে প্রয়োগ করবে সেই সংক্রান্ত আলোচনা খুব কম থাকে।

চার.
উপরের পরিসংখ্যানে দেখতে পাই, প্রায় ১৮,৫০০ মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগামী ২-৪ বছর পর গ্র্যাজুয়েট হবে। তারমানে সে তার জীবনের ২৪-২৫ বছরের মধ্যে ১৮-১৯ বছর পড়ালেখায় কাটিয়েছে প্রাইমারি, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে। বেশিরভাগই ‘প্রি-মিক্সিং’ –এ অভ্যস্ত, ছেলেদের সাথে কথা বলা, গ্রুপ স্টাডি করা, প্রেজেন্টেশন দেওয়া, ইন্টার্নশিপ করে তাদের কাছে ফ্রি-মিক্সিং আর ট্যাবু হিশেবে থাকেনি। খুব স্বাভাবিক হয়ে গেছে। যারা খুবই ধার্মিক, তারা হয়তো এসব বিষয়ে ‘Compromise’ নীতি ফলো করেছে। বোরকা, নিকাব পরে ঠিক যতোটুকু ইন্টারেকশন না করলেই নয়, ততোটুকু তারা করেছে; বাকিটার ব্যাপারে তারা সচেতনভাবে দূরে থেকেছে।

এই আর্টিকেলের মূল জায়গাটি হলো এখানে। ১৮-১৯ বছর এমন একটা পরিবেশে পড়াশোনা করে সে যখন শুনে- ‘ইসলামে চাকরি করা হারাম’ তখন এই বাক্যটি বেশিরভাগের কাছে কী মনে হয় জানেন? প্রথম অনুচ্ছেদের ‘Desensitization of Evil’ –এর উদাহরণগুলোর সাথে মিলিয়ে নিন।

চাকরি কেনো হারাম, এটার পক্ষে আপনি সবচেয়ে বড়ো দুটো আর্গুমেন্ট দেখাবেন।

১. সেখানে ফ্রি-মিক্সিং হবে, পর্দা-পালন ঠিকমতো হবে না।
২. ঘরের দায়িত্ব, দেখাশোনা করতে হবে, স্বামীকে অসন্তুষ্ট রাখা যাবে না।

১৮-১৯ বছর একজন মেয়ে যে পরিবেশে কাটিয়েছে, চাকরির পরিবেশের সাথে সেটার খুব একটা পার্থক্য নেই। অনেকটাই একই পরিবেশ। চাকরির প্রশ্নে আপনি যেটাকে ‘পাপ’ হিশেবে দেখাতে চাচ্ছেন, সে তো বলবে- ‘আমি তো এই পাপের সাগরে প্রায় ২০ বছর ধরে ডুবে আছি’।

আমাদের মা-চাচী-খালা-ফুপুদের কাছে একটি অফিসে পুরুষদের সাথে চাকরি করার গুনাহর বয়ান শুনে যে সংবেদনশীলতা কাজ করবে, সেটা প্রায় ২০ বছর পড়াশোনা করা মেয়েটার কাছে একই আবেদন রাখবে না।

আর দ্বিতীয়ত, সে তার বাপ-চাচাকে দেখে এসেছে তারা তাদের ঘরের স্ত্রীদের সাথে কেমন আচরণ করে, তাদেরকে কিভাবে খোঁটা দেয়। সে চাইবে না তার মা-চাচীর মতো ‘ঘরের বোঝা’ হয়ে স্বামীর কথা শুনতে। সে পাল্টা প্রশ্ন করবে নিজেকে- ‘আমি কি কম যোগ্য? এতোদিন পড়ালেখা করেছি কি গৃহিণী হবার জন্য?’ সে যে সমাজে বেড়ে উঠেছে, সেই সমাজের মানুষদেরকে দেখেছে ‘গৃহিণী’ –কে যথাযথ সম্মান না করতে, মর্যাদা না দিতে, গৃহিণীর কথাকে গুরুত্ব না দিতে। অন্যদিকে, তার কোনো এক স্কুল শিক্ষিকা আত্মীয়কে জামাইর বাড়ি, বাপের বাড়ি কী পরিমাণ সম্মান দেওয়া হয়, সেটাও সে চোখের সামনে দেখেছে।

সে দেখে, ইসলাম তাকে যে অধিকার দিয়েছে, তার বাপ-ভাই-স্বামী সেসব অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত রেখেছে। ঠিক যে মুহূর্তে সে চাকরি করে স্বাবলম্বী হবার চিন্তা করছে, সেসময় ‘চাকরি করা হারাম’ ফতোয়াটি সে আনায়াসে পাশ কাটিয়ে যেতে পারে। আল্লাহ/খোদার দোহাই দিয়ে তার মা-চাচীকে চুপ রাখা হয়েছে, মা-চাচী প্রাপ্য অধিকার আর সম্মান তো পায়ই নি, উল্টো ঘরে থাকার জন্য অপমানিত হয়েছে, সন্তানের জন্য স্বামীর কাছে টাকা চাইতে গেলে বকা শুনতে হয়েছে। সে প্রশ্ন উঠায়- ‘আমার মায়ের অধিকারের বেলায় কেউ তো এগিয়ে এসে সেটা আদায় করেনি, কেউ ফতোয়া দেয়নি। আজ আমি যখন অধিকার আদায় করতে শিখেছে, আজ আপনারা ফতোয়া নিয়ে আসবেন না!’

পরিবার-সমাজের মানুষের আচরণ তাকে ইসলাম থেকে সরিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট। মানুষের আচরণের ফলে তার মনে রবের দেয়া বিধান নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। মজার ব্যাপার হলো, বোরকা আর নিকাব পরা মেয়েদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে বলে আমরা উচ্ছ্বাস করি, মনে করছি মোটামুটি ইসলাম কায়েম হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, এরচেয়ে দ্রুত গতিতে মেয়েদের মধ্যে যেভাবে ‘আধুনিক’ হবার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে, সেটা হয়তো আমরা উপলব্ধি করতে পারছি না।

পাঁচ.
মুফতির সংজ্ঞায় বলা হয়, “মুফতি হলেন এমন ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর নামে স্বাক্ষর করেন।” কোনো একটি বিষয়ে ফতোয়া দেওয়া চট্টিখানি কথা না।

কুরআন-হাদীসের ‘নস’ বা টেক্সট আর পূর্ববর্তী ইমামগণের ফতোয়া থেকে এটা মোটামুটি স্পষ্ট যে, ইসলাম মেয়েদের চাকরির ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করে। ইসলামে নারীর স্বাভাবিক যে দায়িত্ব পালনের কথা বলা আছে, সেগুলো পালন করে ওভারটাইম জব করেও মূল দায়িত্ব পালন সম্ভব কিনা সেটা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তারউপর তো আছে পর্দা, নন-মাহরামের সাথে ইন্টারেকশনের বিষয়গুলো। নারীদের চাকরির ব্যাপারে ইসলামের ‘রুল অব থাম্ব’ দেখা যাবে- নিরুৎসাহিত করে, নিষেধ করে।

তারপরও পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বল্প সংখ্যক স্কলার শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দেন। যেসব শর্তারোপ করা হয়, সেগুলো মেনে বর্তমান সময়ে খুব কম সংখ্যক জব সেক্টরে জব করা যাবে।

এক্ষেত্রে মূল প্রশ্নটি যতোটা না মেয়েদের চাকরি সংক্রান্ত, তারচেয়ে বেশি পড়াশোনা সংক্রান্ত। অর্থাৎ, চাকরি হালাল-হারাম, জায়েজ-নাজায়েজের প্রশ্নের ‘Root Cause’ হলো- শিক্ষা। মজার ব্যাপার হলো এই প্রশ্নটি একটি ‘প্যারাডক্সিকাল কুয়েশ্চন’।

ইসলাম মেয়ে/নারীদের উপরও শিক্ষা ফরজ করেছে। তাদেরকে চাকরির ক্ষেত্রে না হয় বাধা দিতে পারবেন, কিন্তু শিক্ষার্জনের জন্য বাধা দেবার সুযোগ নেই। বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা হলো- স্কুল-কলেজ অথবা মাদ্রাসা। দুটোর মধ্যে জনপ্রিয় হলো স্কুল-কলেজ। এদেশের মুসলমানদের মধ্যে মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী, শিক্ষকের প্রতি স্নেহ, সম্মান ভক্তি থাকলেও নিজের সন্তানকে মাদ্রাসায় দেবার ব্যাপারে তার দ্বিগুণ অনাগ্রহ দেখা যায়। মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রায়ই আফসোস করে বলেন, “মা-বাবা মেধাবী সন্তানকে পাঠান স্কুল-কলেজে, আর কম মেধাবী, ত্যাড়াদের পাঠান মাদ্রাসায়!”

দেশের মানুষজন যেখানে ছেলেদেরকে মাদ্রাসায় পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, সেখানে মেয়েদেরকে মাদ্রাসায় পাঠানোর ব্যাপারে অনেক সাতপাঁচ ভাবেন। তারউপর সব এলাকায় পর্যাপ্ত মহিলা মাদ্রাসাও পাওয়া যায় না।

ছয়.
মেয়ে/নারীদের চাকরি করার ব্যাপারটি এখন আর স্রেফ ফতোয়া কেন্দ্রিক সমাধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় (অর্থাৎ ধর্মীয় প্রশ্ন না)। এই প্রশ্নটি এখন আর্থ-সামাজিক প্রশ্ন। একদিকে সমাজের পুরুষদের কাছ থেকে যথাযথ অধিকার, সম্মান না পাওয়ায় তারা নিজেরাই সম্মানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বাবলম্বী হবার পথে ঝুঁকছে (They are pushed)। অন্যদিকে, মডার্নিটি তাদেরকে উৎসাহ দিচ্ছে, তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।

এই প্রশ্নের সমাধানের একদিক হলো সমাধানযোগ্য, আরেক দিক হলো সময়সাপেক্ষ। সমাধানযোগ্য দিকটি হলো নারীদের অধিকারের প্রশ্নে ইসলাম যেসব অধিকার দিয়েছে সেগুলো নিশ্চিত করা এবং নারীদের ব্যাপারে সমাজে বিদ্যমান অসম্মানজনক কথা বলা, খোঁটা দেওয়া বন্ধ করা। ইসলাম হলো একটি সিস্টেম। সামাজিক জীবনব্যবস্থার ইসলামি সিস্টেমের একটি দিক পূরণ না করলে, সেটা আরেক দিকে সমস্যা সৃষ্টি করবে। দায়িত্ব আর অধিকারের প্রশ্নটি এমনই।

দ্বিতীয় সমাধানের মূল সমস্যা হলো মডার্নিটি। মডার্নিটি মুসলিম সমাজে অনেকগুলো সমস্যা সৃষ্টি করেছে, যেগুলো আগে কখনো ছিলো না। নারীদের চাকরি করাটা হলো একটি Modern Phenomena। এটি শুধু মুসলিম সমাজেই না, পুরো বিশ্বে অভূতপূর্ব ঘটনা। ইউরোপ, অ্যামেরিকার ইতিহাস পড়লেই দেখতে পাবেন; আজ থেকে দুশো বছর আগে এমন প্রবণতা ছিলো না।

মডার্নিটির মোকাবিলায় কেউ কেউ ইসলামের টেক্সটকে কাটছাঁট করে মডার্নিটিকে গ্রহণ করেছেন। এই পদ্ধতিতে সমাধান না এসে আরো সমস্যা তৈরি করেছে। মডার্নিটির সাথে মিলিয়ে মনমতো একটি জীবন ব্যবস্থা তৈরি হবে, যেখানে সব থাকলেও ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা থাকবে না।

মডার্নিটির সাথে খাপ খেয়ে ইসলামকে সেভাবে ব্যাখ্যা না করে, ইসলামের টেক্সটকে তার জায়গায় অক্ষুণ্ণ রেখে মডার্নিটির সাথে বোঝাপড়া করলে সমাধান আসতে পারে। মডার্নিটির সমস্যা এবং সমাধান যে স্রেফ ফতোয়া কেন্দ্রিক না, এটা বুঝার জন্য মেয়েদের চাকরি করা না করার উদাহরণটি যথেষ্ট।

চাকরি না করার ব্যাপারে যারা ফতোয়া দিচ্ছেন, তাদের সামনে আছে কুরআন-হাদীস আর সালাফদের অকাট্য দলীল। আর চাকরি করার ব্যাপারে যারা আগ্রহ দেখাচ্ছে, তাদের মনস্তত্ত্বের পেছনে কাজ করছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা। এটাকে ট্যাগিং দিয়ে তাদেরকে দূরে সরিয়ে দেওয়া মানে তাদের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে যেটুকু সুধারণা আছে, সেখানে পানি ঢালা।

|| মেয়েদের চাকরি করা না করার মনস্তত্ত্ব ||
আরিফুল ইসলাম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

31/07/2022

মন ভা!ঙা মানুষদের একটা লক্ষণ আছে.!🥀
- খেয়াল করে দেখবেন,,

এরা হাঁসে বেশি.!🙂💔

29/07/2022

#উস্তাদে_মুহতারাম_________________\

বাংলাদেশ ক‌ওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ঢাকা যাত্রাবাড়ী দারুল উলুম মাদানীয়া মাদ্রাসার মুহতামিম, শাইখ মাহমুদুল হাসান দামাত বারকাতুল্লাহ.. ছাত্রদের তিনটি নসিহত করেন,

হুজুর বলেন আমি সবসময় এই উসূলগুলো মেনে চলি তোমার‌ও সবসময় এগুলো মনে রাখবা‌।

(১) কখনো অস্থির হবা না। যা হয়েছে, যা হবে সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। ভালো কিছু হলে বলবে আলহামদুলিল্লাহ, খারাপ কিছু হলে বলবে ইন্নালিল্লাহ।

(২) সাধ্যমত ইসলামের খেদমত করো। যদি না পারো কমপক্ষে তোমার দ্বারা যাতে ইসলামের কোনো ক্ষতি না হয়।

(৩) মানুষের সেবা করো। যদি সম্ভব না হয় কমপক্ষে তোমার দ্বারা যাতে কোন মানুষ কষ্ট না পায়।

আল্লাহ তা'আলা সবাইকে বুঝার এবং মানার তাওফিক দান করুন।

27/07/2022

শিক্ষক ক্লাসে ঢুকে ব্লাকবোর্ডে একটা লম্বা দাগ টানলেন। এবার সবাইকে উদ্দেশ্য করে জানতে চাইলেন," আচ্ছা তোমাদের মধ্যে কে আছো
যে এই দাগটিকে ছোট করতে পারবে ? কিন্তু শর্ত হচ্ছে তোমরা একে মুছতে পারবে না, না মুছেই ছোট করতে হবে," তারপর, ছাত্ররা সবাই অপারগতা প্রকাশ করলো। কারণ, মোছা ছাড়া দাগটিকে ছোট করার আর কোনো পদ্ধতি তাদের মাথায় আসছে না।

এবার শিক্ষক দাগটির নীচে আরেকটি দাগ টানলেন, যা আগেরটির চেয়ে একটু বড়। ব্যস, আগের দাগটি মোছা ছাড়াই ছোট হয়ে গেলো!

শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বললেন, "বুঝতে পারলে তোমরা? কাউকে ছোট করতে বা হারাতে হলে তাকে স্পর্শ না করেও পারা যায় ,নিজেকে বড় করো, গড়ে উঠো দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে, তাহলে অন্যের সমালোচনা বা দুর্নাম না করেই অথবা কাউকে ছোট না করেই তোমরা এমনিতেই বড়‌ হয়ে হয়ে যাবে, তুমি বড় হলে সে ছোট হবেই।

Address

Ma Computers & Online Point
Mongla
9350

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when It's Riyad Mongla posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category