Krishibid Moshiur

Krishibid Moshiur কৃষি ও কৃষকের জন্য

আপনি আপনার ফসলী জমিতে চুন কেন প্রয়োগ করবেন?জমিতে কোন ধরনের চুন প্রয়োগ করবেন? শতকে কত কেজি চুন প্রয়োগ করবেন? আসুন জেনে ...
17/11/2025

আপনি আপনার ফসলী জমিতে চুন কেন প্রয়োগ করবেন?
জমিতে কোন ধরনের চুন প্রয়োগ করবেন?
শতকে কত কেজি চুন প্রয়োগ করবেন?

আসুন জেনে নেই জমিতে চুন প্রয়োগের উপকারিতা-

ডলোচুন হলো এক ধরনের সাদা পাউডার জাতীয় দ্রব্য। এটিকে ডলোচুন, ডলোঅক্সিচুন বা ডলোমাইট পাউডারও বলা হয়। ফসল উৎপাদনে হাজারো সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো মাটির তীব্র অম্লতা বা এসিডিটি সমস্যা। প্রতিনিয়ত অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ব্যবহারের মাধ্যমে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মাটির অম্লত্ব বা এসিডিটি। এই সমস্যায় থেকে উত্তরণের উপায় হলো জমিতে সুপারিশকৃত মাত্রা অনুসারে ডলোচুনের ব্যবহার।
মাটির অম্লত্বের তীব্রতা নির্ধারণ করা হয় মাটির অম্লমান বা পিএইচ দ্বারা। মাটির অম্লমান সর্বাধিক ১৪ পর্যন্ত হতে পারে। মাটির অম্লমান ৭-এর নিচে বা কম হলে তা অম্লীয় মাটি। আর ৭-এর উপরে বা বেশি হলে তা ক্ষারীয় মাটি। অম্লমান-৭ থেকে যত কমতে বা নামতে থাকবে মাটি তত বেশি অম্লীয় হবে। আর মাটির অম্লমান ৫.৫ বা এর কম হলে তা তীব্র অম্লীয় মাটির পর্যায়ে পড়ে। ফলে সুপারিশকৃত মাত্রায় ডলোচুন ব্যবহার করলে তীব্র অম্লীয় মাটিকে সংশোধন করা যায়। ডলোচুনে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা তীব্র অম্লীয় মাটির অম্লত্ব হ্রাস করতে সহায়তা করে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, বৃহত্তর রংপুর, বৃহত্তর দিনাজপুর, বৃহত্তর সিলেট, বৃহত্তর চট্টগ্রাম, রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল, টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায় তীব্র এসিডযুক্ত মাটি রয়েছে।

ডলোচুনের সুপারিশকৃত মাত্রাঃ
অধিক অম্লীয় মাটিতে সুপারিশকৃত মাত্রা হলো শতকে ০৪ কেজি বা একরে ৪০০ কেজি বা হেক্টরে ১০০০ কেজি। কোনোভাবেই এর মাত্রা কম বেশি করা যাবে না। কোনো জমিতে একবার ডলোচুন প্রয়োগ করলে পরে তিন বছর আর ডলোচুন প্রয়োগ কয়ার প্রয়োজন হয় না।

ডলোচুন ব্যবহারের নিয়মঃ
কোনো জমিতে ডলোচুন প্রয়োগের আগে সুপারিশকৃত মাত্রা অনুসারে মোট ডলোচুনকে সমান দুইভাগে ভাগ করে নিতে হবে। জমির মাটিতে জো থাকা অবস্থায় উত্তর-দক্ষিণ বরাবরে অর্ধেক পরিমাণ ডলোচুন ছিটিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক পরিমাণ ডলোচুন পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বা আড়াআড়িভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। ডলোচুন প্রয়োগের সাথে সাথে আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কমপক্ষে ৭ দিন পর জমিতে প্রয়োজনীয় চাষ ও মই দিয়ে ফসল বুনতে বা গাছ রোপণ করতে হবে। ডলোচুন প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে বীজ বপন করলে বীজের অঙ্কুরোদগমের হার কমে যেতে পারে বা অঙ্কুরিত গাছের মূল ও কাণ্ডের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। জমি যদি শুকনা হয় বা রস কম থাকে তাহলে ডলোচুন ব্যবহারের নিয়ম হলো ফাঁকা জমিতে প্রয়োজন মতো ডলোচুন আড়াআড়িভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এরপর চাষ দিতে হবে। মই দিয়ে সমান করতে হবে। সাথে হালকা সেচ দিতে হবে। অতঃপর কমপক্ষে ৭ দিন পর জমিতে প্রয়োজনীয় চাষ ও মই দিয়ে ফসল বুনতে বা গাছ রোপণ করতে হবে।

ডলোচুন প্রয়োগের সময় ও ব্যবহৃত জমিঃ
সাধারণত বছরের যে কোনো সময় ডলোচুন প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে আমন ধান কাটার পরে ফাঁকা জমিতে বা রবি মৌসুমে ডলোচুন প্রয়োগের উত্তম সময়। ডলোচুন যেহেতু মাটির এসিডিটি বা অম্লতা সংশোধন করে মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করে, ফসল উৎপাদন উপযোগী করে তোলে তাই সব ধরনের ফসল গম, ভুট্টা, আলু, সরিষা, পাট, ডালজাতীয় ফসল, তেলজাতীয় ফসল, মসলাজাতীয় ফসল এবং শাকসবজি জাতীয় ফসলের ফলন বৃদ্ধি ও গুণগতমানের ফসল পাওয়ার জন্য অম্লীয় মাটিতে ডলোচুন ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডলোচুন ব্যবহারের সুবিধাসমুহঃ
🔸ডলোচুন প্রয়োগ করা সহজ, খরচ কম এবং বাজারে সহজলভ্য।
🔸গম, ভুট্টা, আলু, সরিষা, ডাল, মসলা ও সবজি জাতীয় ফসলের ফলন শতকরা ১০-৫০% বৃদ্ধি পায়।
ডলোচুন একবার প্রয়োগ করলে পরবর্তী ৩ বছর প্রয়োগ করতে হয় না।
🔸ডলোচুন একবার প্রয়োগ করলে ম্যাগনেসিয়াম সারের প্রয়োজন পড়ে না।
🔸ফসলের গুণগতমান বৃদ্ধি পায় যেমন আলুর স্কেব রোগ কম হয়, সবজি ফসলের রঙ উজ্জ্বল হয়, পাটের কালো পট্টি রোগ কম হয়।
জমিতে সমানভাবে ফসলের বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

ডলোচুন ব্যবহারে সাবধানতাঃ
ডলোচুন ব্যবহারে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে,যা নিম্নরূপ-
🔸সুপারিশকৃত মাত্রার অধিক পরিমাণ ডলোচুন প্রয়োগ করা যাবে না।
🔸ডলোচুন প্রয়োগের সাথে সাথে চাষ ও মই দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।
🔸মাঠে ফসল আছে এমন অবস্থায় ডলোচুন প্রয়োগ করা যাবে না।
🔸বেশি বাতাসের সময় ডলোচুন মাটিতে ছিটানো যাবে না।
🔸জমির দাঁড়ানো পানিতে বা কাদা অবস্থায় ডলোচুন প্রয়োগ করা যাবে না।
🔸মাটির অম্লীয় সমস্যা সংশোধনের জন্য সঠিকভাবে সুপারিশকৃত মাত্রা ও পদ্ধতিতে ডলোচুনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাপ্তিস্থানঃ
ডলোচুন বাংলাদেশের হাটবাজারে, বিশেষ করে সারের দোকানে বেশি পাওয়া যায়।

(সংগৃহীত-Agriculture Learning)

#চুন #ডলোচুন #ডলোমাইটপাউডার

আধুনিক উফশী ধানের জাত পরিচিতি ----ফলন: বিঘা প্রতি (৩৩ শতকে) #ব্রিধান_১০৮ (চাল চিকন ও মাঝারি লম্বা)জীবনকাল: ১৪৯-১৫১ দিনবি...
11/11/2025

আধুনিক উফশী ধানের জাত পরিচিতি ----

ফলন: বিঘা প্রতি (৩৩ শতকে)

#ব্রিধান_১০৮ (চাল চিকন ও মাঝারি লম্বা)
জীবনকাল: ১৪৯-১৫১ দিন
বিঘা প্রতি ফলন: ৩২-৩৪ মন।

#ব্রিধান_১০৭ (অতি লম্বা চিকন ও সাদা)
জীবনকাল: ১৪৮ দিন
বিঘা প্রতি ফলন: ২৭-৩২ মন।

#ব্রিধান_১০৫ > (চাল মাঝারি চিকন)
জীবনকাল: ১৪৮ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২৫-২৮ মন

#ব্রিধান_১০৪ > (চাল লম্বা চিকন ও বাসমতি)
জীবনকাল: ১৪৭ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২৫-২৯ মন

#ব্রিধান_১০২ > (চাল লম্বা ও চিকন, জিংক সমৃদ্ধ)
জীবনকাল: ১৫০ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২৮-৩০ মন

#ব্রিধান_১০১ > (চাল লম্বা ও চিকন)
জীবনকাল: ১৪২ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২৬-২৮ মন

#ব্রিধান_১০০ > (চাল মাঝারি চিকন চাল সাদা)
জীবনকাল: ১৪৮ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২২-২৫ মন

#ব্রিধান_৯৬ > (চাল লম্বা ও চিকন)
জীবনকাল: ১৪০-১৪৫ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২২-২৫ মন

#ব্রিধান_৯২ > (চাল লম্বা ও চিকন)
জীবনকাল: ১৫৬-১৬০ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২৮-৩২ মন

#ব্রিধান_৮৯>(চাল মাঝারি মোটা)
জীবনকাল: ১৫৪-১৫৮ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২৮-৩০ মন

#ব্রিধান_৮৮ > (চাল মাঝারি চিকন)
জীবনকাল: ১৪০-১৪৩ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২৫-২৮ মন

#ব্রিধান_৮৬ > (চাল লম্বা ও চিকন)
জীবনকাল: ১৪৫ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২২-২৫ মন

#ব্রিধান_৮৪ > (চাল চিকন ও লম্বা, জিংক সমৃদ্ধ)
জীবনকাল: ১৪০-১৪৫ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন ২৪-২৬ মন

#ব্রিধান_৮১ > (চাল জিরার মত লম্বা চিকন ও সাদা )
জীবনকাল: ১৪০ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২২-২৪ মন

#ব্রিধান_৭৪ > (চাল মাঝারি মোটা, জিংক সমৃদ্ধ)
জীবনকাল: ১৪৫-১৪৭ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২২-২৫ মন

#ব্রিধান_২৯ > (চাল লম্বা ও চিকন)
জীবনকাল: ১৬০ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২৮-৩০ মন

#বিনা_২৫>(চাল অতি লম্বা ও চিকন)
জীবনকাল: ১৩৮-১৪৮ দিন।
বিঘা প্রতি ফলন: ২৫-২৯ মন

20/10/2025
08/09/2025

DPN(Disease Preventive Nutrients)

#ধান গাছের ভিটামিন/পুষ্টি দ্রবণ/ম্যাজিক স্প্রে/ দ্রবণ কীভাবে তৈরি করে ব্যবহার করবেন A to Z জেনে রাখুন❓

🧪 দ্রবণ তৈরিতে কি কি উপাদান লাগে?
🔸 ১০ লিটার পানি
🔸 ৬০ গ্রাম MOP সার/কুইক পটাশ/ফাস্ট পটাশ
🔸 ৩০ গ্রাম সালফার ৮০%
🔸 ৩ গ্রাম চিলেটেড জিংক

✅ #কীভাবে DPN দ্রবণ তৈরি করবেন❓
প্রথমে একটি পাত্রে ১০ লিটার পানি নিবেন তারপর ঐ পানিতে ৬০ গ্রাম MOP সার ও ৩০ গ্রাম সালফার ৮০% এবং ৩ গ্রাম চিলেটেড জিংক ঢেলে দিয়ে একটি বাঁশের কাঠি দিয়ে নাড়াচাড়া করে সারের সম্পূর্ণ অংশ পানিতে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে গেল ধান গাছের মহামূল্যবান পুষ্টি দ্রবণ।

বিকল্প পদ্ধতিতে::এক গ্লাস পানিতে mop সার, এক গ্লাস পানিতে সালফার এবং এক গ্লাস পানিতে চিলেটেড জিংক গুলিয়ে নিয়ে ১০ লিটার পানিতে ঢেলে মিশ্রণ তৈরি করে নিতে পারেন।

✅ কীভাবে DPN দ্রবণ ব্যবহার করবেন ❓
ডিপিএন দ্রবণ সরাসরি ধান গাছে স্প্রে করা যাবে। ১০ লিটার দ্রবণ ৫ শতক জমিতে স্প্রে করা যায়। সোজা কথা ধান গাছ ভিজিয়ে ডিপিএন দ্রবণ স্প্রে করতে হয়।

✅ কখন ডিপিএন দ্রবণ স্প্রে করতে হবে❓
দুপুরের পর সন্ধ্যার আগে স্প্রে করাই উত্তম। বিশেষ করে দুপুর ২ টা থেকে বিকাল ৫ টার মধ্যে স্প্রে করার উত্তম সময়

✅ ধানের কোন স্তরে ডিপিএন দ্রবণ স্প্রে করা উচিৎ ❓
!) সুস্থ জমির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কুশি/কাইচ থোর অবস্থায় একবার স্প্রে করা যেতে পারে।
!!) বিএলবি রোগের লক্ষণ দেখা মাত্রই একবার ডিপিএন দ্রবণ এর ৭ দিন পর পূণরায় আরেকবার ডিপিএন দ্রবণ স্প্রে করুন
!!!) পাতা ব্লাস্ট লক্ষণ দেখা মাত্রই একবার ডিপিএন দ্রবণ এর ৭ দিন পর পুণরায় আরেকবার ডিপিএন দ্রবণ স্প্রে করুন
(এছাড়াও মার্চ-এপ্রিলের দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি সহ ঝড়ো হাওয়ার পরপর ডিপিএন দ্রবণ স্প্রে করলে উপকৃত হবেন)

✅ ডিপিএন দ্রবণ কী রোগ নাশক হিসেবে কাজ করে?
উত্তর: ডিপিএন দ্রবণ গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ফলে গাছ নিজে থেকেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে এবং দ্রুতই রোগের ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারে।

✅ ডিপিএন দ্রবণ স্প্রে করলে কি ব্লাস্ট রোগের জন্য ছত্রাকনাশক স্প্রে দরকার আছে❓
উত্তর: থোর অবস্থায় যদি পাতা ব্লাস্ট বা গিট ব্লাস্ট রোগ দেখা যায় তাহলে ছত্রাকনাশকের পাশাপাশি ডিপিএন দ্রবণ স্প্রে করলে খুব দ্রুত সময়ে ব্লাস্ট রোগ ১০০% দমন হয়ে যায়।

✅ ডিপিএন দ্রবণ স্প্রে করলে কি ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট রোগের জন্য ব্যাকটেরিয়ানাশক স্প্রে দরকার আছে❓
উত্তর:: ডিপিএন দ্রবণ স্প্রে করলে বিএলবি রোগের আক্রমণ থেমে যায় এবং যদি ১০০% না থামে তবে ধানের ফলনে কোন প্রভাব ফেলবে না।
বিএলবি রোগ দমনে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে কোন ব্যাকটেরিয়া নাশকের অনুমোদন দেওয়া হয় নাই।

✅ ডিপিএন দ্রবণ তৈরিতে কৃষকের খরচ কতো হতে পারে?
উত্তর: ৫ শতক জমির জন্য পুষ্টি দ্রবণ তৈরি করতে সর্বোচ্চ ৬-৮ টাকা খরচা হতে পারে।

✅ ব্লাস্ট রোগ দমনে অনুমোদিত ছত্রাকনাশকের জন্য নিকটস্থ উপজেলা কৃষি অফিসে এ যোগাযোগ করুন

DPN(Disease Preventive Nutrients)

#কৃষি

বালাইনাশক (পেস্টিসাইড/ইনসেক্টিসাইড/হার্বিসাইড) ব্যবহারের পর কতদিন পর ফসল খাওয়া নিরাপদ তা বোঝানোর জন্য ডায়মন্ড আকৃতির রঙ...
01/09/2025

বালাইনাশক (পেস্টিসাইড/ইনসেক্টিসাইড/হার্বিসাইড) ব্যবহারের পর কতদিন পর ফসল খাওয়া নিরাপদ তা বোঝানোর জন্য ডায়মন্ড আকৃতির রঙিন চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এটি আসলে Pre-Harvest Interval (PHI) বা ফসল কাটার আগে অপেক্ষার সময় নির্দেশ করে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বাংলাদেশে কৃষি বালাইনাশক বোতল/প্যাকেটের গায়ে ডায়মন্ড (♦) আকারের একটি চিহ্ন থাকে এবং তার ভেতরে বা নিচে নির্দিষ্ট রঙ দেওয়া হয়।
প্রতিটি রঙের সাথে নির্দিষ্ট সময়সীমা যুক্ত থাকে — এটি বলে দেয় ওই ওষুধ ব্যবহারের পর ন্যূনতম কতদিন অপেক্ষা করলে ফসল নিরাপদে খাওয়া যাবে।

রঙের অর্থ ও সময়সীমা
1. সবুজ রঙ (Green)
ন্যূনতম অপেক্ষা: ৭ দিন (১ সপ্তাহ)
অর্থ: কম বিষাক্ত, দ্রুত ভেঙে যায়, এক সপ্তাহ পর ফসল খাওয়া নিরাপদ।

2. হলুদ রঙ (Yellow)
ন্যূনতম অপেক্ষা: ১৫ দিন (২ সপ্তাহ)
অর্থ: মাঝারি বিষাক্ত, ফসল কাটার আগে অন্তত ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

3. নীল রঙ (Blue)
ন্যূনতম অপেক্ষা: ২১ দিন (৩ সপ্তাহ)
অর্থ: তুলনামূলক বেশি বিষাক্ত, ভেঙে যেতে সময় লাগে, অন্তত ৩ সপ্তাহ অপেক্ষা জরুরি।

4. লাল রঙ (Red)
ন্যূনতম অপেক্ষা: ৩০–৩৫ দিন (৪–৫ সপ্তাহ)
অর্থ: খুব বেশি বিষাক্ত, দীর্ঘ সময় ধরে ফসলের মধ্যে থেকে যেতে পারে, অন্তত ১ মাস বা তার বেশি অপেক্ষা করতে হবে।

কেন এই সময়সীমা মেনে চলা জরুরি
বালাইনাশকে থাকা রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ (Residue) মানবদেহে গেলে বিষক্রিয়া, দীর্ঘমেয়াদি রোগ, ক্যান্সার, স্নায়ুর সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে।

নির্দিষ্ট সময় পরেই রাসায়নিক ভেঙে যায় বা ক্ষতিকর মাত্রার নিচে নেমে আসে।

FAO এবং WHO-এর নির্দেশনা অনুসারে প্রতিটি দেশে সর্বোচ্চ অবশিষ্টাংশ সীমা (MRL) নির্ধারণ করা আছে।

প্রয়োগের সময় করণীয়
1. ওষুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই বোতল বা প্যাকেটের লেবেল ভালোভাবে পড়তে হবে।

2. ডায়মন্ড চিহ্নের রঙ দেখে PHI সময় মনে রাখতে হবে।

3. সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ফসল কাটা বা বাজারজাত করা যাবে না।

4. ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহার করে স্প্রে করতে হবে।

5. অবশিষ্ট ওষুধ ও খালি বোতল/প্যাকেট নিরাপদে ধ্বংস করতে হবে।

সংগৃহীত

22/07/2025

গ্রাম-বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য।

🌱 সবুজ সারে ধৈঞ্চা ভালো, মাটির প্রাণে আনে আলো 🌱কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সম্মানিত অতিরিক্ত পরিচালক ড. ...
22/07/2025

🌱 সবুজ সারে ধৈঞ্চা ভালো, মাটির প্রাণে আনে আলো 🌱

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সম্মানিত অতিরিক্ত পরিচালক ড. সালমা লাইজু স্যারের নির্দেশনায় মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ব্লকে সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা চাষ।

21/05/2025

কৃষি প্রযুক্তি মেলা -২০২৫

স্থান: শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ

তীব্র শৈতপ্রবাহে বোরো ধানের বীজতলা রক্ষার্থে কৃষক ভাইদের করণীয়
10/12/2024

তীব্র শৈতপ্রবাহে বোরো ধানের বীজতলা রক্ষার্থে কৃষক ভাইদের করণীয়

02/02/2024
ফসলের জমিতে বিষ(বালাইনাশক) স্প্রে করার কমপক্ষে কতদিন পর উক্ত জমির ফসল খাওয়া উচিত?বিষের বোতল/প্যাকেট এর গায়ে অংকিত হীরার(...
15/01/2024

ফসলের জমিতে বিষ(বালাইনাশক) স্প্রে করার কমপক্ষে কতদিন পর উক্ত জমির ফসল খাওয়া উচিত?

বিষের বোতল/প্যাকেট এর গায়ে অংকিত হীরার(🔸🔹🔺) মত চিহ্নের রং দেখে বোঝা যায় কোন বিষ স্প্রে করার কতদিন পর ফসল খাওয়া নিরাপদ-

✅সবুজ রং-কমপক্ষে ৭ দিন(১ সপ্তাহ)
✴হলুদ রং- কমপক্ষে ১৫ দিন(২ সপ্তাহ)
❇নীল রং- কমপক্ষে ২১ দিন(৩ সপ্তাহ)
🔺লাল রং- কমপক্ষে ৩০-৩৫ দিন(৪-৫ সপ্তাহ)

অথচ অনেকেই সকালে স্প্রে করে বিকেলে ফসল বাজারে বিক্রয় করতে চান। এতে মানুষকে বিষ খাওয়ানো ছাড়া আর কিছুই হয়না। কোন ধর্ম কখনোই - মানুষকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতে বা ক্ষতি করতে বলে না।

আবার অনেকে পণ্ডিতি করে বলে থাকেন- আগুনে জ্বাল দিয়ে তরকারি রান্না করলে বিষ ধ্বংস হয়ে যায়।তাদের জন্য কথা-একটি পাত্রে পর্যাপ্ত বিষ নিয়ে জ্বাল দিন,তারপর ইঁদুরকে খাওয়ান এবং দেখেন- ইঁদুর মরে নাকি সুস্থভাবে বাঁচে।অবশ্যই মরবে বা মাত্রা কম হলে অসুস্থ বোধ করবে।

দেড়যুগ আগেও যশোরের বেগুন চাষীরা এক মৌসুমে গড়ে ১৫০ বার(প্রায় প্রতিদিন) জমিতে বিষ স্প্রে করতো। অন্যান্য শাকসবজি উৎপাদন এর ক্ষেত্রেও সমগ্র বাংলাদেশের প্রায় একই চিত্র ছিল।
বিষ- ক্যান্সার,আলসার,হার্ট এ্যাটাক,স্ট্রোক,ডায়রিয়া, বমি,স্মৃতি শক্তি হ্রাস,বন্ধ্যাত্ব,গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি করে।
বর্তমানে চিত্রপট ধীরেধীরে বদলাতে শুরু করেছে।কৃষক,ক্রেতা,বিক্রেতা ও ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা আরো বৃদ্ধি,পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলমান রেখেছে কৃষি বিভাগ।

(মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরী,অতিরিক্ত কৃষি অফিসার,সুজানগর,পাবনা)

13/09/2023

ব্রি ধান১০৪ (সুগন্ধি প্রিমিয়াম কোয়ালিটি বাসমতি টাইপের বোরো মৌসুমের জন্য আধুনিক জাত)

Address

Kushtia

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Krishibid Moshiur posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Krishibid Moshiur:

Share