23/09/2025
আমি সবসময় বলি, বাচ্চাদের বাউন্ডারি দিতে হবে, হেলদি বাউন্ডারি সেট করতে হবে। কিন্তু আসলে এই হেলদি বাউন্ডারি বলতে কী বোঝায়? সেটা বুঝতে গেলে ৪ টা জিনিস আসে: সম্মান, স্পষ্টতা, ধারাবাহিকতা এবং নিরাপত্তা।
Definition: A healthy boundary is a clear and respectful limit you set for yourself or others that protects your well-being, values, and personal space, while still respecting the other person’s needs and feelings.
এবার বলি ওপরের চারটা জিনিস কেন দরকারি এবং বাউন্ডারি সেটিং এ কীভাবে হেল্প করে?
১. সম্মান (Respect): আমি যে বলি শাসন না করে বাউন্ডারি সেট করুন, এর মূল কারণ হল শাসন শব্দটা এদেশের প্যারেন্টিং এ হয় ফিজিক্যাল নাহয় মেন্টাল এবিউজ, যার সাথে সম্মান শব্দটার বিপরীতার্থক সম্পর্ক। আমরা শিশুকে সম্মান করতে জানিনা, সেজন্য "শাসন" এ বিশ্বাসী। হেলদি বাউন্ডারি সেট করতে আপনাকে শিখতে হবে কীভাবে রেস্পেক্টফুলি শান্তভাবে কিছু নিষেধ করা যায় এবং সেটা শাসনের চাইতে অনেক ভালো কাজ করে।
২. স্পষ্টতা (Clarity): বাউন্ডারির ব্যাপারে ক্লিয়ার কাট কথা বলতে হবে। শুধু নিষেধ করলে বা নেগেটিভ ইন্সট্রাকশন দিলে শিশু কনফিউজড থাকে যে তাহলে কী করবে? একদম ছোট (১-২ বছর) বয়সী শিশুরা "না" কন্সেপ্টটাই ঠিকমতো বোঝে না। সেজন্য পজিটিভ ইন্সট্রাকটশন দিতে হবে। এটার জন্য আমার যে কন্টেন্টটা দেখলে ভালো বুঝবেন তার লিংক কমেন্টে। (১)
৩. ধারাবাহিকতা (consistency): যা নিষেধ করছেন তাতে অটল থাকতে হবে, একেকদিন একেক নিয়ম নয়, একই নিয়ম দেয়ার চেষ্টা করুন। যেমন: খাওয়ার সময় কোন স্ক্রিনটাইম না মানে না, বাসায় দেন না, কোথাও বেড়াতে গেলে দিলেন - এমনটা করা যাবে না। আবার মা কোন কিছু নিষেধ করলো, আবার বাবা সেটা দিয়ে দিল - এটাও করা যাবে না। এগুলো শিশুকে শেখায় আপনার বাউন্ডারি উইক, তখন সে সেটা ভাঙার নানা উপায় বের করবে, কাঁদেব, জেদ করবে ইত্যাদি।
৪. নিরাপত্তা: হেলদি বাউন্ডারি সেটিং এর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুকে ভয় দেখালে, শাস্তি দিলে সে সেইফ ফিল করবে না, এবং অনিরাপদ জায়গায় কেউ থাকতে চায় না। সে বাউন্ডারি না শিখে বরং শাস্তি থেকে বাঁচার বা পালানোর সুযোগ খুঁজবে।
তাহলে হেলদি বাউন্ডারি সেট করার নিয়ম হল-
- স্পষ্ট এবং শান্তভাবে পজিটিভ ইন্সট্রাকশন দিন। যেমন: "দৌঁড়াবে না!" না বলে বলা যায় "আমরা এখানে দৌঁড়াবো না বাবা। বাইরে গিয়ে দৌঁড়াবো।"
- শিশুর চোখের লেভেলে নেমে কথা বলুন, এতে ওরা ভয় না পেয়ে ভরসা পায়, কানেকশন বাড়ে।
- নিষেধ করার সাথে একটা বিকল্প কাজও অফার করুন। যেমন : দেয়ালে না এঁকে চল আমাদের হোয়াইট বোর্ডে আঁকি।
- ইয়া লম্বা ইন্সট্রাকশন/লেকচার দেবেন না, শিশুরা কনফিউজড হয়ে যায়, এতো ধৈর্যও ওদের নেই। চেষ্টা করুন যত অল্প কথায় বোঝানো যায়।
- চেষ্টা করুন নিয়ম না বদলানোর। যেমন: আগে ভাত খাবো, তারপর চক্লেট/ফল। কন্সিস্টেন্সি বজায় রাখুন।
- নিজের ইমোশন রেগুলেট করুন। এবং সেটা শুধু শিশুকে বোঝানোর সময় না, আপনার সারাদিনের প্র্যাক্টিসে আনুন। শিশুর সাথে ভালো ব্যবহার করে পার্টনার বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে চেঁচামেচি করলে ইমোশনাল রেগুলেশন প্র্যাক্টিস হবে না।
- শিশু যখন আপনার কথা মানে, বা বাউন্ডারি মানা শুরু করে, তার প্রশংসা করুন। প্রশংসা শিশুর উৎসাহ বাড়ায়।
**কখন প্রয়োজন হেলদি বাউন্ডারি?
- যখন নিষেধ সত্ত্বেও শিশু কথা শোনে না বা মানতে চায় না। কিছু উদাহরণ কমেন্টে দেয়া হল। (২)
Fariha Rashid
Parenting Page: The Cycle Breaker Mom