28/06/2026
ঘটনাটি ২০১৫ সালের।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তখন বিশ্ব কাঁ'পা'চ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
হুট করেই তার মাথায় এক অদ্ভুত বুদ্ধি চা'প'লো। তিনি দেখতে চাইলেন, মানুষ তাকে ছাড়া তার ভেতরের ফুটবলারকে কতটা ভালোবাসে, কিংবা একজন সাধারণ মানুষের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন।
মাদ্রিদের একটা নামী হোটেলের রুমে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মেকআপ আর্টিস্টরা তার চেহারা সম্পূর্ণ বদলে দেন। তার চিবুকে ও গালে নকল ভারী দাড়ি-গোঁফ বসানো হয়, এমনকি তার বডি শেপ লুকানোর জন্য কাপড়ের ভেতরে বাড়তি প্যাডিং ব্যবহার করা হয় যাতে তাকে চিতার মতো ফিট না দেখিয়ে কিছুটা স্থূলকায় দেখায়!
মেকআপ শেষে রোনালদো রাস্তায় নামেন। সাথে নিলেন একটা কুকুর আর একটা ফুটবল।
মাদ্রিদের ব্যস্ততম 'প্লাজা দে কায়াও' চত্বরে গিয়ে বসে পড়লেন।
দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে তিনি সেখানে ফুটবলের একের পর এক বিশ্বমানের স্কিল দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু মানুষ ভাবছিলো এটা হয়তো রাস্তার কোনো সাধারণ ফুটবল জাদুকরের পেট চালানোর ধান্দা!
ঘটনা চলাকালীন রোনালদো এক পথচারী ভদ্রমহিলার দিকে বল পাস করেন এবং মজা করে তার ফোন নাম্বার চান। ভদ্রমহিলা বি'র'ক্ত হয়ে মাথা নেড়ে 'না' বলে চলে যান।
এক তরুণকে তিনি ওয়ান-টু-ওয়ান ড্রিবলিং চ্যালেঞ্জের ইশারা করেন, কিন্তু ছেলেটি তাকে পাত্তাই না দিয়ে এড়িয়ে যায়।
কেউ কেউ তো বি'র'ক্ত হয়ে দূরে সরে যাচ্ছিলো। কোটি কোটি মানুষ যাকে একনজর দেখতে ব্যাকুল থাকে, ছদ্মবেশে থাকায় সেই মানুষটার দিকে কেউ ফিরেও তাকাচ্ছিলো না!
প্রায় এক ঘণ্টা পর, নিকোলাস নামের ছোট একটা ছেলে তার বাবার সাথে সেখান দিয়ে যাচ্ছিলো। সে আর বাকিদের মতো মুখ ফিরিয়ে নেয়নি।
ওই অদ্ভুত দেখতে লোকটার ছুড়ে দেওয়া বলটা সে পায়ে রিসিভ করে এবং রোনালদোর সাথে মনের আনন্দে পাস খেলতে শুরু করে। রোনালদো তাকে বেশ কিছু ড্রিবলিং ট্রিকস শেখান।
খেলা শেষে রোনালদো বলটা হাতে তুলে নেন এবং নিকোলাসকে জিজ্ঞেস করেন তার নাম কী। এরপর পকেট থেকে একটা কলম বের করে বলটাতে সাইন করতে যান। নিকোলাস কিছুটা অবাক হয়ে ভাবছিলো এই ভি'ক্ষু'ক মানুষটা অটোগ্রাফ কেন দিচ্ছে?
ঠিক তখনই রোনালদো তার মুখের নকল দাড়ি, পরচুলা আর চশমা খুলে ফেলেন!
নিমেষেই চারপাশের পুরো দৃশ্য বদলে যায়। পুরো রাস্তা থমকে দাঁড়ায়, শত শত মানুষ চিৎকার করে তাদের প্রিয় তারকাকে দেখার জন্য ক্যামেরা বের করে ফেলে। আর ছোট্ট নিকোলাস তো খুশিতে কেঁদেই ফেলেছিলো! সিকিউরিটি গার্ডদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় তাকে ভিড় থেকে বের করে গাড়িতে তুলতে।
এই ঘটনাটি শুধু একটি সাধারন প্র্যাঙ্ক ছিল না; এটি আমাদের শেখায় যে রূপ বা অর্থ দেখে নয়, মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতে হয়।