09/04/2016
আমাদের “গোপীনাথপুর গণ-পাঠাগার” আপনি, আমি, আমাদের সকলের জন্য প্রতিদিন বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত নিয়মিত খোলা থাকছে...
দৈনিক সংবাদপত্র, সাপ্তাহিক ও মাসিক ম্যাগাজিন সহ অসংখ্য মূল্যবান বই রয়েছে আমাদের জন্য। আসুন অযথা সময় নষ্ট না করে প্রতিদিন একটু সময়ের জন্যে হলেও বই পড়ি...
কেন বই পড়বেন...?
❑ জগত খ্যাত কবি ওমর খৈয়ম বলেছিলেন- রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু একখানা বই সব সময় অনন্ত-যৌবনা-যদি তেমন বই হয়।
❑ সৈয়দ মুজতবা আলী বই পড়া প্রবন্ধে লিখেছেন- বই কিনে কেউ কখনো দেউলে হয়নি। বই কেনার বাজেট যদি আপনি তিনগুণও বাড়িয়ে দেন, তবুও আপনার দেউলে হবার সম্ভাবনা নেই।
❑ পবিত্র কোরানের সর্ব প্রথম যে বাণি হয়রত মুহম্মদ (স.) শুনতে পেয়েছিলেন তাতে আছে- আল্লামা বিল কলমি অর্থাৎ আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন। কলমের মাধ্যমে। আর কলমের আশ্রয় তো পুস্তকে। পবিত্র কোরান মাজীদে আরও বলা হয়েছে,'পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। পড়, আর তোমার রব মহামহিম' (সূরা আলাক :১-৩)।
❑ নবী করিম (স.) এক হাদিসে উল্লেখ করেছেন- ঘণ্টা খানেকের জ্ঞান সাধনা সমগ্র রজনীর ইবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এখানে জ্ঞান সাধনা বলতে বই পড়ার ওপর সর্বাধিক তাগিদ দেয়া হয়েছে।
❑ সনাতন ধর্মের কঠোপনিষদের ৪নং শ্লোকে লেখা হয়েছে- দুরমেতে বিপরীতে বিষূচী অবিদ্যা যা চ বিদ্যেতি জ্ঞাতা অর্থাৎ-বিদ্যা বলতে এখানে জ্ঞানকে বুঝানো হয়েছে। যে জ্ঞান মানুষের চরম লক্ষ্য। আর এই চরম লক্ষ্যে পৌঁছাতে গেলে বিদ্যা শিক্ষা অর্থাৎ বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। যযুর্বেদ এর ৪র্থ অধ্যায়ে বলা হয়েছে -'হে মানব তুমি ব্রতের অনুষ্ঠান কর।
❑ বাইবেল শব্দের অর্থ বই। বই চবৎ বীপবষষবহপব, সর্বশ্রেষ্ঠ পুস্তক-ঞযব নড়ড়শ.
❑ বারট্রান্ড রাসেল বলেছেন- সংসারে জ্বালা-যন্ত্রণা এড়াবার প্রধান উপায় হচ্ছে, মনের ভেতর আপন ভুবন সৃষ্টি করে নেয়া এবং বিপদকালে তার ভেতর ডুব দেয়া। যে যতো বেশি ভুবন সৃষ্টি করতে পারে, ভবযন্ত্রণা এড়াবার ক্ষমতা তার ততোই বেশি হয়।
❑ আল্লামা শেখ সা'দী বলেন- জ্ঞানের জন্য তুমি মোমের মতো গলে যাও। কারণ জ্ঞান ছাড়া তুমি খোদাকে চিনতে পারবে না।
আসলে ভাই চেতনার বিপ্লবে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। একজন সৃষ্টিশীল মানুষ পৃথিবীতে বইয়ের বিকল্প কিছুই চিন্তা করতে পারেন না। বই মানুষের জীবন সঙ্গী। বই অবসরের প্রিয় বন্ধু। বই পাঠ মানুষকে সত্য পথে চলতে,মানবতার কল্যাণে অনুপ্রাণিত করে। বই সুখের সময় মানুষের পাশে থাকে। দুঃখের সময় মনোবল বাড়াতে সাহায্য করে।
সমাজ বদলাতে হলে বই পড়ার বিকল্প কিছুই নেই।
তাই আমরা বলি-
“একটি গণ-পাঠাগার,
সমাজ উন্নয়নের সর্বোচ্চ হাতিয়ার”