13/02/2026
''কুড়িগ্রাম-২ আসন সহ কুড়িগ্রাম জেলার ৪ টি আসনে বিএনপির ভূমিধ্বস পরাজয়ের কারণ''
স্থানীয় আওয়ামীলীগের দাবি কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রাপ্ত ভোট ৫৩হাজার ২০৫টি তাদের নিজ দলীয় ভোট।
কুড়িগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সূত্রে—
🗳 মোট ভোট পড়েছে: ৩,৯৪,০০২
🌸 শাপলা কলি: ১,৮০,৫২৬
🌾 ধানের শীষ: ১,৭১,৪০৫
🔹 অন্যান্য দল: বাকিটা
এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দাবি করছে- তাদের ৩০% ভোট প্রায় ১,১৮,২০০ বিএনপিকে দেওয়া হয়েছে! তাদের হিসাব অনুযায়ী বিএনপির প্রকৃত ভোট মাত্র ৫৩,২০৫। বিএনপি প্রাথী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ধানের শীষে প্রাপ্ত ৫০ হাজারের অধিক ভোট আওয়ামী লীগ ও হিন্দু ভোটারগণ প্রদান করেছেন।
কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীকের কোনো প্রার্থীই জয়লাভ করতে পারেননি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে—দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের অদক্ষতা, গ্রুপিং, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় সমন্বয়হীনতার কারণেই এমন ভরাডুবি হয়েছে।
দলীয় সূত্র ও প্রার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা আহ্বায়ক ইন্ডিয়ান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল। নিজের বলয়ে কমিটি গঠন, বিতর্কিতদের পদায়ন এবং রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতার সংকট—এসব ইস্যু ভোটের সময় সামনে আসে। তার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত একটি মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে—এমন আলোচনাও মাঠে প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি তৃণমূলের ।
কুড়িগ্রাম-২ আসন সহ জেলার সবকটি আসনে ধানেরশীষ হেরে যাওয়ার মুখ্য কারণ মনে করা হচ্ছে - অযোগ্য অথর্ব জেলা বিএনপির কমিটি। এই কমিটির আহ্বায়ক ইন্ডিয়ান মোস্তফা ভারতীয় নাগরিক হওয়ায় সাধারণ ভোটারগণ ও বিএনপির প্রকৃত ভোটারগণ কর্তৃক ধানেরশীষ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহবায়ক ইন্ডিয়ান মোস্তফা ও সদস্য সচিব সোহেল পরিকল্পিত ভাবে কুড়িগ্রাম-১ আসনে সাইফুর রহমানকে হারানোর জন্যে তার বিরুদ্ধপক্ষের লোকজনকে ডেকে ডেকে এনে কমিটি দিয়েছে নাগেশ্বরী উপজেলা। পৌর ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা কমিটিতে। এই বিষয়টি কেন্দ্র থেকে জেলার সর্বত্র সকলই অবহিত।
কুড়িগ্রাম-৩ আসনে তাসভির উল ইসলাম ও আব্দুল খালেকের দ্বন্দকে জিইয়ে রাখা হয়েছিল প্রাথী তাসভির উল ইসলামকে পরাজিত করার জন্যে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে রৌমারীর কমিটি দেয়া হয়েছিল ১ কোটি টাকার বিনিময়ে চোর চোট্টাদের। যারা ছিল সমাজ বিবর্জিত। চিলমারীতে বিতর্কিত কমিটি দিয়ে হামলা মামলা বহিষ্কারের নাটক করা হয়েছিল। সঙ্গতকারণে কুড়িগ্রামের ৪ টি আসনই বিএনপির হাতছাড়া হয়েছে।
করণীয়ঃ বিতর্কিত এই জেলা কমিটি আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত করা ছাড়া কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপিকে রক্ষা করা অসম্ভব। এখুনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির কমিটিকে বাতিল করার জন্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতি দাবি জানানো হলো।