গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম

গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম Ganotantric Jubo Forum (In English: Democratic Youth Forum) is a political organization for the Jumma youths in the Chittagong Hill Tracts.
(1)

Ganotantric Jobo Forum was founded by progressive Jumma youths on April 5, 2002. Initially it was named Pahari Jubo Forum. However, the second central council session of the organisation held on 13 May 2005 in Chittagong unanimously changed its name to Ganotantric Jubo Forum or Democratic Youth Forum. The overriding aim of the organisation is to provide a common platform for all the Jumma youths a

nd contribute to the struggle for the right to self-determination. Ganotantric Jubo Forum successfully held its first conference in April 2003 in Khagrachari. More than five hundred youth delegates from across the Chittagong Hill Tracts as well as from Dhaka and Chittagong took part in it. In a leaflet issued on the occasion of its 1st Founding anniversary the Ganotantric Jubo Forum declares: it will not tolerate the government or any quarter backed by it playing game with the destiny of the people of the Chittagong Hill Tracts. It sends stern warnings to those who are involved with anti social and anti national activities in order to maintain their personal and sectional interests, and calls upon those who have been seduced into such activities or got involved by sheer chances, to forsake their bad company and come back to normal social life. The Forum has a number of branch committees across the Chittagong Hill Tracts as well as in Dhaka and Chittagong.

বান্দরবানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সকলে কমবেশী অবগত। সেখানকার পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এসব নিয়ে আ...
25/04/2024

বান্দরবানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সকলে কমবেশী অবগত। সেখানকার পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এসব নিয়ে আমাদের কথা বলা দরকার। আওয়াজ তোলা দরকার সর্বত্র। আগামী ২৬ এপ্রিল ২০২৪ সন্ধ্যা ৭টায় মুক্ত আলোচনায় যুক্ত হয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করুন।

আলোচ্য বিষয়: বান্দরবানের বর্তমান পরিস্থিতি ও আমাদের লড়াই।
মডারেটর: সুনয়ন চাকমা।

২৬ মার্চ ২০২৩   প্রেস বিজ্ঞপ্তিপাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সফলভাবে সম্পন্নশাসকগোষ্ঠীর অন্যায় নিপীড়নের বিরুদ্...
26/03/2023

২৬ মার্চ ২০২৩

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সফলভাবে সম্পন্ন

শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান

অঙ্কন চাকমা সভাপতি ও অমল ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত

গত ২৪-২৫ মার্চ ২০২৩ খাগড়াছড়িতে দুই দিনব্যাপী পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ২৬তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর অন্যতম সংগঠক ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি অংগ্য মারমা পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসকগোষ্ঠীর পরিচালিত নিষ্ঠুর দমন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এড়িয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণ করেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপিডিএফ, ডিওয়াইএফ, শ্রমজীবী ফ্রন্ট (ইউডব্লিউডিএফ), হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের নেতৃবৃন্দ। কাউন্সিল উপলক্ষে পিসিপি’র একটি অগ্রবর্তী টিম সপ্তাহখানেক পূর্বে নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নেয় এবং মঞ্চ, হলরুম, খাদ্য-আবাসন ও অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করে।

কাউন্সিল উপলক্ষে স্থাপিত ব্যানারের ক্যাপশনে ছিল তিনটি প্রধান শ্লোগান “পার্বত্য চট্টগ্রামে বন পরিবেশ ধ্বংস, খনিজ সম্পদ লুন্ঠনের পায়ঁতারা ও ইসলামিকরণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোল! শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস নৈরাজ্য-গোয়েন্দা নজরদারি-সেনা খবরদারি চলবে না! নির্বিচারে ধরপাকড়, নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন, খুন-গুম ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা-হুলিয়া অব্যাহত ভূমি বেদখল ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজ এক হও, রুখে দাঁড়াও”।

পিসিপি’র আপোষহীন সংগ্রামকে বিকশিত ও গতিশীল করতে হলে নতুন নেতৃত্বকেও গতিশীল হতে হবে বলে মন্তব্য করে অংগ্য মারমা বলেন, বিগত সময়ে পিসিপি’র শিক্ষা সংক্রান্ত আপোষহীন সংগ্রামের কারণে সরকার ২০১৭ সালে স্ব স্ব মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করতে বাধ্য হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হলে ছাত্র যুবসমাজকে আরো দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুনয়ন চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুনীল ত্রিপুরার সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন পিসিপি’র সাবেক সভাপতি ও ইউপিডিএফ সংগঠক বিপুল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতি চাকমা, ইউনাইটেড ওয়ার্কাস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ জ্যোতি চাকমা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের দপ্তর সম্পাদক সাবিনা চাকমা। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অমল ত্রিপুরা।

পিসিপি’র সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ইউপিডিএফ সংগঠক বিপুল চাকমা বলেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা এবং উত্থান সহজ ছিল না। শাসকগোষ্ঠী ও জাতির দালাল-প্রতিক্রিয়াশীলদের নানা প্রতিবন্ধকতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ তার নীতি আদর্শ সমুন্নত রেখেছে। ১৯৯৭ সালে ‘পার্বত্য চুক্তির’ সন্নিকটে পিসিপি কেন্দ্রীয় সম্মেলনের বিপরীতে ছাত্র সমাজের মধ্যে সুবিধাবাদী ও আপোষকামী অংশটি স্বায়ত্তশাসনের বিরোধিতা করে আপোষ চুক্তির পক্ষে অবস্থান নেয় এবং পিসিপি’র নাম ভাঙিয়ে পাহাড়ি ছাত্র সমাজকে বিভ্রান্ত, দ্বিধা-বিভক্ত করা হয়েছিল। ফলে ছাত্র সমাজ নানা বিভ্রান্তিতে পড়ে। কিন্তু পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত পিসিপি আবার সাংগঠনিক অবস্থান সুদৃঢ় করার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে ছাত্র সমাজকে আরো নতুন দিশা দিতে সক্ষম হয়।

তিনি আরো বলেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বর্তমান নেতৃত্বে নানা দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নতুন নেতৃত্বকে সে সকল দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে তুলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে হবে, ছাত্র সমাজকে সংগঠিত করে শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় দমন-পীড়ন, নির্যাতন, অব্যাহত ভূমি বেদখল, নারী নির্যাতন সকল ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে ।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ জাতীয় আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মন্তব্য করে বিপুল চাকমা বলেন, পিসিপি'র শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে আন্দোলন করছে তা নয়, দেশে ক্রিয়াশীল অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সাথে যৌথভাবে জাতীয় বিভিন্ন আন্দোলনে ভূমিকা পালন করছে । পাহাড়ের গণ্ডি পেরিয়ে পিসিপি জাতীয় পর্যায়ে ভাবমূর্তি ও সুনাম অর্জন করেছে। আগামীতেও পিসিপির নেতা-কর্মীকে যোগ্য ও দক্ষ হয়ে জাতীয় গুরু দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি সুনয়ন চাকমা বলেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ একটি গতিশীল সংগঠন। এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নব গতিতে ছাত্র সমাজকে আপোষহীন সংগ্রামের ধারায় যুক্ত করবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে লড়াইয়ের ইতিহাসে পিসিপি একটি ব্র্যান্ড। এই ব্র্যান্ডকে করায়ত্ত্ব করতে পিসিপি’র নাম ভাঙিয়ে অনেক ভুঁইফোড় সংগঠন বিতর্কিত কার্যক্রম চালাচ্ছে। পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লড়াইয়ে আন্দোলনরত পিসিপি’র সাথে এদের পার্থক্য ত্যাগ আর সংগ্রামের। পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান সংকটে এসব সংগঠনকে চেনা গেছে।

তিনি বলেন, পূর্ণস্বায়ত্তশাসন অর্জনের লক্ষ্যে পিসিপি লড়াই সংগ্রাম করছে এ সংগ্রামে পিসিপি বিজয়ী হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপীড়িত জনগণের বিজয় হবে, আর পরাজিত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ পরাজিত হবে। তাই এই আপোষহীন মুলধারা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদে যুক্ত হওয়া সংগ্রামের ও গৌরবের। আজকের ছাত্র সমাজকে আপোষহীন সংগ্রামের ধারা পিসিপি’তে যুক্ত হয়ে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লড়াইকে এগিয়ে নিতে হবে।

হিল উইমেন্স ফেডারেশন সভাপতি নীতি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমান্ত সড়কের নামে বন-পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্ববংস করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে এই বছর ৮টির অধিক ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টা ঘটনা ঘটেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে যৌন সন্ত্রাস চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই যৌন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে ছাত্র, যুবক ও নারী সমাজকে সংগ্রামে এগিয়ে আসতে হবে।

কাউন্সিলে প্রমোদ জ্যোতি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে সেনা ছাউনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। যাহাতে এ অঞ্চলে জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার অর্জন করেত না পারে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর নিপীড়িত মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে অর্জিত হয়েছে। পাহাড়ি জনগণকেও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে জাতির অধিকার অর্জন করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের দপ্তর সম্পাদক সাবিনা চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে নেশা ও মাদকদ্রব্য সেবন বেড়েছে। ফলে ব্যাপক সামাজিক অবক্ষয় চলছে। এর থেকে উত্তরণে ছাত্র যুবক নারীকে একযোগে সর্বত্র কাজ করতে হবে।

স্বাগত বক্তব্য অমল ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ একটি গৌরবজ্জ্বোল নাম। লংগদু গণহত্যার প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে শত শহীদের রক্তের মধ্যে পিসিপি ৩৩ বছর পূর্ণ করেছে। আমরা ৮৯’এর উত্তরসূরী। রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন ও অন্যায়ের কাছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ মাথা নত করেনি। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়িত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ লড়াই সংগ্রাম জারি রাখবে।

২৪ মার্চ সকালে নির্ধারিত ভেন্যুতে পিসিপি’র সভাপতি সুনয়ন চাকমা কর্তৃক দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দু’দিনের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল শুরু হয়। এতে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য রুপসী চাকমা। শোক প্রস্তাব পাঠ শেষে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশে ও সারা বিশ্বে নিপীড়িত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামে আত্মবলিদানকারী সকল বীর শহীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে দুই মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

নিরবতা পালন শেষে পিসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুনয়ন চাকমা দীর্ঘ ১৯ মাস কারান্তরীন থাকার পর সদ্য কারামুক্ত পিসিপির রাঙামাটি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রূপায়ন চাকমাকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

প্রথম দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের রাজনৈতিক রিপোর্ট, সাংগঠনিক সম্পাদকের সাংগঠনিকে রিপোর্ট, অর্থ সম্পাদকের অর্থ রিপোর্ট ও দপ্তর সম্পাদকের দাপ্তরিক রিপোর্ট পেশ করলে এর উপরে উপস্থিতি পিসিপির বিভিন্ন শাখা থেকে প্রতিনিধিরা আলোচনা, পর্যালোচনা, সমালোচনা, মতামত, প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশনের পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সকল শাখার প্রতিনিধিরা স্ব স্ব এলাকার পরিস্থিতি, সাংগঠনি অবস্থান ও করণীয় সম্পর্কে তুলে ধরেন ও আলোচনা করেন।

দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনের কেন্দ্রীয় সকল নেতৃবন্দ স্ব স্ব সাংগঠনিক অবস্থান, দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা ও সফলতা তুলে ধরেন।

কাউন্সিল অধিবেশনে দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় অধিবেশনে কমিটির সকল সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে প্রতিনিধিদের মাঝে ব্যাখা প্রদান এবং নতুন কমিটি প্রস্তবনা তুলে ধরেন পিসিপি সভাপতি সুনয়ন চাকমা। নতুন প্রস্তাবিত কমিটির ওপরে প্রতিনিধিবৃন্দ আলোচনা পর্যালোচনা শেষে তুমুল করতালির মাধ্যমে কমিটি অনুমোদন করেন। এতে সর্বসম্মতিক্রমে অঙ্কন চাকমা সভাপতি, অমল ত্রিপুরা সাধারণ সম্পাদক ও শুভাশীষ চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি নতুন কমিটি গঠিত হয়।

কাউন্সিল দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশনে পিসিপি নব গঠিত সভাপতি অঙ্কন চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরার সঞ্চালনায় বিদায়ী কমিটির সভাপতি সুনয়ন চাকমা, নিউটন চাকমা, নীতি চাকমা, রিতা চাকমা ও এন্টি চাকমা নতুন কমিটি ও পিসিপি’র নেতা-কর্মীদের ওপর প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা, পরামর্শ প্রদান করেন।

বার্তা প্রেরক

থুইলাপ্রু মারমা
দপ্তর সম্পাদক
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ
কেন্দ্রীয় কমিটি।

01/03/2023

Breaking News:-লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির অন্যতম নেতা মথি ত্রিপুরাকে কিছুক্ষণ আগে পুলিশ আটক করার খবর পাওয়া গেছে। লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ'র ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে মথি ত্রিপুরাকে অন্যায়ভাবে আটক করেছে।গত ২০ ফেব্রুয়ারি রেংয়েন পাড়া অবস্থিত অশোক বৌদ্ধ বিহারের জায়গায় দখল করে অবৈধ ঘর নির্মাণ করে। লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লোকেরা নিজেরা ঘর ভেঙে দিয়ে ত্রিপুরা এবং ম্রোদের উপর দায় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অন্যায়ভাবে আটক তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে মথি ত্রিপুরাকে নি:শর্তে মুক্তি দিতে হবে।

28/02/2023
লামা ও মাটিরাঙ্গায় নারী নির্যাতন ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার-শাস্তির দাবিতে কুদুকছড়িতে বিক্ষোভলামা ও মাটিরাঙ্গায় নারী নি...
28/02/2023

লামা ও মাটিরাঙ্গায় নারী নির্যাতন ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার-শাস্তির দাবিতে কুদুকছড়িতে বিক্ষোভ

লামা ও মাটিরাঙ্গায় নারী নির্যাতন ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার-শাস্তির দাবিতে রাঙামাটির কুদুকছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল করে হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙামাটি জেলা শাখা।
‘ধর্ষণসহ সকল প্রকার নারী নির্যাতন বন্ধ কর’ এই স্লোগানে বান্দরবানের লামায় মারমা নারীকে ধর্ষণকারী মো. কায়সার ও খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এক পাহাড়ি গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী মো. সাদ্দামকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাঙামাটির কুদুকছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙামাটি জেলা শাখা।

‌ আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ইং মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় মিছিল পরবর্তী অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক নিশি চাকমা, দপ্তর সম্পাদক রিপা চাকমা ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)-এর রাঙামাটি জেলা শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক আনন্দ চাকমা। সমাবেশে সঞ্চালনা করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলা শাখার সদস্য নিকা চাকমা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে সরকার প্রধান একজন নারী হয়েও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নারীরা চরম অনিরাপত্তায় রয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি নারীরা কোথাও আজ নিরাপদ নয়। সেটলার বাঙালি দুর্বৃত্তদের দ্বারা আমাদের মা বোনরা কুয়ো থেকে পানি আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়, ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়, স্কুল কলেজে গেলেও ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, রাস্তা-ঘাটে এমনকি নিজ বাড়িতে পর্যন্ত ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় নিজ বাড়িতে মো. সাদ্দাম কর্তৃক পাহাড়ি গৃহবধু ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হওয়ার ঘটনা তারই দৃষ্টান্ত। এর আগে ২০২০ সালে খাগড়াছড়ি সদরের বলপিয়ে আদামে ৯ জন সেটলার দ্বারা এক প্রতিবন্ধি নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন।

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধু ধর্ষণ নয়, সমানতালে ভূমি বেদখল করে পাহাড়ি উচ্ছেদ, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, অন্যায় ধরপাকড়, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। আর রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সরকারের প্রশাসন এসব ঘটনাগুলো সংঘটিত করে ও মদদ যোগায়। মাটিরাঙ্গায় ধর্ষণ চেষ্টাকারী মো. সাদ্দামকে বিজিবি ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে তারা দুর্বৃত্তদের রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।

বক্তারা বলেন, এদেশের শাসকগোষ্ঠি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়ি জনগণকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। যার কারণে যুগ যুগ ধরে সেনাশাসন জারি রেখে পাহাড়িদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে এ যাবত যতগুলো পাহাড়ি নারী ধর্ষণ, খুন, নিপীড়ন ও ভূমি বেদখলসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে তার কোনটিরই বিচার হয়নি। ফলে ধারাবাহিকভাবে এসব ঘটনা ঘটছে। শাসকগোষ্ঠির একপেশে দমননীতির কারণে পাহাড়িদের অস্তিত্ব আজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।

বক্তারা শাসকগোষ্ঠীর সকল চক্রান্ত ও অন্যায় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য ছাত্রসমাজ ও নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে বান্দরবানে লামায় মারমা নারীকে ধর্ষণকারী মো. কায়সার ও মাটিরাঙ্গায় পাহাড়ি গৃহবধুকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী মো. সাদ্দামকে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ভূমিদস্যু লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের হাত থেকে ম্রো-ত্রিপুরা পাড়াবাসীদের রক্ষার দাবিম্রো ও ত্রিপুরাদের ৪০০ একর জুমভূমি বে...
28/02/2023

ভূমিদস্যু লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের হাত থেকে ম্রো-ত্রিপুরা পাড়াবাসীদের রক্ষার দাবি

ম্রো ও ত্রিপুরাদের ৪০০ একর জুমভূমি বেদখলের অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং বৌদ্ধ বিহারের জায়গায় জোরপূর্বক অবৈধ ঘর নির্মাণের প্রতিবাদে এবং ভূমিদস্যুদের শাস্তির দাবিতে হাইকোরেটর সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করে লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি।
লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের হাত থেকে রেংয়েন ম্রো পাড়া, লাংকম ম্রো পাড়া ও জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়াবাসীদের রক্ষার দাবি জানিয়েছে লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি। আজ মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩) ঢাকা হাইকোর্ট মাজার গেইটের সামনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী চলা এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।

অবস্থান কর্মসূচি শুরুর আগে পুলিশ বাধা দেয় এবং সমাবেশে মাইকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সেখান থেকে তাড়িয়ে হয়। পরে ধর্মঘট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সেখানে বসে পড়ে।

অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে।
‘ভূমিদস্যু লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুন’ এই আহ্বানে ম্রো ও ত্রিপুরাদের ৪০০ একর জুমভূমি বেদখলের অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং বৌদ্ধ বিহারের জায়গায় জোরপূর্বক অবৈধ ঘর নির্মাণের প্রতিবাদে এবং ভূমিদস্যুদের শাস্তির দাবিতে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রংধজন ত্রিপুরার ও সদস্য রেংয়েন ম্রো (কার্বারী), সদস্য যোহন ম্রো, সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. হারুনুর রশিদ, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সদস্য সীমা দত্ত, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সদস্য মোশারফ হোসের নান্নু, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ঢাকা অঞ্চলে সদস্য দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অমল ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক রূপক রায় প্রমুখ। এসময় লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য রাখছেন লামা সরই ইউনিয়নের রেংয়েন পাড়ার প্রধান রেংযেন ম্রো
সমাবেশে ফয়জুল হাকিম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে লামায় ম্রো ও ত্রিপুরা জাতিসত্তারা তাদের ভূমি বেদখল, নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঢাকায় অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছে। দেশে জাতিসত্তার জনগণের কোন অধিকার নেই। পাহাড়ি জনগণ ও বাংলাদেশের মানুষের কোন শান্তি নেই, নিরাপত্তা নেই। বাংলাদেশ সরকার উন্নয়ন, মেট্রোরেলের কথা বলে কিন্তু এদেশের সাধারণ মানুষ ও জাতিসত্তাসমূহের অবস্থা কি, কেন তাদের হাইকোর্টের সামনে এসে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে তার খবর রাখে না।

সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম।
তিনি কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা দেওয়ার ঘটনা নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র বলে কিছুই নেই। আজকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘটে পুলিশ কেন বাধা দিয়েছে এবং কেন মাইক ব্যবহার করতে দেইনি সে জবাব প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে। আমরা পুলিশের এহেন কর্মকান্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি পাহাড় সমতলে নিপীড়িত জনগণের পাশে একাত্মতা জানিয়ে লামাসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সারাদেশের ভূমি রক্ষার আন্দোলনে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

ডা. হারুনুর রশিদ বলেন, পাহাড়িদের প্রথাগত রীতি-নীতি অনুসারে তাদের জমি-ভূমি অধিকার নিশ্চিত হয়। আর এই প্রথাগত পদ্ধতিকে তোয়াক্কা না করে ভূমি দস্যুরা, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনী পাহাড়িদের ভূমি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

বক্তব্য রাখছেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. হারুনুর রশিদ
তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে পাকিস্তান আমলে আয়ুব খানের শাসনকালে কাপ্তাই বাঁধ দিয়ে হাজার হাজার পাহাড়িকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাদের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সে সময় থেকে শুরু হয়েছিল উন্নয়নের নামে পাহাড়ি জনগণের ওপর শাসন, শোষণ, নির্যাতন।

তিনি সরকারে উন্নয়নের নামে পাহাড়ি জনগণকে উচ্ছেদ ও শোষণ করার ষড়যন্ত্র বন্ধের আহ্বান জানান।

সমাবেশে রংধ্বজন ত্রিপুরা বলেন, ভূমিদস্যু রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানী এমন ঘটনা ঘটিয়েছে যা মানবাধিকার লঙ্ঘন। ভূমিদস্যুরা রাষ্ট্রের সকল আইন অমান্য করে, প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তাদের অপকর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের উপরে কোন ব্যবস্থা আজো নেওয়া হয়নি।

বক্তব্য রাখছেন লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রংধজন ত্রিপুরা
বাসদ (মার্কসবাদী) সদস্য সীমাদত্ত বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দৈতশাসন চলছে। সামরিক শাসন জারি রেখে পাহাড়িদের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ, খুন, গুম হত্যা চালানো হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক বিভাজন করে শাসন চালাচ্ছে।

তিনি পাহাড়িরে ভূমি বেদখল, নারীর ওপর নিপীড়ন বন্ধ ও পাহাড় থেকে সেনাশাসন বাতিলের দাবি জানান।

তিনি বলেন, লামা সরই ইউনিয়নের লাংকম ম্রো পাড়া, রেংয়েন ম্রো পাড়া ও জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়াবাসীর ন্যায় বিচারে আশায় পাহাড় সমতলে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের কাছে ছুটে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোন ন্যায় বিচার পাইনি। সে কারণে ন্যায় বিচার চাইতে আজকে হাইকোর্টে সামনে পাড়াবাসীদের সাথে অবস্থান ধর্মঘট সামিল হয়েছি।

সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখছেন বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সদস্য সীমা দত্ত
তিনি জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তা, তিন গ্রামবাসীদের নিরপত্তা নিশ্চিত করা ও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।

জিকো ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তারা পাহাড়িদের হাজার হাজার ভূমি বেদখল করছে। সীমান্ত সড়ক নিমার্ণের নামে উচ্ছেদ করার পায়তারা চলছে। পাহাড়ি জনগণের ওপর দমন-পীড়ন, নির্যাতন চালাচ্ছে।

তিনি পাহাড়িদের প্রথাগত ভূমি অধিকার নিশ্চিতে দাবি জানান।

অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচিতে লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র এক প্রচারপত্রে অভিযোগ করে বলা হয়, ‘লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ কর্তৃক দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের লাংকম ম্রো পাড়া, রেংয়েন ম্রো পাড়া ও জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়ায় ম্রো-ত্রিপুরাদের ৪০০ একর ভূমি বেদখলের করার পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। পাহাড়িদের ভোগ দখলীয় জমি কেড়ে নিতে রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কোম্পানীর দুর্বত্তরা একের পর এক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের, হামলা, নির্যাতনসহ নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। চলতি বছর ১ জানুয়ারি দিবাগত গভীর রাতে রেংয়েন ম্রো পাড়ায় ৬টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এর আগে গত বছর ৯ ও ২৬ এপ্রিল জুম ভূমি কেটে ও আগুন লাগিয়ে দিয়ে বাগান-বাগিচা, ক্ষেতসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে দেওয়া হয়, ১৩ জুলাই ভূমি রক্ষা আন্দোলনের সংগঠক রংধজন ত্রিপুরার ওপর হামলা করা হয়, ১০ আগস্ট রেংয়েন ম্রো পাড়াবাসীদের নির্মিত অশোক বৌদ্ধ বিহার ভাঙচুর ও বুদ্ধমূর্তি লুট করা হয়, ৬ সেপ্টেম্বর রেঙয়েন ম্রো পাড়া বাসিন্দাদের একমাত্র পানির উৎস ঝিরিতে বিষ ঢেলে গ্রামবাসীদের হত্যার চেষ্টা করা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর পাড়ার এক বাসিন্দার ৩০০ কলাগাছ কেটে দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে পাড়াবাসীদের উদ্যোগে স্কুল নির্মাণে বাধা প্রদান করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের দেলোয়ারে নেতৃত্বে ৩০ জন শ্রমিক গিয়ে রেংয়েন ম্রো পাড়ার অশোক বৌদ্ধ বিহারে জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করে। এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া ও পত্রিকায় প্রচার হলে পরের দিন লামা উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড অবৈধ ঘরটি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ প্রদান করেন। এসিল্যান্ডের এই ঘর ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে ঐ জায়গাগুলো ম্রো ও ত্রিপুরাদের। লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সম্পুর্ণ বেআইনি ও জোরপূর্বকভাবে ম্রো-ত্রিপুরাদের ৪০০ একর জুম ভূমি বেদখল করার চেষ্টা করছে।

অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অনেকে অংশ নিয়েছেন
এতে আরো বলা হয়, আমরা অনিরাপদে জীবন-যাপন করছি। আমাদের ওপর লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কোম্পানীর লেলিয়ে দেওয়া দুর্বৃত্তরা বার বার আক্রমণ করে চলেছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ামর‌্যান আমাদের এলাকা পরিদর্শন করে নানা আশ্বা প্রদান করেছিলেন। আমরা ভেবেছিলাম আমরা নিরাপত্তায় থাকতে পারবো, আমাদের বেঁচে থাকার শেষ সম্বল ৪০০ একর ভূমি আমাদেরকে ফিরে পাবো। কিন্তু না, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা উল্টো চিত্র দেখতে পাচ্ছি। ম্রো ও ত্রিপুরা পাড়াবাসীদের নিরপত্তা নিশ্চিত না করে, তাদের ভূমি ফেরৎ না দিয়ে প্রশাসন রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’র সুবিধার্থে আমাদের এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের কথা বলছে। আমরা পুলিশ ক্যাম্প চাই না, আমরা তিন পাড়াবাসীর জুমভূমি বেদখল বন্ধ, বেদখলকৃত ভূমি ফেরতসহ পাড়াবাসীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাই। ভূমিদস্যু লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কোম্পানীর হাত থেকে রক্ষা পেতে ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমরা আজকে এই মহামান্য হাইকোটের্র সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছি।

প্রচারপত্রে ম্রো ও ত্রিপুরাদের ভোগ দখলীয় ৪০০ একর জুমভূমি ফেরত দেয়া; রাবার কোম্পানির দুর্বত্তদের কর্তৃক ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ সকল কর্মকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত ম্রো ও ত্রিপুরাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ; ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক রংধজন ত্রিপুরাসহ গ্রামবাসীদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ভূমিদস্যুদের সহায়কা অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল, লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক ভূমি বেদখল বন্ধ করে ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ অবিলম্বে প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনষ্টকারী সকল রাবার বাগানের ইজারা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছেন বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র, ইউনাইটেড ওয়ার্কাস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ জ্যোতি চাকমা প্রমুখ।

14/02/2023

অবমাননাকর দিনকে “প্রতিষ্ঠা দিবসে” রূপদানঃ আন্দোলনে নানা বিভ্রান্তি ও ভুলের অপরিমেয় খেসারত
*********************************************
সিএইচটি নিউজ , রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৫,
-------------------------------------------------------------

★সত্যদর্শী:
---------------------
স্বাধীনতার সূচনালগ্নে মুক্তিবাহিনী কর্তৃক তারাবন্যা-কুকিছড়া ও বাঙ্গালকাটি হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, লুটপাট ও নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট ৪দফা দাবিনামা সম্বলিত স্মারকলিপি দিতে বঙ্গভবনে যায়। শেখ মুজিব উক্ত স্মারকলিপি পড়ে দেখেন নি, গ্রহণ করা তো দূরে থাক। প্রতিনিধি দলকে বসতেও বলা হয় নি, তারা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের বয়ঃজ্যেষ্ঠ সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, সর্বোপরি একটি বিশেষ অঞ্চলের প্রতিনিধি। সেদিন তাদেরকে দাঁড়িয়ে থেকে সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা সেরে নিতে হয়েছিল, যেন স্কুল ছাত্র তারা! শেখ মুজিব অনেকটা ধমকের সুরে বলেছিলেন,‘স্বায়ত্তশাসন! ঐ সব ভুলে যাও। বাঙালি হয়ে যাও’! এই হলো ‘১৫ ফেব্রুয়ারি’ ১৯৭২-এর স্মৃতি!!! আওয়ামী লীগ অবশ্য তাদের সুবিধে মত তালি মেরে ঘটনাটির ব্যাখ্যা করে থাকে। কিন্তু তা হচ্ছে সত্যের অপলাপ, যা কোন বোধবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। আওয়ামী লীগ কখনই উক্ত ঘটনার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের নিকট ভুল স্বীকার করে নি বা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারে নি। ‘বাঙালি জাতীয়তা’ আরোপের নীতি থেকে আওয়ামী লীগ কখনই সরে দাঁড়ায় নি, যার জাজ্জ্বল্য দৃষ্টান্ত হচ্ছে ২০১১ সালের ৩০ জুন বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করিয়ে দেশের ভিন্ন ভাষা-ভাষী জাতিসত্তাসমূহের ওপর ‘বাঙালি জাতীয়তা’ আরোপিত করা।

‘বাঙালি জাতীয়তা’ চাপিয়ে দেয়ার কারণে সে সময় পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ভিন্ন ভাষা-ভাষী জাতিসত্তাসমূহ ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয় বিভিন্ন জায়গায়। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল সবচে’ সরব ও প্রতিবাদ মুখর। ‘বাঙালি জাতীয়তা’ আরোপের প্রতিবাদে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় লক্ষাধিক লোকের সর্বকালের বৃহৎ মানব বন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। তা ভণ্ডুল করতে রাঙ্গামাটির ঘাগড়ায় জেএসএস (সন্তুগ্রুপ)-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ‘বাঙালি জাতীয়তা’ বিরোধী হলেও উক্ত মানববন্ধনটি ইউপিডিএফ-এর নেতৃত্বে সংগঠিত হওয়ায় গুলি চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। সে কারণে ‘বাঙালি জাতীয়তা’র বিরুদ্ধে কথা বললেও তাদের কর্মকা- সরকারের পক্ষে যায়। সে সময় তিন পার্বত্য জেলায় দু’দিনব্যাপী সফল অবরোধ পালিত হয়েছিল। কিন্তু দৃশ্যত ‘বাঙালি জাতীয়তা’র আরোপের বিরুদ্ধে জনসংহতি সমিতি (সন্তুগ্রুপ)-এর বড় কোন কর্মসূচি ছিল না।

একদিকে জনমনে ‘বাঙালি জাতীয়তা’ আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষোভ অসন্তোষের তীব্রতা, ইউপিডিএফভুক্ত সংগঠনসমূহের লাগাতার কর্মসূচি; অন্যদিকে জনসংহতি সমিতি (সন্তুগ্রুপ)-এর নিজেদের কর্মসূচিহীনতা–এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ২০১৩ সালে অনেকটা আচমকা ‘১৫ ফেব্রুয়ারি’কে প্রতিষ্ঠাদিবস ধরে নিয়ে জনসংহতি সমিতি (সন্তুগ্রুপ) ঢাকঢোল পিটিয়ে মহাসমারোহে ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করে, যা জনমনে নতুন করে বিতর্ক ও বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। কারণ ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আগে বা পরে আর কখনই জেএসএস প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করে নি। এ বছর ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আজকের দিনটিতেও জেএসএস (সন্তুগ্রুপ)-এর কোন কর্মসূচি নেই। দিবসটিতে কার্যত নিষ্ক্রিয়তা ও মৌনব্রত পালিত হচ্ছে! কেন ২০১৩ সালে ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছিল, আসলে জনসংহতি সমিতি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল কবে– সে প্রশ্ন ও বিতর্ক অত্যন্ত সঙ্গত কারণে সামনে চলে আসে। কারণ ঢাকায় বঙ্গভবনে ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের নিকট স্মারকলিপি দিতে-যাওয়া প্রতিনিধি দলটিতে সদস্য হিসেবে মানবেন্দ্র নারায়ন লারমাও ছিলেন। একইদিনে রাঙ্গামাটিতে মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার নেতৃত্বে কীভাবে জনসংহতি সমিতি গঠিত হতে পারে? কোন যুক্তি বা বাস্তবতা তা বলে না। লারমা বেঁচে থাকলে হয়ত এর সদুত্তর পাওয়া যেত, কিন্তু লারমা নেই বলে কি ‘যা তা’ তার নামে চালিয়ে দেয়া উচিত?

১৯৭২ সালের ‘১৫ ফেব্রুয়ারি’ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধি দল শাসকগোষ্ঠীর হাতে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ যে ব্যাখ্যাই দিক এটাই হচ্ছে রূঢ় সত্য। কাজেই এ দিনটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিগণ অবমাননাকর এক বিড়ম্বনা হিসেবে দেখে থাকেন। জেএসএস (সন্তুগ্রুপ) কর্তৃক উক্ত দিবসকে ‘প্রতিষ্ঠা দিবস’ হিসেবে গ্রহণ করার অর্থ জাতীয় অবমাননা মহিমান্বিত করার সামিল, যা রাজনীতি সচেতন কারোর নিকট গ্রহণযোগ্য হবার কথা নয়।

২০১৩ সালে ‘১৫ ফেব্রুয়ারি’কে প্রতিষ্ঠা দিবস বানিয়ে জেএসএস (সন্তুগ্রুপ) কর্তৃক ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করার প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল রাঙ্গামাটির লংগুদু কাট্টলীবিলে, স্মরণ করা যেতে পারে এ অঞ্চলের লোকজন আন্দোলনে সবচে’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাল্পনিক প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে পরের দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফেরার পথে জনসংহতি সমিতি (সন্তুগ্রুপ)-এর ৫২জন কর্মী-সমর্থক লংগুদু কাট্টলী বিলে স্থানীয় জনতা কর্তৃক ধৃত হয়ে দীর্ঘদিন আটক ছিল। উক্ত ঘটনাটিকে জেএসএস (সন্তুগ্রুপ) অপহরণ হিসেবে অপপ্রচারও চালিয়েছিল। জাতীয় অবমাননা মেনে নেয়া কোন সচেতন পার্বত্যবাসীর পক্ষে সম্ভব নয়, সেটা লংগুদু কাট্টলী বা অন্যত্র সবখানেই একই প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়া অমূলক নয়। এরপর বিতর্কিত ‘১৫ ফেব্রুয়ারি’কে প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে পালন করার ব্যাপারে জেএসএস (সন্তুগ্রুপ)-কে অবশ্যই নতুন করে ভাবতে হবে। লংগুদু কাট্টলীবাসীকে দোষ দিলে হবে না। নিজেদের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার দায় অন্যদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়।

২০১৩ সালে কাল্পনিক প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর খেসারত দিতে হয়েছে ৫২জন কর্মী-সমর্থককে, সেটিই একমাত্র ঘটনা নয়। একটু খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে যে, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে জেএসএস নেতৃত্বের ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে বহু তরুণ সম্ভাবনাময় যুবককে। নিজের রাজনৈতিক অভিসন্ধি পূরণে সন্তু লারমা বলি দিয়েছেন ছাত্র-যুবকদের, তার দৃষ্টান্ত অনেক দীর্ঘ। ‘পার্বত্য চুক্তি’ ও আত্মসমর্পণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবার পর স্পষ্টই জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক কূটকৌশল খাটানো হয়েছিল। একদিকে আন্দোলন জোরদারের ধুয়ো তোলা, অন্যদিকে একশ্রেণীর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অচিরেই ‘চুক্তি’ ‘সমাধানের’ কথা বলে এসআই চাকুরি-ঠিকাদারি-ব্যবসা-এনজিও আর বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে টেনে নেয়া হয়। এদের এক অংশকে রাতারাতি শান্তিবাহিনীতে রিক্রুটসহ অন্যদের পিসিপি’র পাল্টা সংগঠন খাড়া করতে নিয়োজিত করা হয়েছিল। ভবিষ্যত আন্দোলন জোরদারের আশায় গ্রামের যে সব যুবক শান্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল, অল্প পরে তাদের সারেন্ডার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে বাধ্য হয়, নান্যাচরের এক সম্ভাবনাময় শিল্পীকে এ চক্রান্তের ফাঁদে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কঠিন অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে।

১৯৮০ সালে জেল থেকে ছাড়া পাবার পর সন্তু লারমা আন্দোলন জোরদারের ধুয়ো তোলেন, দলভারি করার উদ্দেশ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রদের জুটিয়ে শান্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে ভাঙ্গন ও ভ্রাতৃঘাতি সংঘর্ষে তাদের অনেকে শান্তিবাহিনীতে টিকতে পারে নি। শোনা যায় সে সময় রেডিও সেন্টার স্থাপনের স্বপ্ন দেখিয়ে রাঙ্গামাটির এক খ্যাতিমান শিল্পীকেও সন্তু লারমা নিজ দলে জুটিয়ে নিয়েছিলেন, শান্তিবাহিনীর ভিতরের অবস্থা দেখে পরে উক্ত শিল্পী হতাশ হয়ে ফিরে আসেন।

১৯৮৯ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় তা বানচাল করারও ধুয়ো তোলা হয়, প্রয়োজনে “মানচিত্র পাল্টে দেয়ার” অঙ্গীকার করা হয়, অবশ্য পরে তা পর্বতের মুসিক প্রসবের মত অবস্থায় পর্যবসিত হয়েছিল। বাস্তুভিটা ত্যাগসহ সর্বস্ব হারিয়ে চরম খেসারত দিতে হয়েছিল সাধারণ জনগণকে।

২০০১ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে পিসিপি’র প্রাক্তন সভাপতি রূপক চাকমাসহ বেশ কয়েক জন যুবককে খুন করাসহ তা-ব চালালেও রাঙ্গামাটিতে প্রকাশ্যে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থনে জেএসএস নিয়োজিত ছিল। খাগড়াছড়িতেও বিএনপি প্রার্থীর সাথে ছিল গোপন সমঝোতা। নির্বাচনে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মত প্রকাশ করতে পারে নি।

২০১৫ সালে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন প্রতিরোধের নামে ছাত্রদের মাঠে নামানো হলেও ঘটনার এক পর্যায়ে সরকার আয়োজিত “শান্তি মিছিলে” যোগ দিয়ে কার্যত প্রতিরোধ আন্দোলনে পানি ঢালা হয়েছে। সরকার মেডিক্যাল কলেজ সরিয়ে নেবে সে রকম ঘোষণা দেয় নি, এ ব্যাপারে বিভিন্ন উড়ো কথাবার্তা শোনা গেলেও জেএসএস (সন্তুগ্রুপ) পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোন কর্মসূচি নেই।

জেএসএস (সন্তুগ্রুপ) নিজেদের সংকট আড়াল করার জন্য আগামীতে আরও কী ধুয়ো তুলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। জেএসএস (সন্তুগ্রুপ) দ্বারা ভ্রান্ত পথে চালিত হয়ে এ পর্যন্ত জনগণকে অবর্ণনীয় খেসারত দিতে হয়েছে। তা মনে রেখে জনগণকে আগামীতে সতর্কভাবে পা ফেলতে হবে। #

(১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

লামায় ম্রো পাড়ায় হামলা, অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের, আসামিরা গ্রেফতার হয়নি এখনোবান্দরবান প্রতিনিধি, সিএইচটি নি...
08/01/2023

লামায় ম্রো পাড়ায় হামলা, অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের, আসামিরা গ্রেফতার হয়নি এখনো

বান্দরবান প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৩

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে রেংয়েন ম্রো পাড়ায় হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অবশেষে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে আসামীদের কাউকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি।

গতকাল শনিবার (৭ জানুয়ারি ২০২৩) পাড়ার কার্বারি (পাড়াপ্রধান) রেংয়েন ম্রো বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক আরো ১৫০ থেকে ১৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে লামা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ নামে কোম্পানির চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ও প্রকল্প পরিচালক কামাল উদ্দিন, কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলামকে এবং হামলায় নেতৃত্বদানকারী হিসেবে কেয়াজুপাড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. নুরু, লাম্বাখোলা ফজর আলীপাড়ার দেলোয়ার হোসেন, কেয়াজুমাঝেরপাড়ার দুর্যোধন ত্রিপুরা, হাজিরাম ত্রিপুরা, কেয়াজুপাড়ার এলাকার আবদুল মালেক ও মোহাম্মদ মহসিন-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরো ১৫০ থেকে ১৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করে বলা হয়, ১ জানুয়ারি গভীর রাতে ১৫০ থেকে ১৭০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে ছয়টি ছোট ট্রাকে করে রেংয়েন ম্রোপাড়ায় গিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ট্রাকে করে ধারালো অস্ত্র ও কেরোসিন ট্যাংক নিয়ে যায়। হামলা থেকে পাড়াবাসী বনে-জঙ্গলে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। হামলাকারীরা চামরুম ম্রো, রেংওয়ই ম্রো ও সিংচ্যং ম্রোর বাড়ির চলার ঢেউটিন খুলে নিয়ে বাড়িতে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। এতে তিনটি বাড়িতে থাকা মূল্যবান কাগজপত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ), ১৮ হাজার ২০০ টাকা ও বিভিন্ন গৃহসামগ্রী পাওয়া যায়নি। আরও পাঁচটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। ওই পাঁচটি বাড়ির সৌরবিদ্যুতের প্যানেল, আসবাবপত্র, কাপড়, কৃষিজ সরঞ্জামসহ প্রায় আট লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আসামিদের কাউকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই মামলা না দেয়ার কারণ হিসেবে পাড়ার কারবারি রেংয়েন ম্রো বলেন, ’আমরা জানতে পেরেছি কোম্পানির লোকজন পাড়ার আশেপাশে রাবার বাগানে লুকিয়ে আমাদের নজরদারি করছে। তাদের ভয়ে থানায় গিয়ে মামলা করতে ভয় পাচ্ছিলাম। গত ৫ জানুয়ারি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল ঘটনা তদন্তে আসেন। তাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে থানায় গিয়ে মামলা করেছি’।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পাড়ায় এর আগেও অনেকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। আমাদের জুমের বাগান আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে, বৌদ্ধ মন্দির ভেঙে দিয়েছে, কলাগাছ কেটে দিয়েছে, আমাদের খাবার পানির ঝিড়িতে বিষ দিয়েছে, তখনো থানায় অভিযোগ করেছিলাম। কোনো কাজ হয় নাই। অভিযোগ দিয়ে আসার পর আমরা বাজারে পর্যন্ত যেতে পারি না, কোম্পানি লোকেরা দেখলে মারধর করে।'

তিনি হামলার পর থেকে আতঙ্কে থাকার কথা জানিয়ে বলেন, ’দিনে ও রাতে পালা করে পাড়া পাহারা দিচ্ছি। ভয়ে বাইরে কোথাও কাজে যেতে পারছি না। হামলাকারীরা কম্বল, কাপড় নিয়ে যাওয়ায় এতদিন ধরে আগুন জ্বালিয়ে শীতের রাত কাটাচ্ছি’।

উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিল থেকে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লামা উপজেলার সরইয়ে ম্রো ও ত্রিপুরাদের ৪০০ একর জুমভূমি জবদখল করে তাদেরকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত বছর ৯ এপ্রিল কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন শতাধিক বহিরাগত বাঙালি ও রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়ে এসে ম্রো-ত্রিপুরাদের জুমভূমিতে জঙ্গল কেটে সাফ করে এবং ২৬ এপ্রিল তাত আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে ম্রো-ত্রিপুরাদের জুমভূমি, ফসল, বাগান-বাগিচা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর পরই গোটা বছর জুড়ে ম্রো-ত্রিপুরা গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা, বাগান কেটে দেওয়া, মন্দির ভাঙচুর, খাবার পানির উৎসে বিষ প্রয়োগ, ফসল লুটসহ নানা উৎপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানির এই আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এবং জেলা পরিষদের তদন্ত দল কর্তৃক রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের জমির লিজ বাতিলের সুপারিশ করা হলেও প্রশাসন রাবার কোম্পানি দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

যার ফলে রাবার কোম্পানি কর্তৃক পূনরায় গত ১ জানুয়ারি ২০২৩ দিবাগত গভীর রাতে রেংয়েন ম্রো পাড়ায় হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘ্টনা সংঘটিত হয়েছে।

https://chtnews.blogspot.com/2023/01/blog-post_8.html

#মামলা #লামা #বান্দরবান

Address

Swanibhar Bazar
Khagrachari

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম:

Share

সংগ্রাম মুখর দিনগুলো চির অম্লান - প্রসিত বিকাশ খীসা

Pahari Chattra Parishad (P*P) or Hill Students Council is a student organisaition of the Jumma students studying in various educational institutions in and outside of the Chittagong Hill Tracts. It was founded on 20 May 1989 in the backdrop of the gruesome Langudu Massacre in which more than 36 innocent Jumma people were killed in the most brutal fashion. To protest the incident, representatives of university based independent Jumma student bodies met in a meeting at Dhaka and resolved to form a unified student organistion to resist government repression in the CHT. The following day a silent procession was organised in Dhaka under the banner of the Greater Chittagong Hill Tracts Hill Students Council in protest against the Langudu Massacere. This marked the beginning of a new era in the history of the struggle of the Jumma people.

The P*P soon spread throughout the Chittagong Hill Tracts and became the symbol of democratic resistance to state repression in CHT. It not only organised the Jumma students, but also rallied, in the absence of an overground political platform, different sections of the Jumma people behind it. Defying military control and surveillance, the P*P held rallies and public meetings all over the CHT. The most powerful programme that was ever undertaken by P*P was the historic Logang Long March, which was organised on 28 April 1992 to protest the mass killing of Jumma people at a cluster village at Logang in Khagrachari district. Hundreds of thousands of people took part in the march that traversed 50 kilometers starting from Khagrachari town.

The journey of the P*P has never been easy. The government and the military left no stone unturned to stem the emerging tide of democratic movement led the P*P. On the one hand, the government policy makers on CHT floated communal Bengali settler organisations to counter the P*P, on the other hand, they began to crack down on its members and supporters. Many were detained without specific charges and trial. From 1991 to1993 the High Court heard and found roughly 130 cases of detention illegal. The court ordered their immediate release. But this could not stop repression of the members of the P*P.

When every attempt to suppress the P*P was failed, the military picked up anti-social and criminal elements among the Jumma youths and formed a terrorist organisation styled Pahari Chattra Parishad, Pahari Gano Parishad-er Santras Pratirodh Committee or PPSPC (Committee for resisting terrorism by Hill Students Council and Hill Peoples Council), popularly known as Mukhosh Bahini or masked force, as its members used to take part in military sponsored processions with their faces under cover. The Mukhosh Bahini lasted from September 1995 to December 1996 and in the face of popular resistance, the military finally had to decommission it. Later, the Jana Samhati Samiti happily inducted some of the Mukhosh Bahini members into its ranks to pit them against the United Peoples Democratic Front (UPDF).