03/10/2022
দেশে চোখ উঠা রোগের প্রাদূর্ভাব বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। আপনার আসে পাশে তাকালেই দেখতে পাবেন পরিচিত অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব থাকলেও এতো মহামারীর মত ম্যাসিভ আকারে ছড়ায় নাই কখনো । এই রোগটি খুব সাধারণ হলেও সঠিক যত্নের অভাবে আবার মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে ।
আজকে আপনাদের এই চোখ উঠা রোগের বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবো ।
A. চোখ উঠা রোগ কি এবং কেন হয় ?
চোখ উঠা যাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় কনজাংটিভাইটিস । এটি ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ ।চোখ উঠা রোগ মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ার হার ব্যাপক । এটি সাধারণত তিনটি কারণে হতে পারে : ১. ভাইরাস ২. ব্যাকটেরিয়া ৩. আল্যার্জি।
১. ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস : বাহির থেকে যদি কোনো ভাইরাসের সংক্রমণে চোখের ইনফেকশন হয় তাহলে সেটা ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস । এটি খুবই কমন । বর্তমানে যারা চোখ উঠা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের প্রায় সবাই ভাইরাসের কারণে আক্রান্ত হচ্ছে ।
২. ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস: ইনফেকশন টি যদি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয় তাহলে সেটা ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস। সাধারণ সকল ক্ষেত্রে লক্ষণ একই । তবে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ক্ষেত্রে চোখ দিয়ে কেতুর বা পুজ সদৃশ একধরনের ডিসচার্জ হয় ।
৩. আল্যার্জিক কনজাংটিভাইটিস: কোনো কিছুতে যদি কারো এলার্জি থাকে তাহলে সেই এলার্জিক Substances er সংস্পর্শে আসলে ,শরীরের হিস্টামিন অতিরিক্ত নিঃসরণ হয়ে এধরনের কনজাংটিভাইটিস ডেভেলপ করে থাকে । ফুলের রেণু, পোকা মাকড়, ধুলা বালির কারণে এই রোগ হতে পারে।
B. লক্ষণঃ
তিনটি ক্ষেত্রেই লক্ষণ প্রায় একই , যেমন:
১. চোখ লাল বা পিঙ্ক কালার হয়ে যাওয়া।
২. চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়া।
৩. চোখে ব্যথা অনুভূত হওয়া।
৪. পুঁজ বা কেতুর নিঃসরণ হওয়া
৫. চোখে জ্বালাপোড়া , চুলকানি ও খচ খচ অনুভূত হওয়া।
৬. সকালে ঘুম থেকে উঠার পর চোখ খুলতে সমস্যা হওয়া ।
৭. দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া।
৮. অতিরিক্ত আলোতে চোখ খুলতে সমস্যা হওয়া।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব লক্ষণের সাথে হালকা জ্বর, মাথা ব্যাথা ও নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো লক্ষণ ও থাকতে পারে। এসব লক্ষণ যদি কারো মধ্যে থাকে তাহলে সে নিশ্চিত ভাবে ধরে নিতে পারেন চোখ উঠা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ।
C. চোখ উঠলে যা করণীয়:
১. জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।
২. ধুলো বালি ও কড়া আলো থেকে বাঁচতে অবশ্যই কালো চশমা ব্যবহার করতে হবে।
৩. চোখে ঠান্ডা পানি দেওয়া যাবে না, প্রয়োজনে কুসুম গরম পানি দিয়ে চোখ ধৌত করতে পারেন।
৪. দুই চোখের জন্য আলাদা আলাদা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে কুসুম গরম শেক নেয়া যেতে পারে
৫. চোখে হাত দেওয়া যাবে না বা ঘষা যাবে না ।
৬. আক্রান্ত চোখ স্পর্শ করে হাত পরিষ্কার না করে কোনো কিছু স্পর্শ করা যাবে না ।
৭. ব্যবহৃত বালিশের কভার, তোয়ালে , গামছা, থালা, গ্লাস, চশমা ইত্যাদি আলাদা ব্যাবহার করতে হবে এবং নিয়মিত গরম পানি দিয়ে ধৌত করতে হবে ।
৮. অতিরিক্ত টিভি দেখ বা মোবাইল দেখা যাবে না ।
৯. পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে ।
১০. সকালে চোখ খুলতে সমস্যা হলে পরিষ্কার কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে চোখ মুছতে হবে ।
D. প্রতিরোধ করবেন কিভাবে ?
১. আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে ।
২. ছোট বাচ্চাদের বর্তমানে স্কুলে যেতে দেয়া যাবে না।
৩. পুকুর বা নদীতে গোসল করা থেকে বিরত থাকতে হবে ।
৪. অপরিষ্কার হাত চোখে দেওয়া যাবে না।
৫. যেসব জিনিস হাতের সংস্পর্শে বেশি আসে সেগুলো ধরার পর হাত স্টেরেলাইজ করতে হবে।
৬. চোখের প্রসাধনী ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
৭. অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করা যাবে না।
৮. আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কোনো কিছুই ব্যাবহার করা যাবে না ।
E. চিকিৎসা:
সাধারণত এই রোগ ৭-১০ দিনের মধ্যে আপনা আপনি ভালো হয়ে যায় । কিন্তু চোখের ইনফেকশন এর কারণে অন্য কোনো ব্যাকটেরিয়া যেনো সেকেন্ডারি ইনফেকশন তৈরি না করতে পারে সেজন্য সিভিয়ারিটি অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক ড্রপ ডোজ মেনে ব্যাবহার করতে হবে ।
তাছাড়া চোখের ব্যথা বা চুলকানির জন্য প্যারাসিটামল এবং এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে ।
সতর্কতা: যদি চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, চোখ অত্যাধিক ফুলে যায় , অতিরিক্ত পানি ডিসচার্জ হতে থাকে তাহলে অবশ্যই একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে । চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ড্রপ এবং ওষুধ সেবন করলে চোখের মারাত্বক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে ।
আশা করি সকলেই চোখ উঠা রোগ সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়েছেন। নিয়ম মেনে চলুন,চোখ উঠা প্রতিরোধ করুন।
Follow BongoMedic
Dr. Md. Al Amin
DMF (Dhaka)
BMDC Reg: D-23701