24/08/2020
بسم الله الرحمن الرحيم
শুরুতেই পবিত্র কুরআনুল কারীম থেকে কয়েকটি আয়াত পড়ে নেওয়া যাক..
(১)
আস-সফ ৬১:৪
اِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ الَّذِيْنَ يُقَاتِلُوْنَ فِيْ سَبِيْلِهٖ صَفًّا كَاَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَّرْصُوْصٌ
নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে যেন তারা সীসা ঢালা প্রাচীর।
(২)
আস-সফ ৬১:১০
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا هَلْ اَدُلُّكُمْ عَلٰي تِجَارَةٍ تُنْجِيْكُمْ مِّنْ عَذَابٍ اَلِيْمٍ
হে ঈমানদারগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসায়ের সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব থেকে রক্ষা করবে?
(৩)
আস-সফ ৬১:১১
تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَرَسُوْلِهٖ وَتُجَاهِدُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ بِاَمْوَالِكُمْ وَاَنْفُسِكُمْ ؕ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ۙ
তোমরা আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।
(৪)
আস-সফ ৬১:১২
يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ وَمَسٰكِنَ طَيِّبَةً فِيْ جَنّٰتِ عَدْنٍ ؕ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ ۙ
তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আর তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত এবং চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহে উত্তম আবাসগুলোতেও (প্রবেশ করবেন)। এটাই মহাসাফল্য।
(৫)
আস-সফ ৬১:১৩
وَاُخْرٰي تُحِبُّوْنَهَا ؕ نَصْرٌ مِّنَ اللّٰهِ وَفَتْحٌ قَرِيْبٌ ؕ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِيْنَ
এবং আরো একটি (অর্জন) যা তোমরা খুব পছন্দ কর। (অর্থাৎ) আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও নিকটবর্তী বিজয়। আর মুমিনদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।
(৬)
আলি ‘ইমরান ৩:১৪৬
وَكَاَيِّنْ مِّنْ نَّبِيٍّ قٰتَلَ ۙ مَعَهٗ رِبِّيُّوْنَ كَثِيْرٌ ۚ فَمَا وَهَنُوْا لِمَاۤ اَصَابَهُمْ فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ وَمَا ضَعُفُوْا وَمَا اسْتَكَانُوْا ؕ وَاللّٰهُ يُحِبُّ الصّٰبِرِيْنَ
আর কত নবী ছিল, যার সাথে থেকে অনেক আল্লাহওয়ালা লড়াই করেছে। তবে আল্লাহর পথে তাদের উপর যা আপতিত হয়েছে তার জন্য তারা হতোদ্যম হয়নি। আর তারা দুর্বল হয়নি এবং তারা নত হয়নি। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে ভালবাসেন।
বইটি সম্পর্কে:
-----------------
'আরব্য রজনীর নতুন অধ্যায়'
'আলিফ লায়লা' বা আরব্য রজনীর কথা নিশ্চয় স্মরণে আছে আপনাদের। পর্ব আকারে প্রচারিত হতো টেলিভিশনে। খুবই আগ্রহ আর উদ্দীপনা নিয়ে দেখা হতো সেসময়। রাজা শাহরিয়ার চরিত্রহীনা প্রথম স্ত্রীর প্রতারণার শিকার হয়ে প্রতিদিন একজন নতুন নারীকে বিয়ে ও বাসর রাতে সেই নারীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এসবই সে করতে চেয়েছিলো ছলনাময়ী নারীত্বকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য। কিন্তু চতুর রানী শেহেরজাদে সুদীর্ঘ এক হাজার এক রাত ব্যাপী বিস্তৃত গল্পের মাধ্যমে রাজা শাহরিয়ারকে বিমোহিত করে রাখেন। কেন? যাতে মৃত্যু এড়ানো যায় এবং রাজার মনে নারীর প্রতি বিশ্বাস ফিরে আসে। আরব্য রজনীর প্রতিটি গল্পই ছিলো রহস্যে ঘেরা, আঁকাবাঁকা, জটিল, উদ্দীপনাময়, পূর্ণ আগ্রহ হরণকারী। ঠিক একই রকমভাবে এই বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ে, প্রতিটি পৃষ্ঠা জুড়ে আল-কায়েদার নিজস্ব আরব্য রজনী গল্পের কিংবদন্তিতুল্য কিছু চরিত্রের পিছনের কাহিনী লেখক সাইয়্যেদ সেলিম শেহজাদ এমনভাবে উন্মোচিত করেছেন যা আপনাকে আঁকাবাঁকা, জটিল, দীর্ঘ, সত্য ও রহস্যে মুড়ানো একটি সফরে যাত্রা করাবে। যেখানে একটি রহস্যের শেষে অটোমেটিক্যালি আরেকটি রহস্যের সূচনা হয়ে যায়। সত্য উন্মোচিত হওয়ার পাশাপাশি আপনার সামনে মুখোশ খুলে খুলে পড়বে এযুগের হুবালদের, সহস্র মিথ্যাবাদী ও তাদের দোসরদের। ব্রেইন ওয়াশিং, ব্লেইমিং আর ফলস মিডিয়া প্রপাগান্ডার মাধ্যমে উম্মাহর প্রকৃত বীরদের, আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নকারী, নির্যাতিত উম্মাহর অধিকার মর্যাদা আর সম্মান আদায়কারীদের কিভাবে বিশ্ববাসীর সামনে চিহ্নিত করেছে 'সন্ত্রাসী' 'জঙ্গী' 'উগ্রবাদী' 'মৌলবাদী' 'মানবতার শত্রু' 'নিরপরাধের হত্যাকারী' হিসেবে তাও পরিষ্কার হয়ে যাবে। পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠবে উম্মাহর গাদ্দারদের চেহারা। বইটির শেষ পৃষ্ঠা যখন আপনার পড়া শেষ হবে তখন আপনি নিজেই এক অপরাধবোধে ভুগবেন। সত্য না জেনেই, সত্য যাচাই না করেই কিভাবে খুব সহজেই ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের সহযোগী হয়েছিলেন! বিভিন্ন অপবাদ আর ট্যাগ ছুড়ে দিয়েছিলেন বর্তমান জামানার প্রকৃত বীরদের প্রতি! কতটা কণ্টকাকীর্ণ রক্ত রঞ্জিত পথ মাড়িয়ে, সহস্র ত্যাগ স্বীকার করে 'বর্তমানে' পৌছেছে উম্মাহর বীরেরা! কিভাবে অব্যাহত আছে এই যাত্রা!
আরব্য রজনীর নতুন অধ্যায়ের নতুন চরিত্র হতে আপনিও পুরোদমে অস্থির, উজ্জীবিত, দৃঢ়প্রত্যয়ী হয়ে উঠবেন ইনশাআল্লাহ।
লেখক সাংবাদিক সাইয়্যেদ সেলিম শেহজাদ সম্পর্কে জানতে 'নির্ভীক সত্যান্বেষী' নামে সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি আনা হয়েছে বইটিতে। সেখান থেকেই কয়েকটি লাইন হুবুহু তুলে দিচ্ছি,
// তাঁর লেখা বক্ষ্যমাণ এই বইটি প্রকাশিত হয়েছিলো 'Inside Al-Qaeda and the Taliban : Beyond Bin Laden and 9/11' নামে, তাঁর মৃত্যুর ছয় মাস আগে। ২০১১ ইং সালের মে মাসে উসামা বিন-লাদেনকে পাকিস্তানের এবোটাবাদ অপারেশনে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর সশস্ত্র যোদ্ধারা হামলা চালায় পাকিস্তানের বিখ্যাত মেহরান এয়ারবেইসে। ধ্বংস করে দেয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিমান। সাইয়্যেদ সেলিম শেহজাদ একটি কলামে এই হামলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এবং প্রকাশ করেন যে, এই হামলা পরিচালনা করেছে আল-কায়েদা মিলিটারি কমান্ডার ইলিয়াস কাশ্মীরির নেতৃত্বাধীন '৩১৩ বিগ্রেড'। সেলিম শেহজাদ দাবি করেন যে গ্রুপটি পাকিস্তান নেভির কিছু সেনার সহযোগীতায় এই হামলা চালিয়েছিলো। তাঁর সেই কলামটি প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁকে ইসলামাবাদ থেকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI (Inter-Services Intelligence) তুলে নিয়ে যায়। দুই দিন পর ৩১ শে মে, মান্ডি বাহাউদ্দিন জেলার একটি ড্রেণে তাঁর বিধ্বস্ত লাশ পাওয়া যায়। //
কী ছিলো নির্ভীক সত্যান্বেষী সেলিম শেহজাদের অনুসন্ধানে? কেমন বিস্ফোরক তথ্যের কারণে ISI তাঁকে হত্যা করতে পাগল হয়ে উঠেছিলো?
বইটিতে আলোচিত হয়েছে অবিশ্বাস্য সেই কাহিনী, যা অনায়াসে হার মানায় আরব্য রজনীর গল্পকেও।
বইটিতে উপসংহারসহ রয়েছে আটটি অধ্যায়। প্রতিটি অধ্যায় একেকটি রহস্য, একেকটি আঁকাবাঁকা জটিল যাত্রা। যেই যাত্রায় আপনার অনুভূতি সবসময় তুঙ্গে থাকবে।
বইটির এই 'অধ্যায়বিন্যাস' আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে। এই অধ্যায়বিন্যাসের ফলে ফুটে উঠেছে বইটির সৌন্দর্য। খুব সতর্কতার সাথে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে৷ আগেই বলেছি রহস্যের এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রতিটি অধ্যায় সম্পূর্ণ দৃশ্যপট ফুটিয়ে তুলেছে দারুণভাবে৷
এছাড়াও বইটির যা যা আমার ভাল লেগেছে,
- বুক কভার ডিজাইন
- বাইন্ডিং
- পৃষ্ঠা
- পৃষ্ঠা সজ্জা
- টীকা
- অধ্যায়ের হেডিং বোল্ড ফ্রন্ট স্টাইল
- ফ্রন্ট সাইজ
- সহজ সরল প্রচলিত অনুবাদ
আসলে এখানে লিখতে হলে বা কোট করতে হলে সম্পূর্ণ বইটায় কোট করতে হবে। বইয়ের প্রতিটা অধ্যায় আমার ভাললাগার, প্রতিটা পরিচ্ছেদ আমার ভাললাগার। কোনটা রেখে কোনটা তুলে আনবো! কষ্টকর, তারপরেও প্রতিটি অধ্যায় থেকে ভাললাগার পরিচ্ছেদগুলোর নাম এখানে উল্লেখ করে দিচ্ছি,
° প্রথম অধ্যায়
- আগুন নিয়ে খেলা!
- নয়া প্রজন্ম, নয়া কৌশল
° দ্বিতীয় অধ্যায়
- ময়দানে নতুন খেলোয়াড়
- তালেবানের নতুন কর্মপন্থা
- আমেরিকার ক্রোধ
- লাল মাসজিদ ম্যাসাকার
- নতুন পেয়ালায় পুরনো মদ
° তৃতীয় অধ্যায়
- নেতৃত্ব গঠন
- ক্যাপ্টেন খুররাম শহীদ
- মেজর হারুনের আদর্শিক যাত্রা
- নতুন রুপে আল-কায়েদা
- সোমালিয়া ও ইয়েমেন : আল-কায়েদার ভাই
° চতুর্থ অধ্যায়
- ঈমান ও কুফরের বিভাজন
- তাকফির: সংঘর্ষের মূলনীতি
- যে সাহিত্য চিন্তা বিনির্মাণ করে
- ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ
° পঞ্চম অধ্যায়
- প্রতিরোধযুদ্ধের বৈধতা
° ষষ্ঠ অধ্যায়
- বিদ্রোহের সূচনা
° সপ্তম অধ্যায়
- ঈগলের বাসা তৈরি
- হিন্দুকুশের 'গেরিলা' জগত
- বিস্ময়কর গোলকধাঁধা
° অষ্টম অধ্যায়
- যুদ্ধের ময়দান
- পাকিস্তানের গাযওয়ায়ে হিন্দের স্বপ্ন!
- আল-কায়েদা যুদ্ধ ছড়ায়?
° উপসংহার
'আরব্য রজনীর নতুন অধ্যায়' বইটি প্রকাশিত হয়েছে একেবারেই নতুন একটি প্রকাশনী থেকে। এটিই তাদের প্রথম। প্রকাশনীর নাম হচ্ছে ইঙ্কলাইট (Inklight)।
বইটির অনুবাদ করেছেন চিরকুট টিম (নির্বাসনের চিরকুট) এর ভাইয়েরা।
প্রথম সংস্করণ : মার্চ, ২০২০
নির্ধারিত মূল্য : ৩৪০ টাকা মাত্র
বইটি থেকে..
বইটির 'খোরাসান' পরিচ্ছেদের ২৫ ও ২৬ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে,
// আল-কায়েদার লক্ষ্য হলো, সেই সময় আসার আগে বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোকে আফগানিস্তানের দুর্গম, কঠিন মাটিতে এক অসম্ভব যুদ্ধের ফাঁদে আটকে ফেলা। যার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো - পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে মধ্য এশিয়া থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত যুদ্ধের ময়দান বিস্তৃত করার আগেই তাদের শক্তিকে নিঃশেষ করতে বাধ্য করা।
৯/১১ এর হামলার কয়েক বছর পর, ২০০৯ এর অক্টোবরে, লস্করে তইয়্যেবার সদস্য, এবং গ্রেফতার হওয়া আমেরিকান নাগরিক ডেভিড হেডলির (David Headley) দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০০৮ এর ২৬/১১ মুম্বাই হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী কমান্ডার মুহাম্মাদ ইলিয়াস কাশ্মীরি, আমাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনার একটি ছবি তুলে ধরবছিলেন। তিনি বলেছিলেন,
"আমরা এই যুদ্ধের প্ল্যান করেছি বড় শয়তান (আমেরিকা) আর ওর মিত্রদের এই জলাভূমিতে (আফগানিস্তানে) আটকে ফেলার কথা মাথায় রেখে। আফগানিস্তান হলো বিশ্বের মধ্যে এমন এক বিরল জায়গা, যেখানে একজন শিকারীর ফাঁদ পাতার জন্য সব ধরণের সুযোগ রয়েছে। আমরা মনে করি, মরুভূমি, নদী,পাহাড়, এমনকি শহরাঞ্চলেও ফাঁদ পাতা সম্ভব।
আমরা সবচেয়ে বড় শয়তানের বৈশ্বিক চক্রান্তে বিরক্ত; আর আমরা ওর মৃত্যুর লক্ষ্যে কাজ করছি, যাতে এই দুনিয়াকে শান্তি ও ন্যায়ের জায়গাতে পরিণত করতে পারি। ঔদ্ধত্যে ঠাসা এই শয়তান (আমেরিকা) আফগানদেরকে অসহায় মূর্তির মতো ভাবে, যাদেরকে কোনোরকমের পাল্টা আক্রমণ কিংবা প্রতিশোধের হুমকি ছাড়াই সহজে চারদিক থেকে আমেরিকান যুদ্ধ মেশিনারি দিয়ে আক্রমণ করা যেতেই পারে।"
পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ২০০১ এ শুরু হওয়া আল-কায়েদার যুদ্ধের বীজ বপন হয়েছিলো ১৯৮০ এর দশকে দখলদার সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে এক দশক ধরে চলা জিহাদের সময়েই। //
চতুর্থ অধ্যায়ের 'ঈমান ও কুফরের বিভাজন' পরিচ্ছেদের ২১৫ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে,
★ এমন মুসলিম শাসক, যে কিনা কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে অন্য কোনো কাফির শাসকের (ইসলাম বিরোধী) নীতির সাহায্য সহযোগীতা করে, সে কি ইসলামি আকিদার দৃষ্টিতে মুসলিম থাকে? নাকি সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়?
★ ঐ সেনাবাহিনী কি মুসলিম, যারা কিনা জন্মসূত্রে মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে গঠিত, কিন্তু তারা সেই মুসলিম ভাইদের বিরুদ্ধে জুলুমরত, যারা কাফির সেনাবাহিনীর হামলা-আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত?
★ মুসলিম জনসাধারণ, যারা মুসলিমদের খিলাফাতের রাজনৈতিক নীতিমালাকে অস্বীকার করে, তার বিপরীতে পশ্চিমা লিবারেল গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, সোশ্যালিজম, কিংবা মানবরচিত অন্য কোনো ব্যবস্থার আনুগত্য করে, এমতাবস্থায় কি তারা মুসলিম থাকে? কিংবা কোনো কুফুরি শাসনব্যবস্থাকে গ্রহণ করে নেওয়ার পরও কি সে ইসলামি আকিদার ওপর থাকে?
★ সেই মুসলিমরা, যারা ইসলামি জীবনব্যবস্থা ত্যাগ করে পশ্চিমা জীবনপদ্ধতি গ্রহণ করে, তারা কি মুসলিম থাকে, নাকি কাফির হয়ে যায়?
অষ্টম অধ্যায়ের 'হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামি' পরিচ্ছেদের ৩৩৩ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে,
// কাশ্মীরি লিখেন,
"আমরা কাশ্মীরি মানুষদের তাদের স্ব-সিদ্ধান্তের অধিকার পেতে এবং ভারতকে কাশ্মীর, বিশেষত বন্ডিপুরে বর্বরতা করা, নারীদের ধর্ষণ করা ও মুসলিম বন্দীদের সাথে অমানবিক আচরণ করা থেকে বিরত রাখতে তাদের ভূমিকা পালন করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিলাম।
আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে দিয়েছিলাম যে, তাদের লোকদেরকে ২০১০ হকি বিশ্বকাপ, আইপিএল এবং কমনওয়েলথ গেমসে (সেই বছরের শেষের দিকে দিল্লীতে অনুষ্ঠিত) না পাঠাতে। আর তাদের লোকেরা যেন ভারত ভ্রমণও না করে, নইলে তারা নিজ পরিণতির জন্য দায়ী থাকবে।
আমরা '৩১৩ বিগ্রেড' এর মুজাহিদরা যতক্ষণ না ভারতীয় সেনা কাশ্মীর ছেড়ে কাশ্মীরিদের তাদের স্ব-সিন্ধান্তের অধিকার না দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত পুরো ভারত জুড়ে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছি।
আমরা উপমহাদেশের মুসলিমদের আশ্বাস দিয়েছি যে, গুজরাটে মুসলিমদের গণহত্যা এবং বাবরি মাসজিদ ধ্বংসকে (১৯৯২ সালে হিন্দু সন্ত্রাসীদের দ্বারা ধ্বংস হওয়া একটি মাসজিদ) আমরা কখনোই ভুলবো না। সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একটি দেহের ন্যায়। এবং আমরা সমস্ত অবিচার এবং অত্যাচারের প্রতিশোধ নিবোই নিবো৷
আমরা আবারও ভারত সরকারকে তার সমস্ত অবিচার ও জুলুমের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সতর্ক করে দিচ্ছি। অন্যথায় তারা আমাদের পরবর্তী অভিযানটি দেখতে পাবে '৩১৩ বিগ্রেড' থেকে।" //
উপসংহার থেকে,
// আজ (২০১১) উসামা বিন লাদেন নেপথ্যে আছেন। ডা. আইমান আল জাওয়াহিরি অদৃশ্য আছেন৷ মুস্তফা আবু ইয়াজিদ এবং আবু ওয়ালিদের মতো আল-কায়েদার বহু নেতা ড্রোন হামলায় শহীদ হয়েছেন৷ খালিদ শাইখ মুহাম্মাদ এবং আবু জুবায়দা সহ বেশ কয়েকজন কী অপারেটর গ্রেফতার হয়েছেন। তবে, আল-কায়েদার আরব্য রজনীর গল্পগুলোর কাহিনী নতুন কৌশল এবং নতুন চরিত্র নিয়ে অব্যাহত আছে। //
অপছন্দের কিছু আছে কি?
হা, পছন্দের এই বইটিতে একটি অপছন্দের বিষয়ও উপস্থিত আছে। ফাইনাল প্রুফ রিডিং। এর ফলে বেশ সংখ্যক শব্দের ভুল বানান ও বিরামচিহ্ন এর ভুল ব্যবহার নজরে পড়েছে৷ পরবর্তী সংস্করণে সম্পাদনা প্যানেল এই বিষয়টির উপর নজর দিবেন এই আশা রাখি।
এখন, এই রিভিউ আপনারা যারা শুরু থেকেই পড়ে এই শেষ পর্যায়ে এসেছেন, ভাবছেন রিভিউ লেখার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে কিছু আয়াত কেন কোট করেছি?
এজন্যই কোট করেছি যে, পুরো বইটা জুড়ে সীসাঢালা প্রাচীরের প্রতি মহাবিশ্বের প্রতিপালকের ভালবাসা, নুসরাত ও বিজয় প্রত্যক্ষ করবেন। প্রত্যক্ষ করবেন আল্লাহওয়ালাদের অদম্যতা, দৃঢ়তা, সাহস, নির্ভীকতা ও সবর। যা বিজয়ীদের বৈশিষ্ট্য।
তোমার প্রতি:
----------------
মহাসাফল্য অর্জনের জন্য আরব্য রজনীর নতুন অধ্যায়ের নতুন চরিত্রের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো হে আমার প্রিয়!
হে আমার প্রিয়!
যে কণ্টকাকীর্ণ রক্তরঞ্জিত পথ মাড়িয়ে পুরো দুনিয়াকে পদতলে পদদলিত করে শাহাদত ও বিজয়ের যে সুধা পান করেছে তোমার পূর্ববর্তীরা তা কি তুমি পান করতে চাও না?!
উল্লেখ্য:
এটা আমার জীবনে লেখা প্রথম বই রিভিউ।
আর এই রিভিউ লিখে ইংকলাইট রিভিউ প্রতিযোগীতায় বিজয়ী হয়েছিলাম।
❤