25/05/2026
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
২৫ মে ২০২৬
রাঙামাটিতে ধর্ষণচেষ্টা ও বান্দরবানে ৫ বছরের শিশুর ধর্ষণের বিচার এবং সমাজের সর্বক্ষেত্র নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট
আজ ২৫ মে ২০২৬ সোমবার সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে রাঙামাটির বিলাইছড়িতে আব্দুল গফুর শেখ কর্তৃক ৯ম শ্রেণীর পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও বান্দরবানে ৫ বছরের ত্রিপুরা শিশুকে বিজয় বড়ুয়া কর্তৃক ধর্ষণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “গত ২৩ মে ২০২৬ শনিবার বিলাইছড়ি উপজেলার ২নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের ক্যারংছড়ি এলাকায় আব্দুল গফুর শেখ ৯ম শ্রেণীর এক পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বিকাল ৪ টার দিকে প্রাইভেট পড়া শেষে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে কেবল মুচলেকা নিয়ে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপূর্বে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ৫নং বন্দুকভাঙা ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী এক চাকমা কিশোরী মোঃ সাইফুল নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়। এখনো এই ঘটনার বিচার হয়নি।”
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “গতকাল বান্দরবানে ৫ বছরের ত্রিপুরা শিশুকে বিজয় বড়ুয়া কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ধর্ষণের বিচার চাইতে গেলে বিজিবি কর্তৃক স্থানীয় পাহাড়ি জনতার ওপর লাঠিচার্জ ও বাধা প্রদান করা হয়। বিজিবির এমন অন্যায় আচরণ বিচার পাবার গণতান্ত্রিক অধিকার, গোটা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের দৃশ্যপট এমন, সেখানে কোন শিশু-নারী ধর্ষণের শিকার হলেও ছলে-বলে-কৌশলে তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। আটকে দেয়া হয় ভুক্তভোগীর ধর্ষণের মেডিকেল রিপোর্ট। এ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে যতগুলো ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে কোনটির দৃশ্যমান কোন নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হয়নি। পাহাড়ে শিশু ও নারীরা নিজ বাড়িতেও নিরাপদ নয়। রাষ্ট্র নিরাপদ জনজীবনের কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে– সকল জাতি, গোত্র ও বর্ণের সমন্বয়ে অন্তর্ভূক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের মেকি বুলি আওড়িয়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীগুলোর ওপর প্রতিনিয়ত দমন-পীড়ন ও বৈষম্য জিইয়ে রেখেছে। আরো উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া পাড়া এলাকায় নিজেদের কলা বাগানে কাজ করতে গিয়ে রোহিঙ্গা বাহিনী আরসার পুঁতে রাখা স্থল মাইন বিস্ফোরণে স্থানীয় তিন তঞ্চঙ্গ্যা গ্রামবাসী নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারী থাকা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের এমন সশস্ত্র কার্যক্রম কীভাবে সম্ভব হচ্ছে তা গভীর চিন্তার উদ্রেক করে।”
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে শিশু-নারীর নিরাপত্তা জোরদার, রামিসাসহ সকল ধর্ষণ-হত্যার দ্রুত বিচার ও অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত এবং ধর্ষণ-যৌন নিপীড়ন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন-
১। দিলীপ রায়, সমন্বয়ক, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট ও সভাপতি, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী
২। তামজিদ হায়দার চঞ্চল, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন
৩। সালমান সিদ্দিকী, সভাপতি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
৪। ছায়েদুল হক নিশান, সভাপতি, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল
৫। সমর চাকমা, সভাপতি, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ
৬। তাওফিকা প্রিয়া, সভাপতি, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন
বার্তা প্রেরক —
রাফিকুজ্জামান ফরিদ
সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট