16/11/2025
`📖 সহিহ বুখারি হাদিস ৯২`
> حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَشْيَاءَ كَرِهَهَا، فَلَمَّا أُكْثِرَ عَلَيْهِ غَضِبَ، ثُمَّ قَالَ لِلنَّاسِ " سَلُونِي عَمَّا شِئْتُمْ ". قَالَ رَجُلٌ مَنْ أَبِي قَالَ " أَبُوكَ حُذَافَةُ ". فَقَامَ آخَرُ فَقَالَ مَنْ أَبِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ " أَبُوكَ سَالِمٌ مَوْلَى شَيْبَةَ ". فَلَمَّا رَأَى عُمَرُ مَا فِي وَجْهِهِ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا نَتُوبُ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ.
*আবু মূসা (রাঃ)*
তিনি বলেন , একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কয়েকটি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। প্রশ্নের সংখ্যা অধিক হয়ে যাওয়ায় তখন তিনি রেগে গিয়ে লোকদেরকে বললেনঃ ‘তোমরা আমার নিকট যা ইচ্ছা প্রশ্ন কর।’ জনৈক ব্যাক্তি বলল, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হুযাফাহ।’ আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল ! ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হল শায়বার দাস সালিম।’ তখন ‘উমার (রাঃ) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চেহারার অবস্থা দেখে বললেনঃ ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমরা মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট তাওবাহ করছি।’
৭২৯১; মুসলিম ৪৩/৩৭ হাঃ ২৩৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯২)
`হাদীসের মূল শিক্ষা`
*১. অযথা ও অতিরিক্ত প্রশ্ন করা নিষেধ*
লোকেরা অনেক অপ্রয়োজনীয়, গোপনীয় ও অপছন্দনীয় প্রশ্ন করতে থাকায় নবী ﷺ কষ্ট পেয়েছিলেন।
ইসলাম শেখায় যে প্রশ্নের বাস্তব উপকার নেই, ফিতনাহ সৃষ্টি করতে পারে, বা অন্যের মানহানি হয় এগুলো করা উচিত নয়।
*২. অতিরিক্ত অনুসন্ধান মানুষকে বিপদে ফেলতে পারে*
কেউ "আমার পিতা কে?" এমন প্রশ্ন করে নিজের ইজ্জত সম্মান ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
অতিরিক্ত গভীর অনুসন্ধান এমন সত্য প্রকাশ করতে পারে যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
*৩. নবী ﷺ–এর প্রতি সম্মান ও আদব বজায় রাখা জরুরি*
প্রশ্ন করতে হবে বিনয়ের সাথে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী।
সাহাবীরা যখন নবী ﷺ–এর অস্বস্তি দেখলেন, তখনই থেমে গেলেন।
*৪. অনুতাপ ও আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার শিক্ষা*
‘উমর (রাঃ) সঙ্গে সঙ্গে বুঝলেন যে তারা সীমা অতিক্রম করেছেন।
*তিনি তাওবাহ করলেন এবং বললেন:*
“হে আল্লাহর রসূল! আমরা আল্লাহর কাছে তাওবাহ করছি।”
মুসলিমের উচিত কোনো ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া।
*৫. গীবত, অপবাদ, সংশয় ও সন্দেহের পথ বন্ধ*
বংশ নিয়ে সন্দেহজনক প্রশ্ন অন্যের পরিবারে ঝগড়া, অপমান, অপবাদ সৃষ্টি করতে পারে।
ইসলাম এসব পথ বন্ধ করে দিয়েছে।
*৬. শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিমিতি*
শিখতে হবে, কিন্তু এমন প্রশ্ন নয় যেগুলো ফিতনাহ সৃষ্টি করে।
ঈমান আমল সম্পর্কিত, উপকারী বিষয় বেশি জানতে হবে।
*সংক্ষেপে*
এই হাদীস আমাদের শেখায়—
অপ্রয়োজনীয়, গোপনীয়, ফিতনাহ সৃষ্টি করতে পারে—এমন প্রশ্ন পরিহার করা, নবী ﷺ–এর ও আলেমদের প্রতি আদব রক্ষা করা, এবং ভুল করলে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে তাওবাহ করা।