21/04/2025
আমার দেখা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা
আমার দেখা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কথা ভাবলে আমার মাথায় যে কথাটা সবার আগে আসে তা হল আঠারো কোটি মানুষ অথচ এই দেশের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে উপযুক্ত এমন এক জন মানুষ নাই। আমি যখন চাকরিতে ঢুকি তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী #প্রথমালো ছিলেন আবদুস সামাদ আজাদ। আমি আজও জানি না আবদুস সামাদ আজাদ ইংরেজি বলতে পারতেন কি না। তবে ওই আমলের বেশির ভাগ ওই পর্যায়ের মানুষ কিছু ইংরেজি বলতে পারত বলে আমি ধরে নিচ্ছি। উনি বঙ্গবন্ধুরও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। আমি চাকরিতে ঢুকার চার মাসের মাথায় আজাদ সাহেবের মন্ত্রিত্ব শেষ হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চালানোর জন্য যে পরিমাণ রাজনৈতিক ওজন থাকা দরকার এটা আমার দেখা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আজাদ সাহেব ছাড়া আর কারও ছিল না। এরপর আসেন মোর্শেদ খান। উনি বুদ্ধিমান মানুষ। আমার দেখা একমাত্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি বটবট করে ইংরেজি বলতে পারতেন। উনি ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলতে পারতেন না। তারপর তত্ত্বাবধায়ক ইফতেখার চৌধুরী। ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট। যোগ্যতার ঘাটতি কম ছিল। কিন্তু এই লোকের এবং এই ধরনের যারা তাদের দেশের জন্য কোনও মায়া নাই। এর পর দীপু মণি। আওয়ামিলিগের উচিত ছিল এই মহিলাকে বার বার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানানো। এই জন্য যে উনার অনেকগুলি গুণ ছিল। মেধা, পরিশ্রম, দ্রুত শেখা, প্রখর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মাহমুদ আলী--এক কথায় বলব স্বার্থপর, অলস। ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট হিসাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অনেক কিছু জানেন, যা অবশ্যই সাহায্য করে। এরপর শাহরিয়ার আলম। দশ বছর প্রতিমন্ত্রী। এই বিষয়ে আমি একটাই কথা বলব: বাংলাদেশের কোনও প্রধানমন্ত্রী যদি চায় তার কোনও মন্ত্রণালয় কিছু কাজ করুক তবে সেখানে কখনওই, একেবারে নিয়ম করে, দুইটা মন্ত্রী বসাতে নাই। ওরা যদি আপন বাপভাই, কিংবা পিতাপুত্রীও হয়, ওরা এক জন আরেক জনের ঠ্যাং টেনে ধরবে, পেছন থেকে, আর যদি তা নাও করে, সারাদিন মনে মনে দোয়া করবে অন্য জন যেন ডাব্বা মারে। এই দোষ ব্যক্তিকে দিতে চাই না। একই অবস্থা ছিল নাকি সামাদ আজাদ সাহেব ও তার প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর মধ্যে। শাহরিয়ার আলম সংবেদনশীল মানুষ, যা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা যোগ্যতা। শাহরিয়ার আলমের আওয়ামিলিগের প্রতি নিশ্চয়ই মায়া আছে। তবে ইনি বা এই টাইপের নেতারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার গুরুত্ব বোঝেন না। আব্দুল মোমেন। উপরে যত মানুষের নাম আসল বা পরেও আসবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পড়াশোনা করা মানুষ, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রী হবার জন্য একটা অপরিহার্য গুণ। ওনার একট খাছলত ওনার জন্য কাল। তা হল পত্রিকা ও টিভিতে ওনাকেই আসতেই হবে। এটা ভাল গুণ হিসাবেও দেখা যেতে পারে। আর একটা হল উনি স্বভাবগতভাবে একটু সরল: যেটা একই সাথে অস্ত্র ও দুর্বলতা দুটোই। উনি মানুষ চিনতে ভুল করেন। আর উনি বাস্তবতা কম বোঝেন। মোমেন সাহেবের পরিশ্রম করার ক্ষমতা আপনারা কেউ জানেন? এটা অকল্পনীয়। বালকবুড়ো সবার জন্য। হাসান মাহমুদ। একেবারে অসংবেদনশীল, নেত্রীর দৈবগুণের উপর বসে পাল খাওয়া মানুষ, বাস্তবতার সাথে সংযোগহীন। আর একটা জিনিস খুব কষ্টকর। বিএনপি বা আওয়ামিলিগ কেউই পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে একটা শক্তিশালী মন্ত্রণালয় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাদের কার্যক্রম থেকে তা কোনওভাবেই প্রমাণিত হয় না। অথচ বাংলাদেশের বিপদআপদে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ছাড়া আর কিছুই নাই তার শিল্ড হিসাবে। তারপরও কেন এই মন্ত্রণালয়কে একটা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলার কোনও উদ্যোগ ছিল না বা নাই তা নিয়ে বাংলাদেশের সকল সচেতন মানুষের প্রশ্ন তোলা উচিত। যারা গালি দিতে আসবেন: আমি মন্ত্রী হবার প্রস্তুতি নিচ্ছি: তাদের জন্য। বাংলাদেশের এখানে সেখানে যে সব লোক মন্ত্রী হবার জন্য ঘাপটি মেরে বসে আছে তাদের কেউ এই ভাবে লিখবে? তারাতো ফেইসবুকেই লিখবে না। আমি আমার চাকরিতে ফিরতে পারলেই খুশি। আর আমার পরিকল্পিত বইগুলি লিখে শেষ করতে পারলে। আমি চাই বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক আধুনিক এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ও জাতিতে পরিণত হোক।
#প্রথমালো