ঘোর অন্ধকার রাত্রি শেষ করেই তবেই না দেখা মেলে লাল টুকটুকে রক্তিম আভা ছড়ানো সোনালী রবির। আগে অন্ধকার না সূর্য আমি সেই তর্কে যাবো না। আমি এখানে একটা কথা বলতে চাই যে, আমাদের সঠিক পথে চলতে গেলে অবশ্যই আলোর দরকার। কেননা আলো ছাড়া অন্ধকারে বেশী দুর পথ চলা যায় না। তাই বলে যদি ভাবেন আলো মানে লন্ঠন কিংবা বিদ্যুতের বাতির আলো, তাহলে ভুল করবেন। কেননা পথ কিন' আমরা সবাই চলতে পারি। সেই সবার পথ চলা কিন' এক রকম নয়।
যদি আপনি ভালো ভাবে পরিস্কার করে অবলোকন করেন তবেই বুঝতে পারবেন। কারন ভালো ভাবে পরিস্কার করে না দেখলে আসরে কোন কিছু সম্পর্কে ভালো ভাবে সুস্পষ্ট ধারণা কিংবা বোঝা যায় না। আমি আমার লেখায় প্রথমেই আলোর কথা বললাম, কারণ আমরা আর অন্ধকারে পথ চলতে চাই না।অনেক তো হলো অন্ধকার নিয়ে আমাদের পথ চলা। আসুন না আমরা এবার সবাই মিলে আলোর মাঝে আগামীর সুন্দর এবং সঠিক পথে পথ চলি। আপনি যদি ভেবে থাকেন যে, একাইতো পথ চলা যায়, তবে কেন সবাইকে ডাকা? তাহলে আমি আবার আরেকবার সেই পুরনো উক্তি বলতে চাই - “দশের লাঠি একের বোঝা।” তবে কেন আমরা সহজ একটা কাজকে একা একা কঠিন করে তুলবো? পৃথিবীর সৃষ্টি হতে অদ্যাবদী কোন প্রকার কাজ একা একা হয়নি বা সম্ভম নয়। লেখার প্রথমে আলো দিয়ে শুরু করলাম আর এখন বলছি সবাই মিলে কাজ করার বা ঐক্যের কথা। তারও কারণ আছে- আলোর কথাই যদি ধরি আলো কিন' একাএকা জ্বলতে পারে না । তাই এখানে আলোর কথা বলতে গিয়ে ঐক্যের কথা বলা। আলো অবশ্যই লাগবে পথ চলতে গেলে আর সেই আলো হলো - “শিক্ষার আলো।”শিক্ষার আলো আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দরকার। বর্তমান সভ্যতার এই স্বর্ন যুগে শিক্ষা বিহীন পথ চলার কথা চিন-াই করা যায় না। একটা সময় ছিল যখন মানুষ বর্বর ছিল।শিক্ষা কি তারা বুঝতো না। আসে- আসে- মানুষ বুঝতে পারলো আসলে এইভাবে চলতে পারেনা কিংবা এটা কোন জীবন হলো না। তারপর থেকে মানুষ সভ্যতার দিকে অগ্রসর হতে থাকলো। সভ্যতার দিকে অগ্রসর হতে হতে আজ আমরা বা আজকের বিশ্ব এই অবস'ানে দাড়িয়ে।এর পিছনে মূলত কাজ করেছে আলো মানে আমি বলকে চাচ্ছি শিক্ষার কথা। শিক্ষাই মানুষকে বর্বর জাতি থেকে আজকের এই অবস'ানে আসন দিয়েছে। তাই আমি আবারো দৃঢ়তার সাথে বলবো বা বলতে চাই আলোর দরকার, হ্যাঁ আমাদের শিক্ষার আলোর দরকার। প্রদীপ জ্বেলে যদি ঘরের অন্ধকারকে দুর করা যায়, তবে আমরা কেন শিক্ষার আলো জ্বেলে আমাদের বিবর্ণ জীবনকে আলোকময় রঙ্গিন করতে পারবো না? অবশ্যই পারবো। আসুন না সবাই মিলে এক হই। শিক্ষার আলোটাকে সবার অন-রে জ্বালি, মনের অন্ধকার দুর করি। নিজে আলোকিত হই, আলোকিত করি সমাজটাকে, দেশটাকে সারাবিশ্বটাকে। আসুন বই পড়ি। ভাবতে পারেন হঠাৎ করে বই পড়ার কথা কেন বললাম? শিখতে হবে ঠিক আছে। কোথা হতে শিখবো, কি ভাবে শিখবো প্রশ্ন কিন' একটা থেকেই যায়? হ্যাঁ অবশ্যই প্রশ্ন আছে। আর হ্যাঁ শিখতে হলে বই পড়তে হবে। শেখার জন্য পড়ার কোন বিকল্প নেই। শুধু যে বই পড়তে হবে এমন নয়, আসলে পড়ার ভিতরে পড়া অনেক আছে, আমরা সব সময় ভালোটাই গ্রহণ করবো। আসলে সবার কাছে কি সব বই থাকে? এক এক করে যদি যার যতটুকু আছে এক জায়গায় করি তাহলে কিন' অনেক হয়ে যায়। ক্ষুদ্রের থেকেই অনেক বড় কিছুর সৃষ্টি। আমি বা আমরা চেষ্ঠা করেছি এক এক করে অনেকের সমষ্টি করার। বই জ্ঞানের ভান্ডার আর লাইব্রেরী বইয়ের ভান্ডার। আমরা সবার মাঝে জ্ঞানটাকে ছড়িয়ে দিতে চাই। তাইতো আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস বৃহত্তর স্বার্থ নিয়ে জ্ঞানের আলো নিয়ে পথ চলুক মানুষ। আমাদের পথ চলা আলোর প্রয়াস নিয়ে “উৎরাইল ছাত্র মিতালী পাঠাগার” সবার জন্য আলোর ফোয়ারা।