13/05/2015
ফোনে সালাহউদ্দিন: দ্রুত অনেক টাকা আর কিছু সাংবাদিক নিয়ে ভারতে চলে এসো
‘দ্রুত অনেক টাকা নিয়ে ভারতে চলে এসো। আমাকে বাঁচাতে দ্রুত আসো। দ্রুত ভিসা পেতে পার্টির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করো। ভারতে আসার সময় সম্ভব হলে বাংলাদেশি কয়েকজন সাংবাদিককে সাথে নিয়ে এসো।’
মঙ্গলবার এভাবেই ১১ মিনিট কথোপকথন বিনিময় করেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।
হাসিনা জানান, স্কুল থেকে মেয়েকে নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে গুলশানের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এ সময় গাড়িতে বাবার কথা মনে করে বিষণ্ন হযে পড়ে মেয়ের। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন হাসিনা।
ওই সময়, বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে বেজে উঠল মোবাইল ফোন। অচেনা নম্বর থেকে কলটি রিসিভ করতেই মেঘালয় ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে (মিমহ্যানস) কর্তৃপক্ষ নিজেদের পরিচয় দিয়ে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ বেঁচে আছেন, তাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সালাহউদ্দিনকে ফোনটি ধরিয়ে দিলেন। দুই মাসের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা শেষে কথা হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে।
সালাহউদ্দিন ফোনে হাসিনাকে বলেন, দ্রুত অনেক টাকা নিয়ে ভারতে চলে এসো। তাড়াতাড়ি ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করো।
নিজেকে উদ্ধারের ব্যাপারে আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়ালের পরামর্শ নিতে বলেন সালাহউদ্দিন। স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন, তাবিথ কোথায় রয়েছে। জবাবে হাসিনা বলেন, ‘ও এখন দেশের বাইরে রয়েছে।’
এরপর আসে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসের প্রসঙ্গ। তবে তাকে নিয়ে খুব বেশি কথা হয়নি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে।
এ সালাহউদ্দিন বলেন, আমাকে বাঁচাতে দ্রুত আসো। দ্রুত ভিসা পেতে পার্টির লোকজনের সাথে যোগাযোগ করো। ভারতে আসার সময় সম্ভব হলে বাংলাদেশি কয়েকজন সাংবাদিককে সাথে নিয়ে এসো।
সালাহউদ্দিন স্ত্রীকে পরামর্শ দিলেন এসব বিষয়ে পরামর্শের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাথে যোগাযোগ করে দিক নির্দেশনা নিতে।
স্ত্রীর সাথে কথোপকথনের এক পর্যায়ে সালাহউদ্দিন তার সন্তানদের খোঁজ-খবর জানতে চান। স্ত্রীর পাশে মেয়ে আছেন জানতে পেরে তার সাথেও অল্প কিছুক্ষণ কথা বলেন সালাহউদ্দিন।
মেয়েকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কেমন আছো?’জবাবে মেয়ে বলেম ‘বাবা ভালো আছি।’ মেয়ের সাথে দু-তিনটি বাক্যালাপের পর ফের স্ত্রীর সাথে কথা বলেন সালাহউদ্দিন।
এ সময় স্বামীর শারীরিক অবস্থার খবর জানতে চান হাসিনা আহমেদ। জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ভালো আছি। বেঁচে আছি। সবাইকে দ্রুত জানিয়ে দাও। ভারতে আসার সময় ওষুধ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এসো।’
এক পর্যায়ে স্ত্রীকে দোয়া করতে বলে ফোন রাখেন সালাহউদ্দিন। আনন্দ আর শোকরিয়ার অশ্রুতে ভিজে যায় হাসিনার চোখ।
হাসিনা ধরা গলাতেই জানালেন খালেদা জিয়াকে জানালেন সালাহউদ্দিনের বেঁচে থাকার ও সন্ধান পাওয়ার খবর। কিছুক্ষণ পরে খালেদা জিয়ার বাসা ‘ফিরোজা’ ভবনে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
সবকিছু শুনে আবেগাপ্লুত খালেদা জিয়া দুহাত তুলে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দরবারে মোনাজাত করেন। হাত তোলেন হাসিনাও। দুই বিশ্বাসী নারীর ‘আমীন’ ‘আমীন’ ধ্বনিতে তৈরি হয় আবেগময় পরিবেশ।