অলীক শতদ্রু

অলীক শতদ্রু নদী নয়, নদ -
ভালো নয়, বদ

বাশির থেকে বাশু। কিন্তু নামে কী যায় আসে, কাজেই আসল পরিচয়। ছোটবেলায় বিড়ালের মতো ছোট্ট বাশিরকে মা আদর করে বাশু ডাকতো। কলেজ...
14/05/2026

বাশির থেকে বাশু। কিন্তু নামে কী যায় আসে, কাজেই আসল পরিচয়। ছোটবেলায় বিড়ালের মতো ছোট্ট বাশিরকে মা আদর করে বাশু ডাকতো। কলেজে গিয়ে বন্ধুদের সাথে সিগারেট ফুঁকতে শুরু করে বাশু থেকে বাঁশী হয়ে গেলো। আর প্রথম প্রেমে ছ্যাঁকা খাওয়ার পর একসময়ের বন্ধু ও সহপাঠী প্রেমিকার কাছে রীতিমত বাঁশ হয়ে গেলো। অবশ্য কে কাকে বাঁশ দিয়েছে তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক এখনো ওঠে, কিন্তু বাশুর কাজকর্মের সাথে সাথে নাম পাল্টে যাওয়াটা একদম স্বাভাবিক ঘটনা বলেই মেনে নিয়েছে সে।

বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে গল্পবাজ আর দারুণ কল্পনাবিলাসী বাশু। ওদের পাঁচজনের ছোট্ট সার্কেলটা ঘুরতেও প্রচুর ভালোবাসে। সাথে যদি এডভেঞ্চারের সম্ভাবনা যোগ হয়, তাহলে তো পোয়াবারো এক্কেবারে। যদিও এডভেঞ্চারের খুঁজে বেরুলে দূরের গ্রামেগঞ্জে ঠিকটাক পৌঁছাতে পৌঁছাতেই আসল এডভেঞ্চার হয়ে যায়। জায়গামতো পৌঁছে ওরা অস্বাভাবিক কোনো এডভেঞ্চার আজ অবধি খুঁজে পায়নি। তবে টিমের একমাত্র বাঁচাল সদস্য হওয়া বাশু নিজ দায়িত্বে এডভেঞ্চার তৈরি করে, জায়গায়-বেজায়গায় বিপদ উৎপাদন করে। তারপর বাকি বন্ধুরা মিলেমিশে একেকজনের একেক প্রতিভা ব্যবহার করে সেইসব বিপদ থেকে উদ্ধার হয়। এই যেমন গত বছর ওরা সিলেটের সীমান্ত ধরে বিছনাকান্দি থেকে জাফলং হাইকিং করতে বেরুলো। সাথে পানি ছাড়া কোনো খাবার-দাবার কিছুই নেয়নি। “আরে, সিলেট ভাই এটা, এখানের সীমান্তের প্রতিটা জায়গা পর্যটন স্পট। দোকানটোকানের অভাব হবে না”-বাশু বলেছিলো।
যদিও শীতকাল, কিন্তু মাঠের পর মাঠ রোদে হাঁটতে হাঁটতে ওরা একপর্যায়ে ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত হয়ে গেলো। দিগন্তবিস্তৃত সবুজ আর সুন্দর প্রকৃতি দেখে দেখে তো পেট ভরে না। অবস্থা এমন হলো যে, এ ওরে দোষে, সে তারে গাইল্লায়, বকে। কিন্তু পুরো সুনসান সীমান্তে একটা খাবার দোকান নেই, রেস্টুরেন্ট নেই। তায় আবার অচেনা পথে নতুন কিছু আবিষ্কারের লোভে পান্তুমাই গ্রামের রাস্তা এড়িয়ে এসেছে ওরা, তাতেই তৈরি হয়েছে এই বিপদ।

এমন কঠিন অবস্থায় হঠাৎ করে একটা বিয়েবাড়ি দেখে ওদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেলো। গ্রুপে সানা ছিলো একমাত্র উপস্থিত বুদ্ধির লোক। সে বললো: চল, আজকে দাওয়াত ছাড়াই বিয়ে খাবো। বাড়ির মালিককে খুঁজে বের কর, বাকিটা আমি দেখতেছি।
তখন বাশু বাগড়া দিলো, কেন, মালিককে খোঁজার কী দরকার, মেহমান হয়ে খেতে বসে গেলেই হয়। সানা রেগেমেগে বললো, আমরা ঢাকা থেকে এসেছি, সিলেটী ভাষা আমাদের মধ্যে জানে কেউ? আমরা একটা শব্দ বললেই তো ধরা পড়ে যাবো। গ্রামের লোকের কৌতূহল কী জিনিস মনে নাই তোর?

বাশুকে থামিয়ে দিয়ে একটু এদিক-সেদিক তাকাতেই বাড়ির মালিক নয়, তবে মুরব্বি গোছের একজনকে পেয়ে গেলো ওরা। সানা গিয়ে সুন্দরভাবে সালাম দিয়ে ভদ্রলোককে তাদের হাইকিং বৃত্তান্ত বর্ণনা করলো। তারপর বিনা দাওয়াতেই মেহমান হবার আশা ব্যক্ত করলো।
এরপরের ঘটনা অবর্ণনীয় সুন্দর! ভদ্রলোক এতো আন্তরিকভাবে ওদেরকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেলেন যে, ওরা এমনটা ঘটবে তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি। প্যান্ডেল রেখে ভেতরের গেস্টরুমে নিয়ে বাথরুম দেখিয়ে হাতমুখ ধুয়ে নিতে বললেন। ওরা রেডি হতে হতে দেখে জম্পেশ খাবারদাবারও চলে এসেছে। সেই অজগরের খিদে নিয়ে ওরা এরপর কী পরিমাণ খেলো, তা তো আর বলে বুঝানোর মতো নয়। খেয়েদেয়ে ছবিটবি তুলে বাড়িওয়ালার ফোন নাম্বার নিয়ে সানারা বের হলো। আর বলে আসলো, ঢাকায় গেলে যে কাজেই হোক, অবশ্যই যেন উনারা ফোন করে তাকে। ঋণ পরিশোধ নয়, এতো সুন্দর মানুষদের সাথে বারবার দেখা হোক, এটাই তারা চায়.. এইসব বলেটলে অবশেষে বের হলো।

বাইরে বেরিয়ে সবাই সানার ভূয়সী প্রশংসা করলো। কিন্তু বাশু নিজেই নিজের প্রশংসা করে নিলো। এই অভিযানের আইডিয়াটা তার মাথাতেই এসেছিলো কি না। আর খাবারদাবার শহর থেকে কিনে না আনার প্লানও তারই ছিলো। খাবার কিনে আনলে এই বিয়ে কি আর খাওয়া যেতো? ইত্যাদি ইত্যাদি। সানারা আর কিছু বললো না। ওরা ধরেই নিয়েছে যে, কাজের সময় ছাড়া বাদবাকি সময় কথা বলার দায়িত্ব একমাত্র বাশুর। কী দরকার একজনের দায়িত্বে অন্য কারো বাগড়া দেবার?

এই বছর জুনে প্রচণ্ড গরম পড়েছে। চতুর্দিকে গরমের চোটে মানুষজন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। ওদেরও পরীক্ষাটরিক্ষা শেষ, কলেজে গেলে খেলাধুলা ছাড়া কাজ কিছু নেই। বাশুর পর রনির ব্রেকাপ হয়েছে সদ্য। বেচারা প্রতিদিন এসে মনখারাপ করে বসে থাকে। বাশু একপর্যায়ে বলে, আরে, প্রেমিকা থাকলেই তো সমস্যা। আমরা নিজেদের মতো কোথাও ঘুরতেটুরতে যাবো, সেটা নিয়েও ওরা মনখারাপ করে থাকে। সঙ্গে নিতে গেলে আরো তেতাল্লিশ হাঙ্গামা। এই তো সুযোগ, চল পালাই…
বাশুর কথাটা এতদিনে মনে ধরলো রনির। সেও সায় দিলো, চল, আজকেই বেরিয়ে পড়ি।
রনিকে উৎসাহে কথা বলতে দেখে বাকিরাও ওর দিকে ফিরে তাকালো। চোখে-চোখে তাকিয়ে একে অন্যকে যেন বললো, চল, বেচারা রনিকে ডিপ্রেশন থেকে বাঁচানোর জন্য হলেও কোথাও বেড়াতে যাওয়া যাক। কিন্তু কোথায় যাবে?

তখন রনি বললো, আমরা এবার একটা সত্যিকারের এডভেঞ্চার করতে পারি। সোর্স একদম সলিড, যদিও ওরা একটু রিলিজিয়াস আর সতর্ক মানুষ।
বাশু বললো, কী বলবি ভেঙে বল।
রনি বললো, দেখ, আমার স্কুললাইফের বন্ধু একটা আছে না; রাজন, তোদের সাথে দেখা হয়েছিলো একবার। ওর বাড়ি তো সুনামগঞ্জে, শনির হাওরের দিকে। সেই বলেছিলো। ওদের ওদিকে নাকি গত কয়েক মাস ধরে অদ্ভূদ কিছু ঘটনা ঘটছে। হাওরে ঢোকার আগে নদীর যে অংশটাতে স্লুইসগেট আছে, সেখানেই গত শীতকালে একটা লোক হারিয়ে গেছে। পুরো হাওরেও তাকে কোথাও আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায় নাই। মরেছে না বেঁচেছে তা কেউ জানে না, পুলিশও না।
বাশু বললো, হুমম, চিন্তার ব্যাপার। কিন্তু এ আর অদ্ভুত কী? ওরে হয়তো র‌্যাবে গুম করে দিছে।
রনি বললো, আরে না, বুঝস নাই কথাটা। ও তো ২০-৩০ জন লোকের সামনে নদীর ওই জায়গাতে ডুব দিয়েই নাই হয়ে গেছে।
এইবার সানা নড়েচড়ে বসলো। “ঘটনা ইন্টারেস্টিং!”-বললো সে।
“শুন”, রনি ওদের আটকায়। “এখানেও ঘটনা শেষ না।”
: এরপর থেকে ওই জায়গায় কেউ গোসল করতে নামলেই অস্বাভাবিক ব্যাপারস্যাপার নাকি ফিল করতেছে। কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া লাগছে। শীতকালে ওখানে পানি কম থাকে, কোমর সমান পানিতে এক লোক দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু নড়তে চড়তে পারছে না, যেন পানিতেই প্যারালাইজড হয়ে গেছে। গাঁয়ের লোকও ভয়ে নামে না, শেষে নৌকা নিয়ে গিয়ে ছেলেটাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিছে।
: এইবার মামা বহুত দিনে একটা ঘটনা বাইর করছস.. - বাশু বলে।
“কিন্তু রনি”, সানা বলে, “আমার দুটো প্রশ্ন, এক. এই ঘটনা তুই জানলি কবে, আর এই ব্যাপারে ডাক্তার ও পুলিশ প্রশাসনের কী বক্তব্য?”
রনি কিছুটা কাচুমাচু হয়ে বলে, “দ্যাখ ভাই, আমি এটা জেনেছি গত শীতেই। কিন্তু তোদেরকে বলিনি। বললেই তোরা যেতে চা’বি, আর বুঝসই তো…
“হ, হ” - রনিকে মাঝপথে আটকে হৈহৈ করে ওঠে বাশু। “তোমার প্রেমিকা এসব পছন্দ করে না তাই তুমি তোমার বন্ধুদের ওটা জানাওনি কারণ ওরা তোমাকে জোর করে ধরে নিয়ে যেতে চাইবে যেহেতু রাজন তোমার বন্ধু আর তুমি ওই নদীতে গিয়ে পড়ে মরে যাও তা তোমার প্রেমিকা কোনোভাবেই চাইতো না।” একনাগাড়ে বলে বাশু থামে। “কিন্তু এখন চায় সেটা। তাই তো?”
রনি এবার চোখ বড় বড় করে হেসে ওঠে, “আরে মামা, তাই তো। ও তো ব্রেকাপের আগে এই কথাই বলে গেছে, যা ওই নদীতে গিয়া ডুইবা মর.. হা হা হা। আমার এই কারণেই ব্যাপারটা এইভাতে এতো দ্রুত এবার মনে পড়লো…”
“এক্সপেরিয়েন্স মামা, এক্সপেরিয়েন্স!” বাশুর কথার ভঙ্গীতে রুমে থাকা বাকিরা এবার হো হো করে হেসে ওঠে। “চল মামা চল, বিড়ি খাই। খেতে খেতে বাকি আলাপ শোনা যাবে… এইবার একটা বিশাল এডভেঞ্চার আইতাছে…” বলতে বলতে ওরা হুড়মুড় করে দরজা টেনে বেরিয়ে পড়ে।
..........................................................................................................
অলীক শতদ্রু লিখিতং - এক সহস্র এক বঙ্গীয় রজনী

এটা পর্ব: ০০০১, অন্তত হাজার পর্ব লেখার ইচ্ছা ইনশাল্লাহ। পড়ে কেমন লেগেছে জানাতে ভুলবেন না। ..........................................................................................................

গুজারিশ নামে বলিউডের একটা সিনেমা আছে।এক প্যারালাইজড যাদুশিল্পী যার নাম ইথেন,যে তার মাথা ছাড়া আর কিছুই নাড়াতে পারেনা।সে স...
27/04/2026

গুজারিশ নামে বলিউডের একটা সিনেমা আছে।এক প্যারালাইজড যাদুশিল্পী যার নাম ইথেন,যে তার মাথা ছাড়া আর কিছুই নাড়াতে পারেনা।সে সেচ্ছামৃত্যু চায়।আত্মহত্যার জন্য তার প্রয়োজন হয় অন্য কাউকে।যে তাকে মৃত্যু দেবে।এর জন্যেই সে আদালতে যায়। রাষ্ট্র কাউকে স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার দেয়না। তাকেও হারতে হয়।সে কেস হারে।
কিন্তু শেষ পর্পর্যন্ত সে জিতে যায়,ভালোবাসা তাকে জিতিয়ে দেয়।প্রবল,প্রচন্ড,প্রগাঢ় এক ভালোবাসাযা তাকে মুক্তি দেয় এই যন্ত্রণার জীবন থেকে। উদযাপনের মধ্য দিয়ে সে নিজের মৃত্যুকে উদযাপন করে।

সেই সিনেমার'ই একটা দৃশ্যে ইথেনের কাছে তার শিক্ষানবিশ জানতে চায় তোমার করা প্রথম ম্যাজিক কি ছিলো?

ইথেন বলতে থাকে -আমার যখন সাত বছর আমি তখন প্রথম ম্যাজিক করি।আমার মা বারে গান গাইতেন।
আমরা ফ্ল্যাশব্যাকে দেখতে থাকি এক ক্রিসমাস সন্ধ্যায় তার মা যখন গাইছিলো ইথেন তখন ছোট্ট হাতে গ্লাস সার্ভ করছিলো।যাকেই করছিলো সবাই তার হাতে কয়েন গুজে দিচ্ছিলো।
অইদিকে গানের এক পর্যায়ে ইথের মায়ের গান বোরিং এই মর্মে তাকে অপমান করলে সে ব্যাকস্টেজে গিয়ে কাঁদতে থাকে।

ইথেন তার মায়ের কাছে গিয়ে বলে,শেক মি মামা।তার মা তাকে ঝাকাতেই বৃষ্টির মতো কয়েন ঝরে পড়তে থাকে।ইথেনের মা হেসে ফেলে।

ফ্ল্যাশব্যাক থেকে বর্তমানে ফিরলে ইথেনকে তার সেই শিক্ষানবিশ বলে-অহ তাহলে তোমার প্রথম ম্যাজিক ছিলো রেইনিং কয়েন।
ইথেন হেসে উত্তর দেয়,নাহ।আমার প্রথম ম্যাজিক ছিলো আমার মায়ের হাসি।

মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় ম্যাজিক সম্ভবত অন্যের জীবনে অর্থ তৈরি করতে পারা,একটা হাসি ফিরিয়ে দিতে পারা।
একটু দুঃখের মধ্যে সামান্য আলো ঢুকিয়ে দেওয়া। মানুষের যন্ত্রণা সবসময় বর্ণনাযোগ্য নয়।সব দুঃখের গল্পও তো থাকে না।

কখনও কখনও অস্তিত্ব নিজেই অসহনীয় হয়ে ওঠে।

বিষয়ের ভিন্নতার কারণেই গুজারিশ সিনেমাটা আমার ভালো লেগেছিলো।আত্মহত্যার উদযাপন আছে জাঁ-লুক-গদারের পিঁয়েরে লা ফো সিনেমাতে।বড় মনোরম দৃশ্যায়ন।

আরো একটা সিনেমা আছে আমার খুব কাছের।আব্বাস কিয়েরোস্তমির "টেইস্ট অফ দ্য চেরী"।

বাদি তেহরান শহরের রাস্তায় তার রেঞ্জরোভার নিয়ে বেরিয়েছে এমন কাউকে খুঁজতে, যিনি তার মৃত্যুর পর তাকে কবর দেবে। বিনিময়ে যেকোনো পরিমাণ অর্থ দিতে প্রস্তুত। পথে তিন জন মানুষকে সে প্রস্তাব দেয়—একজন সৈনিক, একজন ধর্মশিক্ষার্থী, এবং এক ট্যাক্সিডারমিস্ট (যারা প্রাণীদেহ সংরক্ষণকারী শিল্পী, যিনি মৃত পশু-পাখির দেহ (বিশেষত চামড়া) সংরক্ষণ করে।

সিনেমার কোথাও আমরা জানতে পারিনা বাদি কোথা থেকে এসেছে,কী সেই দুঃখবোধ যা তাকে এই সিদ্ধান্তে নিয়ে এসেছে।সে এক রহস্য যার সাথে আমরা পুরো সিনেমা জুড়ে খুঁজে বেড়াই।
কিছু সংলাপ ধরে আমরা কিছু র্দার্শনিক সিদ্ধান্তে হয়তো পৌঁছুতে পারি।

আমি সিনেমাটা দেখতে দেখতে ভাবছিলাম এমন একটা সিনেমার নাম কেন "টেইস্ট অফ চেরী"।তবে কী মৃত্যুকেই "চেরী" বলা হচ্ছে?

আমার ভুল ভাঙে।সিনেমার একটা দৃশ্যে এসে ট্যাক্সিডারমিস্ট বদিকে বলে।

"আমি তোমাকে একটা ঘটনা বলি। আমার বিয়ের ঠিক পরপরই ঘটনা। প্রচণ্ড দুঃখে ছিলাম, এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম যে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। এক ভোরে গাড়িতে একটা দড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আমি ঠিক করেই নিয়েছিলাম—মরে যাব।
আমি মিয়ান শহরের দিকে চললাম। ১৯৬০ সাল।
একটা চেরী বাগানে পৌঁছালাম। তখনও অন্ধকার।
দড়ি একটা গাছে ছুঁড়লাম, লাগল না। আবার ছুঁড়লাম—তবুও না।
তখন গাছে উঠে দড়ি বাঁধতে গেলাম। হঠাৎ দেখি, নরম কিছু একটা আমার হাতে লেগেছে—চেরী!
মিষ্টি, রসালো!
একটা খেলাম, ভালো লাগল। আরেকটা খেলাম, তৃতীয়টা খেলাম।
হঠাৎ দেখলাম, সূর্য উঠছে পাহাড়ের পেছন থেকে। কী অসাধারণ আলো, প্রকৃতি!
এর মধ্যে স্কুলে যাওয়ার পথে কিছু বাচ্চা এলো। তারা গাছ ঝাঁকাতে বলল।
ফল পড়ল, তারা খেল। আমি খুশি হলাম। কিছু চেরী বাড়িতে নিয়ে গেলাম।
আমার স্ত্রী তখনও ঘুমোচ্ছিল। যখন জেগে উঠল, তাকেও দেখালাম। ও শিশুদের মত খুশি হল।
আমি মরে যেতে চেয়েছিলাম, আর ফিরে এলাম চেরী নিয়ে।
চেরী আমাকে বাঁচিয়ে দিল।
একটা চেরী আমার জীবন বাঁচিয়েছে।

তুমি কি জীবনের সব কিছু ছেড়ে দিতে চাও? এমনকি একটা চেরীর স্বাদও?”

তবুও বদি নিজ হাতে খুঁড়ে রাখা কবরে শুয়ে পড়ে।তার কী হয়?

হয়তো পিঁপড়ের সারি এসে কামড়ে তার মৃত্যু ঘোর কাটায়,হয়তো পূর্ণিমার আলো এসে তাকে স্পর্শ করলে,সে রূপেই তার সিদ্ধান্ত বদলায়,
হয়তো যন্ত্রণাই তাকে গ্রাস করে।আমি ভাবি।
জানি না।এইটুকু অস্পষ্টই থেকে যায়।

© Anuvob Ahmed

লেখালেখি করে যারা, না খেয়ে মরে তারা—সমগ্র বাঙলায় এই বিষয়টা রীতিমত মন্ত্রসিদ্ধ এখন, খুব সহজে কেউ দ্বিমত করে না। কিন্তু আম...
26/04/2026

লেখালেখি করে যারা, না খেয়ে মরে তারা—সমগ্র বাঙলায় এই বিষয়টা রীতিমত মন্ত্রসিদ্ধ এখন, খুব সহজে কেউ দ্বিমত করে না। কিন্তু আমি দ্বিমত শুধু না, শতমত হইলাম। লেখালেখি করে যে আসলেই টাকা উপার্জন করা সম্ভব, এবঙ ভালো পরিমানেই সম্ভব, সেই বিষয়টা হাতেকলমে প্রমানের ইচ্ছে থেকেই এই সিরিজ শুরু করছি। এটি একসময় হয়তো বই আকারেও প্রকাশিত হতে পারে, তবে সবার আগে তো প্রয়োজন “লেখা”।
‘লেখালেখি করিয়া আয়-রোজগারের ১০০ উপায়’, এই হলো সিরিজ এবং বইয়ের নাম।

আমি নিজে লেখবো, ১০০টির মধ্যে কতগুলো উপায়ে আয় করতে সক্ষম হলাম, কী পরিমান আয় হলো আর তা দিয়ে আসলেও নিজের পেট চালানো সম্ভব কি না, এই সিরিজে এগুলোই ধীরে ধীরে প্রকাশিত হতে থাকবে।

আপনারা যারা শখের লেখক, ভালো গল্প বা কবিতা লেখেন, অথবা লেখতে পারেন ভালো, সেটা সামান্য ফেসবুক পোস্টই হোক; তারা আমার এই সিরিজের নিয়মিত পাঠক হতে পারেন। ভয় নেই, এই সিরিজের লেখাজোঁখা বিক্রি করা বা কোর্স বানিয়ে বেচাবিক্রির ধান্দা আমার নেই। বলতে পারেন, এটা একান্ত ব্যক্তিগত একটা চ্যালেঞ্জ।

একটা ব্যাপারে আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী। আমার লেখা পড়ে দুগোত্রে মারামারি বেঁধেছে বটে, কিন্তু বিরক্ত হয়ে লোকে গাল দিয়েছে, এমনটা সামনে ঘটেনি (পেছনে ঘটলে জানবো কী করে?)। উচ্চাভিলাশী লেখক সম্প্রদায় এবং বেকার পাঠক সম্প্রদায় প্রচুর উতসাহ দিলে— এই মিশনে, এই চ্যালেঞ্জে আমি সফল হবোই, ইনশাল্লাহ। আর আমার সাথে সাথে যদি আপনিও চলতে শুরু করেন, তবে সফল আপনিও হবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রথমত, লেখালেখি করে আয়-রোজগারের ১০০ উপায়ের অন্তত ৪০-৫০টা আমার জানা আছে, এর মধ্যে ১৫-২০টা উপায় ইতোমধ্যে প্রয়োগ করেও দেখেছি। বাকি জানা উপায়গুলোও শুরুর দিকেই প্রয়োগ করবো। সঙ্গত কারনেই শুরুতে কোনো কঠিন বিষয়ে হাত দিতে চাই না। ধীরে ধীরে অজানা, রিস্কি ও কঠিন পথে হাঁটা শুরু করা উচিত।

আমার প্রথম সমস্যা হচ্ছে আলসেমি। ধারনা করি, এই বৈশিস্ট্য অনেক লেখকেরই আছে, বিশেশত লেখার ব্যাপারে। এটাকে খারাপ বলছি না। তবে আলসেমিকে এমন প্রশ্রয় দেওয়া তো চলে না, যার কারনে আমার লেখকসত্তাকে আমি হারিয়ে ফেলবো..
অতএব, ১০০টি পর্ব লেখার জন্য আমি টানা ১০০ সপ্তাহ বা দুই বছর সময় নিলাম। এর বেশি সময় যদি অতিবাহিত হয়, তবে সেটাও আমার ব্যর্থতা, কারন পাঠক সমাজও একটা বই পড়ার জন্য চুলদাড়ি পাকাতে রাজি হবে না।

আচ্ছা, ২ বছর সময় নিয়ে একজন একটা বই লেখবে, আরেকটা লোক সেই বইটা কেন পড়বে, কেন ততদিন বসে থাকবে?
বিশয়টা আরো সোজাসাপ্টা বলি, ইচ্ছে হলে পড়বেন, নতুবা সময় নস্ট করা উচিত হবে না।

পয়েন্ট-১: একটা বই লেখা হবে। বিশয়: লেখালেখি করে ইনকাম কীভাবে করা যায়।

পয়েন্ট-২: লেখক নিজে লিখে ইনকাম করেন নাই। অন্য ইনকাম সোর্স থাকলেও লেখা থেকে নাই। অতএব, শূন্য থেকে তিনি নিজেও ইনকাম করে করে দেখাবেন।

পয়েন্ট-৩: সময় লাগবে ২ বছর।

পয়েন্ট-৪: এই দুই বছরে লেখক—লেখালেখি করে ন্যূনতম ১২ লক্ষ টাকা রোজগারের চেস্টা করবেন।

পয়েন্ট-৫: এই ১০০ পদ্ধতির কিছু কিংবা যতগুলো সম্ভব এপ্লাই করে যে কেউ নিজেকে “শখের লেখক” থেকে “পেশাদার লেখক” হিসেবে প্রতিশটিত করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

(নোট: সরাসরি টাকার উল্লেখ দৃস্টিকটু, রুচিহীনতা মনে হলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তবে মুখে এক আর পেটে আর-এক রাখা আমি সমীচীন মনে করছি না।
২৪ মাসে ১২ লাখ, এই সংখ্যাটা লেখকের ব্যক্তিগত। মাসে অন্তত ৫০ হাজার টাকা রোজগার আমার করা দরকার, তাই এটা বলা। আপনার জন্য সংখ্যাটা কয়েকগুণ বেশি বা কম হতে পারে।)

উঠোনসমুদ্র পাড়ি দিলাম। প্রথম পর্ব হলো না হয়তো, তবে ভূমিকা তো হলো।

পাঠক, বন্ধু, আগ্রহীজন—
অলীক শতদ্রুর এই নতুন সফরে আপনি যদি আগ্রহী হন, তবে মন্তব্যে জানাতে অবশ্যই ভুলবেন না। পুরো ১০০টি উপায় জানার আগ্রহ আপনার থাকবে, আর আমি লেখবো না, এমনটা ঘটলে কিন্তু দায় আপনারও। লেখকমাত্রই একমাত্র প্রশঙসার (নিন্দারও) কাঙাল।

আগ্রহ বা মতামত জানাতে পারেন সম্ভাব্য যেকোনো উপায়ে। কোনো পর্ব মিস করতে না চাইলে ইমেইল এড্রেসও দিয়ে রাখতে পারেন, যদি সাবস্ট্যাকের ইমেইল থেকে পড়ার অভ্যাস থাকে।

পুনশ্চঃ বেশ কস্টেসৃস্টে নতুন একটি বানানরীতিতে লেখার কোশেশ চালাচ্ছি। বানান ভুল হয়েছে মনে হলেও তা আদপে ইচ্ছাকৃত। এই বিশয়টা নিয়ে কথা বলবো ১০১ তম পর্বে ইনশাআল্লাহ, ততদিন আপনাদেরকে কস্ট করেই পড়তে হবে, যেহেতু কস্ট করে লেখার ব্যাপারটাও আমার ওপর দিয়ে যাচ্ছে।

ধন্যবাদ-সহ
অলীক শতদ্রু

আসেন, একটা সিনারিও কল্পনা করি। ছবিতে যাকে দেখছেন, ধরে নিন তিনি একজন ইজ্রাইলি সাংবাদিক। ধরে নিন, দুই দিন আগে তিনি তার সহক...
25/04/2026

আসেন, একটা সিনারিও কল্পনা করি।
ছবিতে যাকে দেখছেন, ধরে নিন তিনি একজন ইজ্রাইলি সাংবাদিক।

ধরে নিন, দুই দিন আগে তিনি তার সহকর্মীদের সাথে গাড়িতে করে লেবাননের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় গিয়েছেন খবর সংগ্রহ করতে।

ধরে নিন, সেই সময় হিযবুল্লাহ উনার গাড়িকে টার্গেট করে বোমা হামলা চালায়। হামলায় সাথে সাথে গাড়ির ভেতরের বাকী সবাই নিহত হলেও উনি আর আরেকজন সাংবাদিক কোনোরকমে গুরুতর আহত অবস্থায় গাড়ি থেকে বের হয়ে দ্রুত হামাগুড়ি দিয়ে আশ্রয় নেন রাস্তার পাশের একটা বাড়িতে।

ধরে নিন, সেই বাড়িতে ঢুকেই উনি দ্রুত উনার পরিবার ও কর্মস্থলে ফোন করে নিজেদের ক্রিটিক্যাল অবস্থা জানান।

ধরে নিন, এরপর এই ফোন পাওয়ার সাথে সাথে ইজ্রাইল জাতিসংঘের চ্যানেল দিয়ে লেবাননের সাথে যোগাযোগ করে অনুরোধ করে ঐ আহত দুইজনকে উদ্ধার করতে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীদের ঢুকতে অনুমতি দিতে, এবং যেন উদ্ধারের সময় আর টার্গেটেড আক্রমণ না করা হয়।

কিন্তু হিযবুল্লাহ উল্টা কী করলো?

উল্টা ঐ বাড়িতেই বোমা মারতে লাগলো! উদ্ধারকর্মীরা এগোতে থাকলে, তাদের উপর মেশিনগান দিয়ে গুলি চালাতে থাকলো।

এই গুলাগোলির ভিতর ছয় ঘণ্টা চেষ্টা করে দ্বিতীয় সাংবাদিককে কোনোরকমে প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও, লং স্টোরি শর্ট, ধরে নিন এই ছবির সাংবাদিককে আর উদ্ধার করা সম্ভব হলো না, এবং তিনি নিহত হলেন।

এবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো, এই ঘটনায় হিযবুল্লাহর প্রতি পৃথিবীর প্রতিক্রিয়া কেমন হতো?

স্ক্রিন খুলে যেখানেই চোখ রাখতেন, বড় বড় লাল কালিতে বোল্ড করে লেখা দেখতেন "War Crime!" "Targeting Journalists!" "Gross Violation of International Human Rights!" ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি!

এই শব্দগুলো দিনের পর দিন দেখতে দেখতে আপনার চোখ অন্ধ হয়ে যেতো না?
এই শব্দগুলো শুনতে শুনতে আপনার কান বধির হয়ে যেতো না?

জাতিসংঘে জরুরি মিটিং ডাকা হতো!
বিশ্বনেতারা তড়িঘড়ি করে সাথে সাথে টেলি-সামিটে বসে যেতেন!
মানবাধিকার সংস্থাগুলো তীব্র নিন্দা জানাতে থাকতো!

হিযবুল্লাহ যে কত বড় টেররিস্ট, কত বর্বর, কত আনসিভিলাইজড, এদেরকে যে শুধু থামানো না, সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে হবে সে দাবিতে ঝড় উঠে যেতো দুনিয়া জুড়ে।

এবং এর জের ধরে শুধু লেবাননই না, পাশের সিরিয়া, ইজিপ্ট, আর জর্ডানের অংশবিশেষের উপরও মুহুর্মুহু আক্রমণ করে দখল করে নেয়া জাষ্টিফাইড হয়ে যেতো!

এবার কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরে আসুন।

বাস্তবতা হলো, ছবির এই সাংবাদিক ইজ্রাইলি না, লেবানিজ। তার নাম আমাল খালিল।
আর তাকে খুন করেছে হিযবুল্লাহ না, ইজ্রাইলের IDF।

এবং বাস্তবে যেভাবে তাকে খুন করা হয়েছে, তা আমি যেভাবে কল্পনা করতে বললাম তার চেয়েও নির্মম, আরও ভয়াবহ, আরও মর্মান্তিক।

এবং এই খুন কোন বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা না, এটা ইজ্রাইলের খুবই কমন খুনের প্যাটার্ন। ঠিক এভাবেই হিন্দ রাজাবকেও খুন করেছিলো IDF।

কিন্তু তারপরও আপনি পুরা ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ডে, মুসলিম ওয়ার্ল্ডে, বা দুনিয়ার কোথাও ছাকনি দিয়ে খুঁজলেও টকশো গুলোতে, আলোচনাগুলোতে, পডকাষ্টগুলোতে কাউকে পাবেন না যে IDF এর সাথে ‘টেররিস্ট’ শব্দটা বলার মত সাহস রাখে।

উল্টো, IDF যা কিছু করে, ইজ্রাইল যা কিছু করে, সবকিছু, যতই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হোক না কেন, হয়ে যায় “security necessity।”

তাদের সমস্ত আগ্রাসন হয়ে যায় ‘প্রতিরক্ষা’।
অথচ, ইরান যদি নিজের সামুদ্রিক সীমার মধ্যে কোনো স্ট্র্যাটেজিক সিদ্ধান্ত নেয়, তাও হয়ে যায় আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন!

নিজেরা যখন বোমা মারে, টার্গেট করে করে সাংবাদিক, একাডেমিক, মেডিক্যাল প্রফেশনালদের খুন করে, হাসপাতাল-স্কুল ধ্বংস করে, তা হয়ে যায় “প্রয়োজন”; আর অন্যরা যখন সেই হামলার বিরুদ্ধে বাঁচতে রুখে দাঁড়ায়, তখনই চিৎকার ওঠে: মানবাধিকার গেলো! আন্তর্জাতিক আইন ভাঙলো!

পুরো দুনিয়া জুড়েই চলছে এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ও হোয়াইট ইম্পেরিয়াল সুপ্রিমেসী।

@ Farjana Mahbuba

আমার সাজেশন ফলো করে বাইসাইকেল কেনা ছেলে-মেয়ের সংখ্যা ৩১ অতিক্রম করলো মাত্র দেড় মাসে । প্রায় ডজনখানেক ছেলের বাইকও রয়েছে। ...
25/04/2026

আমার সাজেশন ফলো করে বাইসাইকেল কেনা ছেলে-মেয়ের সংখ্যা ৩১ অতিক্রম করলো মাত্র দেড় মাসে । প্রায় ডজনখানেক ছেলের বাইকও রয়েছে। দুজন মোটর বাইক সরিয়ে বাইসাইকেল ব্যবহার করছে । এরা প্রত্যেকে বসুন্ধরা, বারিধারা জে ব্লকের বাসিন্দা, মানে আমার পূর্ব ও বর্তমান এলাকার চেনা মুখ।

একটা আংকেল জানিয়েছে, বাইসাইকেল রাইড করায় রাতে ঘুমের জন্য আলাদা ওষুধ খেতে হয় না।

বনানীতে জব করা পলাশ ভাই আজ সকালে বললো, বাইকের জন্য তেলের লাইনে দাঁড়াতে হতো ১০ দিন আগেও, গুলশানের দুইটা সিগনালে সময় যেতো। বাইসাইকেল হওয়ায় ফুটপাতে উঠলেও পুলিশ কিছু বলে না, ট্রাফিক সিগনালেও সমস্যা হয় না, আগের চেয়ে পাঁচ-দশ মিনিট দেরি করে বের হলেও সময়ের আগেই অফিসে পৌঁছাই। গত এক সপ্তাহে টেনশন ফ্রি চলাচল করছেন।

পলাশ ভাই বললেন, আরো দুই বছর আগে সাইকেল কেনা দরকার ছিল। লাইসেন্স নিয়ে রাস্তায় ঝামেলা হয় না।

উনার ভাষ্য, "কর্পোরেট জীবনে গতি কমেছে, মানসিক জীবনে গতি বেড়েছে"।

উনার চোখ মুখ জ্বলজ্বল করছিলো আনন্দে, মনে হচ্ছিল কিছু একটা বিজয় করেছেন । একটা মানুষ সাইকেল পেয়ে এত খুশি হতে পারে সামনে না দেখলে বুঝতাম না :-)

আপনিও সাইকেল কিনুন। রাইডিং পেশায় না থাকলে সাইকেলের মাধ্যমে যাতায়াত করুন, রাতের ঘুমকে সহজ করুন, সুস্থ জীবন কাটান।

© Mehedi Hasan

দেখিতে সুন্দরী কন্যা পরথম যৌবন |কিঞ্চিত্ করিব তার রূপের বর্ণন ||চান্দের সমান মুখ করে ঝলমল |সিন্দুরে রাঙ্গিয়া ঠুট তেলাকুচ...
24/04/2026

দেখিতে সুন্দরী কন্যা পরথম যৌবন |
কিঞ্চিত্ করিব তার রূপের বর্ণন ||
চান্দের সমান মুখ করে ঝলমল |
সিন্দুরে রাঙ্গিয়া ঠুট তেলাকুচ ফল ||
জিনিয়া অপরাজিতা শোভে দুই আখি |
ভ্রমরা উড়িয়া আসে সেই রূপ দেখি ||
দেখিতে রামের ধনু কন্যার যুগল ভুরু |
মুষ্টিতে ধরিতে পারি কটিখানা সরু ||
কাকুনি সুপারি গাছ বায়ে যেন হেলে |
চলিতে ফিরিতে কন্যা যৌবন পরে ঢলে ||
আষাঢ় মাস্যা বাশের কেরুল মাটি ফাট্যা উঠে |
সেই মত পাও দুইখানি গজন্দমে হাটে ||
বেলাইনে বেলিয়া তুলিছে দুই বাহুলতা |
কণ্ঠেতে লুকাইয়া তার কোকিলে কয় কথা||
শ্রাবণ মাসেতে যেন কাল মেঘ সাজে |
দাগল-দীঘল কেশ বায়েতে বিরাজে ||
কখন খোপা বান্ধে কন্যা কখন বান্দে বেণী |
কূপে রঙ্গে সাজে কন্যা মদনমোহিনী ||
অগ্নি-পাটের শাড়ী কন্যা যখন নাকি পরে |
স্বর্গের তারা লাজ পায় দেখিয়া কন্যারে ||
আযাইঢ়া জোয়ারে জল যৌবন দেখিলে |
পুরুষ দূরের কথা নারী যায় ভুলে ||

কমলা (রচয়িতা দ্বিজ ঈশান), মৈমনসিংহ গীতিকা

চিত্রকর্ম : শিল্পী শম্ভু আচার্য্য

ইরানি প্রবাদOযখন একটি গাছ ভেঙে পড়ে, সবাই সেই শব্দ শুনতে পায়; কিন্তু, একটি গাছ বেড়ে ওঠে নিঃশব্দে। Oসাপ ধরতে ব্যবহার করো ত...
24/04/2026

ইরানি প্রবাদ

O

যখন একটি গাছ ভেঙে পড়ে, সবাই সেই শব্দ শুনতে পায়; কিন্তু, একটি গাছ বেড়ে ওঠে নিঃশব্দে।

O

সাপ ধরতে ব্যবহার করো তোমার শত্রুর হাত।

O

যখন মোক্ষম সময় আসে, শিকারই শিকারী হয়ে ওঠে।

O

একই সাথে খোদা ও খেজুর চেয়ো না।

O

যতো দূর দেখা যায়, ততো দূর যাও; তারপর আরো দূরে দেখতে পাবে।

O

সাপ যখন বৃদ্ধ হয়ে পড়ে, ব্যাঙও উপহাস করে।

O

যদি তুমি অন্ধের শহরে প্রবেশ করো, নিজের চোখ ঢেকে নিয়ো।

O

সত্যিকারের কবর তো মাটিতে নয়, থাকে মানুষের বুকে।

O

দুটো তরমুজ তুমি এক হাত দিয়ে তুলতে পারবে না।

O

দেখতে গোলাকার হলেও, সবটাই আখরোট নয়।

O
পড়শির মুরগিকে সবসময়ই রাজহাঁস মনে হয়।

O
জ্ঞানী লোক সবসময় বসে নিজের গালিচার ছিদ্র হয়ে যাওয়া জায়গাটায়।

O
যখন দুর্ভাগ্য আসে, এমনকি মোরব্বা খেতেও তোমার দাঁত ভেঙে যেতে পারে।


~ অনুবাদ: হিজল জোবায়ের

চরকিতে “আড়াল” নামের মুভিটা দেখলাম। মনে হলো, গত কয়েক বছরে দেখা একমাত্র সিনেমা যেন, যেটা নিয়ে দুকথা বলা যায়।সৈয়দ ওয়ালীউল্ল...
24/04/2026

চরকিতে “আড়াল” নামের মুভিটা দেখলাম। মনে হলো, গত কয়েক বছরে দেখা একমাত্র সিনেমা যেন, যেটা নিয়ে দুকথা বলা যায়।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র “চাঁদের অমাবস্যা” উপন্যাসের নির্যাস যেন এই পরিমিত সিনেমাতে স্পষ্ট। অস্তিত্ববাদের এমন প্রবল সিনেম্যাটিক রূপ বাংলায় আর হয়েছে কি? আমি অন্তত জানি না।

অস্তিত্ববাদ এখানে উপন্যাসের কঠিন মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্ধ ছেড়ে সিনেমা হয়ে ওঠে, যখন এক পাগল আর পাগলরে জিগায়, এখানে মাটি খুড়স ক্যান, কী খুঁজস?
অন্য পাগলটি বলে, সত্য, সত্য খুঁজি।
প্রথম পাগলটির শেষ ডায়লগটিই এই কঠিন মনস্তাত্ত্বিক লড়াইকে সিনেমার সহজবোধ্যতায় নামিয়ে আনে—“সত্য, ওই খানকির পোলারে আমিও খুঁজি”। ব্যস

নাজমুল নবীন তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজটি করে ফেলেছেন। এবং প্রীতম হাসানও সম্ভবত... শুভকামনা উভয়ের জন্য।

গুলশানের এই বাড়িটার মূল্য শ কোটি টাকার বেশি বৈ কম হবেনা তারপরেও গেটটার এত জীর্ণ দশা কেন? এমনই প্রশ্ন আমার এক বন্ধুর! অথচ...
24/04/2026

গুলশানের এই বাড়িটার মূল্য শ কোটি টাকার বেশি বৈ কম হবেনা তারপরেও গেটটার এত জীর্ণ দশা কেন? এমনই প্রশ্ন আমার এক বন্ধুর! অথচ এই ভিন্টেজ কাঠের গেটখানা দেখে আমি মুগ্ধ! এইখানেই মানুষভেদে রুচির ফারাক হয়। এই বাড়ির মালিক হয় আগের গেটটা প্রিজার্ভ করছেন বা এন্টিক হিসেবেই এই গেটখানা কিনে এনে নিজ গৃহে স্থাপন করেছেন। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নয়, ম্যাটার করেছে সৌন্দর্যবোধ!

© অপু নজরুল

Address

Madaripur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অলীক শতদ্রু posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share