15/02/2026
আগে গণভোট পরে দলীয় ইশতেহার। গণভোটের প্রশ্নে বলা আছে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে প্রাপ্ত ভোটের শতকরা অনুপাতে। “হ্যাঁ” পাশ করানোর মাধ্যমে জনগণ প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ— এই সংস্কারকে আলিঙ্গন করেছে। সর্বোচ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত সরকারও এইটাকে বাস্তবায়ন না করে পারবে না৷
বিএনপির একদল অতিপণ্ডিত অ্যাক্টিভিস্টরা প্রচার করছেন উচ্চকক্ষ হবে বিএনপির ইশতেহার মোতাবেক আসনের অনুপাতের ভিত্তিতে।
না, আপনি এটা পারবেন না। আপনি আপনার ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে চাইলে আগে গণভোটের ফল বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
এটাই হবে নতুন সাংবিধানিক বিধি। এই সাংবিধানিক বিধির সংশোধনী আপনি আনতে পারবেন নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থনে। কিছুক্ষেত্রে গণভোট লাগবে (তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করতে চাইলে)।
এর অন্যথায় হওয়ার সুযোগ নাই। গণভোটের রায় লঙ্ঘন করে যারা বিএনপিকে তাদের ইশতেহার অনুসরণ করার ফরমায়েশ দিচ্ছে, তারা মূলত বিএনপির ঘরের শত্রু বিভীষণ৷ তারা বিএনপির আওয়ামী পরিণতি ডেকে আনতে চায়।
গোল্ডফিশ মেমরিওয়ালাদের স্মরণ করিয়ে দেয়া দরকার, ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক দল ও জনগণের আন্দোলনের ফসল ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটির সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হয়।
২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে ২০১১ সালে দুই-তৃতীয়াংশের দেমাগে এটি বাতিল করে দেয়। এক যুগ পর তীব্র এক গণঅভ্যুত্থানে পতনের মাধ্যমে ওই বাতিলকরণের ফলও ভোগ করে আওয়ামীলীগ।
ডিয়ার বিএনপি, আপনারা এখনো সরকার গঠন করেন নাই। অথচ এখনই বাজারে আলাপ ছেড়ে দিসেন গণভোট নয়, দলীয় ইশতেহার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে৷ ইহাকে বলে বিসমিল্লায় গলদ। এই গলদ দিয়ে যাত্রা শুরু কইরেন না, ভুগতে হবে।
প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে আপনাদের কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। নিম্নকক্ষে আপনাদের দুই-তৃতীয়াংশ আছে। শোকর করেন। অহেতুক ইগো দেখাতে যায়েন না। নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারের গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংযম দেখানো দরকার। সেটা দেখান। আখেরে ভালো হবে।
Sarwar Tusher