25/04/2026
স্মারকলিপি
তারিখ: ২৫.০৪.২৬
বরাবর,
মাননীয় প্রক্টর,
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
বিষয়: জুলাই গ্রাফিতি অবমাননা, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে রাজনৈতিক ব্যানার টানানো এবং ছাত্রী হলে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি প্রসঙ্গে।
জনাব,
সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সম্প্রতি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একাধিক অনভিপ্রেত ও নীতিবিরুদ্ধ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
প্রথমত, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও গত ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের ব্যানার টানানো হয়েছে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফেসবুক পেজ পরিচালনা করা হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্সের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
দ্বিতীয়ত, গত ২২ এপ্রিল দিবাগত রাতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনায় জুলাই গ্রাফিতি ও ইসলামি ক্যালিগ্রাফিতে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ও চিহ্ন অঙ্কন করে একটি কুচক্রীমহল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। এই ঘটনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
তৃতীয়ত, বীর প্রতীক তারামন বিবি হলে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করার ফলে প্রায় ১০০ এর অধিক ছাত্রী অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। এর সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এবং প্রভোস্ট বডির কিছু অসৌজন্যমূলক বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
উপরোক্ত বিষয়সমূহের প্রেক্ষিতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ নিম্নোক্ত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি—
১. ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসহ সকল স্থান থেকে রাজনৈতিক ব্যানার অপসারণ এবং সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
৩. জুলাই গ্রাফিতি ও ইসলামি ক্যালিগ্রাফি অবমাননাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা।
৪. বীর প্রতীক তারামন বিবি হলসহ সকল আবাসিক হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনে খাদ্যের মান নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা।
৫. প্রভোস্ট বডির অসৌজন্যমূলক বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা।
৬. সকল হলের ডাইনিং, ক্যান্টিন ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটারিয়ার খাদ্যের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন।
৭. খাদ্যের গুণগত মান ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা।
আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়গুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে।
বিনীত
সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়